ব্লগিং এর ভালো Topic/বিষয় নির্বাচন করার কৌশল

অনলাইনে আয় করার জন্য অনেকেই বর্তমানে ব্লগিং পেশাকে বেছে নিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার ব্লগিং করে খুব দ্রুত সফল হচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ব্যর্থ হয়ে ব্লগিং পেশাকে ঘৃণা করছেন। ব্লগিং পেশা থেকে সফল না হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে ভালো টপিক/বিষয় নির্বাচন না করা। ব্লগিং এর জন্য একটি ভালো টপিক নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব কিভাবে ব্লগিং এর জন্য একটি ভালো টপিক/বিষয় নির্বাচন করবেন। কেননা ভালো টপিক/বিষয় নির্বাচন করা ছাড়া যদি কেউ ব্লগিং জগতে প্রবেশ করে তাহলে খুব দ্রুতই সে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এবং তাকে ধরে রাখতে পারবে না।

Good Topic For Blogging, ব্লগিং এর জন্য ভালো টপিক নির্বাচন করার উপায়
ব্লগিং এর জন্য ভালো টপিক নির্বাচন করার উপায়

ব্লগিং এর জন্য নির্বাচন করার জন্য বেশ কিছু বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ

ব্লগিং টপিক/বিষয় কি? What is Blog Topic?

ব্লগিং-এর টপিক নির্বাচন করার পূর্বে আগে আমাদের জেনে নিতে হবে ব্লগিং এর জন্য টপিকঃ আসলে কি এবং কিভাবে এটি কাজ করে। মোটকথা টপিক হচ্ছে একটি বিষয় যে বিষয়ের উপরে আপনি ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরি করছেন।

মনে করুন, আপনি শিক্ষা এবং চাকুরী সম্পর্কিত তথ্য আপনার ব্লগে আপডেট করেন তাহলে বিষয়আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটের টপিক/ হচ্ছে, Education And Jobs.

অথবা আপনি খেলাধুলা বা বিনোদনমূলক তথ্য আপনার ওয়েবসাইটে প্রতিদিন আপডেট করেন তাহলে আপনার ব্লগের টপিক হচ্ছে, Spots and Entertainment.

কেন ভালো টপিক/বিষয় প্রয়োজন? Why need to Select Good Topic for Blogging?

একটি ওয়েবসাইট পরিচালনা করার জন্য ভালো একটি টপিক/বিষয় নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ভালো টপিক নির্বাচন না করতে পারলে ভাল কনটেন্ট বা ভাল আর্টিকেল দেওয়া সম্ভব হয় না। আর যদি একজন ব্লগারের মন মতো ব্লগের টপিক হয়, তাহলে সে ইচ্ছামত তার ওয়েবসাইটে প্রতিদিন কনটেন্ট/আর্টিকেল প্রকাশ করতে পারবে।  অন্যথায় যদি ভালো টপিক নির্বাচন না করা হয় তাহলে তথ্য সংগ্রহ করা কষ্টসাধ্য হয়ে যা। ভালো টপিক এর সুবিধা ও ভালো টপিক না নির্বাচন করতে যে সকল অসবিধা হয় তা নিম্নে আলোচনা করা হয়েছে।

আরোও পড়ুনঃ ব্লগিং করে ঘরে বসে আয় করুন। বাংলায় পূর্ণাঙ্গ ব্লগিং টিউটরিয়াল।

একটি ভালো টপিক/বিষয় নির্বাচন করতে পারলে যে সকল সুবিধা পাওয়া যায়:

  • সহজে আর্টিকেল লেখা যায়
  • আর্টিকেলের জন্য তথ্য খুব সহজেই সংগ্রহ করা যায়
  • কম রিসার্চ করে বেশি কাজ করা যায়
  • ইউজারদের ভালোভাবে বোঝানো সম্ভব হয়
  • বেশি ভিজিটর পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে
  • ভিজিটরদের মন সন্তুষ্ট রাখা যায়
  • অল্প সময়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করা যায়
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে রিসোর্স পাওয়া যায়
  • অল্প কাজ করে বেশি আয় করা যায়

ভালো টপিক/বিষয় না নির্বাচন করলে যে সকল সমস্যা হতে পারে

  • পর্যাপ্ত রিসোর্চ পাওয়া যায় না
  • তথ্য কালেকশন করতে হিমশিম খেতে হয়
  • অনেক ব্যাপারে কনফিউশন তৈরি হয়
  • ভালো পজিশনে যেতে অনেক সময় প্রয়োজন
  • ইউজারদের চাহিদামত তথ্য দেওয়া সম্ভব হয় না
  • বিভিন্ন লেখা অসম্পূর্ণ রয়ে যায়
  • রেঙ্ক করানো কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে যায়

ব্লগিং টপিক/বিষয় এবং কীওয়ার্ড  এর মধ্যে পার্থক্য। Topic vs Keyword

ব্লগিং এর জন্য টপিকঃ এবং কিওয়ার্ড দুটি ভিন্ন জিনিস। ব্লগিং করার জন্য প্রথমে আপনাকে একটি ভালো টপিক/বিষয় নির্বাচন করতে হবে এবং পরবর্তীতে সেই টপিকের ওপর কিওয়ার্ড রিসার্চ করে তারপর কাজ করতে হবে। তাহলে একটি ব্লগ থেকে খুব তাড়াতাড়ি সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ব্লগিং এবং কিওয়ার্ড এর মধ্যে পার্থক্য নিম্নে দেয়া হলঃ

আরও পড়ুনঃ বাংলা ভাষায় ব্লগিং এর খুটিনাটি।

Topic vs Keyword for Blogging

Health and Nutrition Wet loss, How to lose wet within 1 month, the Best formula for Dayed, How to get the release from  diabetes বাসের মধ্যে হয়ে যাবো,
Digital Marketing Facebook marketing tools, Best Software for Email marketing, Earn Money with Digital Marketing. Best Hosting Provider 2020
Education and Jobs Top 10 ranked University in the world, How to get good jobs, Jobs preparation training, How to write a good resume 1000 হয়েছে বাংলা টাইপ ভোলানাথ ভোলানাথ
Online Earn  How to Make money online, How to make money no investment, earn money with blogging, earn money with affiliate marketing etc

ভালো টপিক/বিষয় নির্বাচনে করনীয়

ব্লগিং এর জন্য ভালো টপিক নির্বাচন করতে হলে অবশ্যই নিম্নের কোডগুলো ভালোভাবে অনুসরণ করতে হবে। আমি নিচে যে বিষয়গুলো আলোচনা করেছি যদি কেউ এই বিষয়গুলো মেনে একটি টপিক/বিষয় বাকি ওয়ার্ড নির্বাচন করে তাহলে অবশ্যই শে খুব ভালো মানের একটি টপিক/বিষয় নির্বাচন করতে সক্ষম হবে। এবং খুব দ্রুত তা ব্লগিং ক্যারিয়ারে সফল হতে পারবে।

ব্লগিং এর উদ্দেশ্য? What is the purpose of blogging?

ব্লগিং এর জন্য টপিক/বিষয় নির্বাচন করার পূর্বে অবশ্যই মনে-মনে আইডিয়া করতে হবে আপনার ব্লগিং এর উদ্দেশ্য কি। আপনার ব্লগিং এর উদ্দেশ্য যদি গুগল এডসেন্স থেকে ইনকাম করার হয় তাহলে একভাবে কাজ নির্বাচন করতে হবে। আর যদি এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চান সে ক্ষেত্রে টপিক/বিষয় নির্বাচন করতে হবে আলাদা আঙ্গিকে।

তবে টপিক/বিষয় নির্বাচনের জন্য প্রথমত যে বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে সেগুলো যে উদ্দেশ্যে হোক না কেন সবাইকে অনুসরণ করতে হবে:

হাই ভলিয়ম কীওয়ার্ড/টপিক: High Volion Topic/Keyword

ব্লগিং এর জন্য টপিক/বিষয় নির্বাচন করতে হলে আপনাকে অবশ্যই দেখতে হবে আপনি যে টপিকটা তে লিখতে চাচ্ছেন বা ব্লগিং শুরু করতে চাচ্ছেন, সে বিষয়টিতে ইউজাররা কি পরিমাণে সার্চ করে বা সার্চ ভলিউম কেমন। যেসকল টপিকে সার্চ অনেক বেশি হয় সে সকল টপিক নিয়ে কাজ করা উচিত। তাহলে একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইটে ভিজিটর আসবে এবং ইনকাম ভালো হবে। আর যদি এমন টপিক নির্বাচন করেন যে টপিক/বিষয় ইউজাররা কখনোই সার্চ করে না বা মাসে 50 থেকে 70 সার্চ হয়। তাহলে আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর খুব কম আসবে।

ব্লগিং এর জন্য হাই ভ্যালু কীওর্য়াড

লো কম্পিটিশন: Low Competition

শুধুমাত্র সার্চ ভলিয়ম অনেক বেশি হলেই হবে না, যাতে সে টপিকের উপর কম্পিটিশন কম থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। মনে রাখবেন যে সকল টপিকের উপর বেশি সার্চ হয়, সে টপিকের ওপর ওয়েবসাইট বা ব্লগ অনেক বেশি অর্থাৎ কম্পিটিশন অনেক বেশি। সেক্ষেত্রে আপনাকে বেছে বেছে বের করতে হবে, ওই সমস্ত কিওয়ার্ড যেগুলোতে কম্পিটিশন খুবই কম।

যদি হাই সার্চ ভলিয়ম এবং কম্পিটিসন হয় তাহলে সেই টপিক/বিষয় বা সেই কী-ওয়ার্ডটি খুব দ্রুত সার্চ ইঞ্জিনে রেংক হবে।

ইউজারদের পয়োজন: user Friendly

যে সকল বিষয়গুলো ইউজারদের খুবই প্রয়োজনীয় সকল বিষয় নিয়ে ব্লগিং করা উচিত। সে ক্ষেত্রে আপনার একটি আর্টিকেল যদি গুগলের প্রথম বেঁচে থাকে তাহলে ইউজারদের প্রয়োজন অনুযায়ী আপনার ওয়েবসাইট তারা অবশ্যই দেখবে। সে ক্ষেত্রে আপনার ভিজিটর পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

ইভারগ্রীন টপিক/বিষয়: Evergreen topic

ব্লগিং এর জন্য টপিক নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই এভারগ্রীন টপিক/বিষয় নির্বাচন করতে হবে তাহলে সারা বছর সমান্তরালভাবে ভিজিটর পাবেন এবং ইনকাম হতে থাকবে। আর যদি এভারগ্রীন টপিক/বিষয় ছাড়া ইভেন্ট জাতীয় কোন টপিক নির্বাচন করা হয় সে ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট ডাউন করতে থাকবে।

এভারগ্রীন টপিক/বিষয় হলো, যেসকল টপিকে সারাবছর সমানভাবে সার্চ হয় বা মানুষ সমানভাবে খুঁজে সেগুলো হলো এভারগ্রীন টপিক।

মনে করুন আপনি একটি কিওয়ার্ড রিসার্চ করেছেন, “How to buy a Good Doamin” এটি সারা বছর সমানভাবে সার্চ হবে। এবং সারাবছর আয় হতে থাকবে। এটা হলো এভারগ্রীন কীওয়ার্ড।

পক্ষান্তরে আপন যদি “IPL 2020 Live Match” অথবা “Happy New year 2021” টপিক/বিষয় নিয়ে কাজ করেন তাহলে IPL খেলা চলমান অবস্থায় প্রচুর ভিজিটর পাবেন অথবা Happy New year 2021 এর দিন, আগে ও পরে কয়েকদিন ভিজিটর পাবেন। তারপর আস্তে আস্তে ভিজিটর শুন্যের কোটায় নেমে আসবে।  এমন কীওয়ার্ডগুলো হলো ইভেন্ট কীওয়ার্ড।

বেশি সিপিসি: High CPC

আপনি যদি গুগল এডসেন্স বা অন্যান্য এড নেটওয়ার্ক নিয়ে কাজ করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে কিওয়ার্ড তবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে দেখে নিতে হবে আপনি যে টপিক/বিষয় নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন সে টপিকের ওপর CPC (Cost Per Click) কেমন, অবশ্যই যে সকল কিওয়ার্ড এ ভালো CPC থাকে, সেসকল কীওয়ার্ড নির্বাচন করতে হবে।

মনে করুন, আপনি একটি কীওয়ার্ড নির্বাচন করেছেন যার CPC $0.02  সেক্ষেত্রে যদি 100 ক্লিক হয় তাহলে আপনার আয় হবে, 100x$0.02= $2.00, দুই ডলার। আর যদি এমন একটি কীওয়ার্ড নির্বাচন করেন যার CPC $0.65  সেক্ষেত্রে যদি 100 ক্লিক হয় তাহলে আপনার আয় হবে, 100x$0.65= $65.00। 65 ডলার। লক্ষ করুন একই সমান ক্লিকে একটি কীওয়ার্ডে আয় মাত্র  2 ডলার পক্ষান্তরে অন্য কীওয়ার্ডে 65 ডলার।

বেশি কমিশন: High Commision

আপনি যদি এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চান না সেক্ষেত্রে আপনাকে এমন প্রোডাক্ট নির্বাচন করতে হবে যেগুলোতে কমিশন অনেক বেশি। কমিশন যত বেশি হবে আপনারা এর পরিমাণ যত বাড়বে আর যদি কমিশন কম হয় সে ক্ষেত্রে আপনার ইনকাম কমে যাবে।

সহজ টপিক/বিষয়: Easy Topic

নির্বাচনের সময় অবশ্যই আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যে টপিকটি আপনি নির্বাচন করছেন সেটি যেন খুব সহজ হয়। যদি সহজ একটি টপিক/বিষয় নিয়ে কাজ করেন তাহলে সেই টপিকের ওপর আপনি প্রচুর পরিমাণে রিসোর্চ দিতে পারবেন। আর যদি টপিকটা কঠিন হয়ে যায় তাহলে সেক্ষেত্রে আপনাকে আর্টিকেল বা অন্যান্য ইনফরমেশন দিতে অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে।

তথ্যবহুল টপিক/বিষয়: Informative Topic

এমন টপিক নির্বাচন করা উচিত যে টপিক/বিষয় এর ব্যাপারে প্রচুর ইনফর্মেশন সংগ্রহ করা সম্ভব। ইনফরমেশন আপনি সংগ্রহ বা কালেকশন করতে পারবেন আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগে ততবেশি তথ্য যুক্ত করতে পারবেন। এবং আপনার ওয়েবসাইটটি যত তথ্যবহুল হবে ভিজিটর পাওয়ার সম্ভাবনা ততই বেড়ে যাবে।

সর্বপরি আমাদের পরামর্শঃ

ব্লগিং করতে চাইলে অবশ্যই আগে ভালো করে রিসার্স করে, ভেবে চিন্তে কাজ শুরু করুন অবশ্যই সাকসেস হবেন। মনে রাখবেন আপনি যত বেশি গবেষনা করবেন তত দ্রুত সাফল্য অর্জন করতে পারবেন। ইনসা আল্লাহ।

আমার লেখাটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। আর কোন পরামর্শ , অথবা কোন বিষয়ে জানার আগ্রহ থাকলে কমেন্ট করুন।

আরও পড়ুন

Leave a Comment