কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বর্তমানে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক্স ইনঞ্জিনিয়ারিং, টেলিকমিউনিকেশন , ইনফরমেশন টেকনোলজি অথবা কম্পিউটার ইনঞ্জিনিয়ারিং হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেহেতু এটা তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ক্ষেত্রে নির্ভর করে।

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কাবে বালে?

সাধারন অর্থে কম্পিউটার নেট্ওয়ার্ক হচ্ছে ডিজিটাল টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক, যার মাধ্যমে একটি কম্পিউটার থেকে অন্য কোন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে তথ্য আদান প্রদান করা যায়। বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদান এর জন্য কেবল মিডিয়া, তারবিহীন মাধ্যম, ফাইবার অপটিক, ওয়াই ফাই ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। এমন ‍দুটি মাধ্যম কে আমরা নেটওয়ার্কিং বলতে পারি, যখন একটি ডিভাসের তথ্য আমরা সহজে অন্য একটি ডিভাইসে আদান প্রদান করতে পারি তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ থাক অথবা না থাক।

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এর প্রকারভেদ

ব্যবহারকারীর সুবিধা অনুযায়ি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কে বর্তমানে ভিবিন্ন ভাবে ভাগ করা যায়।

মালিকানা ভিত্তিতে নেটওয়ার্ক দুই প্রকার।

ক. প্রাইভেট নেটওয়ার্ক ঃ কোন ব্যক্তি নিজস্ব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য যে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তাকে প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বলে। এটি সবার জন্য উনমুক্ত নয়।

খ. পাবলিক নেটওয়ার্ক ঃ এই নেটওয়ার্ক এ সমস্ত তথ্য ই পাবলিক ফাংশানে ব্যবহার করা হয়।

টপোলজির ভিত্তিতে নেটওয়ার্ক চার প্রকার ।

ক. স্টার টপোলজিঃ স্টার টপোলজি তে কেন্দ্রীয় একটি কম্পিউটার থাকে, যার মাধ্যমে অনান্য কম্পিউটারের সংযোগ স্থাপন করে  নেটওয়ার্ক এর কাজ সম্পন্ন করা হয়। এই সমন্নয় সাধন কে স্টার টপোলজি বলে।

খ. রিং টপোলজিঃ এতে প্রতিটি কম্পিউটার পার্শ্ববর্তী কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত থাকে। এতে কোন কেন্দ্রীয় কম্পিউটার থাকে না। তথ্য প্রদান করা হলে তা প্রত্যকটি কম্পিউটার ঘুরে নির্দিষ্ট কম্পিউটার এ পৌচেছ ।

গ. বাস টপোলজিঃ যে টপোলজিতে একটি মূল তারের সাথে অনাণ্য কম্পিউটার যুক্ত থাকে তাকে বাস টপোলজি বলে। এর প্রধান ক্যাবলের নাম ব্যাকবোন। ব্যাকবোন এ যখন সিগনালে থাকে তখন শুধূ প্রাপক কম্পিউটারে তথ্য পৌচ্ছে।

ঘ. মেশ টপোলজিঃ যদি কোন নেটওয়ার্কে ডিভাইস বা কম্পিউটারগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত সংযোগ থাকে তাহলে তাকে বলাহয় মেশ টপোলজি।

কার্যাবলির ভিত্তিতে নেটওয়ার্ক কে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়:

ক. পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক

খ. ক্লাযেন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক

কার্যক্ষেত্রের  ভিত্তিতেঃ

কার্যক্ষেত্রের পরিধি উপর ভিত্তি করে নেটওয়ার্ক কে তিন ভাগে ভাগ করা যায়

ক. লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক(LAN): নির্দিষ্ট কোন এরিয়ার মধ্যে যখন কোন তথ্য আদান প্রদান করার জন্য একাধিক কম্পিউটার সংযোগ  হয় তাকে লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বলে।

খ. মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক (MAN): একই শহরের মধ্যে অবস্থিত কয়েকটি লেন এর সমন্নয়ে গঠিত ইন্টারফেসকে  বলা হয় মেট্রো পলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক। এ ধরনের নেটওয়ার্ক ৫০-৭৫ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে । এই নেটওয়ার্ক ডাটা ট্রান্সফার  স্পিড গিগাবাইট পার সেকেন্ড ।

গ.ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (WAN) : মূলত ইন্টারনেট কে ওয়্যান ।এই নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে দূরবর্তী ল্যান সমূহের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা হয়। এ ধরণের নেটওয়ার্ক এর ডাটা ট্রান্সফার স্পীড ৫৬ কেবিপিএস থেকে ১.৫৪৪ এমবিপিএস। এ ধরনের নেটওয়ার্ক ব্যবহিত ডিভাইসগুলো  রাউটার, মডেম, ওয়্যান ইত্যাদি।

নেটওয়ার্কে একটি কম্পিউটার আরেকটি কম্পিউটার আরেকটি কম্পিউটার আরেকটি কম্পিউটারের সাথে কীভাবে যুক্ত আছে সেই লে আউটকে বলা হয় টপোলজি। এটি দু’ধরনের হতে পারে- ফিজিক্যাল ও লজিক্যাল। ফিজিক্যাল টপোলজিগুলো হলো – বাস, স্টার, রিং, মেশ এবং হাইব্রিড। আর লজিক্যাল টপোলজি হতে পারে দু’ধরনের – লজিক্যাল বাস ও লজিক্যাল রিং। এসব টপোলজির প্রতিটির আছে সুবিধা -অসুবিধা। আপনার নেটওয়ার্কের জন্য সুবিধাজনক একটি টপোলজি বাছাইয়ের উপর নির্ভর করবে এর ব্যয়, গতি এবং আরো কিছু বৈশিষ্ট্য।



ব্যাক্তিগত রেফারেল লিংকঃ

রিপ্লাই করুন

আপনার মতামত দিন
এখানে আপনার নাম লিখুন