পাসপোর্ট করার নিয়ম – ঝামেলা ছাড়াই অনলাইনে নিজের পাসপোর্ট করুন

পাসপোর্ট করার নিয়ম : পাসপোর্ট এর কথা আমরা ছোটবেলা থেকে প্রায় সবাই শুনেছি৷ বিদেশ গমনের জন্য পাসপোর্ট একটি অত্যাবশকীয় জিনিষ৷ চিকিৎসার কাজে বিদেশ গমন কালে, ব্যবসায়িক কাজে বিভিন্ন দেশে গমন কালে কিংবা নিতান্ত বিদেশে ঘুরতে গেলেও পাসপোর্ট এর কোনো বিকল্প নেই। পাসপোর্ট ছাড়া বিদেশ ভ্রমন করলে আপনি জালিয়াত হিসেবে ধরা পড়ে যাবেন।

বাংলাদেশের জন্মের শুরু থেকেই পাসপোর্ট এর প্রচলন হয়েছে। সেগুলো ছিল প্রথমত হাতে লেখা পাসপোর্ট। এরপর এটির আপডেট সংস্করণ হিসেবে আসে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এম আর পি)। এম আর পি পাসপোর্ট বর্তমান সময়ে দেশের অধিকাংশ লোকের কাছে রয়েছে৷

তবে বর্তমানে ই পাসপোর্ট নামের নতুন এক ধরনের পাসপোর্টের প্রচলন করেছে বাংলাদেশ সরকার। এটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সুযোগ সুবিধা এম আর পি এর চেয়ে অনেক বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার তাই এম আর পি পাসপোর্ট ইস্যু করা বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমানে পাসপোর্ট সংক্রান্ত সকল তথ্যের জন্য তাই ই পাসপোর্ট এর তথ্যগুলোই প্রযোজ্য হবে৷

পাসপোর্ট করার নিয়ম
পাসপোর্ট করার নিয়ম

পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করার পদ্ধতি শেখার আগে এই ই-পাসপোর্ট কি এবং ই পাসপোর্ট এর সুবিধা গুলো কি সেগুলো নিয়ে আমরা শুরুতে জানার চেষ্টা করব।

ই পাসপোর্ট কি

সহজ ভাষায় বলতে গেলে ই পাসপোর্ট আর মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এম আর পি) মধ্যে পার্থক্য অনেকটা এটিএম কার্ড ও চেক বই এর মধ্যকার পার্থক্যের মত। চেক বই ব্যবহার করে কোনো গ্রাহকই নিজে একা একা কোনো বুথ থেকে টাকা তুলতে পারে না। চেক বই ব্যবহার করে টাকা তোলার জন্য ব্যাংকের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্তার সীল, সাক্ষর ইত্যাদির প্রয়োজন হয়।

Read More:

অপরদিকে এ টি এম কার্ড ব্যবহার করে আমরা এসব সিল সাক্ষর এর কোনো  ঝামেলা ছাড়াই নিজের টাকা নিজেই বুথ থেকে তুলে ফেলতে পারি। একইভাবেই ই পাসপোর্টের সার্ভিস অনেকটা এটিএম কার্ডের সার্ভিসের মতই।

বাংলাদেশ সরকার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ই পাসপোর্ট হচ্ছে এমন একটি পাসপোর্ট যেটার গায়ে ইলেক্ট্রনিক মাইক্রো প্রোসেসর চিপ লাগানো থাকবে। তবে সাধারণ চোখে দেখলে এই পাসপোর্ট বইটি দেখে এর বৈশিষ্ট্য গুলো সম্পর্কে কোন কিছু আন্দাজ করা যায় না।

ই পাসপোর্ট এর বাহ্যিক গঠন দেখতেও অনেকটা MRP পাসপোর্টের মতই। কিন্তু ই পাসপোর্ট এর  ভিতরে সংযুক্ত ইলেকট্রনিক চিপটিই মূলত এম আর পি (মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট) আর ই পাসপোর্টের মধ্যকার সবচেয়ে বড় পার্থক্যের সৃষ্টি করেছে।

ই পাসপোর্টে কি কি তথ্য রয়েছে

ই পাসপোর্ট এর মধ্যকার এই ইলেক্ট্রনিক চিপের মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট ধারীর বায়োমেট্রিক তথ্য। এই বায়োমেট্রিক তথ্যের ভেতরেই পাসপোর্ট ধারীর যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। ই পাসপোর্ট এর মধ্যে মাইক্রো প্রসেসর চিপ এবং অ্যান্টেনা সহ স্মার্ট কার্ডের সকল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

বর্তমানে ই পাসপোর্টের মধ্যকার মাইক্রো চিপে যে সব বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে সেগুলো হলো-

  • পাসপোর্ট ধারীর ছবি
  •  ১০ আঙ্গুলের ফিঙ্গারপ্রিন্ট
  •  চোখের আইরিশ।

ই পাসপোর্ট এর তথ্য সংরক্ষণ করে রাখার ক্ষেত্রে যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে সেগুলো হলো-

  • ই পাসপোর্ট এর মধ্যকার বায়োমেট্রিক তথ্য যাচাই করা হয়ে থাকে মূলত ই বর্ডার বা ইলেক্ট্রনিক বর্ডার কন্ট্রোল সিস্টেমের মাধ্যমে।
  • ই পাসপোর্ট এর চিপে সংরক্ষিত ডাটা যাচাই করা হয়ে থাকে মূলত Public Key infrastructure (PKI) এর মাধ্যমে। এই চিপে রয়েছে পাসপোর্টধারীর ৩ ধরনের ছবি, ১০ আঙ্গুলের ছাপ এবং চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবি।

পাসপোর্ট করার নিয়ম

বিদেশে ভ্রমণ ও চিকিৎসা সহ যেকোনো ধরনের কাজে গমন করতে চাইলে পাসপোর্ট এর কোনো বিকল্প নেই। তবে যেন তেন ভাবে না জেনে পাসপোর্ট এর আবেদন করলে পাসপোর্ট পাওয়া যাবেনা৷ পাসপোর্ট এর আবেদন করতে হবে নিয়ম মেনে এবং নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে৷

নিয়ম না জেনে পাসপোর্ট এর কাজ করতে গিয়ে অনেকেই দালালের কাছে প্রতারিত হোন৷ তাই এই লেখাটিতে আমরা পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করার নিয়ম ও সব ধরনের প্রক্রিয়া গুলো একদম বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করব। এই লেখাটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে থাকলে পাসপোর্ট করার নিয়ম সম্পর্কে সকল কিছু আপনার জানা হয়ে যাবে।

পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে

ই পাসপোর্ট এর আবেদন করার জন্য নানা ধরনের ডকুমেন্টের প্রয়োজন হয়। এই ডকুমেন্ট গুলো সঠিকভাবে সাবমিট করতে পারলেই পাসপোর্ট এর কাজ সহজেই সমাধান হয়ে যায়।  ই পাসপোর্টের আবেদন করার জন্য যেসব ডকুমেন্টের প্রয়োজন হবে সেগুলোর তালিকা নিচে দেওয়া হলঃ

  • জাতীয় ‍পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) সনদ অনুযায়ী আবেদন পত্র পূরণ করতে হবে।
  • অপ্রাপ্ত বয়স্ক (১৮ বছরের কম) আবেদনকারি যার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নাই, তার পিতা অথবা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।
  • জাতীয় ‍পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) সনদ নিম্নোক্ত বয়স অনুসারে দাখিল করতে হবে-
  1.  ১৮ বছরের নিম্নে হলে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) সনদ।
  2. ১৮-২০ বছর হলে জাতীয় ‍পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) সনদ
  3.  ২০ বছরের উর্ধ্বে হলে জাতীয় ‍পরিচয়পত্র (NID) আবশ্যক । তবে বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশন হতে আবেদনের ক্ষেত্রে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) সনদ গ্রহণযোগ্য হবে।
  • দত্তক/অভিভাবকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের আবেদনের সাথে সুরক্ষা সেবা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে জারিকৃত আদেশ দাখিল করতে হবে।
  • প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল সনদসমূহ (যেমন: ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ড্রাইভার ইত্যাদি) আপলোড/সংযোজন করতে হবে।
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক জিও (GO)/এনওসি (NOC)/ প্রত্যয়নপত্র/ অবসরোত্তর ছুটির আদেশ (PRL Order)/ পেনশন বই আপলোড/সংযোজন করতে হবে।
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিবাহ সনদ/নিকাহনামা এবং বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে তালাকনামা দাখিল করতে হবে।
  • অতি জরুরী পাসপোর্টের আবেদনের ক্ষেত্রে (নতুন ইস্যু) নিজ উদ্যোগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ সংগ্রহ পূর্বক আবশ্যিকভাবে আবেদনের সাথে দাখিল করতে হবে।
  • আবেদনের সময় মূল জাতীয় ‍পরিচয়পত্র (NID), অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল সনদ, সরকারি আদেশ (GO)/অনাপত্তি (NOC) প্রদর্শন/দাখিল করতে হবে।
  • পাসপোর্ট রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে মূল পাসপোর্ট প্রদশন করতে হবে।
  • হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে মূল জিডির কপি প্রদর্শন/দাখিল করতে হবে।
  • ০৬ বছর বয়সের নিম্নের কারো পাসপোর্ট এর আবেদনের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট সাইজের ( ল্যাব প্রিন্ট গ্রে ব্যাকগ্রউন্ড ) ছবি দাখিল করতে হবে।
  • পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে অথবা চুরি হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় জানাতে হবে। নতুন পাসপোর্টের ক্ষেত্রে পুরাতন পাসপোর্টের ফটোকপি, জিডি কপিসহ আবেদন দাখিল করতে হবে ।

লক্ষ্য রাখতে হবে যে, ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র অনলাইনে পূরণ করা যাবে অথবা PDF ফরমেটে ডাউনলোড করেও এ ফরমটি পূরণ করা যাবে।

তাছাড়া ই-পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে কোন কাগজপত্র সত্যায়ন করার প্রয়োজন হবে না। এমনকি ই-পাসপোর্ট ফরমে কোন ছবি সংযোজন এবং তা সত্যায়নের প্রয়োজন হবে না।

কিভাবে পাসপোর্ট এর আবেদন করবেন

ই পাসপোর্ট এর আবেদন সংক্রান্ত সকল ডকুমেন্টের কথা আমরা এর আগের অংশে জেনে গেছি৷ এখন ই পাসপোর্ট এর আবেদন কিভাবে করতে হবে সেটির এ টু জেড আমরা ধাপে ধাপে জানার চেষ্টা করব। এই ধাপগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করলে আপনারা নিজেরাই ই পাসপোর্ট এর আবেদন করতে পারবেন।

Read More:

১ম ধাপ- অনলাইন আবেদন

অনলাইন আবেদনের জন্য শুরুতেই আপনাকে যেকোনো একটি ওয়েব ব্রাউজার থেকে www.epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে Apply Online এ ক্লিক করতে হবে। নিচের চিত্রটি দেখুন:

পাসপোর্ট করার নিয়ম
পাসপোর্ট করার নিয়ম। আবেদন ফরম

Apply Online এ ক্লিক করার পর নতুন একটি ওয়েবপেজ চালু হবে৷ ওয়েবপেজটির ফাঁকা ঘরগুলোতে কিছু বেসিক ইনফোর দরকার হবে৷ যা যা info চায় সেগুলো পূরন করে দিয়ে নিজের ই-মেইল একাউন্ট ব্যবহার করে এখানে একটি একাউন্ট তৈরী করুন।

পাসপোর্ট করার নিয়ম
পাসপোর্ট করার নিয়ম । ই পাসপোর্ট ফরম পুরন করার নিয়ম

অতপর নিচের ধাপগুলো ভালো করে খেয়াল করুন। এবং সে অনুযায়ী কাজ করুন। 

  • পরবর্তী ধাপে আপনার প্রদত্ত ইমেইল একাউন্টে একটি confirmation মেইল আসবে। মেইলটি ওপেন করে আপনার ই পাসপোর্ট account active করে নিন। তবে লক্ষ্য করবেন যে, এই কনফার্মেশন মেইলটি যদি আপনি ইনবক্সে খুজে না পান, তাহলে  Junk Mail কিংবা Spam Mail ফোল্ডারে খুঁজলে অবশ্যই পেয়ে যাবেন।
  • ই পাসপোর্ট এর Account Activate হওয়ার পরে আপনি নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনাকে  Apply for a new-e-passport  ট্যাবটিতে ক্লিক করে দিতে হবে।
  • Apply for a new e passport ট্যাবটি ওপেন করার পরে একটি নতুন ওয়েবপেজ আসবে। এই ওয়েবপেজটিতে যা যা info প্রযোজন হয় সেগুলো খুব মনোযোগ সহকারে পূরন করে দিন।
  • তবে এই ধাপে এসে লক্ষ্য করবেন যে, অনেকের মধ্যেই Confusion দেখা দেয় যে পাসপোর্ট এর নামের বানানে Md এর পরে dot দিবো কিনা? Dot না দিলে কোনো সমস্যা হবে কি না? উত্তরটি হচ্ছে, ই পাসপোর্ট এর ক্ষেত্রে letter ছাড়া অন্য কোনো ধরনের character সেখানে প্রিন্ট হয় না। সুতরাং Dot না দেয়াই উত্তম। এবং এই Dot না দেয়ার জন্য ভবিষ্যতেও কোনো সমস্যা হবে না।
  • আরেকটি বিষয় এখানে লক্ষ্য রাখবেন যে, Permanent Address এর ঘর পূরন করার ক্ষেত্রে কখনোই আপনি যে বাসায় ভাড়া থাকেন সেটি address দিবেন না। যদি আপনার নিজস্ব কোনো ফ্ল্যাট থাকে, তবে সেটা permanent address হিসেবে দিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে আপনার ক্রয় দলিলের কাগজ গুলোর ফটোকপি প্রদর্শন করতে হবে। দলিলের কাগজ করা না হলে, সেটা permanent address হিসেবে ব্যবহার না করাই ভাল।
  • অনলাইন আবেদনর এই ধাপে এসে আপনি কোন ধরনের passport করবেন সেটি অবশ্যই উল্লেখ করে দিবেন। কত ধরনের পাসপোর্ট রয়েছে, কোন ধরনের পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে এবং কোন ধরনের পাসপোর্ট আপনার জন্য উপযোগী সেটি আমরা এই লেখাটির পরের অংশে উল্লেখ করে দিব।
  • ই পাসপোর্ট এর আবেদন ফি কোন পদ্ধতিতে আপনি পরিশোধ করতে চান সেটির Payment Method উল্লেখ করে দিতে হবে। অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম Bkash এর মাধ্যমে ই পাসপোর্ট এর টাকা জমা দেওয়া যায়। আবার কিছু নির্দিষ্ট ব্যাংকেও ই পাসপোর্ট এর টাকা জমা দেওয়া যায়।
  • সকল info ঠিক মত পূরন করা হয়ে গেলে আপনাকে Submit বাটনে ক্লিক করতে হবে। ই পাসপোর্ট এর আবেদন Submit করা হয়ে গেলে সাথে সাথে আপনার e-mail একাউন্টে একটা confirmation মেইল আসবে।

সবার শেষে আপনাকে ই পাসপোর্ট আবেদন ফরম টি download করে রাখতে হবে।

Read more:

২য় ধাপ- Appointment এর schedule selection

  • Application Submit সফলভাবে হয়ে গেলে এরপর পরবর্তী ধাপে আপনাকে Appointment এর জন্য schedule select করতে হবে।

 

  • schedule selection এর জন্য নির্ধারিত ট্যাবটিতে ক্লিক করে আপনার মন মত যে কোনো খালি slot এ appointment নিতে পারবেন। ক্যালেন্ডার থেকে নির্দিষ্ট Slot সিলেক্ট করে দিন।

৩য় ধাপ- পাসপোর্ট এর ফি জমা দেওয়া (Payment)

বর্তমানে অনলাইন পেমেন্ট বন্ধ থাকার ফলে ব্যাংকে গিয়েই আপনাকে পাসপোর্ট এর জন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে। ফি নেওয়ার জন্য নির্ধারিত যে কোনো ব্যাংকে গিয়ে টাকা পরিশোধ করে দিলেই Payment সম্পন্ন হবে।

নির্ধারিত ব্যাংক সমূহ হচ্ছে-

  • ONE Bank,
  • Premier Bank
  • Sonali Bank
  • Trust Bank
  • Bank Asia
  • Dhaka Bank.

ব্যাংকে পাসপোর্ট এর ফি প্রদান করার সময় তারা শুধু মাত্র আপনার নাম জানতে চাইবে। নাম দেওয়ার সময় passport এ দেয়া নামটা হুবহু একই অক্ষরে দিবেন।

কিছু ব্যাংক মাঝে মাঝে নামের সাথে NID এবং অনলাইন Application এর কপি দেখতে চায়। তাই এগুলোর এক কপি সাথে করে নিয়ে যাবেন।

সফলভাবে টাকা জমা দেয়া সম্পন্ন হলে টাকা জমাদানের রিসিট/ payment slip দিয়ে দেওয়া হবে। এই পেমেন্ট স্লিপটি অত্যন্ত জরুরি। এটি যত্ন করে রেখে দিবেন।

৪র্থ ধাপ- ই পাসপোর্ট ফরম জমাদান এবং appointment অনুযায়ী দেখা করা

এপয়ন্টমেন্ট নেওয়ার পর শিডিউল অনুযায়ী ই পাসপোর্ট এর ফরম জমা দান ও ছবিসহ বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার জন্য আপনাকে পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে। পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার সময়ে নিচের ডকুমেন্টগুলো আপনাকে অবশ্যই সঙ্গে করে নিয়ে যেতে হবে।

  • ই পাসপোর্ট আবেদন ফরমের একটি প্রিন্টেড কপি। এটির both side print থাকতে হবে।
  • Appointment নেওয়ার কপির প্রিন্ট বা Order slip কপি।
  • আপনার মূল NID এবং এর সাথে NID এর কয়েকটা ফটোকপি।
  • আপনার নিজের নামে বিদ্যুৎ/গ্যাস/পানির বিল থাকলে সেগুলোর ফটোকপি।
  • আপনি শিক্ষার্থী হলে সেক্ষেত্রে Student ID Card এর একটি ফটোকপি।
  • আপনি কোনো ব্যবসায়ী হলে সেক্ষেত্রে আপনার ব্যবসার কোনো দলিল।
  • যারা যারা চাকরি বাকরিতে নিয়োজিত আছেন তাদের জন্য Office ID card কপি এবং আনুষঙ্গিক কিছু কাগজ পত্র।
  • বিবাহিতদের জন্য নিকাহ নামার দলিল এর ফটোকপি।

পরবর্তী ধাপে আপনাকে নির্ধারিত আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের অফিসারের সাথে বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করতে হবে। এটি পাসপোর্ট অফিস ভেদে কিছুটা ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে হয়ে থাকে।

  • পাসপোর্ট অফিসের নির্ধারিত কক্ষে উপর্যুক্ত কাগজ পত্র গুলো নিয়ে, application form দেখিয়ে সিরিয়াল নাম্বার নিতে হবে।
  • পরবর্তীতে সিরিয়াল অনুসারে আপনাকে আরেকটি কক্ষে ডেকে নেওয়া হবে। এই কক্ষটিতে মূলত আপনার ডকুমেন্ট সব গুলো ঠিক আছে কিনা চেক করা হবে। পাসপোর্ট ফরম বা application online এ সাবমিটে কোনো ভুল হয়ে থাকলে এখানে বলে নিবেন। তারা মার্ক করে দিবে আপনার ফর্মে। চেক শেষে তারা একটা সিল এবং সাইন করে দেবে।
  • এর পরের ধাপে আরো একটি কক্ষে আপনাকে প্রবেশ করতে হবে৷ এই কক্ষে আপনার ডকুমেন্ট গুলো পুনরায় চেক করা হবে। আপনার ডকুমেন্ট স্ক্যান করা হবে এবং কোনো সংশোধন থাকলে সংশোধন করা হবে। এরপর আপনার বায়োমেট্রিক তথ্যগুলো এই কক্ষেই নিয়ে নেওয়া হবে৷ এই কক্ষে আপনাকে যেসব তথ্য দিতে হবে সেগুলো হলো- ২ হাতের ১০ আঙ্গুলের ছাপ, চোখের আইরিস স্ক্যান, ডিজিটাল স্বাক্ষর ইত্যাদি।
  • সব গুলো কাজ সভলভাবে সম্পন্ন হলে এখান থেকেই আপনাকে Delivery Slip দিয়ে দেওয়া হবে।

৫ম ধাপ- পুলিশ ভেরিফিকেশন

উপরের সব ধাপের কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলে আপনাকে পুলিশ এর দ্বারা ভেরিফিকেশনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে৷ পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে আমরা বেশিরভাগ লোকই অনেক সময় ভয়ে থাকি। তবে এটির কোনো যৌক্তিক কারন নেই৷

ই পাসপোর্ট এর পুলিশ ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে পুলিশ আপনার বাসায় আসতে পারে অথবা থানাতেও ডাকতে পারে৷ সেক্ষেত্রে ঘাবরে না গিয়ে যেসব ডকুমেন্ট নিয়ে যেতে বলে সেগুলো গুছিয়ে পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করবেন। পুলিশ ভেরিফিকেশন কিভাবে করে সেটি নিয়ে এই লেখাটির পরের অংশে বিস্তারিতভাবে আমরা আলোচনা করব৷ এই লেখার ঐ অংশে চোখ রাখলে ভেরিফিকেশন নিয়ে আপনাকে কোনো ঝামেলায় পড়তে হবেনা।

৬ষ্ঠ ধাপ- পাসপোর্ট ডেলিভারি

ই পাসপোর্ট তৈরীর শেষ ধাপে রয়েছে পাসপোর্ট ডেলিভারি। ই পাসপোর্ট আবেদন Police verification এর ৪ থেকে ৬ দিন পর থেকেই অনলাইনে চোখ রাখতে হবে।

  • Application Status টি Enrollment pending Approval থেকে Enrollment Approved হবে। এরপর থেকেই পাসপোর্টের তৈরির কাজ শুরু হবে।
  • Enrollment Approved status এর ২/৩ দিন পর থেকেই এই  status টি পরিবর্তন হয়ে Passport Shipped স্ট্যাটাস হবে।
  • Passport Shipped এর ১/২ দিন পর SMS ও email এর মাধ্যমে পাসপোর্ট ডেলিভারির কথা জানানো হবে৷ তখন পাসপোর্ট এর status হবে ePassport is ready for issuance, এরপরই মূলত পার্সপোট আনতে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে। পাসপোর্ট অফিসে যেতে নিজের সাথে অবশ্যই delivery slip এবং NID এর কপি নিয়ে যাবেন।
  • আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে নির্ধারিত কক্ষে গিয়ে নিজস্ব স্বাক্ষর আর ফিঙ্গার স্ক্যান দিয়ে e-Passport ডেলিভারি নিয়ে আসবেন।

এইতো, সব কাজ শেষ। এবার আপনি নিশ্চিন্ত। পাসপোর্ট হাতে নিয়ে খুশি মনে বাড়ি ফিরে আসুন।

ই পাসপোর্ট এর এই পুরো প্রসেস চলাকালীন সময় আপনি passport process এর স্ট্যাটাস লাইভ চেক করতে পারবেন। ই পাসপোর্ট এর লাইভ স্ট্যাটাস দেখতে পাবেন আপনার account এ login করে অথবা ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে৷

Read More:

পাসপোর্ট চেক করার নিয়ম

ই-পাসপোর্ট পোর্টালে ‘স্ট্যাটাস চেক’ করা যাবে। জন্মতারিখ ও আবেদনের ক্রমিক সংখ্যা দিয়ে সার্চ অপশনে ক্লিক করতে হবে। আপনার অনলাইন পোর্টাল অ্যাকাউন্ট থেকে আপনার সব আবেদনের অবস্থা দেখতে পারেন।

অনলাইন থেকে ই পাসপোর্ট এর আবেদন চেক করার নিয়ম হচ্ছে, প্রথমত আপনাকে www.epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এরপর Check Status এ ক্লিক করলে আপনার ই পাসপোর্ট এর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারবেন৷

পাসপোর্ট চেক করার নিয়ম
পাসপোর্ট চেক করার নিয়ম

পাসপোর্ট তথ্য যাচাই

পাসপোর্ট চেক করার সময় কোন স্ট্যাটাস থাকলে কি বুঝাবে সেই বিষয়টি নিয়ে আমরা দ্বিধায় পড়ে যাই। এখন আমরা পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য দেখা ও পাসপোর্ট হয়েছে কিনা সেটি চেক করার উপায় নিয়ে আলোচনা করব।

  • Submitted, Enrollment in Process

এই স্ট্যাটাসটির অর্থ হচ্ছে অনলাইন Application submit হয়েছে।

  1. Enrollment Complete

এই স্ট্যাটাসের মানে হচ্ছে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে Enrollment এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজ করতে হবে।

  1. Enrollment pending Approval

Police Verification শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত এই স্ট্যাটাসটি দেখানো হবে।

  • Enrollment pending Approved

এই স্ট্যাটাসটির অর্থ হচ্ছে Police Verification confirm হয়েছি। এরপর Passport তৈরির প্রসেস শুরু হবে।

  1. Enrollment Approval Cancelled

এই স্ট্যাটাসটির অর্থ হচ্ছে Police verification এর ফলাফল আপনার পক্ষে আসেনি। পুলিশ ভেরিফিকেশনের ফলাফল Rejected। আপনার Enrollment ক্যান্সেল করা হয়েছে।

  1. Passport Shipped

এই স্ট্যাটাসটির অর্থ হচ্ছে পাসপোর্ট তৈরি শেষ। এখন আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্টটি পাঠানো হচ্ছে।

  1.  Passport Received

এই স্ট্যাটাসের অর্থ হচ্ছে পাসপোর্ট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে চলে এসেছে। এখন যে কোন কার্য দিবসে গিয়ে পাসপোর্ট নিয়ে আসতে পারেন।

  1. Passport issued

এই স্ট্যাটাসের মানে হচ্ছে পাসপোর্ট আপনার হাতে চলে এসেছে।

এটিই ছিল পাসপোর্ট চেক করার নিয়ম।  স্ট্যাটাস গুলোর অর্থ ভালভাবে বুঝে থাকলে আপনি নিজে নিজেই পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা অনলাইন থেকে চেক করতে পারবেন।

পুলিশ ভেরিফিকেশন কিভাবে করে

পুলিশ ভেরিফিকেশন ই পাসপোর্ট আবেদন এর একটি গুরুত্বপূর্ন অংশ। পাসপোর্ট তথ্য যাচাই এর জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন এর প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করে থাকে। ভেরিফিকেশনের প্রক্রিয়ায় মূলত পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য গুলো পুলিশ মিলিয়ে দেখে।

পুলিশ ভেরিফিকেশন এর ভয় কাটাতে পুলিশ ভেরিফিকেশন কিভাবে করে সেটি নিয়ে এখন আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব।

  • পাসপোর্ট এর তথ্য যাচাইয়ের জন্য পুলিশ বাসায় আসতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে থানায়ও ডেকে নিতে পারে।
  • পুলিশ ভেরিফিকেশন এর জন্য আপনাকে থানায় ডাকলে, যদি আপনি শিক্ষার্থী হোন তবে আপনার বাবাকে সাথে নিয়ে যেতে হবে। কারন ভেরিফিকেশনের সময় আপনার বাবার  একটি স্বাক্ষর দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে।
  • পুলিশ ভেরিফিকেশন এর সময় যেসব ডকুমেন্ট সাথে রাখতে হবে সেগুলোর একটি তালিকা তৈরী করে গুছিয়ে রাখুন। আপনার সাহায্যের জন্য আমরা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের একটি তালিকা দিচ্ছি। যথা-
  1. NID copy
  2. Student ID Copy
  3. SSC Certificate
  4.  Father’s NID copy
  5. Mother’s NID copy
  6. Utility Bill copy
  7. স্থায়ী ঠিকানার জমি বা ফ্লাটের দলিলের copy

সকল কাগজ পত্র ঠিকঠাক থাকলে সহজেই আপনি পুলিশ ভেরিফিকেশন এর ধাপটি পার হয়ে যেতে পারবেন। তবে কাগজ পত্র গুলোতে কোনো অসামঞ্জস্য থাকলে সেগুলো ঠিক ঠাক করে এরপর ভেরিফিকেশন করতে হবে৷ কোনো ধরনের অবৈধ লেনদেনে না জড়ানোই উত্তম।

Read More:

পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে

এই লেখাটির শুরু থেকে এই পর্যন্ত পড়ে আসলে অনলাইনে পাসপোর্ট এর আবেদন কিভাবে করবেন, কোথায় আবেদন করবেন ইত্যাদি সব কিছুই হয়তো আপনারা জেনে গেছেন। পাসপোর্ট করার নিয়ম ২০২১ সালে এসে হালনাগাদ করা হয়েছে৷

পাসপোর্ট এর মেয়াদ, পৃষ্ঠা সংখ্যা ও ডেলিভারির ডেট এর উপর ভিত্তি করে পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে সেটির ফি এর পার্থক্য হয়ে থাকে৷ লেখাটির এই অংশটিতে আমরা  ই পাসপোর্ট আবেদন করতে কত টাকা লাগে, পাসপোর্ট কত প্রকার সে বিষয় গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে  জানার চেষ্টা করব।

পাসপোর্ট কত ধরনের হয়

মেয়াদের দিক থেকে দেখলে ই পাসপোর্ট বর্তমানে দুই ধরনের রয়েছে। যথা-

  1. ৫ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট
  2. ১০ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট

পাসপোর্ট লম্বা সময়ের জন্য করে রাখতে চাইলে আপনি ১০ বছরের মেয়াদে পাসপোর্ট করে রাখতে পারেন। তবে আপনি যদি সিঙ্গেল টাইম কোনো জরুরি প্রয়োজনে ট্রাভেল করতে চান সেক্ষেত্রে আপনার ৫ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট করে রাখলে কোনো সমস্যা হবেনা৷

পাসপোর্ট এর পাতার সংখ্যার উপর ভিত্তি করে বর্তমানে দেশে দুই ধরনের পাসপোর্ট রয়েছে। এগুলো হচ্ছে-

  1. ৪৮ পাতার পাসপোর্ট
  2. ৬৪ পাতার পাসপোর্ট

আপনি যদি খুব ঘন ঘন বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে থাকেন তাহলে আপনার জন্য ৬৪ পাতার পাসপোর্ট সবচেয়ে বেশি কার্যকরী৷ অনেক ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রেও প্রায় নিয়মিত বিদেশে ভ্রমন করতে হয়। তাদের ক্ষেত্রেও ৬৪ পাতার পাসপোর্ট অনেক বেশি স্বস্তি এনে দেবে৷ তবে অপরদিকে যারা খুব বেশি পরিমানে বিদেশে ভ্রমন করেন না, বরং কালেভদ্রে বিদেশে যান তাদের ক্ষেত্রে ৪৮ পাতার পাসপোর্ট সুবিধাজনক হবে৷

অপরদিকে, পাসপোর্ট এর ডেলিভারি ডেটের উপর ভিত্তি করে পাসপোর্ট মূলত ৩ ধরনের হয়ে থাকে। এগুলো হচ্ছে-

  • রেগুলার ডেলিভারি
  • এক্সপ্রেস ডেলিভারি
  • সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি

ই পাসপোর্ট এর আবেদন করার পর রেগুলার ডেলিভারিতে মূলত ২১ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট ডেলিভারি করা হয়ে থাকে।  এক্সপ্রেস ডেলিভারিতে পাসপোর্ট পেতে সরকার নির্ধারিত সময় হচ্ছে ১০ দিন। অপরদিকে সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির মাধ্যমে পাসপোর্ট এর আবেদন করলে মাত্র ২ দিনের মধ্যেই পাসপোর্ট পেয়ে যেতে পারেন।  সেক্ষেত্রে আপনাকে দ্বিগুনেরও বেশি অর্থ খরচ করতে হতে পারে।

এখন কোন ধরনের পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে সে সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত ভাবে জানার চেষ্টা করব।

৪৮ পাতার ই পাসপোর্ট এর ক্ষেত্রে  কত টাকা ফি প্রয়োজন

৫ বছর মেয়াদী ই পাসপোর্ট

  • ৪৮ পাতার ৫ বছর মেয়াদি ই পাসপোর্ট এর আবেদন করার পর রেগুলার ডেলিভারিতে নিতে চাইলে আপনাকে ভ্যাটসহ ৪ হাজার ২৫ টাকা ব্যাংক চালানের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি ২১ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন।
  • ৪৮ পাতার ৫ বছর মেয়াদী ই পাসপোর্ট এর আবেদন করার পর এক্সপ্রেস ডেলিভারির মাধ্যমে নিতে চাইলে আপনাকে ৬ হাজার ৩২৫ টাকা ব্যাংক চালানের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনি ১০ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন।
  • ৪৮ পাতার ৫ বছর মেয়াদী ই পাসপোর্ট এর আবেদন করার পর সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির মাধ্যমে নিতে চাইলে আপনাকে ৮ হাজার ৬২৫ টাকা পরিশোধ করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি মাত্র ২ দিনের মধ্যেই পাসপোর্ট হাতে পেয়ে যাবেন। খুব দ্রুত পাসপোর্ট করার প্রয়োজন পড়লে সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির মাধ্যমে আপনি বেশ উপকৃত হতে পারেন৷

১০ বছর মেয়াদী ই পাসপোর্ট

  •  ৪৮ পাতার ১০ বছর মেয়াদী ই পাসপোর্ট এর আবেদন করার পর রেগুলার ডেলিভারির মাধ্যমে নিতে চাইলে আপনাকে ৫ হাজার ৭৫৭  টাকা ব্যাংক চালানের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনি ২১ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন।
  • ৪৮ পাতার ১০ বছর মেয়াদী ই পাসপোর্ট এর আবেদন করার পর এক্সপ্রেস ডেলিভারির মাধ্যমে নিতে চাইলে আপনাকে ৮ হাজার ৫০ টাকা ব্যাংক চালানের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনি ১০ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন।
  • ৪৮ পাতার ১০ বছর মেয়াদী ই পাসপোর্ট এর আবেদন করার পর সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির মাধ্যমে নিতে চাইলে আপনাকে ১০ হাজার ৩৫০ টাকা ব্যাংক চালানের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনি মাত্র ২ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট হাতে পেয়ে যাবেন।

৬৪ পৃষ্ঠার ই পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে

৫ বছর মেয়াদী ই পাসপোর্ট

  • ৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি ই পাসপোর্ট এর ক্ষেত্রে ২১ দিনের নরমাল ডেলিভারিতে পাসপোর্ট পেতে চাইলে খরচ পড়বে  ৬ হাজার ৩২৫ টাকা।

 

  • ৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদী ই পাসপোর্ট এর আবেদন করার পর ১০ দিনের এক্সপ্রেস ডেলিভারিতে পাসপোর্ট পেতে চাইলে আপনাকে ৮ হাজার ৬২৫ টাকা ব্যাংক চালানের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।

 

  • ৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদী ই পাসপোর্ট এর আবেদন করার পর ২ দিনের সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির মাধ্যমে পাসপোর্ট পেতে চাইলে ১২ হাজার ৭৫ টাকা ব্যাংক চালানের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।

 

১০ বছর মেয়াদী ই পাসপোর্ট

 

  • ৬৪ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদী ই পাসপোর্ট এর আবেদন করার পর ২১ দিনের রেগুলার ডেলিভারির মাধ্যমে নিতে চাইলে পাসপোর্ট এর নির্ধারিত ফি হচ্ছে ৮ হাজার ৫০ টাকা

 

  • ৬৪ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদী ই পাসপোর্ট এর আবেদন করার পর ১০ দিনের এক্সপ্রেস ডেলিভারির ক্ষেত্রে আপনার খরচ পড়বে  ১০ হাজার ৩৫০ টাকা।

 

  • ৬৪ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদী ই পাসপোর্ট এর আবেদন করার পর সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির মাধ্যমে পাসপোর্ট নিতে চাইলে আপনার খরচ পড়বে ১৩ হাজার ৮০০ টাকা। এক্ষেত্রে আপনি মাত্র ২ দিনের মধ্যেই কাঙ্ক্ষিত পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন।

পাসপোর্ট করতে কত দিন সময় লাগে

লেখাটি শুরু থেকে পড়ে থাকলে পাসপোর্ট করার নিয়ম সহ পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্যগুলো আপনারা জেনে গেছেন। এখন পাসপোর্ট করতে কত দিন সময় লাগে সেই বিষয়টি নিয়ে আমরা জানার চেষ্টা করব।

ই পাসপোর্ট ফরম পূরন করার পর আপনার প্রয়োজনের ভিত্তিতে আপনি কতদিনের মধ্যে পাসপোর্ট নিবেন সেটি সিলেক্ট করে দিতে হবে।

 

আমরা আগেই জেনেছি যে বাংলাদেশে বর্তমানে মূলত ৩ ধরনের পাসপোর্ট হয়ে থাকে। এগুলো হচ্ছে-

 

  • রেগুলার ডেলিভারি
  • এক্সপ্রেস ডেলিভারি
  • সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি

 

ই পাসপোর্ট এর আবেদন করার পর রেগুলার ডেলিভারিতে মূলত ২১ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট ডেলিভারি করা হয়ে থাকে। সাধারনভাবে ধীরে সুস্থে পাসপোর্ট পেতে চাইলে আপনি সবচেয়ে কম খরচের এই রেগুলার ডেলিভারির মাধ্যমে পাসপোর্ট নিতে পারেন।

মোটামুটি জরুরি ভিত্তিতে আপনার পাসপোর্ট করানোর প্রয়োজন পড়লে আপনি এক্সপ্রেস ডেলিভারিতে পাসপোর্ট পেতে পারেন। ই পাসপোর্ট এর এক্সপ্রেস ডেলিভারির ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত সময় হচ্ছে ১০ দিন। এক্ষেত্রে আপনাকে রেগুলার ডেলিভারির চেয়ে কিছু টাকা অতিরিক্ত ফি হিসেবে প্রদান করতে হবে।

অন্যদিকে, বিভিন্ন সময়ে আমাদের ১/২ দিনের মধ্যেই বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে৷ চিকিৎসা ক্ষেত্রে এই সমস্যাটা সবচেয়ে বেশি হয়। সে সময়ে তো ২১ দিন অপেক্ষা করা সম্ভব হয়না। তখন আপনি সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারিতে পাসপোর্ট নিতে পারবেন। সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির মাধ্যমে পাসপোর্ট এর আবেদন করলে মাত্র ২ দিনের মধ্যেই পাসপোর্ট পেয়ে যেতে পারেন। তবে এই পাসপোর্ট এর ক্ষেত্রে আপনাকে রেগুলার ডেলিভারির চেয়ে দ্বিগুনেরও বেশি অর্থ খরচ করতে হতে পারে।

শেষ কথা

অনলাইনে পাসপোর্ট এর আবেদন করার ক্ষেত্রে একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল ধরনের পাসপোর্ট করার নিয়ম এই লেখাটিতে আলোচনা করা হয়েছে। লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়লে আপনি অতি সহজেই নিজে নিজে ই পাসপোর্ট ফরম পূরন করে পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে পারবেন।

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে আপনাদের সোসাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলোতে শেয়ার করে সবাইকে জানার সুযোগ করে দিন। আর কোনো প্রশ্ন থাকলে লেখাটির নিচে কমেন্ট বক্স রয়েছে, সেখানে প্রশ্ন করুন।

আরও পড়ুন

Leave a Comment

Share via
Copy link
Powered by Social Snap