ইন্টারনেট কি? ইন্টারনেটের সুবিধা ও অসুবিধা!!

আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর আবিষ্কার কোনটি? তাহলে হয়তো আমাদের মধ্যে অনেকেই বলে উঠবে কম্পিউটার! কিন্তু আজকের এই তথ্য প্রযুক্তির যুগে যে বিষয়টি না হলে আমাদের এক মুহুর্তও চলে না, তাহলো ইন্টারনেট। কিন্তু আমরা এই ইন্টারনেট সম্বন্ধে আসলে কতটুকুই বা জানি? ইন্টারনেট কি? কিভাবে কাজ করে? ইন্টারনেটের নানান সুবিধা, অসুবিধা আরও কত কি।

আমাদের আজকের এই আলোচনায় থাকছে ইন্টারনেট নিয়ে বিস্তারিত সকল আলোচনা। ইন্টারনেট কি , কীভাবে কাজ করে, এর সুবিধা অসুবিধাগুলি কী কী , ইন্টারনেট এর বিভিন্ন রহস্য এবং জানা অজানা নানা তথ্য নিয়েই আমরা আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটি সাজিয়েছি।পুরো বিষয়টি ভালোভাবে জানতে এবং বুঝতে হলে আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য অনুরোধ রইলো।

ইন্টারনেট কি? কিভাবে কাজ করে? বিস্তারিতে এখানে
ইন্টারনেট কি? কিভাবে কাজ করে? বিস্তারিতে এখানে

তাহলে চলুন দেরি না করে দেখে নিই আমরা আজকে কি কি জানতে চলেছি-

  • ইন্টারনেট অর্থ কি?
  • ইন্টারনেট এবং ওয়ার্ল্ড ওয়েব এর পার্থক্য কী ?
  • ইন্টারনেট কত সালে চালু হয়? সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
  • ইন্টারনেট কিভাবে সংযোগ দিতেহয়?
  • ইন্টারনেটের প্রকারভেদ
  • ইন্টারনেট কি কি কাজে লাগে
  • ইন্টারনেটের সুবিধা-অসুবিধা কী?
  • বাংলাদেশে ইন্টারনেটের আদিপ্রান্ত
  • আইপি এড্রেস কি
  • DNS, Subnet Mask কী?
  • ইন্টারনেট প্রটোকল

ইন্টারনেট অর্থ কী?

শাব্দিক ভাবে ইন্টারনেট শব্দটির অর্থ দাঁড়ায় অন্তর্জাল বা ভিতরের জাল। আমরা যদি ইন্টারনেট শব্দটিকে ভেঙে অর্থ করার চেষ্টা করি, দুটো অংশ হয়।ইন্টারন্যাশনাল (international) এবংনেটওয়ার্ক (Network)।এভাবেই ইন্টারন্যাশনাল শব্দ থেকে ইন্টার( Inter) এবং নেটওয়ার্ক শব্দ থেকে (Net) শব্দ দুইটি নিয়ে ইন্টারনেট শব্দটি গঠিত হয়েছে।

আবার অনেকে ইন্টারনেটকে ইন্টারকানেক্টেডনেটওয়ার্ক এর সংক্ষিপ্তরূপ হিসেবেও বিবেচনা করে থাকেন। কেননা ইন্টারনেট মূলত কতগুলো নেটওয়ার্ক এর সমন্বয়।যেখানে কোটি কোটি নেটওয়ার্ক লক্ষ লক্ষ রাউটার এর মাধ্যমে একসাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

এ তো গেল শাব্দিক বিশ্লেষণ। ইন্টারনেট বলতে আমরা সাধারণত কি বুঝে থাকি? আমরা তো জানলাম ইন্টারনেট হল অনেকগুলো নেটওয়ার্কের সংগঠিতরূপ। আর নেটওয়ার্কগুলোকে যুক্ত করতে ব্যবহার করা হয় রাউটার। তারপর বিভিন্ন আইপি অ্যাড্রেস এবং প্রটোকল এর সমন্বয়ে তৈরি করা হয় বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট।

সহজ কথায় ইন্টারনেট অর্থ হল কতগুলো নেটওয়ার্কের সমষ্টি। যা সারা বিশ্বে একটি জাল এর মত ছড়িয়ে আছে। আর সেজন্যই একে বলা হয় আন্তর্জাতিক ভাবে  বিস্তির্ণ একটি জাল বা ইন্টারনেট। আশা করি, ইন্টারনেট এর অর্থ আপনার কাছে মোটামুটি পরিষ্কার হয়ে গেছে এখন।

Read More-

ইন্টারনেট এবং world-wide-web এর পার্থক্য কি?

তবে আমাদের মধ্যে অনেকেই মাঝে মাঝে ইন্টারনেট এবং world-wide-web কে সমার্থক শব্দ হিসেবে গণ্য করে থাকি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই শব্দ দ্বয় সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় নির্দেশ করে। ইন্টারনেট হল হার্ডওয়ার এবং সফটওয়্যার এর সমন্বয়ে একটি কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থা যা কম্পিউটার সমূহের মধ্যে একধরনের আন্তর্জাতিক তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করে। অন্যদিকে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব হল ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রদত্ত পরিষেবা গুলির একটি।

যা পরস্পরযুক্ত বিভিন্ন কাগজপত্র এবং অন্যান্য সম্পদ সংগ্রহের হাইপারলিংক এবং ইউআরএলদ্বারা সংযুক্ত একটি ব্যবস্থা।যাই হোক, দৈনন্দিন আলাপচারিতায় আমরা ইন্টারনেট এবং world-wide-web কে একই জিনিস হিসেবে চালিয়ে দিলেও এরা এক জাতীয় সিস্টেম নয়।

ইন্টারনেট হল একটি নেটওয়ার্ক সমন্বিত ব্যবস্থা এবং বিপরীতে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব হল ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রদত্ত পরিষেবা গুলির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং বহুল ব্যবহৃত সেবা।বোধ করি বিষয়টি আপনার কাছে পরিস্কার হয়েছে।

ইন্টারনেট কি? সুবিধা ও অসুবিধা গুলি
ইন্টারনেট কি? সুবিধা ও অসুবিধা গুলি

কত সালে ইন্টারনেট চালু করা হয়? সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

এবার চলুন আমরা ইন্টারনেট এবং নেটওয়ার্কের কিছু ইতিহাস জেনে আসি।পৃথিবীর প্রথম নেটওয়ার্ক হিসেবে আমরা আর্পানেট বা ( ARPANET)  কে চিনে থাকি।প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতিতে মূলত এই এর পানের নেটওয়ার্কে তৈরি করা হয়েছিল।

এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন প্রটোকল  ব্যবহার করে উন্নত করা হতে থাকে প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতির এই নেটওয়ার্কটিকে।১৯৬৯ সালে আর্পানেট নেটওয়ার্ক পৃথিবীর প্রথম প্যাকেট(  ইনফর্মেশনএরঅংশ)  পরিবহনকরে। ১৯৭০ সালে নেটওয়ার্ক ইনফরমেশন সেন্টার বা ( NIC)  প্রস্তুত করা হয়।যা ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে আরো একধাপ এগিয়ে নেয়।

এরপর ১৯৮০ সালের শেষের দিকে এবং ১৯৯০ সালের শুরুর দিকে ( আইএসপি)  বাণিজ্যিকভাবে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীদের আবির্ভাব হতে থাকে।এভাবে ১৯৯০ সালে আর্পানেট নেটওয়ার্ক ইন্টারনেট জগত থেকে কর্মবিরতি নেয়।

তবে ১৯৯৫ সালের মাঝামাঝি দিকে ইন্টারনেটকে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে পরিণত করা হলেও পরবর্তীতে যখন এনএসএফ নেট কর্মবিরত হয় , তখন ইন্টারনেট ব্যবহারের বাণিজ্যিক বহন শেষ নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে ফেলা হয়। এরপর থেকেই শুরু হয় বিভিন্ন জনপ্রিয় ইন্টারনেট সেবা প্রদান। ১৯৯৫ সালে  amazon.com এবংইবে ইইন্টারনেট ইতিহাসের প্রথম সারির কিছু জনপ্রিয় সাইটে পরিণত হয়।

১৯৯৮ সালে গুগলসার্চ এবং ইহাহু ডট কম , তারপর ২০০১ সালে উইকিপিডিয়া , ২০০৩ সালে স্কাইপ, ২০০৪ সালে ফেইসবুক , ২০০৫ সালে ইউটিউব, ২০০৬ সালে টুইটার এবং ২০০৯ সালে বিং ইন্টারনেট বিশ্বকে আরো বড় করে তুলেছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে অক্টোবর ২০২০ এর একজরিপ অনুযায়ী সারা বিশ্বে অ্যাক্টিভ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪ . ৬৬ বিলিয়নের মত।যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ৫৯ শতাংশ।

বুঝতেই পারছেন ইন্টারনেট আমাদের সাথে কিভাবে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

ইন্টারনেট কীভাবে সংযোগ দিতে হয়?

প্রথমেই বলেছিলাম,  ইন্টারনেট মূলত অনেকগুলো নেটওয়ার্কের সমষ্টি।আর এই সব নেটওয়ার্ককে একসাথে জুড়ে দিতে কাজে লাগে কয়েকটি রাউটার। তারপর প্রত্যেকটি নেটওয়ার্কে কতগুলো আইপি এড্রেসের সেট প্রদান করা হয়।এই আইপিঅ্যাড্রেসগুলোরও আবার বিভিন্ন রকম বিভাগ রয়েছে।সে নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করব।

এরপর প্রতিটি নেটওয়ার্ক আইডিকে একটি ইউনিক আইপিঅ্যাড্রেস প্রদান করা হলে,  বিভিন্ন প্রটোকল এর সমন্বয়ে নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করা হয়।

আর নেটওয়ার্কগুলোকে একে অপরের সাথে জুড়ে দেয় রাউটার।এভাবেই একটি কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক আইডি থেকে পুরো বিশ্বের ইন্টারনেট সেবা আমরা পেয়ে থাকি।আশা করি একটি ঝাপ সাধারণা আপনার সৃষ্টি হয়েছে।আপাতত এ দিয়েই চলবে।বিস্তারিত জানতে হলে আপনাকে নেটওয়ার্ক নিয়ে আরো গভীরভাবে স্টাডি করতে হবে।

এখন প্রশ্ন হলো,  নেটওয়ার্ক আইডিগুলো ইন্টারনেটের সাথে ফিজিক্যালি কিভাবে সংযুক্ত করা হয়?  নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত হবার জন্য প্রত্যেকটি ডিভাইসে অর্থাৎ আপনার কম্পিউটার বা মোবাইলফোনে একটি নিক কার্ড বা নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড থাকা আবশ্যক। ইন্টারনেট সংযোগ দেবার জন্য সর্বপ্রথম তাই আপনার ডিভাইসে নিক কার্ড ইন্সস্টল দিয়ে রাখতে হবে।

তারপর একটি নেটওয়ার্ক ক্যাবল এর একপ্রান্ত আপনার নিক কার্ড এর সাথে জুড়ে দেয়া থাকবে এবং অপরপ্রান্ত একটি কেবল মডেম,  ডিএসএলমডেমবারাউটারেরসাথেসংযুক্তথাকবে।

কিভাবেআপনার কম্পিউটারে কোন একটি নেটওয়ার্ক এর সাথে যুক্ত হলো। তারপর আপনার নেটওয়ার্ককে অপর কোন একটি নেটওয়ার্ক এর সাথে যোগ করতে হলে প্রয়োজন হবে রাউটার।তারপর আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারে ডাটা কানেকশন অন করলেই আপনি ইন্টারনেট দুনিয়ার সাথে যুক্ত হয়ে যাবেন।

প্রশ্ন করতে পারেন,  বাস্তবে আমি তো কখনো মোবাইলের সাথে কোন তার যুক্ত করা দেখিনা,  তাহলে ইন্টারনেট কিভাবে সংযুক্ত হয়?  এর উত্তর হল,  আপনার মোবাইলে ইন্টারনেট কানেকশন পেতে হলে অবশ্যই কোনো -না-কোনো আইএসপি বা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার এর দ্বারগ্রস্থ হওয়া প্রয়োজন। আর এই কাজটি করে দেয় আপনার মোবাইল অপারেটর। গ্রামীণফোন,  বাংলালিংক,  এয়ারটেল বা যাই অপারেটর ব্যবহারকারী আপনি হয়ে থাকেন না কেন।

বিনিময় এই অপারেটর সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে চার্জ প্রদান করতে হয়, যাকে আমরা ইন্টারনেট প্যাকেজ ক্রয় করা বলে থাকি। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কানেকশন সেবা আমরা মোবাইলের মাধ্যমে পেয়ে থাকি। এ নিয়ে ইন্টারনেট এর প্রকারভেদ অংশে বিস্তারিতভাবে নিচে আলোচনা করা হয়েছে।

আশাকরি,  বিষয়টি আপনার কাছে এখন সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়েছে।

Read More-

ইন্টারনেটেরপ্রকারভেদ:

ইন্টারনেটকে কানেকশনের উপর ভিত্তি করে মূলত চার ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। সেগুলি হলো-

১। ডিজিটাল সাবস্ক্রাইবার লাইন( DSL )

২। ক্যাবল ইন্টারনেট কানেকশন

৩। ফাইবার ইন্টারনেট কানেকশন

৪। স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কানেকশন

১। ডিজিটাল সাবস্ক্রাইবার লাইন বা ডি এস এলঃ

ডিএসএল হ’ল একটি নিম্ন-প্রযুক্তি কিন্তু উচ্চ-গতির স্থির ওয়্যারলাইন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ। যা তামা টেলিফোন লাইন ধরে ভ্রমণ করে। দ্বি-ওয়্যার প্রযুক্তি সংযোগটি আপনাকে আপনার ফোন পরিষেবা থেকে কোনও হস্তক্ষেপ ছাড়াই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সরবরাহ করার অনুমতি দেয়।

আপনার প্রাঙ্গণটি বা প্রিমাইসেসটি ডিএসএল মডেমের মাধ্যমে পরিষেবার সাথে সংযুক্ত রয়েছে, যা আপনি অফিস ডিভাইসগুলিকে ওয়্যারলেস বা তারযুক্ত স্থানীয় অঞ্চল নেটওয়ার্কগুলির (ল্যান) মাধ্যমে সংযুক্ত করেন।

আপনি যদি হালকা থেকে মাঝারি ওয়েব ব্রাউজিং, ক্লাউড ব্যাকআপ এবং ফাইল ভাগ করে নিয়ে থাকেন, তবে ডিএসএল আপনার ব্যবসায়ের পক্ষে সঠিক। এই সংযোগটি ভিডিও কনফারেন্সিং এবং অডিও স্ট্রিমিংকে সমর্থন করতে পারে এবং দ্রুত ডাউনলোডের গতি বৈশিষ্ট্যযুক্ত। সহজ কথায়, আমরা বাসা বাড়িতে যে ওয়াই ফাই কানেকশন নিয়ে থাকি , তাই মূলত ডি এস এল ইন্টারনেট কানেকশন এর একটি উদাহরণ।

২। ক্যাবল ইন্টারনেট কানেকশনঃ

একই সংযোগ যা লোককে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক থেকে ইএসপিএন পর্যন্ত বেশ কয়েক বছর ধরে ফ্লিপ করতে দেয়, সেই একই সংযোগ আপনার ব্যবসায়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগও আনতে পারে। কেবল ব্রডব্যান্ড সাধারণত কোক্সিয়াল কেবলগুলির মাধ্যমে পাওয়া যায়। তবে নতুন প্রযুক্তিগুলি এখন হাইব্রিড-ফাইবার কোক্সিয়াল (এইচএফসি) সংযোগগুলি ব্যবহার করে।

আপনি যদি মাঝারি ফাইল শেয়ারিং, ওয়েব ব্রাউজিং এবং অনলাইন ব্যাকআপ করেন। তবে কেবল ইন্টারনেট আপনার ব্যবসায়ের জন্য উপযুক্ত। যখন আপনাকে ভিওআইপি( VOIP) পরিষেবা এবং এইচডি অডিও স্ট্রিমিং ব্যবহার করতে হয় এবং মাঝারি আপলোড গতি এবং দ্রুত ডাউনলোড এর প্রয়োজন পরে তখন এটিই একটি দক্ষ সংযোগের ধরণ হিসেবে আপনার কাছে প্রমানিত হতে পারে।

৩। ফাইবার ইন্টারনেট কানেকশনঃ

ফাইবার-অপটিক ইন্টারনেট কানেকশন ব্রডব্যান্ড বিশ্বে নতুন প্রবেশকারীদের মধ্যে একটি। এই প্রযুক্তিটি আপনাকে অবিশ্বাস্যভাবে দ্রুত গতির সুবিধা দেয় এবং ছোট ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিদিনের কাজকর্মের জন্য দৃঢ়ভাবে এই সংযোগ এর উপর নির্ভর করতে পারে। তবে দুর্ভাগ্যক্রমে, এই প্রযুক্তি কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়েই কয়েকটি জায়গায় বিদ্যমান রয়েছে।

আপনি যদি ভারী ওয়েব ব্রাউজিং, অনলাইন ব্যাকআপ এবং হেরোকু লগ এবং অন্যের মতো ক্রমাগত ফাইলগুলি নিয়ে বেশ হিমিশিম খাচ্ছেন। তবে আপনার ব্যবসায়ের জন্য ফাইবার-অপটিকই হবে সঠিক ইন্টারনেট সমাধান। এছাড়াও, ঘন ঘন এইচডি অডিও স্ট্রিমিং, ভিওআইপি পরিষেবাগুলি, হোস্টিং সার্ভারগুলি এবং জটিল ক্লাউড-ভিত্তিক পরিষেবাগুলির জন্য এটি একটি সেরা ইন্টারনেট সংযোগের ধরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

৪। স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কানেকশনঃ

এখন ধরুন, যদি আপনার ব্যবসা এমন প্রত্যন্ত বা গ্রামীণ অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে ল্যান্ডলাইন ইন্টারনেট পরিষেবা যেমন তারের, ফাইবার বা ডিএসএল এর অ্যাক্সেস নেই, সেখানে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কানেকশনই হবে আপনার একমাত্র অবলম্বন।

এখানে লক্ষ্য করবেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, আপনার আইএসপি একটি রিসিভার ডিশ ইনস্টল করে দক্ষিণের আকাশের দিকে নির্দেশ করে থাকবে।

থালাটি( ডিস)  রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আকারে মহাকাশে প্রদক্ষিণকেন্দ্রগুলি অর্তাত স্যাটেলাইট  থেকে ডেটা পায়, যা আপনার অফিসের কোনও মডেমের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংকেতগুলিতে অনুবাদ করা হয়।আশা করি বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না।

তবে দুর্ভাগ্যক্রমে, বর্তমান স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রযুক্তি কেবল বা ডিএসএল হিসাবে তত দ্রুত গতি সরবরাহ করতে পারে না । কারণ স্টেশনগুলি পৃথিবী থেকে প্রায় 22,300 মাইল দূরে, যা তথ্য ভ্রমণের জন্য বিশাল ভ্রমণ। অন্যদিকে, ল্যান্ডলাইন ইন্টারনেট কানেকশন এর গতি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

এখানে মনে রাখবেন, গতি বলতে আমি ইন্টারনেট এর স্পিডকে বুঝিয়েছি, তবে স্যাটেলাইট কানেকশন এর ক্ষেত্রে কিন্তু নেটওয়ার্ক প্যাকেটগুলি ল্যান্ডলাইনের তুলনায় অধিক স্পিডে প্রবাহিত হয়। তবে দূরত্ব অনেক হওয়ায় আমাদের কাছে মনে হয়, নেটওয়ার্কের স্পিড কম। বোধ করি, বিষয়টি ধরতে পেরেছেন।

Read More-

ইন্টারনেট কি কি কাজে লাগে?

বর্তমান বিশ্বে প্রায়  সাড়ে চার বিলিয়নের মত মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাদের দৈনন্দিন জীবনে নানা পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ তো ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিজনেসও শুরু করে দিয়েছে। তবে বিষয়টি কিন্তু আমাদের অজানা নয়। যাকে আমরা ই কমার্স বা অনলাইন বিজনেস হিসেবে চিনে থাকি।

এখন আমি যদি ইন্টারনেটের ব্যবহার নিয়ে লেখা শুরু করি, তাহলে বোধ হয় আজকের আর্টিকেল আমাদের কখনোই শেষ হবে না। তাই আমি সব রকম ব্যবহার এর কথা না তুলে ধরে, শুধু বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কাজ এর নাম নিচে আলোচনা করার চেষ্টা করবো, যেগুলো আমাদের জীবনে আমূল এক পরিবর্তন সাধন করেছে।

জেনে আসি আমরা সাধারনত কেন ইন্টারনেট ব্যবহার করি-

  • রিয়েল-টাইম ভিত্তিতে বিশ্বজুড়ে যে কোনও বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধান করতে।
  • যোগাযোগ বা অন্যের সাথে সহযোগিতা করতে বা পেতে ।
  • অফিস থেকে টেলিকমিউটে বা বাড়ি থেকে কাজ করতে।
  • ব্যবসায়িক সত্তাগুলির সাথে লেনদেন করতে।
  • রিমোট থেকে বিভিন্ন ফাইল ডাউনলোড করতে।
  • শিক্ষিত এবং বিনোদন পেতে।
  • সামাজিক বহন হিসেবে।
  • গ্রুপ ক্রিয়াকলাপ করতে।
  • দূরবর্তী সরঞ্জামগুলি থেকে অপারেশনাল ডেটা সংগ্রহ করতে (স্থির পাশাপাশি চলমান)।
  • কেন্দ্রীয় সার্ভারে প্রবাহিত হওয়ার সময় ডেটা প্রক্রিয়া করতে।
  • ক্রিয়াকলাপ স্বয়ংক্রিয় করতে পার্শ্ববর্তী ডিভাইস, সিস্টেম, আবহাওয়ার উপর রিয়েল-টাইম ডেটা পেতে।
  • সিদ্ধান্ত সমর্থন সিস্টেমের বিপরীতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি ডিজাইন করতে ।
  • লোক, অংশীদার, মেশিন এবং সমস্ত কিছু সংযুক্ত করতে।
  • অনলাইনে টাকা ইনকাম করতে।
  • পড়শুনা করতে।
  • আমাদের ব্যবসার এডভারটাইজমেন্ট করতে।
  • আমাদের চাকরি খুজে পেতে।
  • ক্লাউড স্টোরেজ এর সুবিধা পেতে।
  • কোথাও হারিয়ে গেলে, গুগল ম্যাপস এর মাধ্যমে আমাদের গন্তব্য খুজে পেতে।
  • কোন জিনিস ক্রয় বা বিক্রয় করতে।

এসব ব্যবহার এর মধ্য থেকে আপনি হয়তো একটি কমন বিষয় লক্ষ্য করে থাকবেন। আর তা হলো যোগাযোগ। আসলে ইন্টারনেটের মূল উদ্দ্যেশ্যই হলো আমাদের বিশ্বের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো। আর এই উন্নয়ন এর সুফল হিসেবেই আমরা বর্তমানে আমাদের বিশ্বকে গ্লোবাল ভিলেজ হিসেবে ডাককে পারছি। যেখানে সবাই একটি গ্রাম এর সদস্য এর মত। যখন খুশি যেখানে যোগাযোগ করতে পারে।

সুতরাং আমরা বলতেই পারি যে, এই ইন্টারনেট আমাদের জীবনে এক আশীর্বাদ স্বরূপ।

ইন্টারনেটের সুবিধা-অসুবিধা কী?

এতক্ষণ তো আমরা ইন্টারনেটের নানার ব্যবহার আর আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে আমরা এর সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে থাকি, তা জানলাম। এবার আমরা ইন্টারনেটের কিছু সুবিধা জানার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অসুবিধার কথা জানবো। আপনি হয়তো অবাক হচ্ছেন, ইন্টারনেটের আবার অসুবিধা কিরকম হতে পারে?

ইন্টারনেটের ফলে সমগ্র পৃথিবী আমাদের হাতের মুঠোই চলে এসেছে। এখন ঘরে বসেই আমরা সারা পৃথিবীকে অবলোকন করতে পারছি। তবে ইন্টারনেট আমাদের অনেক সুফল বয়ে আনলেও এর খারাপ বা কুফল এর দিকও কিন্তু মোটেই উপেক্ষা করার মত নয়।

ইন্টারনেটের সবচেয়ে ক্ষতিকর প্রভাব যাদের উপর পড়ছে তারা হলো যুব সমাজ। খারাপ দিকগুলির মধ্যে অন্যতম একটি দিক হচ্ছে পর্নগ্রাফি। যা আমাদের সমাজের যুবক যুবতীদের ঠেলে দিচ্ছে ভয়াবহ বিকৃতির দিকে। এর ফলে তরূন তরুনিদের কর্মততপরতা মারাত্মকভাবে ব্যহত হয়। আর অশ্লীল ভিডিও দেখার ফলে সমাজের তরুন সমাজ হয়ে উঠছে সেক্স অপরাধী। যার ফলস্রুতিতে সমাজে বৃদ্ধি পাচ্ছে ধর্ষণ, খুন এর মত জঘন্য সব অপকর্ম।

পর্নোগ্রাফি ছাড়াও বর্তমানে আমাদের ঘরের শিশু কিশোররা স্কুলবিমুখী হয়ে যাচ্ছে ইন্টারনেটের অধীক ব্যবহারের কারনে। যা মাদকাসক্তের মত ভয়াবহ এডিকশন এর নিচ্ছে। ভিডিও গেইমস খেলার ফলে আজ শিশুরা ঘরের বাইরে যেতে চায় না।

যে সময়টা তাদের মাঠে ছুটোছুটি করে কাটানোর কথা ছিল, এখন সেই সময়টা পার হয় ঘরের কোন এক কোনে বসে পাবজি, ফ্রি ফায়ার খেলে। যার কারণে যেমন তাদের শারীরিক ক্ষতি হয়, তেমনি মানসিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়ে অনেকে। এ বিষয়ে আমাদের অবিভাবকদের খুব বেশি সচেষ্ট থাকাটা অত্যন্ত জরুরি।

আরেকটি খারাপ দিক হলো ইনফরমেশন চুরি। আমরা বর্তমানে খাতা কলমে তথ্য সংরক্ষণ করার চেয়ে ইন্টারনেটে স্টোর করে রাখতে বেশি ভালোবাসি। আর কিছু বেক্ষাপ্পা মানুষ হ্যাক করে অনেকে মূল্যবান তথ্য চুরি করে তাদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে। আসলে এ ক্ষেত্রে ইন্টারনেট কে দোষ দিলে চলবে না। এটা আমাদের মানুষদেরই একটি অন্ধকার দিকের উদাহরণ।

যাই হোক ইন্টারনেটের যতই অসুবিধা আর কুফল থাকুক না কেন, আপনি আমি তো নিসন্দেহেই স্বীকার করে নিতে পারি যে , এই ইন্টারনেটই হলো আমাদের মানব সমাজে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে ভালো দিকগুলির একটি। যা আমাদের প্রজন্মকেই অন্য এক ধাচে নিয়ে গেছে।

বাংলাদেশে ইন্টারনেটের আদিপ্রান্ত

১৯৬৯ সালে  পৃথিবীর প্রথম ইন্টারনেট চালু হলেও বাংলাদেশে এই সুবিধা আসতে আরো  ২৪ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। ১৯৯৩ সালে  বাংলাদেশ ইন্টারনেট চালু হলেও সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয় ১৯৯৬  সালে।  কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশেও ইন্টারনেট  এবং  তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এ  বিস্ময়কর হারে বৃদ্ধি ঘটেছে।

যার ফলশ্রুতিতে  বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা  10 কোটি বা  100 মিলিয়ন এ  এসে দাঁড়িয়েছে।  যা আমাদের জনসংখ্যার প্রায় 62%।  কিন্তু 2001  সালে দেশে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল মাত্র এক লক্ষ 86000।

ভবিষ্যতে আমাদের দেশ এ  ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা সহজে আন্দাজ করতে পারি।  কেননা ২০২১ সালের মধ্যে  ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য পূরণে  ইন্টারনেট এবং টেকনোলজিতে আমাদের  উন্নয়ন খুব দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  তবে  এর জন্য প্রয়োজন আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রয়াস।

Read More-

আর্টিকেলের এ পর্যায়ে আমরা নেটওয়ার্ক এর বিভিন্ন বিষয়বস্তু নিয়ে একটু বিস্তারিতভাবে জানার চেষ্টা করবো।

চলুন প্রথমেই জেনে আসি-

নেটওয়ার্ক কাকে বলে?

নেটওয়ার্ক হলো কতগুলো কম্পিউটারের সমষ্টি যেখানে একটি সাধারণ কমিউনিকেশন প্রোটকল ব্যবহার করা হয়ে থাকে কতগুলো ডিজিটাল ইন্টার কানেকশনের উপর ভিত্তি করে। যার মুখ্য উদ্দেশ্য হলো নেটওয়ার্কের অধীনে কম্পিউটার নোডগুলোর মধ্যে বিভিন্ন রিসোর্স আদান প্রদান করা।

নোডের মধ্যে আন্তঃসংযোগ শারীরিকভাবে ওয়্যার্ড, অপটিক্যাল এবং ওয়্যারলেস রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে টেলিযোগযোগ নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির বিস্তৃত বর্ণালী থেকে গঠিত হয়। যা বিভিন্ন নেটওয়ার্ক টপোলজিতে সাজানো যেতে পারে। কম্পিউটার নেটওয়ার্কের নোডগুলি সাধারণত ব্যক্তিগত কম্পিউটার, সার্ভার, নেটওয়ার্কিং হার্ডওয়্যার বা সাধারণ উদ্দেশ্যে হোস্ট হিসাবে অনেক উপায়ে শ্রেণিবদ্ধ করা যেতে পারে।

তাদের হোস্টনাম এবং নেটওয়ার্ক ঠিকানা দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। হোস্ট-নেমগুলি নোডগুলির জন্য স্মরণীয় লেবেল হিসাবে পরিবেশন করে, প্রাথমিক নিয়োগের পরে খুব কমই পরিবর্তিত হয়। নেটওয়ার্ক ঠিকানাগুলি( নেটওয়ার্ক এড্রেস) ইন্টারনেট প্রোটোকলের মতো যোগাযোগ প্রোটোকল দ্বারা নোডগুলিকে সনাক্ত করার জন্য পরিবেশন করা হয়। আশা করি, নেটওয়ার্ক কাকে বলে একটু হলেও ধারণা পেয়েছেন।

আইপি এড্রেস কি?

আই পি এড্রেস  এর মানে হলো ইন্টারনেট প্রোটকল ঠিকানা। বা সহজ ভাষায় বললে , ইন্টারনেটের সাথে সংযোগ স্থাপনকারী প্রতিটি ডিভাইসের সাথে যোগাযোগ করার জন্য একটি অনন্য সনাক্তকারী নম্বর প্রয়োজন, যাকে একটি ‘আইপি ঠিকানা’ বলা হয় ।

একটি ইন্টারনেট প্রোটোকল ঠিকানা (আইপি অ্যাড্রেস) হ’ল কয়েকটি সংখ্যার লেবেল যা কোন কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত প্রতিটি ডিভাইসে নিযুক্ত করা হয়।আর যেটি যোগাযোগের জন্য ইন্টারনেট প্রোটোকল ব্যবহার করে।একটি আইপি ঠিকানা সাধারনত দুটি প্রধান ফাংশন পরিবেশন করে: হোস্ট বা নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস সনাক্তকরণ এবং অবস্থান ঠিকানা বা Location addressing. বর্তমানে ইন্টারনেট জগতে দুই ধরনের আইপি ভার্সন অবস্থান করছে।

আইপি ভার্সন ৪ (IP version 4 (IPv4)) এবং আইপি ভার্সন ৬ ( IP version 6 (IPv6) ) ।আমরা হয়তো অনেকেই জানি, আইপি অ্যাড্রেসগুলি বাইনারি মানগুলির সমন্বয়ে তৈরি হয় এবং ইন্টারনেটে সমস্ত ডেটার রাউটিং চালায়। IPv4 ঠিকানাগুলি 32 বিট দীর্ঘ এবং IPv6 ঠিকানাগুলি 128 বিট দীর্ঘ।

তবে আইপি অয়াড্রেসগুলি মানব-পঠনযোগ্য স্বরলিপিগুলিতে লিখিত এবং প্রদর্শিত হইয়ে থাকে,  যেমনঃ আইপিভি 4 এ 172.16.254.1, এবং 2001: db8: 0: 1234: 0: 567: 8: 1 আইপিভি 6-তে। ঠিকানাটির রাউটিং উপসর্গের আকারটি সিআইডিআর(CIDR) স্বরলিপিতে উল্লেখযোগ্য বিটের সংখ্যার সাথে ঠিকানা অনুকরণ করে মনোনীত করা হয়েছে।  যেমন, 192.168.1.15/24, যা বহুল পরিচিত সাবনেট মাস্ক 255.255.255.0 এর সমতুল্য।

DNS, Subnet Mask কী?

ডিএন এসঃ ডি এন এস এর পূর্ণরূপ হলো (Domain Name System) বা ডোমেইন নেম সিস্টেম। ডোমেন নেম সিস্টেম (ডিএনএস) দ্বারা কম্পিউটার, পরিষেবা বা ইন্টারনেট বা একটি ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত অন্যান্য সংস্থার জন্য একটি শ্রেণিবিন্যাসিক ও বিকেন্দ্রীভূত নামকরণ সিস্টেম বোঝানো হয়ে থাকে।

এটি অংশগ্রহণকারী সত্তাদের প্রত্যেককে নির্ধারিত ডোমেন নামের সাথে বিভিন্ন তথ্য যুক্ত করে। সর্বাধিক সুস্পষ্টভাবে, এটি অন্তর্নিহিত নেটওয়ার্ক প্রোটোকল সহ কম্পিউটার পরিষেবাদি এবং ডিভাইস সনাক্তকরণ এবং সনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগত আইপি ঠিকানাগুলিতে আরও সহজেই মুখস্ত করার অভিপ্রায়ে ডোমেন নামগুলিকে অনুবাদ করে থাকে।

ডিএনএসের প্রধান কাজ হ’ল ডোমেনের নামগুলিকে একেকটিআইপি অ্যাড্রেস এঅনুবাদ করা, যা কম্পিউটার বুঝতে পারে। এটি মেল সার্ভারগুলির একটি তালিকাও সরবরাহ করে থাকে ; যা প্রতিটি ডোমেন নামের জন্য ইমেল গ্রহণ করে। ডিএনএসের প্রতিটি ডোমেন নাম তার ডিএনএস রেকর্ডগুলিরঅনুমোদনের জন্য ন্যাম সার্ভারের একটি সেটকে মনোনীত করে।

সাবনেট মাস্কঃ অন্যদিকে একটি আইপি ঠিকানা দুটি অংশে বিভক্ত করতে একটি সাবনেট মাস্ক ব্যবহার করা হয়। একটি অংশ হোস্ট (কম্পিউটার) সনাক্ত করে, অন্য অংশটি নেটওয়ার্কটি যার সাথে সম্পর্কিত তা সনাক্ত করে।

আইপি অ্যাড্রেস এবং সাবনেট মাস্কগুলি কীভাবে কাজ করে তা আরও ভালভাবে বুঝতে, একটি আইপি ঠিকানা দেখুন এবং দেখুন এটি কীভাবে সংগঠিত হয়েছে।সাবনেট মাস্কগুলি ঠিকানার মতো বিন্দু-দশমিক ব্যবহার করে প্রকাশ করা হয়।

উদাহরণস্বরূপ, 255.255। 255.0 এটি 198.51 . 100.0 / 24 প্রিফিক্স এর একটি সাবনেট মাস্ক। রাউটারগুলির সাহায্যে সাবনেটওয়ার্কের মধ্যে ট্র্যাফিকের আদান প্রদান কেবল তখনই হয় যখন উত্সের ঠিকানা এবং গন্তব্য ঠিকানাটির রাউটিং প্রিফিক্স পৃথক হবে। সহজ কথায়, সাবনেট হলো একটি আইপি নেটওয়ার্কের লজিকাল সাবডিভিশন।

Read More

ইন্টারনেট প্রোটকল কাকে বলে?

ইন্টারনেট প্রোটোকল (আইপি) হলো ডেটা প্যাকেটগুলিকে রাউটিং এবং সম্বোধনের জন্য একটি প্রোটোকল বা নিয়মের সেট, যাতে তারা নেটওয়ার্কগুলি জুড়ে ভ্রমণ করতে পারে এবং সঠিক গন্তব্যে পৌঁছতে পারে। ইন্টারনেটে ট্রাভেলিং করা ডেটার ছোট ছোট টুকরাকে বলা হয়  প্যাকেট। আইপি ইনফোরমেশনগুলি  প্রতিটি প্যাকেটের সাথে সংযুক্ত থাকে এবং এই তথ্য রাউটারগুলিকে সঠিক জায়গায় প্যাকেট প্রেরণে সহায়তা করে।

প্রতিটি ডিভাইস বা ডোমেন যা ইন্টারনেটে সংযুক্ত হয় তাদের একটি আইপি ঠিকানা বরাদ্দ করা হয়, এবং প্যাকেটগুলি তাদের সংযুক্ত আইপি ঠিকানায় নির্দেশিত হওয়ার সাথে সাথে প্রয়োজনমত পৌছে যায়।

আমরা আমাদের আর্টিকেলের একেবারে শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি।  আমাদের সাধ্যমত আমরা চেষ্টা করলাম, ইন্টারনেট এর সকল বিষয়ের উপর একটি ধারণা সৃষ্টি করতে। তবে এটাও মনে রাখা জরুরী যে, ইন্টারনেট বিষয়টি আপাতত আমাদের কাছে সরল মনে হলেও এটি অনেক জটিল একটি প্রক্রিয়া। তাই এখানে হয়তো অনেক বিষয় বাদ পড়তে পারে। যাই হোক, আমাদের আর্টিকেল থেকে যদি এতটুকুও আপনার কাজে লাগে, তাই হবে আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন। অনেক অনেক শুভ কামনা রইলো। ধন্যবাদ।

আরও পড়ুন

Leave a Comment

Share via
Copy link
Powered by Social Snap