কম্পিউটার ভাইরাস কি ? আপনার জানা প্রয়োজন

কম্পিউটার ভাইরাস হলো একটি ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম। ইন্টারনেট ,পেনড্রাইভ বা অন্য কোনো মাধ্যমে কম্পিউটারে প্রবেশ করে এবং গোপনে বিস্তার লাভ করে কম্পিউটারের জরুরী তথ্য নষ্ট করে। কম্পিউটারকে স্লো করে দেয় । গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ডিলিট করে বা আরও অনেক ক্ষতি সাধন করে থাকে। VIRUS শব্দের পুরো নাম Vital Information Resource Under Seize যার অর্থ জরুরী তথ্যের উৎসগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একটি কম্পিউটার ভাইরাস যে কোনো কম্পিউটার সিস্টেমে অপ্রত্যাশিত এবং ক্ষতিকারক প্রভাব তৈরি করার ক্ষমতা রাখে।

কম্পিউটার সিস্টেমে কোন ভাইরাস এসে গেলে কম্পিউটার সিস্টেমের পারফরম্যান্স হ্রাস করার পাশাপাশি সিস্টেম সফটওয়্যার গুলিকেও পুরোপুরি কাজ করা থেকে বাধা দেয়। এই কম্পিউটার ভাইরাস গুলো তৈরির উদ্দেশ্য হলো infected system গুলির নিয়ন্ত্রণ অর্জন করা এবং সংবেদনশীল ডাটা চুরি করা। হ্যাকাররা খারাপ অভিপ্রায় নিয়ে একটি কম্পিউটার ভাইরাস ডিজাইন করে এবং ভাইরাসটিকে টার্গেট সিস্টেমে পৌঁছে দেয়।

এই কম্পিউটার ভাইরাস বিভিন্ন উপায়ে আমাদের কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করে অনেক ক্ষতি সাধন করে থাকে।

কম্পিউটার ভাইরাস কি ? কিভাবে বুঝবেন ? এর প্রতিকার কি
কম্পিউটার ভাইরাস কি ? কিভাবে বুঝবেন ?

কম্পিউটার ভাইরাসের প্রকারভেদ:

প্রতিনিয়ত সারা বিশ্বে নতুন নতুন ভাইরাস এর সৃষ্টি হচ্ছে বা বানানো হচ্ছে.কম্পিউটার সিকিউরিটির জন্য আমাদের এই ভাইরাস সম্পর্কে জানা উচিত।

multipartite virus:

এই কম্পিউটার ভাইরাস টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভাইরাস হিসেবে বিবেচিত হয়। বেশিরভাগ ভাইরাসগুলো প্রোগ্রাম ফাইলগুলোতে ইনফেক্টেড হয়.
প্রোগ্রাম ফাইল উভয়কেই প্রভাবিত করতে পারে। এ কারণেই এটি অন্যান্য কম্পিউটার ভাইরাসের থেকে বেশি ক্ষতি করে।

Read More:

Direct action virus:

এই ধরনের কম্পিউটার ভাইরাস সাধারণত নির্দিষ্ট ফাইলগুলোতে অ্যাটাক করে। এই ভাইরাসটির কাজ হল এই প্রোগ্রামটি পুনরায় করা এবং ফাইলগুলি ইনফেক্টেড করা।যদি ও এই কম্পিউটার ভাইরাসটি ততটা বিপদজনক নয়।এটি এন্টিভাইরাস প্রোগ্রাম এর সাহায্যে সরানো যেতে পারে।

file infector virus:

এই কম্পিউটার ভাইরাস সহজেই একটি কম্পিউটারের স্টোর ফাইল ইনফেক্টেড করতে পারে। আপনি যখন ইনফেক্টেড কোন ফাইল বা প্রোগ্রাম পরিচালনা করেন তখন ফাইল সংক্রমণকারী ভাইরাস সক্রিয় হয়ে ওঠে।এটি আপনার সিস্টেমের প্রোগ্রামটি ধীর করার পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষতিকারক প্রভাব এর কারণ হতে পারে৷ এটি আপনার কম্পিউটারের উপস্থিত অ্যাপ্লিকেশনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
এই ভাইরাসটি দূষিত কোডটিকে প্রতিলিপি করতে এবং এটি অন্য অ্যাপ্লিকেশন টিতে প্রয়োগ করতে পারে। সমস্ত এক্সিকিউটেবল ফাইলগুলি এই ভাইরাস এর শিকার হতে পারে।

Network virus :

এ নেটওয়ার্ক ভাইরাসটি ইন্টারনেট এবং স্থানীয় নেটওয়ার্ক অঞ্চলগুলোর মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে। এই ধরনের ভাইরাস গুলি নেটওয়ার্কের কার্যকরীতা হ্রাস করার ক্ষমতা রয়েছে। এর কারণে গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস, প্রোগ্রাম এবং নেটওয়ার্ক সংযোগ সম্পূর্ণ ভাবে অক্ষম। একবার নেটওয়ার্ক ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে এটা নির্মূল করা কঠিন হয়ে যায়।

Encrypted virus:

এটি এমন একটি ভাইরাস যা কোন এন্টিভাইরাস প্রোগ্রাম এর জন্য শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এই ভাইরাসটি এনক্রিপটেড ম্যালিসিয়াস কোড ব্যবহার করে। এ কারণে এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার গুলির পক্ষে এদের ধরা শক্ত। অবশ্য এই ভাইরাস অপসারন করা সম্ভব। এই ভাইরাসটির প্রোগ্রামটি পুনরাবৃত্তি করার সময় এরা এনক্রিপটেড কোড ব্যবহার করেনা। এ সময় এরা নিজেরাই ডিক্রিপ্ট করে। তবে কম্পিউটার এর ফাইল এবং ফোল্ডার গুলির কোন ক্ষতি হয় না। তবে একটি পিসি পারফরম্যান্সকে খারাপ ভাবে প্রভাবিত করে।

Micro virus:

ম্যাক্রো ভাইরাস গুলি এমন অ্যাপ্লিকেশন এবং সফটওয়্যার কে ইনফেক্টেড করে যা ম্যাক্রো গুলি ধারণ করে। ম্যাক্রো ভাইরাস হলাে প্রথম ভাইরাস যা ডেটা ফাইলসমূহকে আক্রান্ত করে।অনেক এপ্লিকেশনে ম্যাক্রো ল্যাংগুয়েজ রয়েছে এবং তা থেকেই ম্যাক্রো ভাইরাসের উৎপত্তি। আক্রান্ত ডকুমেন্ট বিতরণ, ব্যবহারকরণ, ফ্লপি ডিস্ক বা ইন্টারনাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ই-মেইল অ্যাটাচমেন্ট অথবা ইন্টারনেটে ফাইল ডাউনলোড থেকে ম্যাক্রো ভাইরাস ছড়ায়।

Read More:

Boot sector virus:

একটি বুট সেক্টর বা এমবিআর ভাইরাস যা ডিস্কে যে স্থানটি আক্রমণ করে সেই ডিস্কের পুরো অপারেশনটিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়।
একটি বুট সেক্টর ভাইরাস হল এক ধরণের রুটকিট ভাইরাস এবং এই পদগুলি প্রায়শই আন্তঃবিস্মরণীয়ভাবে ব্যবহৃত হয়।

Resident virus:

এই ধরনের ভাইরাস গুলি কম্পিউটারএর RAM এ কিছুটা জায়গা দখল করে ঘুমিয়ে থাকে এবং বিভিন্ন ফাইল করাপ্ট করে সিস্টেমের কাজে বাধা দেয়. এই ভাইরাস গুলি অনেকগুলো ক্রিয়া করার ক্ষমতা রাখে।

Web scripting virus:

এই ধরনের ভাইরাস সর্বাধিক প্রচলিত। এই ভাইরাসটি ওয়েবসাইটের লিংক,বিজ্ঞাপন ,চিত্র,স্থাপন ভিডিও সহ সংযুক্ত রয়েছে। ওয়েবসাইটের এই বিষয়বস্তুতে ক্লিক করে। দূষিত করতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার কম্পিউটারে ডাউনলোড হয়ে যায়। এগুলো ছাড়াও এটি আপনাকে যেকোন দূষিত ওয়েবসাইটে প্রেরণ করতে পারে। এই ধরনের কম্পিউটার ভাইরাস গুলি ওয়েবসাইটে পাওয়া যায় যা সামাজিক যোগাযোগের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।

Browser hijacker:

এই ভাইরাসটি ব্যবহারকারীর অনুমতি ব্যতীত ওয়েব ব্রাউজারের সেটিংস পরিবর্তিত করে। এরপর আপনি বিভিন্ন ওয়েবসাইট আ্যক্সেস করতে পারেন।
সাধারণত বিজ্ঞাপন থেকে আয় বাড়ানোর জন্য এই সকল কৌশল ব্যবহার করা হয়। এই ধরনের ভাইরাস দ্বারা ইনফেক্টেড হওয়ার পরে আপনার ব্রাউজারটি অল্প সময় পরে আপনাকে অযাচিত বিজ্ঞাপন দেখানো শুরু করবে।

কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ:

কম্পিউটার ভাইরাস একটি দূষিত সফটওয়্যার। এটি আপনার কম্পিউটার থেকে ডাটা চুরি করতে পারে বা সিস্টেম এর ক্ষতি করতে পারে। যদি আপনার কম্পিউটারে ভাইরাস উপস্থিত থাকে তাহলে আপনি যে লক্ষণগুলো দাঁড়া বুঝতে পারবেন যে আপনার কম্পিউটারে ভাইরাস উপস্থিত তা নিচে দেওয়া হল:

#যদি আপনার ইন্টারনেটের গতি অবিচ্ছিন্নভাবে কমে যায় তবে আপনার পরীক্ষা করা উচিত যে এটি কম্পিউটার ভাইরাসের কারণে হয়েছে কিনা। যারা এন্টিভাইরাস প্রোগ্রাম ছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় এরকম ঘটে।

#অপ্রত্যাশিত অনস্ক্রিন বিজ্ঞাপন কম্পিউটার ভাইরাসের লক্ষণ। এ জাতীয় কোনো প্রভাব বিজ্ঞাপনে ক্লিক করবেন না।

#অনেক সময় বিজ্ঞাপনে এটি উল্লেখ থাকে যে আপনার কম্পিউটারে ভাইরাস রয়েছে এটি সরাতে এন্টিভাইরাস প্রোগ্রাম ডাউনলোড করুন। তবে বাস্তবে এটি একটি কম্পিউটার ভাইরাস।

# যদি আপনার পিসি শুরু করতে বেশি সময় নিচ্ছে অথবা কোন প্রোগ্রাম খোলার জন্য খুব বেশি সময় নিচ্ছে তাহলে আপনার কম্পিউটারে ভাইরাস থাকতে পারে।

#যদি আপনার কম্পিউটার থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে ফাইল গুলো হারিয়ে যায় এবং কখনো যদি আপনার প্রোগ্রাম খুলতে অক্ষম হন তাহলে বুঝবেন এটি একটি ক্ষতিকর ভাইরাস দ্বারা ইনফেক্টেড হয়েছে।

#আপনার কম্পিউটারে যদি অপ্রত্যাশিত ইমেইল আসে এবং কোন লিংকে ক্লিক করতে বলে এর অর্থ আপনার কম্পিউটার ভাইরাস এফেক্টেড। এক্ষেত্রে আপনি অবিলম্বে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।

#যদি আপনার কম্পিউটার সিস্টেমটি হঠাৎ ক্রাশ হয়ে যায় ভাই স্তব্ধ হয়ে যায় একটি কম্পিউটার ভাইরাস জনিত কারণে হতে পারে।

Read More:

কম্পিউটার ভাইরাস প্রতিকারের উপায়:

কম্পিউটারকে সম্পূর্ণ ভাইরাস মুক্ত করতে প্রথমে আপনাকে আপনার কম্পিউটারের ভাইরাস স্ক্যান করতে হবে। এটি আপনাকে জানার অনুমতি দেবে যে আপনার সিস্টেম কিভাবে ভাইরাসে ভুগছে। একটি সাধারন ভাইরাস স্ক্যান কাজ করবেনা। আপনাকে উন্নত মানের এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে।

নিচে কম্পিউটার এন্টিভাইরাসের নাম গুলো দেওয়া হল:

#Quick Heal.
#Kaspersky Internet Security.
#BitDefender.
#Norton.
#McAfee.
#Avast.
#Guardian Total Security.
#Avg antivirus.
#K7 antivirus.
#Avira

বন্ধুরা ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। এবং কোন প্রয়োজন হলে কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ

Read More

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top