জীবনের বাস্তব উপদেশমূলক গল্প

পৃথিবীতে প্রতিটা মানুষের জীবনে হাসি-কান্নার কিছু না কিছু ইতিহাস থাকে । আর এসব ইতিহাসে ভুল-সমাধানে অনেক কিছু শিক্ষণীয় এবং উপদেশমূলক ঘঠনা থাকে । আসলে কিছু কিছু কথা বা ঘটনা এমন আছে যা বলার পর মাঝে মাঝে মনে হয় জীবনে কি ভুলটাই না করলাম । আগে যদি জানতাম, তবে কত ভালোভাবেই না চলতে পারতাম । যাই হোক, খুবই সংক্ষিপ্ত বলি—

স্কুলের অস্টম থেকে দশম :

দিনগুলো খুব ভালোভাবেই কাটছিল । কিন্তু হঠাৎ এক মেয়ের প্রতি আমার অজানা এক আকর্ষন হয় । জানি না এটা কেন হল; হতে পারে মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে এমন হয় অথবা তার কোন কাজ ভালো লেগেছিল অথবা সে খুব গরিব হওয়ার কারনে ।

যাইহোক, নিজেকে যতটা সম্ভব সংযত রাখার চেষ্টা করেছি । কারণ আবেগের বশবতী হয়ে পর নারীর প্রতি দৃষ্টি দেওয়াও পাপ । আর একটি কথা বলে রাখি, জীবনে পণ ছিল- আমি যেদিন আত্বনির্ভরশীল হব সেদিন গরিবদের পাশে থাকব এবং গরিব মেয়েদের যৌতুক ছাড়া বিবাহ করব ।

একদিন স্কুলে বড় খেলার আয়োজন হয় । চুপি চুপি এক ছেলে বন্ধুর পাশে বসে খেলা দেখছিলাম । কিন্তু হঠাৎ করেই নিজের দৃষ্টি চলে যায় তার পানে; খেলায় না থাকিয়ে সে তাকিয়ে আছে আমার দিকে । কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে নিজেই উঠে পড়লাম । এভাবে কিছু গুরূত্বপূর্ণ সময়ে তার দৃষ্টি আমার দিকে পড়ে ।

একদিন কিছু বন্ধুসহ স্কুলের বারান্দায় দাড়িয়েছিলাম, হঠাৎ আমার দৃষ্টি তার দিকে যায় এবং সাথে সাথেই দৃষ্টি ফিরিয়ে নেই । কিন্তু আমার মনে হয়েছিল, এই দৃষ্টিই ছিল আমার এবং তার মাঝে সব চেয়ে কাছাকাছি দৃষ্টি । যা এমন ” স্কুলের বারান্দায় দাড়িয়েছিলাম একদিন, শুধু দেখে বাস্তবতার আশা কেঁদেছিল খুবই কঠিন ।” আসলে তার এবং আমার মাঝে শুধু কিছু দৃষ্টি বিনিময় ছাড়া কোনদিন আর কিছুই হইনি, এমনকি একটি কথাও না ।

শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের দিন :

আমার হাই স্কুলে শেষ বিদায় অনুষ্ঠান ছিল খুবই স্মরণীয় দিন । এই দিন একটু আগে আগেই খুশিমনে হাই-স্কুলে গিয়েছিলাম । জানতাম না কেমন হবে আমার হাই স্কুলের শেষ বিদায় অনুষ্ঠান । যাক সেখানে বড় বড় সাউন্ড বক্স, স্বারদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ, সকল সহপাঠিদের সাথে দেখা ইত্যাদি সকল কিছু ভালোভাবেই অনুভব করলাম । শেষে আমার হাতে একটি হাত-ফুল/রাকি, একটি স্কেল, একটি বক্স, দুইটি কলম, একটি রুটিন (পরিক্ষার), একটি মালা ইত্যাদি এসে পড়ল ।

এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, বন্ধু-বান্ধবী সকলেই কম বেশি হাই স্কুলের শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের শেষ বিদায় কথাগুলো খুব ভালো করেই বলে গিয়েছিল । আমার কেমন যেন কাঁন্না কাঁন্না ভাব আসতেছিল । যাক স্কুলের সকল কিছু নিয়ে আমি স্কুল মাঠের শেষ জায়গায় রাখা আমার সাইকেল পর্যন্ত আসলাম । কিন্তু আমার যেন কেমন কেমন লাগছে; পিছনে আর একবার থাকানোর ইচ্ছা পোষণ করলাম । থাকিয়ে আমি বিস্ময়ে আর বেদনায় পাথর হয়ে গেলাম । আমি এটা কি দেখলাম । এটা তো সেই মেয়ে যাকে প্রায় তিন বছর কিছুটা চোখে চোখে রেখেছিলাম ।

হাই স্কুলের একটি জনশূন্য রুমে টেবিলের উপর বসে মেয়েটি এক দৃষ্টিতে আমার দিকে থাকিয়ে আছে । এত কষ্ট কোথাই রাখি; মেয়েটিকে কোন দিন একটু বেশি পরিমাণ দেখতেও পারিনি, কোন দিন একটু কথাও বলিনি । তাহলে আজ কেন তার জন্য এত কাঁন্না আসছে, সেই হ্রদয়ের কথা কাউকে বুঝাতে পারব না এবং বলতে পারছি না । সে যদি আমাকে পছন্দ নাই করত তাহলে শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের দিন সে কেন এভাবে তাকিয়ে ছিল আর আমার এত কাঁন্না কেন আসছিল, যা আমার পরবর্তিতে প্রতিটা পরিক্ষায় বার বার মনে পডে়ছিল । যাইহোক, শেষে খুবই কষ্ট-বেদনা সাথে নিয়ে বাড়ি পিড়়ে এলাম ।

Read More

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top