গুগল এডসেন্স এর পরিচর্যা- জীবনেও এডসেন্স ব্যান/লিমিট হবেনা

যে সকল ভাইয়েরা অনলাইন থেকে ইনকাম করার কথা ভাবছেন তারা অবশ্যই এডসেন্স সম্পর্কে জানেন অথবা যারা অনলাইন থেকে ইনকাম করে আসছেন তাদের প্রধান ইনকাম সোর্স হচ্ছে গুগল এডসেন্স। অনেকে সোনার হরিণ ও বলে থাকেন তাই বুঝতেই পারছেন এর দাম কতটা।

Google ad sense এর নীতিমালা, পরিচর্যা
Google ad sense এর নীতিমালা, পরিচর্যা

এমনকি যেসকল ভাইরা ইউটিউব নিয়ে কাজ করছেন তাদেরও প্রধান ইনকাম সোর্স হচ্ছে গুগল এডসেন্স। কিন্তু এখন কথা হচ্ছে গুগল এডসেন্স নিয়ে অনেকেই অনেক ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। এর মধ্যে বেশ কিছু সমস্যা হচ্ছেঃ

  • গুগল এডসেন্স ব্যান হয়ে যাওয়া
  • লিমিট হয়ে যাওয়া
  • ডিজেবল হয়ে যাওয়া
  • গুগল এডসেন্স এপ্রুভ না হওয়া

আজকে এই  আমি আপনাদেরকে এ বিষয় সম্পর্কে ক্লিয়ার ধারণা দিয়ে দিব কি করলে আপনার গুগল অ্যাডসেন্স ভালো থাকবে এবং গুগল এডসেন্স কখনোই সমস্য হবে না। এডসেন্স এর পরিচর্যাই এডসন্সে কে টিকিয়ে রাখবে। কিন্তু কিভাবে পরিচর্চা করবেন- দেখেনিনঃ

এডসেন্স কি ও কেন

গুগল এডসেন্স হলো গুগোল এর একটি প্রোডাক্ট। এটি গুগলের অ্যাড নেটওয়ার্ক। আপনার যদি একটি ব্লগ বা একটি ওয়েব সাইট অথবা একটি ইউটিউব চ্যানেল থাকে তাহলে আপনি চাইলেই সেখানে গুগল এডসেন্স এর বিজ্ঞাপন মনিটাইজ করে সেখান থেকে প্রতিমাসে আনলিমিটেড ইনকাম করতে পারবেন। গুগল এডসেন্স মূলত বিভিন্ন ওয়েবসাইট ইউটিউব চ্যানেলে তাদের বিজ্ঞাপন করে থাকে। এবং সেখান থেকে ওয়েবসাইটের মালিক অথবা ইউটিউব চ্যানেলের মালিক বিজ্ঞাপনের প্রতি থেকে কমিশন পেয়ে থাকে। 2003 সালের 18 জুন গুগোল এই প্রোডাক্টটি কে লঞ্চ করেছে, এবং আজ পর্যন্ত পাবলিশারদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার প্রতি মাসে পে করছে।

আপনিও হতে পারেন একজন গুগল এডসেন্স পাবলিশারও এবং আয় করতে পারেন প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ টাকা। এখানে দেখুন গুগল এডসেন্স এর সম্পূর্ণ গাইডলাইন

এটি কীভাবে কাজ করে।

এটি মূলত কাজ করে,  একজন ওয়েবসাইটের মালিক অথবা একটি ইউটিউব চ্যানেলের মালিকে গুগল এডসেন্স একাউন্টের জন্য আবেদন করতে হয়। গুগল এডসেন্স এর বেশ কিছু নীতিমালা রয়েছে যদি সে নীতিমালাগুলো আপনার ওয়েবসাইট বা ইউটিউব চ্যানেলে ফুলফিল থাকে, তাহলে গুগল এডসেন্স আপনার ওয়েব সাইট অথবা ইউটিউব চ্যানেলের জন্য অ্যাপ্রভাল দেবে। আপনি যদি গুগোল অ্যাডসেন্সে অ্যাপ্রভাল বা অনুমোদন পেয়ে যান তাহলে শুধুমাত্র গুগল অ্যাডসেন্স থেকে একটি কোড কপি করে আপনার ওয়েব সাইটে পেস্ট করে দেবেন। এবং যে সমস্ত জায়গাতে এডসেন্সের কোড থাকবে সেখানে সেখানে গুগল অটোমেটিক বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করবে।

যখন আপনার ওয়েবসাইটে গুগল এডসেন্স এর বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হবে এবং আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর সেই বিজ্ঞাপন গুলো দেখবে এবং ক্লিক করবে, আপনি প্রতিটি ক্লিক থেকে 0.01 ডলার থেকে শুরু করে 50.00 পর্যন্ত পেতে পারেন। এটি নির্ভর করবে আপনার ওয়েব সাইটের কনটেন্ট এর ওপর।

দেখুন: গুগল এডসেন্স এর জন্য হাই ভ্যালু কিওয়ার্ড, অর্থাৎ গুগোল যে সকল বিষয়ে অনেক বেশি পরিমাণে থাকে।

এডসেন্স এর পরিচর্যা কিভাবে  করবেন?

আপনি যদি এই গুগল এডসেন্স এর অনুমোদন পেয়ে যান এবং আপনার ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব চ্যানেলে গুগলের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে বেশ কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। কেননা গুগল এডসেন্স একাউন্ট এর অনুমোদন টি খুবই মূল্যবান, অনেকেই হাজার বার ট্রাই করেও এর অনুমোদন পাচ্ছেন না আবার অনেকেই, যখন-তখন গুগল এডসেন্স এর অনুমোদন পেয়ে থাকেন। এর আসল রহস্য হচ্ছে তার ওয়েবসাইট অথবা ইউটিউব চ্যানেলের কনটেন্ট এবং স্ট্রাকচার।

আপনি যদি গুগল এডসেন্স এর অনুমোদন পেয়ে থাকেন তাহলে আপনার এডসেন্স কে কিভাবে পরিচর্যা করবেন এর জন্যে আমি নিম্নে কিছু স্ট্রাকচার দিয়ে দিচ্ছি:

বিজ্ঞাপনের লোকেশন নির্বাচন

আপনি আপনার ওয়েবসাইটের কনটেন্টের যে সকল স্থানে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করবেন সে সকল স্থান ভালোভাবে রিচার্জ করে নির্বাচন করতে হবে। কেননা সকল জায়গায় আপনি গুগল এডসেন্স এর বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন না। যেমন বেশকিছু কিওয়ার্ড রয়েছে এর নিচে বা উপরে আপনি গুগল এডসেন্স এর বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করলে তাহলে আপনার গুগল এডসেন্স লিমিট বা ডিজেবল হওয়া সম্ভাবনা থাকে।

যেমন, এখানে ক্লিক করুন, এখান থেকে ডাউনলোড করুন, নিচে ক্লিক করুন, নিচের ছবিতে ক্লিক করুন, এই ধরনের কিওয়ার্ড লিখে সেখানে যদি আপনার গুগল এডসেন্স এর কোড প্রদর্শন করেন, তাহলে এটা গুগলের বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করার জন্য প্ররোচনা করা হচ্ছে। তাই এই সকল ওয়ার্ড এর আশেপাশে গুগলের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা যাবে না।

অর্থাৎ,

  • ইউজারকে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার জন্য বাধ্য করা যাবে না, 
  • ইউজারকে ভুল বুঝি বিজ্ঞাপন এর উপরে ক্লিক করা যাবে না,
  • ইউজার যাতে ক্লিক করে এরকম প্ররোচনামূলক স্থানে এডসেন্স এর বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা যাবে না, 
  • বিজ্ঞাপনের ওপর ক্লিক করার জন্য অনুরোধ করা যাবে না,

এইভাবে যদি আপনার ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করেন তাহলে গুগল এডসেন্স থেকে লিমিটেশন ভাবেন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

কন্টেন্ট ‍স্ট্রাকচার

তারপর আসে কন্টাক্ট স্ট্রাকচার, এখানে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটি হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটে ডুপ্লিকেট অথবা কপিরাইট কনটেন্ট দেওয়া যাবে না। আপনি যদি অন্য থেকে কপি করে আপনার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেন তাহলে, আগে বা পরে আপনার ওয়েবসাইট থেকে গুগল এডসেন্স এর বিজ্ঞাপন লিমিট হবে।

দেখুন: কিভাবে একটি আকর্ষণীয় ব্লগপোস্ট লিখবেন।

সরাসরি কোন টুল ব্যবহার করে ট্রান্সলেট করে কনটেন্ট দেওয়া যাবে না,

বা অন্য ওয়েবসাইট থেকে কনটেন্ট নিয়ে সেটিকে কোন টুলস এর মাধ্যমে রিরাইট করে সরাসরি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা যাবে না। এতে গুগলের রোবট বুঝতে পারে যে আপনার কনটেন্ট গুলো হাই কোয়ালিটি নয়। গুগোল টুল ব্যবহার করে রিলেট করা কনটেন্ট পছন্দ করেনা, এই বিষয়টি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

ইমেজ স্ট্রাকচার

আপনার ওয়েব সাইট এর ইমেজ গুলো সবসময় অপটিমাইজ করে দিতে হবে যেন ইমেজের পিক্সেল বেশি না হয়, এবং খুব সহজেই লোড হয়। অন্য কোন ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি আপনার ওয়েবসাইটে আপলোড করা যাবেনা। সবচেয়ে ভালো হবে আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইন করে নিজে নিজেই ইমেজ তৈরি করে আপনার ওয়েবসাইটে আপলোড করেন। এবং ইমেজের সাথে লাগিয়ে উপরে, নিচে, ডানে বা বামে কোথাও গুগল এডসেন্স এর বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা যাবে না। এতে করে ইউজাররা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যাবে কোনটা আর কোনটা বিজ্ঞাপন এটা বুঝতে পারবে না।

এড প্লেসমেন্ট

বিজ্ঞাপন প্লেসমেন্ট করার জন্য উপরের নির্দেশনা গুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে। আর আপনি একই পেজে তিন থেকে চারটা বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। তবে হ্যাঁ আপনি যদি একই পেজে অনেক বেশি পরিমাণে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করার জন্য কোড প্লেস করেন, তাহলে গুগল কিন্তু আপনার সেই পেজের সকল বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করবে না। যদিও করে কিছুদিন পর থেকে আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে যাবে।

ঠিকানা ভেরিফাই-

গুগল এডসেন্স একাউন্ট তৈরি করার সময় অবশ্যই আপনার সঠিক ঠিকানা ব্যবহার করতে হবে। কেননা আপনার ঠিকানায় গুগল অ্যাডসেন্স থেকে চিঠি পাঠাবে। যদি আপনার ঠিকানাটি কোন ভুল ঠিকানা হয় তাহলে আপনি কিন্তু গুগল এডসেন্স এর চিঠি তা পাবেন না এবং আপনার এডসেন্স একাউন্ট ভেরিফাই করতে পারবেন না। কোন কারণে যদি তিনবার এর অধিক গুগল এডসেন্স এর পিন ভেরিফাই রিকোয়েস্ট করেন অতঃপর, নাম এবং ঠিকানা উল্লেখিত কোন আইডি কার্ড দিয়ে আপনার ঠিকানা ভেরিফাই করতে হবে। সেক্ষেত্রেও আপনি পড়তে পারেন অনেক বিভ্রান্তির মধ্যে তাই সঠিক ঠিকানা ব্যবহার করার গুগোল অ্যাডসেন্সে রিকমেন্ট করে থাকে।

ব্যাংক একাউন্ট যুক্ত করার সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা

সর্বোপরি আপনার পেমেন্ট এর জন্য গুগল এডসেন্স এ ব্যাংক এর হিসাব নম্বর যুক্ত করার সময় অনেকেই বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে থাকে, ব্যাংক একাউন্ট যুক্ত করার সময় অবশ্যই আপনার একাউন্ট নাম্বার, একাউন্ট নেম এবং সুইফট কোড ভালোভাবে যাচাই করে তারপর দিতে হবে। কেননা এর একটাও ভুল থাকলে আপনার একাউন্টে টাকা আসবে না।

তবে হ্যাঁ যদি আপনার গুগল এডসেন্স একাউন্টে একরকম নাম থাকে এবং ব্যাংক একাউন্টে অন্য রকম থাকে, তাহলে সেক্ষেত্রে আপনি ব্যাংকের স্টেটমেন্ট যেভাবে আপনার নামের বানানগুলো রয়েছে সেভাবে আপনি পেমেন্ট এ যুক্ত করুন। যদি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বার এবং নাম ঠিক থাকে গুগল এডসেন্স একাউন্টে যে নামে হোক না কেন আপনি কিন্তু পেমেন্ট পেয়ে যাবেন এর জন্য কোন সমস্যা হবে না।

সর্বোপরি আমাদের পরামর্শঃ

আপনি যদি একজন গুগল অ্যাডসেন্স পাবলিশার হন তাহলে অবশ্যই উপরের বিষয়গুলো মেনে চলবেন, তাহলে আশা করা যায় আপনার গুগল এডসেন্স একাউন্ট কখনোই লিমিট হবে না। এবং যদি নতুন ইউজার হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্য আমন্ত্রণ রইল গুগল এডসেন্স নিয়ে কাজ শুরু করার জন্য। নতুনদের জন্য গুগল এডসেন্স থেকে ইনকাম করা খুবই সহজ এবং জনপ্রিয় একটি মাধ্যম এবং খুব অল্প সময়েই এতে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

বন্ধুরা যদি আজকের এই লেখা টি আপনাদের ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।

আরও পড়ুন

Leave a Comment