যারা ব্লগিং পেশা নিয়ে আছেন তারা তারা অবশ্যই এটা জানেন যে, ব্লগপোস্ট তথা একটা কনটেন্ট কতটা গুরুত্বপূর্ণ একটা ওয়েবসাইটের জন্য। বলা হয়ে থাকে কনটেন্ট ইজ দা কিং অফ ওয়েবসাইট, সুতরাং বুঝতেই পারছেন আপনি যদি ব্লগিং করতে চান তাহলে আপনার ব্লগ পোস্ট অবশ্যই গুণগতমান সম্পন্ন হতে হবে। আপনি এলোপাথাড়ি হাজারটা ব্লগ পোস্ট করার চেয়ে গুণগত মানের 5 থেকে 10 টি পোস্ট করলে আপনি ভালো ফলাফল পেতে পারেন।  তাই আজকে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করছি, কিভাবে একটি ভাল মানের ব্লগ পোস্ট লিখবেন, একটি ব্লগ কনটেন্ট লেখার যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বা গুরুত্বপূর্ণ ধারা বা নিয়ম কানুন সেগুলো বিস্তারিত আজকে আমি এখানে আলোচনা করছি । তো চলুন শুরু করা যাক।

2019 সালে অনলাইনে আয়ের সেরা মাধ্যমগুলো।

ব্লগ এর বিষয় নির্বাচন:

একটি আকর্ষণীয় ব্লগ পোস্ট লিখতে হলে আপনাকে অবশ্যই লেখার বিষয় নির্বাচন করতে হবে।  আপনি ব্লগে লেখার ক্ষেত্রে বিষয় নির্বাচন করার জন্য অবশ্যই যে বিষয়টি আপনি খুব ভালো জানেন,  ভালো বোঝেন এবং যে বিষয়টি সম্পর্কে আপনি ভালো ভাবে ভাবতে পছন্দ করেন, রিচার্জ করতে পছন্দ করেন, সেই বিষয়ের উপর আপনি লিখুন। তাহলে অবশ্যই আপনার লেখাটি একটি ভালো মানের লেখা হিসেবে বিবেচিত হবে আর এমন কোন বিষয় নির্বাচন করা যাবে না যে বিষয়ে আপনি কোন কিছুই জানেন না। আপনার অজানা বিষয় নিয়ে যদি আপনি ব্লগ পোস্ট লিখতে যান তাহলে সেই বিষয়ে আপনাকে রিচার্জ করতে করতে সময় কেটে যাবে কিন্তু ভালোভাবে সে লেখাটি আপনি প্রকাশ করতে পারবেন না এবং ভিজিটরদের আকর্ষিত করতে পারবেন না। সেজন্য ব্লগে লেখার জন্য যে বিষয়টি আপনি সবচেয়ে ভালো বুঝেন সেই বিষয়টি নিয়েই আপনি রিচার্জ করতে থাকুন এবং সে বিষয়ে লেখা গুলো আপনার ভিজিটরদের মাঝে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করুন।  মনে রাখবেন ভালো মানের লেখা যে বিষয়য়েই হোকনা কেন সাজিয়ে গুছিয়ে লিখতে পারলে সে বিষয়ে আপনি সফল হতে পারবেন।

রির্সাচ:

আপনি যে বিষয়ের লিখবেন অবশ্যাই সেই বিষয়ে আপনাকে রিসার্চ করতে হবে। গুগল, ইউটিউব বা অন্যন্য জায়গা থেকে একাধিক রিসার্চ করে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। তারপর তা নিজের ভাষায় সুন্দর ও সহজলভ্য ভাষায় উপস্থাপন করতে হবে।

অনলাইনে আয়ের সবচেয়ে সহজ উপায়।

হেডলাইন এর ব্যবহার:

ব্লগে লেখার জন্য হেডলাইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস।  লেখার শুরুতে অবশ্যই লেখার হেডিং টি আপনাকে খুবই বিবেচনা করে নির্ধারণ করতে হবে।  কেননা আশি শতাংশ পাঠক যারা হেডলাইন দেখে একটি লেখাকে পড়ার মনস্থ করে। যদি আপনার হেডলাইনটা একটি ভিজিটরের পছন্দ মতো না হয় তাহলে সে আপনার লেখাটিকে কখনোই পড়বেনা সে জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হল আপনার লেখা হেডলাইন টি খুব ভালোভাবে দেওয়া।  আপনার লেখার হেডলাইন যত সুন্দর হবে ভিজিটরদের আপনার লেখাটি পড়ার চান্স ততটাই বেড়ে যাবে। যদি আপনার হেডলাইন টি সুন্দর না হয় আপনার লেখাটির যতই ভালো হোক না কেন আপনার লেখাটি কোন ভিজিটর পড়তে চাইবে না। কেননা একটি লেখা হেডলাইন এর দ্বারাই বিচার করা হয়। আপনার লেখার দৈর্ঘ অনুযায়ী কয়েকটি H2 হেডলাইন ব্যবহার করতে হবে।

গ্রামার ও শুদ্ধ বানান:

ব্লগ রাইটিং এর ক্ষেত্রে গ্রামার ও শুদ্ধ বানান খুবই গুরুত্বপূর্ণ । কেনানা গ্রামার ও বানান অশুদ্ধ থাকলে আপনার রিডার আস্থা হাড়িয়ে ফেলবে। আর যখন আপনার লেখাটিতে গ্রামার এবং অশুদ্ধ বানান থাকবে তখন আপনার লেখাটি থেকে ভিজিটররা দূরে সরে যাবে । তাই একটি পোস্ট বা আর্টিকেল প্রকাশ করার পূর্বে অবশ্যই রিভিশন করতে হবে।  শুদ্ধ বানান এবং গ্রামার এর উপর খুবই গুরুত্ব দিতে হবে।

ভিজিটরদের আকর্ষন:

আপনার লেখাটি এমন ভাবে শুরু করতে হবে যেন শুরুতেই ভিজিটরদের আকর্ষণ করা যায়।  কেননা ভিজিটর সবসময় আকর্ষিত কোন বিষয় নিয়ে পড়তে পছন্দ করেন। যখনই আপনার লেখাটি কোন আকর্ষণমূলক হবে তখন এর ভিজিটর আপনার লেখাকে বেশি সময় দিয়ে পড়বে।  আপনার লেখাটিতে কিছু ফান, এবং কিছু অজানা বিষয় তুলে ধরুন ভিজিটর এর আগে কখনো পড়েনি। আর যখন একটা ভিজিটর কোন নতুন কিছু জানতে পারবে এবং শিখতে পারবে তখন প্রেমে পড়ে যাবে।  আর যখন আপনাকে পছন্দ করবে তখনই আপনি পূর্ণতা লাভ করবেন। আপনার লেখায় যদি কোন ভিজিটর বা পাঠক না পড়ে তাহলে সেই লেখার কোনো মূল্যই থাকবে না। একটি লেখার পূর্বে অবশ্যই এই লেখাটি সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা নিতে হবে এবং ভিজিটরদের আকর্ষণ করে লেখাটা লিখতে হবে।

ছবি এবং ভিডিও ব্যবহার

আপনার ব্লগ পোস্ট লেখার সময় ব্লগের মধ্যে লেখার বিষয় অনুযায়ী সুন্দর ছবি ব্যবহার করতে হবে।  যেন ভিজিটররা আপনার লেখার মাঝে ছবি দেখেই বুঝতে পারে এ লেখাটির বিষয় সম্পর্কে। পারলে ইনফোগ্রাফিক কোন ছবি ব্যবহার করবেন।  যাতে ভিজিটররা ছবি থেকেও তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। এমনকি আপনার লেখার রিলেটেড কোন ভিডিও অংশ লেখার মাঝে উপস্থাপন করতে পারেন অনেক ইউজার রয়েছে যারা দীর্ঘ সময় লেখাটাকে পড়তে পছন্দ করেন না ভিডিওর মাধ্যমে সেই তথ্যটি জানার চেষ্টা করে সেক্ষেত্রে ভিডিওটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

মোটিভেশনাল সমাপনী।

আপনার লেখাটির শেষের দিকে মোটিভেশনাল সমাপনী করতে হবে।  আপনার সম্পূর্ণ লেখাতে যে বিষয়গুলো রয়েছে তার সারাংশ ভাষার মর্ম টিকে সংক্ষিপ্তভাবে মোটিভেশনাল সমাপনীতে তুলে ধরতে হবে।  এটা একটি ইউজার একটি রিডার খুবই পছন্দ করেন।

থাম্বনেইল ইমেজ ব্যবহার

আপনার একটি ব্লগ পোস্ট কে আকর্ষণীয় করে তুলতে হলে অবশ্য একটি থাম্বনেইল ইমেজ ব্যবহার করতে হবে।  থাম্বনেইল ইমেজটা হল একটি ওয়েবসাইটে বা একটি ব্লগে প্রবেশ করার পর প্রত্যেকটা পোস্ট এর সাথে যে ইমেজটি দেখা যায় সেটাই হল  থাম্বনেইল ইমেজ। একটি ইমেজ যতটা আকর্ষণীয় হবে সেই পোস্টে ক্লিক করার হার ততটাই বেড়ে যাবে। তাই একটি ব্লগ পোস্ট করার সময় একটি অবশ্যই অপটিমাইজ খুব সুন্দর একটি  থাম্বনেইল ইমেজ তৈরি করতে হবে । আসলে একটি ব্লগ পোস্টে ক্লিক করার জন্য একটি থাম্বনেইল ইমেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেখা গেছে একটি ব্লগ পোস্ট বা একটি ইউটিউব ভিডিওর উপর ইমেজের উপর ডিপেন্ড করে  প্রায় 25% ভিজিটর সে বিষয়টি নিয়ে পড়া দেখার ইচ্ছা পোষণ করে।

ট্যাগ এর ব্যবহার

আপনার লেখাটির বিষয়ে কয়েকটি ট্যাগ ব্যবহার করা যেতে পারে। একটি ব্লগপোস্টে ট্র্যাক যেমনটা একটি সার্চ ইঞ্জিন এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ তেমনি ইউজার ফ্রেন্ডলি ও হতে পারে।  যখন একটা ইউজার আপনার ব্লগ পোস্টটিকে পড়তে থাকবে তখন যখন টেক গুলোকে দেখবে তখন আপনার পোস্ট সম্পর্কে তার সুস্পষ্ট ধারণা চলে আসবে সে জন্য একটি ব্লগ পোস্টে ট্যাগ এর ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যাটাগরি নির্ধারণ

আপনি একটি ব্লগ পোস্ট লেখার পর ব্লগ পোস্টটি পাবলিশ করার আগে অবশ্যই একটি ক্যাটাগরিতে সিলেক্ট করতে হবে।  যাতে করে কোন ভিজিটর কোন ক্যাটাগরির কোন পোস্ট খুঁজতে আসলে সে ক্যাটাগরিতে ক্লিক করলে যেন আপনার সেই লেখাটি ক্যাটাগরি  হিসাবে চলে আসে। তাই লেখাটির শেষে প্রকাশ করার পূর্বে অবশ্যই এমন একটি ক্যাটাগরি নির্ধারণ করতে হবে আপনার লেখা টি আসলে যে ক্যাটাগরি বাজে বিষয়ের উপর লেখা হয়েছে।  সঠিক ক্যাটাগরি নির্বাচনের ওপর নির্ভর করে আপনার লেখাটি ভিজিটর দের কাছে পৌঁছার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

টেবিল কন্টেন্ট এর ব্যবহার

টেবিল অফ কনটেন্টের ব্যবহার।  টেবিল অফ হল এমন একটি টুলস বা নিয়ম আসলে যদি খুব দীর্ঘ পোস্ট হয় তাহলে প্রত্যেকটা  হেডলাইন একটি টেবিল আকারে লেখার শুরুতে প্রদর্শন করবে এবং ইউজার রা যেটা পড়তে ইচ্ছা পোষণ করবে সেই হিডার এর উপর ক্লিক করে সরাসরি সেই হেড লাইনে চলে যাবে।  টেবিল অব কন্টেন্ট আসলে দীর্ঘ কনটেন্ট এর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। ছোটখাটো কোনো কনটেন্ট বা লেখার জন্য টেবিল অফ কনটেন্টের কোন প্রয়োজন নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here