সিপিএ মার্কেটিং কী? সিপিএ মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবেন?

আপনি যদি অনলাইনে টাকা ইনকাম করার কথা একবার হলেও ভেবে থাকেন, তাহলে তো নিশ্চয়ই সিপিএ মার্কেটিং এর নাম অবশ্যই শুনে থাকবেন। আর এটি ডিজিটাল মার্কেটিং এর অনেক বড় একটি শাখা জুরে রয়েছে। আমরা আজকে সিপিএ মার্কেটিং নিয়ে কথা বলবো।

হ্যাঁ, বন্ধুরা আজকে আমরা সিপিএ মার্কেটিং নিয়েই আমাদের এই টিউটরিয়ালটি সাজিয়েছি। বিস্তারিত জানতে পুরো আর্টিকেলটি মন দিয়ে পড়ার অনুরোধ রইলো।

আজকের আলোচ্য বিষয়বস্তুসমূহ-

  • CPA Marketing কী?
  • CPA Marketing এবং এফিলিয়েট মার্কেটং এর পার্থক্য কী?
  • সিপিএ বিষয়টি কীভাবে কাজ করে বা আয় করা হয় কীভাবে?
  • CPA Marketing এ কী কী ধরণের কাজ থাকে?
  • CPA Marketing করতে কী কী লাগে?
  • CPA Marketing কাদের জন্য ভালো?
  • CPA Marketing এর সুবিধাগুলো কী কী?
  • মাসে কত টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব?
  • CPA Marketing করে যেভাবে আয় করবেন
  • CPA Marketing এর অফারগুলো কোথায় পাবেন
  •  নতুনদের ক্ষেত্রে কিছু সাবধানতা
  • CPA Marketing এর অফার বা কাজগুলো যেভাবে প্রোমট করবেন
সিপিএ মার্কেটিং কি। কিভাবে শুরু করবেন।
সিপিএ মার্কেটিং কি। কিভাবে শুরু করবেন।

সিপিএ মার্কেটিং কী? (What is CPA Marketing)

সিপিএ নামটি শুনেই প্রথমে জানতে ইচ্ছে করে, এর পূর্ণরূপ কী? সিপিএ মানে হলো ‘’Cost Per Action’’. অর্থাত প্রতিটি কাজের বিনিময়ে কমিশন। আপনাকে একটি কাজ দেয়া হবে আর সেই কাজটি যদি আপনি সঠিকভাবে নিয়ম মেনে সম্পন্ন করতে পারেন, তাহলেই আপনি কাজের বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণের একটি কমিশন পেয়ে যাবেন। সিপিএ মার্কেটিং কে অনেকে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর একটি জনপ্রিয় শখা বলেই মনে করে থাকেন।

আরও পড়ুন:

যদিও সিপিএ মার্কেটিং এফিলিয়েট মার্কেটিং এর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রকমের, তবে কাজ করার ধরণ কিছুটা একই রকম। যাই হোক, সিপিএ মার্কেটিং করতে গেলে কোন একটি কোম্পানি বা নেটওয়ার্ক কতৃক আপনাকে কিছু কাজ দেয়া হবে যেমনঃ ফর্ম সাবমিট, ইমেইল সাবমিট, রেজিস্ট্রেশন, পিন সাবমিট, ডাউনলোড এবং আরো এমন কিছু সহজ সহজ কাজ।

যেগুলো আপনাকে কোন ইউজার দ্বারা সম্পাদন করতে হবে। আর  আপনার এফিলিয়েট লিঙ্ক বা সিপিএ লিঙ্ক ফলো করে যদি কেউ সেই নির্ধারিত কাজগুলির কোন একটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করে ফেলে তাহলে সেই কাজের বিনিময়ে আপনি কিছুটা কমিশন পাবেন। আর মূলত সিপিএ মার্কেটিং এর বিষয়টি অনেকটা এরকমই ।

আশা করি, CPA Marketing কী কিছুটা হলেও বোধ করতে পারছেন। আরো ভালোভাবে বিষয়টি রপ্ত করতে এবং কীভাবে এর মাধ্যমে আর্নিং করতে পারেন, তা জানতে আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

সিপিএ মার্কেটিং এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং এর পার্থক্যঃ

CPA Marketing কে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর একটি শাখা বলা হয়। কারণ এই দুই প্রকার মার্কেটিং এর কাজ করার পদ্ধতি অনেকটা একই রকম। তবে এদের মূল পার্থক্য হলো এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে গেলে আপনাকে কোন একটি পণ্য বা সেবা প্রচার করার পাশাপাশি তা বিক্রিও করে দিতে হবে।

আর তা না হলে আপনি কোন পেমেন্ট বা কমিশন পাবেন না। এদিক থেকে সিপিএ মার্কেটিং অনেক সহজ। কারণ এক্ষেত্রে পণ্য কেউ কিনুক আর নাই কিনুক, শুধু ফর্ম সাবমিট বা তাদের কোন এপ্লিকেশন কেউ ডাউনলোড করলেই আপনি সেখান থেকে কমিশন পেয়ে যাবেন।

উদাহরণ হিসাবে বলি, ধরুণ কোন কোম্পানি বা আপনার ক্লাইন্ট তার ওয়েবসাইটে কিছু মেম্বার রেজিস্ট্রেশন করাতে চায়। আর আপনার কাজ হলো মেম্বার খুজে দেয়া।

এর জন্য আপনার এফিলিয়েট লিঙ্ক ফলো করে যদি কেউ সেখানে মেম্বারশিপ রেজিস্ট্রেশন করে, তাহলেই আপনি কমিশন পেয়ে যাবেন। আর্থাত সিপিএ মার্কেটং এ আপনাকে কোন ধরনের পণ্য বিক্রি করতে হবে না।

শুধু কোম্পানির কিছু অফার এর নিয়ম মেনে চলে সুনির্দিষ্ট কিছু কাজ করেই আপনি টাকা ইনকাম করতে পারছেন। আশা করি বুঝে গেছেন, কেন আজকাল সবাই এফিলিয়েট মার্কেটিং এর তুলনায় সিপিএ মার্কেটিং এর দিকে বেশি ঝুকে পড়ছে।

আরও পড়ুন

সিপিএ বিষয়টি কীভাবে কাজ করে ?

সহজ কথায় কিছু একশন বা কাজ করিয়েই আপনি একটি কমিশন আয় করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে কিছু বিক্রি করিয়ে দিতে হবে না। ইন্টারনেটে একটু খোজ নিলেই জানতে পারবেন এমন অনেক এডভারটাইস্মেন্ট কোম্পানি রয়েছে, যাদের কাজ হলো কোন পন্য বা সেবার প্রচার করানো। এখন অনেক বিজনেস কোম্পানি রয়েছে, যারা এইসব এডভারটাইজমেন্ট কোম্পানিগুলোর সাথে যুক্ত হয়ে থাকে, তাদের পণ্য বা সেবার প্রচার করানোর জন্য।

আর বিনিময়ে কিন্তু অনেক টাকাও নিয়ে থাকে এই এডভারটাইজমেন্ট কোম্পানি গুলো। এবার এইসব এড. কোম্পনীগুলোর হয়েই আপনি কাজ করবেন সিপিএ মার্কেটং । অর্থাৎ তাদের প্রচারের কাজগুলো আপনি করে দিবেন। এ ধরণের advertisement company গুলোকে বলা হয় এফিলিয়েট নেটওয়ার্ক বা সিপিএ নেটওয়ার্ক।

আর এই সব নেটওয়ার্কে আপনি রেজিস্টার করবেন একজন পাবলিশার হিসাবে। তারপর আপনার যদি কোন ভাল ওয়েবসাইট, ব্লগ, এপ্লিকেশন, ইউটিউব চ্যানেল থেকে থাকে সেখানে আপনি আপনার ভিজিটর বা ট্রাফিক দের দ্বারা ওই সব কাজগুলো করিয়ে নিতে পারবেন। আর কাজের সাথে সাথে কমিশন পাবেন।

বিষয়টি আরো ভালোভাবে বোঝার জন্য একটি উদাহরণ দেয়া যাক-

ধরুন, একটি আমেরিকান কোম্পানি আপনাকে বলল, তাদের কোম্পানির সাথে কিছু আমেরিকান লোক যোগ করতে হবে। আর সাথে আপনাকে একটি ফর্ম দিয়ে বলল, এই ফরমটি কোন আমেরিকান দ্বারা পূরণ করতে পারলে, প্রতি ফর্ম থেকে ১ ডলার করে আপনাকে দেয়া হবে। এবার আপনি এই ফরমটি আপনার সেই রিলেটেড কোন ব্লগ বা সোশ্যাল সাইটে প্রকাশ করলেন।

এরপর আপানার সিপিএ লিঙ্ক ফলো করে যখনই কেউ ইমেইল আর নম্বর দিয়ে ফর্ম পূরন করবে, তখনই আপনি একটা কমিশন পেয়ে যাবেন। এই কাজগুলোকে সিপিএ এর ভাষায় একেকটি লিড বলা হয়।

যেমন প্রতিটি লিড যদি ২ ডলার করে হয়, তাহলে ১০ টি লিড শেষে আপনার আয় হবে ২০ ডলার। আশা করি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। আর এভাবেই সিপিএ মার্কেটিং এর বিষয়টি কাজ করে। বুঝতেই পারছেন, এর মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই দ্রুত অনেক টাকা আয় করতে পারেন। তবে শুধু দরকার আপনার ধৈর্য এবং কাজ শেখার আগ্রহ।

আরও পড়ুন

সিপিএ মার্কেটিং এ কী কী ধরণের কাজ থাকে?

স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসতে পারে, সিপিএ মার্কেটিং এ সাধারণত কী কী ধরনের কাজ করা লাগতে পারে ? হ্যা বন্ধুরা সেটা নিয়েই কথা বলছি।

সিপিএ মার্কেটিং এর সাধারণ কিছু কাজের উদাহরণঃ

  1.  ফর্ম ফিল আপ করা।
  2.  কোন সফটওয়্যার, গেইম, এপ বা কোন এক্সটেনশন ডাউনলোড করা।
  3.  কোন লাইভ চ্যাটিং ওয়েবসাইটে রেজিস্টার বা সাইন আপ করানো।
  4.  কোন একটি সার্ভে সম্পন্ন করানোর কাজ।
  5. কোম্পানির কোন ইমেল নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করানো।

বোধ করি, আর বেশি উদাহরণ দেয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ বুঝতেই পারছেন, সিপিএ মার্কেটিং এ সাধারণত এই ধরণের সহজ সহজ কাজগুলোই করতে হয়।

এর কাজগুলো আপনি আপনার ওয়েবসাইট এর ট্রাফিক বা ইউজারদের দ্বারা করিয়ে খুব সহজেই ভালো একটা ইনকাম করে নিতে পারবেন।

সিপিএ মার্কেটিং করতে কী কী লাগে?

যেহেতু CPA Marketing আর এফিলিয়েট মার্কেটিং এর কাজ করার ধরণ সম্পূর্ণ একই রকম, তাই এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে যা যা লাগে, সিপিএ মার্কেটিং করতেও তাই তাই লাগবে। তবুও বলছি-

  •  প্রথমত আপানার একটি ভালো ভিজিটর বা ট্রাফিকসম্পন্ন ব্লগ, ওয়েবসাইট বা ইউটিউব চ্যানেল থাকতে হবে। যেখানে আপনি আপানার এফিলিয়েট বা সিপিএ লিঙ্ক শেয়ার করবেন।
  • তারপর ভালো মানের একটি সিপিএ নেটওয়ার্কের সাথে আপনাকে যুক্ত হতে হবে। এর সেখানে পাবলিশার হিসাবে রেজিস্টার করতে হবে।
  • এরপর আসে আপনার দক্ষতার পরিচয়। অর্থাৎ সিপিএ নেটওয়ার্ক থেকে যে কাজগুলো আপনি পেলেন, সেগুলো আপনার ইউজার বা ট্রাফিকদের দ্বারা করানোতে উতসাহিত করে তুলতে হবে। এর জন্য ভালো মানের কন্টেন্ট বা রিভিউ পোস্ট বানানো শিখতে হবে আপনাকে। আর সিপিএ শেখার মূল বিষয়টিই এখানে।
  • কাজগুলোর বিনিময়ে টাকা কীভাবে নিবেন, অর্থাৎ পেমেন্ট সিস্টেম ভেরিফাই করার জন্য যা যা লাগবে সেগুলো। যেমনঃ বিদেশী ক্লাইন্ট এর  কাজ করতে গেলে আপনার পে পাল লাগতে পারে।

হ্যা, এটুকুই । এইসব জিনিস যদি আপনার থেকে থাকে বা মনে করে থাকেন আপনি এগুলো যোগাড় করতে পারবেন। তাহলেই সিপিএ মার্কেটিং এ আপনাকে স্বাগতম।

সিপিএ মার্কেটিং কাদের জন্য ভালো?

প্রথমত যারা অনলাইন থেকে আয় করার প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি এবং ধৈর্য রাখে, তাদের জন্যই সিপিএ মার্কেটিং ভালো। কারণ এর জন্য প্রতিদিন আপনাকে কমপক্ষে ৫/৬ ঘন্টা কম্পিউটারে সামনে সময় দিতে হবে। আর যেহেতু বেশিরভাগ সিপিএ বিদেশি ক্লাইন্টের সাথেক হবে, তাই ইংরেজিতেও খুব ভালো দক্ষতা থাকতে হবে।

আর যা না জানলেই নয়, তা হলো ইন্টারনেট সম্পর্কে এবং ব্রাউজার নিয়ে ভালো জ্ঞান রাখতে হবে। আরেকটি বিষয় গুগল সার্চ এ এক্সপার্ট হলে খুব ভালো হয়। আর যারা এই ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করতে পারবেন যে, প্রথম ৬ মাস আপনি কোন উপার্জন নাও করতে পারেন।

আশা করি, বুঝে গেছেন যে সিপিএ মার্কেটিং এ ভালো করতে হলে আপনাকে কী কী করতে হবে এবং কাদের জন্য এই সিপিএ মার্কেটিং খুব ভালো হতে পারে।

সিপিএ মার্কেটিং এর সুবিধাগুলো কী কী?

অনলাইনে ইনকাম করার আর বাকি যতগুলো মাধ্যম রয়েছে যেমনঃ গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এদের যে কাজই করতে যান না কেন, আপনাকে অবশ্যই কয়েকমাস ভালোমত কাজ শিখতে হবে আর ভালো মানের ক্রিয়েটিভিটি সম্পন্ন দক্ষতা না অর্জন করতে পারলে যা লাউ তাই কদুই রয়ে যাবে।

অর্থাৎ অনলাইনে ইনকাম করার ক্ষত্রে তেমন একটা সুবিধা করে উঠতে পারবেন না। আর অন্যদিকে সিপিএ মার্কেটিং করার জন্য আপনার কোন রকমের দক্ষতার প্রয়োজন হবে না। শুধু কাজ করার ধৈর্য আর আগ্রহ থাকলেই চলবে। আশা করি, বুঝতে পেরেছেন অন্য সব মাধ্যম থেকে সিপিএ মার্কেটীং কেন এত জনপ্রিয় অনলাইন আর্নিং মিডিয়াম

মাসে কত টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব?

টাকার কথা যখনই আসে তখনই কিন্তু এর সাথে সাথে আপনার অভিজ্ঞতা বা দক্ষতার প্রশ্নটিও চলে আসে। আর আপনি দিন দিন সিপিএ মার্কেটিং এ যত এক্সপার্ট হবেন ততই আপানার ইনকাম বাড়বে। আর বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে ইনকামের পরিমাণও আলাদা। যেমনঃ কোন অর্ডারের ক্ষত্রে ১ থেকে ১০ ডলার, তারপর ইমেইল ক্যাপচার ক্ষেত্রে ৪ থেকে ২৫ ডলার, ইন্সুরেন্স মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে  ৫ থেকে ৪০ ডলার ইত্যাদি।

আর এগুলোর একটি অফার যত মানুষ সম্পন্ন করবে আপনার ইনকামও তত বৃদ্ধি পাবে। উদাহরণ হিসাবে ধরুন, ৫ ডলার এর কোন একশন আপনি মাসে ৩০ টি করাতে পেরেছেন, তাহলে মাস শেষে আপনার মোট ইনকাম হবে ১৫০ ডলার। আশা করি বিষয়টি খোলাসা হয়েছে।

তবে সবচেয়ে যে কথাটি জরুরি, তা হলো আপনি কতজন ট্রাফিকের কাছে পৌছাতে পারছেন। আপনার ব্লগ বা সাইট কতটা বড়। এসব বিষয়। তবে দিন দিন দক্ষতা বৃদ্ধি পেতে থাকলে আপনি মাসে ১ থেকে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করতে পারেন শুরুর দিকে। আর একবার এক্সপার্ট হতে পারলে তো মাসে ১০ লাক্ষ টাকাও ইনকাম করা কোন ব্যপার না।

সিপিএ মার্কেটিং করে যেভাবে আয় করবেন-

সিপিএ মার্কেটিং কী, কীভাবে ইনকাম করা হয়? কত টাকা ইনকাম করা যায়? এসব বিষয় তো জানা হলো। এবার আমি আপনাদের ধাপে ধাপে শিখিয়ে দিব, কীভাবে আপনি সিপিএ শুরু করবেন আর ইনকাম করা আরম্ভ করতে পারেন।

সিপিএ মার্কেটিং এর অফারগুলো কোথায় পাবেন?

এতক্ষণ নিশ্চয়ই ভাবছিলেন, সিপিএ মার্কেটিং এর অফার বা কাজগুলো আমি কোথায় পাবো? আগেই বলেছিলাম, সিপিএ মার্কেটিং আপনি যেখান থেকে করবেন বা যে কোম্পানির সাথে কাজ করবেন সেগুলোকে সিপিএ নেটওয়ার্ক বা সিপিএ মার্কেটপ্লেস বলা হয়। আর অনলাইনে এরকম হাজার হাজার মার্কেটপ্লেস রয়েছে, যেগুলোতে শুধু রেজিশট্রেশন করেই আপনি কাজ শুরু করে দিতে পারেন। নিচে এমন কিছু সিপিএ নেটওয়ার্কের নাম তুলে ধরছি, যেগুলোতে একাউন্ট সহজেই এপ্রুভ করা যায়-

উপরে উল্লিখিত সাইটগুলো ছাড়াও ম্যাক্সবাউন্টি, অ্যাডভারটাইন, ক্লিকব্যাঙ্ক নামে আরো কিছু মার্কেট প্লেস রয়েছে। তবে সেগুলতে একাউন্ট ভেরিফাই করা কিছুটা কষ্টকর।

যাই হোক, উল্লিখিত সাইটগুলোতে যেয়ে সাইন আপ শেষ করে আপনার ড্যাশ বোর্ড থেকে পছন্দের অফারগুলো বাছায় করতে পারবেন আর প্রতিটি অফার সম্পর্কিত সকল তথ্যাদি সেখান থেকেই পেয়ে যাবেন।

নতুনদের ক্ষেত্রে কিছু সাবধানতা-

নতুন হিসাবে সবক্ষেত্রেই কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করা অবশ্যই উচিত। যেমনঃ

১। ড্যাশবোর্ড এ পাওয়া কাজগুলো কখনোই নিজে নিজে পূরন করতে যাবেন না। আপনি যেভাবেই করুন তা একবার ধরতে পারলেই, আপনার একাউন্ট ব্যান করে দিবে আর ভবিষ্যতে ঐ সিপিএ নেটওয়ার্কে একাউন্ট করতে পারবেন না।

২। সিপিএ নেটওয়ার্ক সিলেক্ট করার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো অবশ্যইয় আগে জেনে রাখা উচিত – বাংলাদেশ থেকে রেজিস্ট্রেশন করা যায় কিনা, পেমেন্ট তোলার মাধ্যমগুলো বা বাংলাদেশ থেকে পেমেন্ট পাবেন কি না, কমিশন কত দিবে, কত দিন পর পর পেমেন্ট তোলা যাবে বা সর্বনিম্ন কত টাকা জমা হলে তুলতে পারবেন ইত্যাদি বিষয়।

 

সিপিএ মার্কেটিং এর অফার বা কাজগুলো যেভাবে প্রোমট করবেন-

মূলত দুইভাবে আপনি আপনার সিপিএ এর অফারগুলো প্রোমট করতে পারেন।

১। ফ্রি মেথড।

২। পেইড মেথড।

ফ্রি মেথড( Free method):

এই পদ্ধতিগুলোতে আপনার অফারগুল প্রমোট করতে কোন টাকা লাগবে না, তবে কিন্তু প্রচুর পরিশ্রম শিকার করতে হবে আপনাকে। যেভাবে আপনি ফ্রি তে আপনার অফার বা কাজগুলো প্রোমট করতে পারেন তার কিছু উদাহরণ তুলে ধরছি-

  • কনটেন্ট মার্কেটিং এর মাধ্যমেঃ
  • ইমেইল মার্কেটিং এর মাধ্যামে
  • ওয়েবসাইট মার্কেটিং এর মাধ্যমে
  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর মাধ্যমে
  • ইউটিউব মার্কেটিং এর মাধ্যমে

উপরে যে উপায়গুলোর কথা বলা হলো, সেগুলো ব্যবহার করে খুব সহজেই ফ্রীতে আপনি আপনার অফারগুলো প্রমোট করতে পারেন। তবে বুঝতেই পারছেন, এক্ষেত্রে আপনার সাইট বা সোশ্যাল মিডিয়ার একাউন্টে প্রচুর ট্রাফিক বা ফ্যান ফলোয়ার থাকতে হবে। তাই এটি আপনার জন্য একটী কষ্টকর বলে মনে হতে পারে।

পেইড মেথড(Paid method):

যারা সিপিএ মার্কেটিং এর শুরুতেই ইনকাম করতে চান, তাদের জন্য হলো পেইড মেথড।  এক্ষেত্রে আপনি টাকা দিয়ে লিড সংগ্রহ করে তা আবার টাকা দিয়ে সোশ্যাল সাইট বা কোথাও প্রোমট করতে পারেন। মূলত ফেসবুক এড ক্যাম্পেইন এবং গুগল এডওয়ার্ড এর মাধ্যমেই  কোন অফার প্রমোট করা হয়।

পরিশেষে –

যে কথাটি না বললেই নয়, তা হলো অনলাইনে কিন্তু আপনি রাতারাতি কোন টাকা ইনকাম করতে পারবেন না। এর জন্য আপনার দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হবে। আর যত ধৈর্য সহকারে এর পেছনে আপনি সময় ব্যয় করবেন, ততই আপনার অভিজ্ঞতা যেমন বাড়বে। এবং দক্ষতা বাড়ার সাথে সাথে আপনার ইনকামের পরিমাণ ও বাড়তে থাকবে।

আশা করি, আর্টিকেলটি আপনার কাজে আসবে। আর পুরো সময় ধৈর্য ধরে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। পাশাপাশি আপনি দেখে আসতে পারেন কিভাবে অনলাইন ব্যবসা শুরু করবেন । আমাদের সাথেই থাকুন।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না কিন্তু। কোন পরামর্শ বা অভিযোগ থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।

আরও পড়ুন

Leave a Comment

Share via
Copy link
Powered by Social Snap