মোবাইল দিয়ে ভিডিও এডিটিং করুন খুব সহজেই

ভিডিও এডিটিং হল এমন একটি প্রক্রিয়া এখানে একটি ভিডিও ফুটেজ কে এডিটর পছন্দ শীল ভাবে সাজিয়ে একটি পরিপূর্ণ গল্প ফুটিয়ে তুলে। যেকোনো একটি ভিডিওর মধ্যে অসুন্দরকে সুন্দর করে তুমি এই এডিটিং এর মাধ্যমে। একটি ভিডিওকে ইডিট করে ফুটিয়ে তুলে অনেক রকম গল্প রূপান্তরিত করা যায়।এবং ভিডিও এডিটিং করে অনেক ফানি ভিডিও বানানো যায়। যেগুলো দেখে মানুষ অনেক আনন্দ পায়। নিজেকে এবং অন্যকে এন্টারটেইন করার জন্য মানুষ ভিডিও এডিটিং করে আপলোড করে থাকে।

বর্তমান যুগে তো অনেক রকমের অ্যাপস আছে যেগুলোতে মানুষকে ভিডিও আপলোড করে থাকে। যেমন এক মিনিট পনেরো সেকেন্ডের একটি ভিডিওকে হচ্ছে টিক টক। টিকটকের মানুষ 15 সেকেন্ডে অনেক সুন্দর সুন্দর কথা ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয় ভিডিও এডিটিং এর মাধ্যমে। আর এই ভিডিও এডিটের জন্য অনেক রকম সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকে।

এছাড়া বর্তমানে তো সবাই ইন্টারনেট ওয়েবসাইট ব্যবহার করে। এই ইন্টারনেটের যুগে সবাই ফেসবুক ওয়েবসাইট ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করে থাকে সবাই যার যার মতো ভিডিও আপলোড করে থাকে কিন্তু এই ভিডিও এডিটিং কিভাবে করতে হয় অনেকেই সেটা জানে না।

ভিডিও এডিটিং এর জন্য অনেক সফটওয়্যার আছে। সফটওয়্যার গুলো ব্যবহার করে ভিডিও এডিট করা যায়। বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার আছে যেগুলো দিয়ে বিভিন্নভাবে এডিটিং করা যায়।সেই সফটওয়্যারগুলো সম্পর্কের নিচে আলোচনা করা হলো।

মোবাইলে ভিডিও এডিটিং এর জন্য কিছু প্রোয়োজনীয় সফটওয়্যার
মোবাইলে ভিডিও এডিটিং এর জন্য কিছু প্রোয়োজনীয় সফটওয়্যার

মোবাইলে ভিডিও এডিটিং এর জন্য কিছু সফটওয়্যার নিচে দেওয়া হলো:

Video Show:

ভিডিও এডিটিং অ্যাপের মধ্যে সবথেকে বেস্ট অ্যাপ হল এই অ্যাপ। এটি একটি মোস্ট ট্যালেন্টেড অ্যাপ. এই অ্যাপ অনেকগুলো অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে।অ্যাপ দিয়ে খুব সহজে ভিডিও এডিটিং করা যায়। এই অ্যাপটিতে রয়েছে কয়েক রকমের থিম। কমপ্রেস করার মাধ্যমে ভিডিও সাইজ কমানো বা বাড়ানো যায়।টেক্সট, ইফেক্ট, সাউন্ড যুক্ত, ডাব করা যায় এই অ্যাপস এর মাধ্যমে।

Kine Master:

এই অ্যাপটি খুব সুন্দর ভাবে ডিজাইন করা হয়েছে এবং এর সাথে পাওয়ারফুল ফিচার দেওয়া হয়েছে। drug-n-drop টেকনিক এর মাধ্যমে বিভিন্ন মিডিয়াতে ফাইল ইমপোর্ট করা যায়। এই অ্যাপ দ্বারা প্রফেশনাল স্টাইলে ভিডিও এডিট করা যাবে খুব সহজেই। এখানে অনেক রকমের ট্রানজিশন ইফেক্ট রয়েছে।

অনেকগুলো ভিডিওর মাঝে ও একাধিক ট্রানজিশন অ্যাড করা যায়। সেই সাথে রয়েছে সাবটাইটেল যুক্ত করার সুবিধা। লেয়ারের পর লেয়ার যুক্ত করে টেক্সট, গ্রাফিক্স, ইমেজ এমনকি নিজের হ্যান্ডরাইটিং এড করা যায়। এছাড়া কালার জাস্ট করা, ব্রাইটনেস কমানো বাড়ানো ,স্পিড টিউটিং ধরনের সুবিধা এখানে আছে।

Pawer Director :

power director অ্যাপে অনেক আলাদা কিছু এডভান্স এডিটিং অপশন রয়েছে যা অন্য কোন অ্যাপে নেই। এই অ্যাপ দ্বারা ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড বদলানো, ভিডিও কাটা জোড়া লাগানো, স্লো-মোশনে ইডিট, বিভিন্ন ধরনের প্রফেশনাল টুল, বিভিন্ন ভিডিও ইফেক্টস, ফটো দিয়ে ভিডিও বানানো এবং আরো অনেক ফাংশন পাওয়া যায়। এই অ্যাপটির মজার ব্যাপার হল এটি ব্যবহার করে গ্রিন স্কিন ভিডিও বানানো যায়।

ভিডিও এডিট করার পর এন্ড্রয়েড মোবাইলে সেভ করে রাখতে পারবেন. ভিডিও এডিটিং এর মধ্যে বলা যায় এটি সবথেকে সেরা একটি অ্যাপ।

এই অ্যাপটি ফ্রিতে ব্যবহার করা যায়। এটা অনেক স্ট্রং একটি অ্যাপ্লিকেশন এবং বেশিরভাগ ইউটিউবাররা এটাই ব্যবহার করে থাকে। যেকোন ভিডিও সাথে মিউজিক ইফেক্ট যোগ করা, টাইটেল যোগ করা, ভিডিও থিম বেছে নেওয়া, কাটিং ও ট্রিমিং এর মত অনেক ফাংশন এখানে রয়েছে। এছাড়াও এটার মাধ্যমে রিভার্স ভিডিও বানানো যায়, ট্রানজিশন এড করা যায়, টেক্সট যুক্ত করা যায়, স্লো মোশন ভিডিও বানানো যায়।

আরও পড়ুন:

এবার আরো অনেক সুযোগ সুবিধা রয়েছে৷ ভিডিও এডিট করা শেষে সরাসরি যে কোন সোশ্যাল মিডিয়া বা ওয়েব সাইটে আপলোড করা যায়।ভিডিওতে ওয়াটার মার্ক দেখা যাবে একদম শেষে ,প্রিমিয়ামভার্সন এর ক্ষেত্রে কোন ওয়াটারমার্ক নাই। করা শেষে ভিডিওটি আপনি আপনার মোবাইলের গ্যালারিতে সেভ করে রাখতে পারবেন।

Adobe Premiere clip:

Adobe Premiere clip দাঁড়া ভিডিও খুব দ্রুত এডিটিং করা যায় এবং খুব মজা পাওয়া যায়। থেকে মজার ব্যাপার হলো এর একটি বেস্ট ফিচার হচ্ছে এর অটোমেটিক ভিডিও ক্রিয়েশন ক্যাপাবিলিটি।এই অ্যাপ ব্যবহার করার সময় কোন অ্যাড দেখানো হয় না। ভিডিও কাট করা, ট্রিম করা, ট্রানজেকশন করা থেকে শুরু করে অডিও,টেক্সট, ফিল্টার, ইডিট, ইফেক্ট ইত্যাদি যোগ করা যায়।

Lapselt:

টাইম ল্যাপস ভিডিও বানাতে এই অ্যাপটি ব্যবহার অনেক সুবিধা। এই অ্যাপটি ব্যবহার করে খুব সহজেই টাইম ল্যাপস ভিডিও বানানো যায় এবং এক ক্লিকেই যে কোন ওয়েবসাইটে অথবা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা যায়।এছাড়া বিভিন্ন রকমের ফিল্টার রয়েছে। এই অ্যাপটি প্লে স্টোরে ফ্রিতেই ডাউনলোড করা যায়। তবে প্র ভার্শন এর জন্য 0.99 ডলার প্রয়োজন। এটি দ্বারা আরো অনেক রকমের ফিল্টার ইফেক্ট ও হাই রেজুলেশনের ভিডিও তৈরি করা যায়।

Magisto:

magisto একটি award-winning ফ্রী এডিটর অ্যাপ। যাদের ফর্মাল ভিডিও বানানোর অভ্যাস নেই তাদের জন্য এই ভিডিওটি অনেক ভালো।মাত্র 3 টি স্টেপ ব্যবহার করে এই ভিডিওটি সুন্দরবনের বানানো যায়। AI ফাংশন ব্যবহার করে অটোমেটিক্যালি ভিডিও বানানো যায়। মোবাইল থেকে যে কোন ভিডিও বা ফটো সিলেক্ট করে এখান থেকে যেকোন ভিডিও একটি স্থান সিলেক্ট করে নিলে অটোমেটিক্যালি ভিডিও তৈরি হয়ে যাবে।রিয়া ব্যবহার করলে মনে হবে ভিডিও বানানো তো খুবই সোজা।

Viva video :

এই অ্যাপ এঅনেক সুন্দর সুন্দর এডিটিং ফিচার আছে। কোন এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে এটি ব্যবহার করা যায়। অ্যাপের মাধ্যমে প্র লেভেলের ভিডিও করা যায়। অনেক বেশি স্টিকার ও ফিল্টার এখানে পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে এনিমেটেড ক্লিপ ও সাবটাইটেল যুক্ত করার অনেক রকম ডিজাইন। এর মধ্যে আছে স্লো মোশন ভিডিও মেকার এবং স্লাইড শো মেকার।অ্যান্ড্রয়েড এর মধ্যে সেরা ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার হলো এই viva video।

Read More:

InShot app:

সাধারণত ছবি এডিট করার জন্য এই অ্যাপ ব্যবহার করা হলেও ভিডিও এডিটিং এর জন্য খুব উপকারী এই অ্যাপ।এটি ব্যবহার করা খুব সোজা।ভয়েস ওভার, মিউজিক ন্যারেশন, ইমোজি, ওভারলাইস সহ বিভিন্ন রকম সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে এখানে।

Vizmato:

খুব তাড়াতাড়ি ভিডিও বানানোর জন্য এটি বেশ কার্যকরী অ্যাপ। এই অ্যাপটির মাধ্যমে এইচডি ভিডিও রেকর্ডিং করা যায়।নানানা ইফেক্ট ফিল্টার তো আছেই। কিছু কিছু ফিল্টার ইনস্টা ইফেক্টের জন্য অনেক ভালো। যারা ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করতে অনেক পছন্দ করে তাদের জন্য এই অ্যাপটি খুবই ভালো। প্র ভার্সনের জন্য প্রতি মাসে ০.৯৯ডলার দিতে হয়।

Cutecut:

ইনস্টাগ্রামে ভিডিও কিংবা ছবি আপলোড দেওয়ার জন্য আরও একটি ভালো এক হচ্ছে এই কিউট ক্যাট অ্যাপ।এতে মাধ্যমে ভিডিও মতো ছবি আঁকা যায় এবং নানারকম সেপ ও টেক্সট যুক্ত করা যায়।একটি বিনামূল্যে প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করা যায়।

Funimet:

ফানি ভিডিও বানানোর ক্ষেত্রে এই অ্যাপটি অনেক বেটার একটি অ্যাপ। দিয়ে খুব সহজেই সুন্দর ফানি ভিডিও বানানো যায়। সিনেমার ছোট ছোট ফানি মোমেন্ট ধরে রাখার জন্যই হয়তো একটু বানানো হয়েছে।এখান থেকে ভিডিও বানিয়ে সরাসরি যেকোন সাইটে আপলোড করা যায়।দিয়ে শর্ট ভিডিও লুপ বানানো যায় যেটা অনেক বেশী আনন্দদায়ক।

Read More:

উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝতে পেরেছেন যে কিভাবে ভিডিও এডিটিং করে একটি ভিডিওকে অনেক ভালো গল্পের রূপান্তরিত করা যায়।যেকোনো একটি ভিডিও কি সুন্দর করে উপস্থাপন করার জন্য এই অ্যাপ গুলো ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া যারা টিক টক ব্যবহার করে থাকেন। টিক টক এ অল্প সময়ে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটি ভিডিও ক্লিপ ফুটিয়ে তোলার জন্য এই অ্যাপ গুলো ব্যবহার করতে পারেন।

Read More

1 thought on “মোবাইল দিয়ে ভিডিও এডিটিং করুন খুব সহজেই”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top