গুগল এডসেন্স নিয়ে 10 টি প্রয়োজনীয় টিপস্

আমাদের কাছে অনেকেই জানতে চান কিভাবে আমরা ব্লগিং শুরু করব? এবং গুগল এডসেন্স থেকে কিভাবে আমরা ইনকাম করতে পারি? এখানে কিছু জরুরী বিষয় আলোচনা করবো যারা গুগল এডসেন্স নিয়ে কাজ করতে চান বা গুগল এডসেন্স নিয়ে কাজ করছেন তাদের জন্য এই ব্যাপার গুলো খুবই জরুরী।  অনেকে আছেন গুগল এডসেন্স নিয়ে কাজ করেন কিন্তু এ বিষয়গুলো তাঁরা জানেন না। জেনে নিন জানা অজানা কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস যেগুলো না জানলেই নয়। কিভাবে আপনার গুগল এডসেন্স থেকে বেশি ইনকাম করবেন? কিভাবে আপনার গুগল এডসেন্স নিরাপদ রাখবেন? এবং কিভাবে ব্লগিং নিয়ে ক্যারিয়ার গড়বেন? অনেকে আছেন যারা গুগল এডসেন্স সম্পর্কে অনেক কিছু জানেন না, যার কারণে তাদের গুগল এডসেন্স কয়েকদিন পর পর ব্যান হয়ে যাচ্ছে।

১। কিভাবে ব্লগিংয়ে টিকে থাকবেন।

অনেকে আছেন যারা গুগল এডসেন্স থেকে ইনকাম করছেন কিন্তু খুবই সামান্য।  এমনকি গুগল এডসেন্স নিয়ে কাজ করবেন এবং গুগল এডসেন্স থেকে ইনকাম করবেন এই আশায় একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পর আটকা পড়ে গেছেন । কোনভাবে আর এগোতে পারছে না। এর প্রধান কারণ হলো আপনি কি বিষয় নিয়ে ওয়েব সাইট তৈরি করেছেন, সে বিষয় সম্পর্কে আপনি কতটুকু জানেন সেটা। এখন কথা হল আপনি যে বিষয় নিয়ে খুবই ভালো জানেন,  আপনি যে বিষয়টি খুবই আগ্রহের সাথে কাজ করেন, এবং যে বিষয়টি সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করতে, লেখালেখি করতে, এবং রিসার্চ করতে ভালো লাগে, এমন কি সে সম্পর্কে আপনার ভালো জানাশুনা রয়েছে,  আপনি সেই বিষয়ের উপর বেজ করে আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করুন । যদি আপনার জানা শোনা কোন বিষয়ের উপর ডিপেন্ড করে আপনি আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করেন তাহলে অবশ্যই আপনি ভালো করতে পারবেন। অবশ্যই আপনি যে বিষয় নিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করছেন আগে অবশ্যই ভেবে নিবেন যে এই বিষয় সম্পর্কে আপনার কতটুকু জানাশুনা রয়েছে।

রিলেটেড: কিভাবে ব্লগিং শুরু করবেন। 

২। এডসেন্স থেকে আয় বাড়ানোর উপায়:

গুগল এডসেন্স থেকে ইনকাম কম হচ্ছে? এর জন্য কি করবেন?  আপনি আপনার ব্লগের রেভিনিউ বাড়াতে আপনি একাধিক ওয়েব সাইট নিয়ে কাজ করুন এবং  আমার পরামর্শ থাকবে আপনি যে কয়টা ওয়েবসাইট নিয়ে কাজ করবেন যেন প্রত্যেকটা ব্লগ একই বিয়য় নিয়ে থাক।  তাহলে আপনার লিখতে বা ব্লগ কে টিকিয়ে রাখতে অনেকটাই সুবিধা হবে। আপনি যদি বিভিন্ন ক্যাটাগরির ওয়েব সাইট তৈরি করেন তখন সেক্ষেত্রে আপনার প্রত্যেকটা বিষয় সম্পর্কে রিচার্জ করতে হবে। এবং  আপনি একসময় ক্লান্ত হয়ে যাবেন। সে জন্যই আমি বলি আপনি অবশ্যই একটি বিষয় নিয়ে আপনার ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করুন।

৩। ভিজিটর বাড়ানোর উপায়:

আপনি ভিজিটর পাচ্ছেন না? এর প্রধান কারণ হচ্ছে আপনার কনটেন্ট। আপনি যে বিষয় নিয়েই ব্লগিং করেন না কেন আপনাকে অবশ্যই ভালো ভালো কনটেন্ট পোস্ট করতে হবে। আপনি রেগুলার ভালো ভালো পোস্ট করুন তাহলে অবশ্যই গুগল আপনাকে রেংকিং দেবে। এবং আপনার পোস্ট গুলো অবশ্যই ভিজিটরদের জন্য বানাবেন নট ফর সার্চ ইঞ্জিন। কেননা যখন ঐ ভিজিটররা আপনার ওয়েবসাইটের ইনফরমেশন গুলো কে পছন্দ করবে তখন গুগোল ও আপনার ওয়েবসাইটকে পছন্দ করবে, এবং তখনই গুগল আপনাকে ভিজিটর দিবে । আর যখনই আপনার ওয়েবসাইটে কোন ভিজিটর এসে তার কাঙ্ক্ষিত ইনফর্মেশন না পেয়ে ফিরে যাবে তখন গুগোল ও আপনাকে আর পছন্দ করবেন না এবং বাউন্স রেট বেড়ে যাবে।  আপনি র‌্যাংকিং হারাবেন। এক কথায় ভালো কনটেন্ট দিন। আপনি যে বিষয়েই ব্লগিং করেন না এখনো সেই বিষয় সম্পর্কে আপনার অবশ্যই ভালো জানাশোনা থাকতে হবে।

৪। কি ভায়ায় ব্লগিং শুরু শুরু করা উচিৎ:

আপনি যদি গুগল এডসেন্স নিয়ে কাজ করেন তাহলে অবশ্যই গুগল এডসেন্স সাপোর্টেড ভাষা নিয়ে কাজ করতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় আপনি যদি ইংরেজি ভাষায় ব্লগিং করেন। আপনি চাইলে বাংলা ভাষায় আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করে গুগল এডসেন্স ব্যবহার করে আর্নিং করতে পারেন। কেননা গুগল অ্যাডসেন্স এখন বাংলা ভাষাকে সাপোর্ট করে। কিছুদিন আগ পর্যন্তও গুগল এডসেন্স বাংলা ভাষাকে সাপোর্ট করতো না।

তবে এখানে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়…….. আমি বাংলা ভাষায় ওয়েব সাইট বানাবো নাকি ইংরেজি ভাষা ওয়েবসাইট বানাবো? আমার পরামর্শ থাকবে আপনি অবশ্যই ইংরেজি ভাষায় ওয়েব সাইট তৈরি করুন। কেননা আপনি যখন ইংরেজি ভাষায় আপনার ওয়েবসাইট টা কে তৈরি করবেন, খোবই ভাল করতে পারবেন। এখনো পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে ইংরেজি ভাষায় গুগলে সার্চ দেয় এবং কোন কিছু খুঁজতে হলে অবশ্যই ইংরেজি ভাষায় খুঁজে থাকে। খুবই অল্প সংখ্যক ভিজিটর যারা বাংলাভাষায় সার্চ করে। আর একটা বিষয় না বললেই নয় আপনি যদি বাংলা ভাষায় ব্লগিং করেন। বাংলা ভাষায় ওয়েব সাইট তৈরি করেন । সেক্ষেত্রে গুগল এডসেন্স থেকে আপনি খুবই সামান্য পরিমাণে ইনকাম করতে পারবেন। কেননা গুগল যখন এডসেন্স থেকে আপনাকে কমিশন দিবে, সেই কমিশনের টাকাটা অবশ্যই যে পাবলিশার গুগলকে অ্যাড দেবে সেই পাবলিশারের কাছ থেকে টাকা কেটে আপনাকে দেবে। আর বুঝতেই পারছেন আমাদের বাংলাদেশ থেকে যারা গুগলকে এডওয়ার্ড এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে তারা বেশি টাকা পে করে না। সুতরাং আপনার বাংলা ওয়েবসাইটের জন্য সিপিসি  অবশ্যই কম থাকবে । আর যদি আপনি ইংরেজি ভাষায় ব্লগিং করেন তাহলে গ্লোবাল ভাবে আপনার সাইটে ভিজিটর প্রবেশ করবে, সেই ক্ষেত্রে অবশ্যই বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন সিপিসি পেয়ে থাকবেন।

৫। বেশি আয়ের জন্য কি করা যেতে পারে:

গুগল এডসেন্স থেকে বেশি পরিমাণে ইনকাম করতে চাইলে অবশ্যই হাই পেয়িং কি-ওয়ার্ড রিচার্জ করে আপনি আপনার ব্লগিং শুরু করতে পারেন। গুগলে এখনো অনেক কিওয়ার্ড রয়েছে যে গুলো টার্গে ট করে কাজ করলে গুগোল 1 ডলার থেকে শুরু করে 50  ডলারের ওপর পর্যন্ত পে করে থাকে। এখানে কথা থেকে যায় আপনি যখনই হাইপেইং কোন কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ করবেন তখন অবশ্যই আপনাকে পরিশ্রম বেশী করতে হবে। কেননা মার্কেটপ্লেসে যারা ওয়েবসাইট নিয়ে কাজ করে এবং গুগল এডসেন্স কে টার্গেট করে কাজ করে থাকে তারা সবাই হাই পেয়িং কি-ওয়ার্ড নিয়ে কাজ করছে। আপনি এই সমস্ত কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ করতে চাইলে অবশ্যই আপনার কম্পিটিটরদের চেয়ে ভালো পরিমাণে কনটেন্ট  দিতে হবে । এবং এসইও করতে হবে। অন্যথায় আপনি তাদের ওপর রেংকিং করতে পারবেন না।  আর যদি আপনি রেংকিং করতে না পারেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইটের কোন ভ্যালু থাকবে না । আপনার ওয়েবসাইটে যত বেশি ভিজিটর আসবে আপনার ইনকাম তত বেশি হবে আমার পরামর্শ ……. আপনি যেহেতু গুগল এডসেন্স কে টার্গেট করেই কাজ করবেন তাই অবশ্যই একটি ভালো বা হাই পেয়িং কি-ওয়ার্ড নিয়ে কাজ শুরু করুন এবং নিয়মিত আপনার ব্লগে কনটেন্ট দিন।

৬। এডসেন্স এর কোড এডিট:

গুগল এডসেন্স এর এড কোড কখনো এডিটিং করবেন না গুগল যেভাবে আপনাকে অ্যাড করে দিয়েছে সেভাবে আপনার ব্লগে প্লেস করুন। যদি আপনার কোড পরিবর্তন করতে ইচ্ছা হয় তখন গুগোল অ্যাডসেন্সে ড্যাশ বোর্ডে গিয়ে নতুন করে একটি ইউনিট তৈরি করুন । কিন্তু কখনোই এড কোড এর ভিতরে কোন কিছু এডিটিং করার চেষ্টা করবেন না কারণ এতে আপনার অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট ব্যান খাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৭। যেখানে এড বসানো যাবে না।

আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগ পোষ্টে বা পেজে কখনোই ছবির সাথে, বা ছবির নিচে-উপরে, বা পাশাপাশি এড কোড ব্যবহার করবেন না।  এতে ভিজিটর বিভ্রান্তির মাঝে পড়ে যায় এটাকে গুগোল ভালো চোখে দেখে না তাই অবশ্যই এর ব্যবহার করার জন্য এ বিষয়গুলো অ্যাভয়েড করুন।

৮। যে বিষয় এড়িয়ে থাকবেন।

আপনার কনটেন্ট অনুযায়ী কনটেন্ট এর মাঝে মাঝে এড এর কোড বসিয়ে দিন । এটা খুবই ন্যাচারাল ভাবে বসাবেন ভিজিটরকে অ্যাড এ ক্লিক করার জন্য “এখানে ক্লিক করুন” লিখে নিচে এড কোড বসিয়ে দিলেন এইভাবে কখনোই করবেন না।  ভিজিটরকে কখনো অ্যাড এ ক্লিক করার জন্য অনুপ্রাণিত বা উৎসাহিত করা যাবে না এতে আপনার এডসেন্স এর  নীতিমালার বিপরীত হয়ে যাবে।

৯। এডসেন্স নিরাপদ রাখবেন যেভাবে।

নিয়মিত আপনার গুগল এডসেন্স ড্যাশবোর্ড এর প্রবেশ করে আপনার এডসেন্স কে চেক করবেন। হঠাৎ করে আপনার এডসেন্স এর ক্লিক বেড়ে গেলে বা ইনভেলিড ক্লিক পড়লে আপনি  জানা মাত্রই গুগল কে অবহিত করুন নয়তোবা আপনার গুগল এডসেন্স ব্যান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি অন্য কোন অসঙ্গতি লক্ষ্য করলে অবশ্য গুগল এডসেন্স কে অবহিত করুন তাতে আপনার গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট নিরাপদ থাকবে।

১০। কয়টা এডসেন্স ব্যবহার করছেন।

আরেকটি বিষয় হলো যেটি না বললে নয় আমাদের বাংলাদেশ এরা অনেকেই একাধিক গুগল অ্যাডসেন্স  নিয়ে কাজ করে। আমি মনে করি গুগল এডসেন্স একাধিক থাকা উচিত না কারণ আপনি একটা অ্যাকাউন্ট থেকে সকল কিছুই করতে পারছেন সকল  ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারছেন, ব্লগস্পট সাবডোমেইন, এমনকি ইউটিউবে ব্যবহার করতে পারছেন, সুতরাং আপনার একাধিক গুগল এডসেন্স ব্যাবহার করার কোন প্রয়োজন  নেই গুগোল সব সময় বলে থাকে আপনার  একটি এডসেন্সই যথেষ্ট।

সর্বোপরি আমি আপনাকে বলব, অনেকে বলে থাকেন আমার এডসেন্স ডিজেবল, আমার এডসেন্স ব্লক হয়ে গেছে, আমার এডসেন্স টিকছে না, আমি অ্যাডসেন্সে অ্যাপ্রভাল পাচ্ছি না, ইত্যাদি নানান প্রশ্ন। আমি সবার জন্য একটাই কথা বলব আপনি যদি গুগল এডসেন্স নিয়ে কাজ করতে চান তাহলে আপনি অবশ্যই গুগল এডসেন্স এর নীতিমালা এবং পলিসি মেনে কাজ করবেন। আশা করি আপনার একটি এডসেন্স ডিজেবল হবে না, ব্লক হবে না। আপনি ভালো মানের মানসম্মত সাইট তৈরি করুন আপনি অবশ্যই গুগোল অ্যাডসেন্সে অ্যাপ্রভাল পেয়ে যাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here