অনলাইনে আয় করার জনপ্রিয় কিছু মাধ্যম ২০২০

আজকাল বেশির ভাগই মানুষ অনলাইনে আয় মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম,ফেসবুক থেকে ইনকাম, বাংলায় ব্লগিং করে টাকাআয়,কিভাবে অনলাইন থেকে ইনকাম করা যায়?ইত্যাদি লিখে গুগলে সার্চ করে।এখানে আয় করার জন্য সহজ কোন উপায় নেই। কিন্তু অফলাইনে খুব সহজেই টাকা ইনকাম করা যায়।আপনি যদি সত্যি সত্যিই টাকা ইনকাম করতে চান?তাহলে অবশ্যই আপনাকে একজন অনলাইনে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা সম্পুর্ন হতে হবে।

অনলাইনে টাকা ইনকাম করার জন্য কি কি মাধ্যম বা উপায় আছে?

অনলাইনে টাকা ইনকাম করার জন্য অনেক উপায় রয়েছে যেগুলো সত্যি অসাধারণ এবং ফলদায়ক। অনেক বাংলাদেশী তরুণ মাসে ৫০,০০০ থেকে ১০০০০০০ টাকা ইনকাম করিতেছে।কি অবাক হচ্ছেন বিশ্বাস হচ্ছে না তো?এগুলো কোন ধরনের মিথ্যা বা বানোয়াট বক্তব্য নয় ১০০% খাঁটি কথা। তার মধ্যে Freelancer নাসিম ভাই, এফিলিয়েট মাকেটার লোকমান উদ্দিন আল মামুন, ইউটিউবার (Online 360) ঈসান ভাই অন্যতম।

অনলাইনে টাকা ইনকাম করার যে মাধ্যম গুলো রয়েছে তার কিছু বিস্তারিত বিষয় গুলো হলোঃ-

উপরে উল্লেখিত বিষয়সমূহ ছাড়াও আরও অনেক উপায় রয়েছে যেগুলো আপনি গুগলে সার্চ করলেই বুঝতে পারবেন।

(১) ব্লগিং

ব্লগিং হচ্ছে অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করার জন্য বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং উত্তম উপায়। একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে ঐ ওয়েবসাইটের মধ্যে ভালো ভালো কনটেন্ট প্রকাশ করে প্রচুর পরিমানে ভিজিটর এনে গুগল এডসেনস থেকে টাকা ইনকাম করা যায়। এটা হতে পারে বাংলা ভাষা বা ইংরেজি ভাষায় কনটেন্ট। তাছাড়াও স্পনসরের মাধ্যমেও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টাকা ইনকাম করা যায়। আপনি চায়লে পরবর্তীতে এই ওয়েবসাইট বিক্রি করেও টাকা আয় করতে পারবেন। এটাকে বলে ফ্লিপিং বিজনেস।এক দম ফ্রীতে ওয়েবসাইট তৈরি করতে www.blogger.com এবং সবচেয়ে জনপ্রিয়  wordpress.com এই দুটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে একটি ফ্রী ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন।

(২) এফিলিয়েট মাকেটিং

বর্তমানে অনলাইনে টাকা ইনকাম করার জন্য  যে সকল মাধ্যম রয়েছে তার মধ্যে এফিলিয়েট মাকেটিং অন্যতম একটি মাধ্যম।এফিলিয়েট মাকেটিং হচ্ছে কমিশন ভিত্তিক আয়ের পদ্ধতি।উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে,আপনি আবুল হাসান মিরাজের কাপড়ের দোকানে ১০ জন ক্রেতা বা কাস্টমার এনে দিলেন এখন মিরাজ ভাই ঐ দশ জনের কাছে ১০ টি কাপড় বিক্রি করলেন এবং তার ৫০০০ টাকা লাভ হলো সে আপনাকে লাভের ২০% বা ১০০০ টাকা দিল।এটাই হচ্ছে এফিলিয়েট মাকেটিং ইনকাম। খেয়াল করুন আপনি শুধু ক্রেতা বা কাস্টমার এনে দিলেন আর তারা ঐ দোকান থেকে কাপড়  কিনার বিনিময়ে আপনি টাকা ইনকাম করলেন।এটা গেল অফলাইনে এফিলিয়েট মাকেটিং। ঠিক এভাবেই অনলাইনেও এফিলিয়েট মাকেটিং করতে হয়।এখানে Cost per click, (C P C) Cost Per Action(C P A) Cost Per Sell (C P S) পদ্ধতিতে ইনকাম করা হয়ে থাকে। প্যাসিভ ইনকামও করা যায়।আর বাংলাদেশের মধ্যে এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় এফিলিয়েট মাকেটিং হচ্ছে REPTO এফিলিয়েট মাকেটিং। এখানে কম কাজ করে বেশি টাকা ইনকাম করা যায়।কারণ 2 tier এবং 3 tier system  রয়েছে।তাই একাউন্ট তৈরি করতে এই লিংকে ক্লিক করুন এবং যে সকল তথ্য গুলো চায় তা পুরন করে দিন।

(৩) Freelancing

Freelancing হচ্ছে অনলাইনে টাকা ইনকাম করার আরেকটি জনপ্রিয় উপায়। এখানে লেখা বা কনটেন্ট প্রকাশ,ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, লোগো তৈরি ইত্যাদি কাজ করে টাকা ইনকাম করা যায়। তবে অনেক বিড বা প্রতিযোগিতা করতে হয়।এরুপ টাকা ইনকামের কয়েকটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইট হচ্ছে Upwork, Fiverr, Freelance, ইত্যাদি। এখানে কাজ করতে হলে পেমেন্টর জন্য আপনার অবশ্যই paypal, Skrill, payoneer account থাকতে হবে।

(৪) ইউটিউবিং

ইউটিউবে একটি চ্যানেল খুলে ভালো ভালো ভিডিও আপলোড করে প্রচুর পরিমানে সাবসক্রাইবার এনে গুগল এডসেনস অথবা বিভিন্নভাবে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। যেমনঃ- অনলাইনে টাকা ইনকাম করার উপর  কোস তৈরি করে সেটা বিক্রি করে। যে বিষয়ে আপনার অভিজ্ঞতা রয়েছে সেই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলে তা বিক্রির মাধ্যমে ইত্যাদি। তাছাড়াও এফিলিয়েট মাকেটিং করেও এখন থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

(৫) ফরেক্স ট্রেডিং

ফরেক্স মাকেটিংয়ের নাম শুনেন নাই এমন লোক হয়তো খুব কমই আছে।ফরেক্স ট্রেডিং হচ্ছে অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করে কোটিপ্রতি হওয়ার একটি মাধ্যম। তবে এ ক্ষেএে আপনাকে একজন অভিজ্ঞতা সম্পুর্ন ট্রেডার হতে হবে। ফরেক্স ট্রেডিং সম্পর্কে এ টু জেট বিষয় জানতে হবে।আপনাকে ভালো ইংরেজি জানতে হবে। তা ছাড়াও এর উপর প্রচুর লেখা পড়া করতে হবে। বিদেশে এটি খুবই জনপ্রিয়।FX,Money Booker, treading ইত্যাদি ।

(৬) BET365

BET365 হচ্ছে বিশ্বের মধ্যে যে কোন ধরনের খেলায় বাজি রেখে টাকা ইনকাম করার পদ্ধতি।যদিও এটি সম্পুর্ন হারাম এবং আমাদের বাংলাদেশের মধ্যে অবৈধ।তবুও অনেক তরুণ প্রজন্ম একাউন্ট তৈরি করে বিট প্লেস করে টাকা ইনকাম করিতেছে।এখানে একাউন্ট তৈরি করতে হলে অবশ্যই আপনার
স্কিল বা নেটেলার একাউন্ট তৈরি করতে হবে।মূলত আপনাকে এই একাউন্ট দিয়েই ডলার ডিপোজিট করতে হবে এবং উইথড্র দিতে হবে।

(৭) P T C

P T C  হচ্ছে Paid To Click প্রতি ক্লিকের জন্য  টাকা দেওয়া হয়ে থাকে।Ojoo, Swag bug, Newbux,সবচেয়ে ভালো। এখানে কাজ করতে হলে আপনাকে অনেক সময় এবং ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে।কিছু টাকা ইনভেস্ট করে লোকজন ভাড়া করেও অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন। তবে আপনাকে আগে জানতে হবে কিভাবে হায়ার করবেন। এখান আপনার অর্জনকৃত টাকা বিট কয়েন একাউন্টে জমা রাখতে পারবেন। গুগলে সার্চ করে জানুন।

(৮) মাইনিং

Bitcoin mining, Latoshi mining, litecoin mining ইত্যাদি অন্যতম পদ্ধতি। ১ টি বিট কয়েন একাউন্ট তৈরি করে মাইনিং শুরু করতে পারেন। তবে আপনাকে অবশ্যই একটু দক্ষ হতে। একটা বিটকয়েনের মূূল্য ১৬ লাখ টাকা।
এখানে ইনভেস্ট পদ্ধতি রয়েছে। আপনি যদি চান তাহলে অনেক যাচাই বাছাই করে তারপর ইনভেস্ট করবেন। কারণ সবগুলো সাইটই লাভ দেয় না।

(৯) Investment

Investment হচ্ছে আপনি একটি ওয়েবসাইট এ ডলার ইনভেস্ট করে রাখবেন পরবর্তীতে ঐ সাইটের মালিক আপনাকে লাভ দিবে। মূলত এই ধরনের বেশির ভাগইওয়েবসাইট গুলো তৈরি করা হয়ে থাকে  Scamming এর জন্য বাংলাদেশের মধ্যে কিছু ইনভেস্টমেণ্ট ওয়েবসাইট রয়েছে যেগুলো ৫ থেকে  ১০০০ ডলারের উপরে ইনভেস্ট করা যায়। এই সাইটগুলো রিয়েলস্টেটের উপর নির্ভর করে তৈরি করা হয়েছে। সাবধানতা অবলম্বন করুন।

(১০) এফ কমার্স

এফ কমার্স হচ্ছে Facebook ব্যাবসা কার্যক্রম।ফেসবুকে একটি পেজ খুলে বুস্ট করে তারপর হাজার থেকে লাখ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে নিজের যে কোন পণ্য বিক্রি করার উত্তম উপায় হচ্ছে ফেসবুক বা ই- কমার্স।আজকাল ফেসবুকে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অভাব নেই। ছোট বড় মিলে ১০,০০০ হাজারের উপরে এফ  কমার্স ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এখানে পণ্যের গুনগত মান এবং ডেলিভারী দ্বারা সেবার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করা যায়।

(১১) ই-কমার্স

অনলাইনে ই-কমার্স হচ্ছে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় এবং লাভজনক ব্যবসা। আপনি হয়তো বিশ্বের মধ্যে এমাজন,ইবে,আলীবাবা ইত্যাদি নাম শুনেছেন। অথবা বাংলাদেশের মধ্যে চাল ডাল ডট কম,বিক্রয় ডট কম ইত্যাদি  ওয়েবসাইটের নাম শুনেছেন এগুলোই ই-কমার্স  প্রতিষ্ঠান। আরও সহজ করে বলছি মনে করেন আপনি একটা ওয়েবসাইট তৈরি করলেন এবং ঐ সাইট আপনার দোকানের পণ্য বিক্রি করলেন এটাই হচ্ছে ই-কমার্স ব্যাবসা।

(১২) রাইটিং

রাইটিং হলো যে কোন বিষয়ের উপর লেখা লেখি করে তা বিক্রি করে টাকা ইনকাম করার উপায়। আপনি যদি বাংলা ভাষায় কনটেন্ট লিখতে পারেন এবং মোটামুটি এই বিষয়ে অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে বাংলা ভাষায় কনটেন্ট লিখে মাসে কমপক্ষে ৫ হাজার টাকা ইনকাম করতে পারবেন। বাংলায় লিখে বিকাশে পেমেন্ট
বিস্তৃত ওয়েবসাইট হলো jit /জে আইটি।
ওয়েবসাইট এ একাউন্ট তৈরি করে লেখা শেয়ার করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।একাউন্ট তৈরি করতে এখানে ক্লিক করুন 👉 আর যদি ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা অর্জন করে থাকেন। তাহলে মাসে কমপক্ষে ২০০০ ডলার আয় করতে পারবেন।

পরিশেষে বলতে চায় আপনি অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করতে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করুন। তারপর ভালো কনটেন্ট প্রকাশ করে প্রচুর পরিমানে ভিজিটর এনে এফিলিয়েট মাকেটিং এবং গুগল এডসেনস করুন।

কিছু প্রশ্ন এবং তার উত্তর

১। ভাইয়া আমি ব্লগিং কিভাবে শুরু করবো?

উত্তরঃ- প্রথমেই Blogspot.com অথবা wordpress.com এ একটি Free ওয়েবসাইট তৈরি করুন। তারপর কনটেন্ট লিখে প্রকাশ করুন এবং টপ লেভেল ডোমেইন এড করুন। এরপর ওয়েবসাইটি ডিজাইন করে on page SEO off page SEO করে কন্টিনিউ ব্লগিং করুন।আশা করি আপনি বুঝতে পারছেন।

২। আমি সাগর শিক্ষিত বেকার বাড়িতে বসে আছি কিভাবে এফিলিয়েট মাকেটিং করতে পাড়ি একটু বলবেন প্লিজ?

উত্তরঃ- সাগর আপনাকে ধন্যবাদ! আপনি খুব সহজেই মোবাইল, ল্যাপটব, কম্পিউটার ব্যবহার করে Amazon, EBay, clickbank যে কোন একটা এফিলিয়েট মাকেটিং ওয়েবসাইট এ account করে এফিলিয়েট মাকেটিং শুরু করতে পারেন।

৩। আচ্ছা ভাইয়া Freelancing করতে কি কি লাগবে?

উত্তরঃ- ল্যাপটব, কম্পিউটার অথবা আপনার হাতের মোবাইলের দ্বারাও করা যাবে।Upwork, fiveer, dotwriter এ একটি একাউন্ট তৈরি করে লেখা Freelancing শুরু করতে পারেন।

৪।BET365 account কিভাবে তৈরি করে টাকা ইনকাম করা যায়?

উত্তরঃ- www.BET365.com ওয়েবসাইট এ একাউন্ট তৈরি করার পড়ে ভেরিফাই করে ডলার ডিপোজিট করতে হবে। তারপর ঐ ডলার যে কোন খেলায় স্টেক করে বিজয় অর্জন করলে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

৫। আমি এফ কমার্স ব্যাবসা কার্যক্রম শুরু করতে চায়। একটু সাহায্য করবেন কোথায় থেকে শুরু করবো?

উত্তরঃ- আপনি যে পণ্য বিক্রি করতে চাচ্ছেন তার উপর নির্ভর করে একটি ফেসবুক পেজ খুলে নিন।তারপর মোটামুটি ৫০০ থেকে ১০০০ ফলোয়ার হলেই বুস্ট করে নিয়ে পণ্য বিক্রি করে টাকা ইনকাম শুরু করুন। ধন্যবাদ

Read More

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top