পেওনিয়ার (Payoneer) একাউন্ট খোলার নিয়ম

বর্তমান সময়ে ফ্রিল্যান্সিং যেমন একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। তেমনি ভাবে ফ্রিল্যান্সিং এর চাহিদাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এছাড়া ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে কাজ করার পরে। টাকা উত্তলোন এর জন্য সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো- পেওনিয়ার।

বর্তমান সময়ে যারা, ফ্রিল্যান্সিং করে তারা সকলেই প্রায় পেওনিয়ার একাউন্টের মাধ্যমে টাকা উত্তলন করে থাকে। অনেক ফ্রিল্যান্সার আছে যারা, আগ্রহ নিয়ে কাজ করে চায়, কিন্তু টাকা তোলার মতো একাউন্ট থাকে না।

তাই আমি আজ এই পোস্টের মাধ্যমে আপনাকে জানাব পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে।

আমরা জানি এখনকার সময়ে লোকেরা নিজের ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিং করতে আগ্রহী। ফ্রিল্যান্সিং করতে গেলে, আপনাকে অবশ্যই পেওনিয়ার এর মতো একাউন্ট তৈরি করতে হবে।

তার কারণ হলো- ফ্রিল্যান্সিং কাজ গুলো দেশি-বিদেশি ক্লায়েন্টদের সাথে করতে হয়। সেক্ষেত্রে কাজ করার পরে, আপনার টাকা উত্তলণ করার জন্য, পেওনিয়ার একাউন্ট তৈরি করা অতন্ত্য জরুরী।

আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং কাজ করে টাকা তুলতে চান? তাহলে পেওনিয়ার একাউন্ট বা পেওনিয়ার মাস্টার কার্ড এর মাধ্যমে দ্রুত ও সহজ ভাবে দেশ বিদেশ এর বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা আদান প্রদান করতে পারবেন সামান্য কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করে।

তাছাড়া আপনারা হয়তো, ইতোমধ্যে পেপাল, পেওনিয়ার, স্ক্রিল একাউন্ট এর নাম শুনেছেন। উক্ত পেমেন্ট মেথড গুলো সারা পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়।

যেমন- বাংলাদেশে ব্যবহার করা হয়- বিকাশ, নগদ, রকেট। এরকম ভাবে পেওনিয়ার থেকে আপনি ডলার আয় করে নিজের দেশের যে কোন ব্যাংক একাউন্টে ট্রান্সাফার করে নিতে পারবেন।

বর্তমান সময়ে আন্তর্জানিক টাকা লেনদেন করার জন্যে আমাদের দেশে অনেক গুলো পেমেন্ট মেথড চলমান আছে। তার মধ্যে সব চেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় পেওনিয়ার একাউন্ট।

অন্যদিকে আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারত অনেক বেশি ব্যবহৃত হয় পেওনিয়ার এবং পেপাল একাউন্ট।

পেওনিয়ার (Payoneer) একাউন্ট খোলার নিয়ম
পেওনিয়ার (Payoneer) একাউন্ট খোলার নিয়ম

পেওনিয়ার (Payoneer) একাউন্ট কি? 

পেওনিয়ার হলো- একটি ক্রস বর্ডার পেমেন্ট মেথড। যা ব্যবহার করে আপনি দেশের বাহিরে থেকে আপনার কাজের পেমেন্ট নিতে পারবনে।

সেটি হতে পারে কোন মার্কেটপ্লেস থেকে বা সরাসরি ক্লয়েন্টের কাছে থেকে। আপনার ক্লায়েন্ট কোন প্রতিষ্ঠান হতে পারে কিংবা কোন ব্যক্তিও হতে পারে।

ফ্রিল্যান্সিং এর চাহিদা বেশি কেন?

চাকরির থেকে ফ্রিল্যান্সিং এর চাহিদা বেশি কারণ হলো- আপনি চাকরি করে নির্দিষ্ট পরিমানের পেমেন্ট মাস শেষে পেয়ে থাকেন।

এখানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অফিস করতে হয়, মাসে ২-৩ দিন এর মতো ছুটি পেয়ে থাকেন। যা কিনা অনেক সময় যথেষ্ট হয় না।

তবে আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং কাজ করেন, সেক্ষেত্রে এখানে আপনার নির্দিষ্ট কোন বেতন এর থেকে অনেক গুন বেশি টাকা আয় করতে পারবনে।

আপনার যদি ফ্রিল্যান্সিং কাজের অভিজ্ঞতা থাকে, এবং এখানে নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করার সুযোগ পাবেন।

অনেক সময় আপনার সারা মাসের বেতন এর টাকা সমান্য আয় করতে পাবেন। কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং করে মাত্র ৫-১০ দিনের মধ্যে অনেক গুন বেশি টাকা আয় করতে পারবনে।

কারণ ফ্রিল্যান্সিং করার মাধ্যমে আপনি, অল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর টাকা আয় করতে পারবেন তাও আবার নিজের ঘরে বসে। এই হলো চাকরির তুলনায় ফ্রিল্যান্সিং কাজের তফাৎ।

ফ্রিল্যান্সিং করে আবার যে, টাকা আয় করবেন। সেই টাকা আপনি অনেক সহজেই, ব্যাংকে ট্রান্সারফার করতে পারবনে, পেওনিয়ার একাউন্টের মাধ্যমে।

পেওনিয়ার (Payoneer) একাউন্ট কেন খুলবেন?

আপনি যদি একজন ফ্রিল্যান্সার হয়ে থাকেন। তাহলে ফ্রিল্যান্সিং করার সময় দেখবেন যে, এমন অনেক মার্কেটপ্লেস বা ওয়েবসাইট আছে কিংবা ক্লায়েন্ট বা কোম্পানি আছে।

যারা ফ্রিল্যান্সারদের শুধু পেওনিয়ার এর মাধ্যমে কাজ করার বিনিময়ে টাকা পেমেন্ট করে।

তার জন্য এই প্লাটফর্ম গুলোতে আপনার একটি পেওনিয়ার একাউন্ট থাকা অতন্ত্য জরুরী। তার কারণ হলো ফ্রিল্যান্সিং কাজ করতে হলে আপনার পেমেন্ট মেথড হিসেবে একটি ইন্টারন্যাশনাল একাউন্ট থাকা প্রয়োজন আর সেই একাউন্ট হলো- পেওনিয়ার।

আমরা আজ এখানে আপনাকে জানাব, পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম। তাই নিম্নোক্ত লেখা গুলো ভালো ভাবে অনুসরণ করুন।

পেওনিয়ার (Payoneer) একাউন্ট খোলার নিয়ম

আপনি যদি পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম জানতে চান। তাহলে আপনার কিছু ডকুমেন্ট প্রয়োজন হবে। আপনি চাইলে ২ রকম ভাবে পেওনিয়ার একাউন্ট খোলতে পারবেন। যেমন-

  • Individual Poyoneer Account.
  • এবং Company Payoneer Account.

আপনি যদি Individual এর মাধ্যমে একটি পেওনিয়ার একাউন্ট খোলতে চান তাহলে আপনাকে কিছু ডকুমেন্ট দিতে হবে। সেগুরো হলো- জাতীয় পরিচয় পত্র কার্ড এবং ব্যাংক একাউন্ট। অন্য দিকে ভারত এর নাগরিক হলে পিএএন কার্ড এবং ব্যাংক একাউন্ট।

অন্যদিকে আপনি যদি নিজের কোম্পানির নামে পেওনিয়ার একাউন্ট খোলতে চান। তাহলে ট্যাক্স ইনফরমেশন কিংবা ট্রেড লাইসেন্স এর দরকার হবে।

উক্ত তথ্য গুরো আপনার যদি থাকে তাহলে অনেক দ্রতু একটি পেওনিয়ার একাউন্ট তৈরি করে নিতে পারবনে।

আপনার কাছে উক্ত জিনিস থাকার পরে, পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার জন্য যোগ্য। এখন আপনাকে গুগলে পেওনিয়ার (Payoneer) লিখে সার্চ করতে হবে। আর আপনি সরাসরি পেওনিয়ার এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও প্রবেশ করতে পারেন।

পেওনিয়ার একাউন্ট তৈরি করার জন্য আপনার একটি ডিভাইস থাকে হবে যা হতে পারে কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা মোবাইল। তারপরে আপনাকে একটি ব্রাউজার ব্যবহার করতে হবে। যেমন- গুগল ক্রোম।

এখন আপনাকে স্টেপ বাই স্টেপ দেখাবো কিভাবে পেওনিয়ার একাউন্ট খোলবেন।

স্টেপ- ১ :

প্রথমে আপনাকে পেওনিয়ার এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.payoneer.com এখানে প্রবেশ করতে হবে। তারপরে উপরে ডান পাশে দেখতে পারবেন Get Started সেখানে ক্লিক করতে হবে।

স্টেপ- ২ :

Get Started অপশনে ক্লিক করার পরে আপনাকে একটি পেজ দেওয়া হবে। সেখানে আপনাকে বলা হবে, আপনি পেওনিয়ারে কি ধরনে একাউন্ট তৈরি করবেন। আপনি উক্ত ৪ টি অপশন দেখতে পারবেন। যেমন-

Freelancer, Service Provider, Online Seller or Dropshipper,  Affiliate or Digital Marketer, Vacation rental host, Individual.

উক্ত অপশন গুলো থেকে যে কোন একটি সিলেক্ট করবেন। নিচের ছবির মতো যেমন-

স্টেপ- ৩ :

তারপরে আপনাকে Register নামে একটি পেজ দেওয়া হবে। সেখানে ক্লিক করবেন। আপনি যদি ব্যক্তিগত একাউন্ট খোলতে চান, তাহলে আপনাকে Individual অপশন সিলেক্ট করতে হবে। আর আপনি যদি বিজনেস এর জন্য একাউন্ট খোলেন তাহলেন Company অপশন সিলেক্ট করতে হবে। তার পরে উক্ত ছক সঠিক ভাবে পুরণ করতে হবে। নিচের ছবি দেখুন-

স্টেপ- ৪ : 

তারপরে আপনাকে পরবর্তী পেজ দেওয়া হবে, সেখানে আপনার সঠিক ঠিকানা প্রদান করতে হবে। প্রথমে আপনার দেশে নির্বাচন করবেন। আপনি যেহেতু বাংলাদেশ থেকে একাউন্ট খোলবেন তাই Bangladesh সিলেক্ট করবেন।

তারপরে ঠিকানার লাইন 1, ঠিকানা লাইন 2, সিটি/টাউন, পোস্ট কোড, মোবাইল নম্বর টাইপ করে দিবেন। এবং নিচের অংশে ভেরিফাই কোড এর পাশে সেন্ড কোড অপশনে ক্লিক করবেন। 6 ডিজিটের কোড চলে আসবে। আপনি কোডটি বক্সে দিয়ে নেক্স অপশনে ক্লিক করে দিবেন।

স্টেপ- ৫ :

তারপরে, আপনাকে সিকিউরিটি তথ্য অপশন দেওয়া হবে। সেটি সঠিক ভাবে পুরণ করতে হবে। সেখানে আপনার ইউজার নেম, আপনার ইমেইল দেওয়া থাকবে।

তারপরে, পাওসওয়ার্ড, রি-পাসওয়ার্ড, সিকিউরিটি উত্তর, জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর এবং শেষে ক্যাপচা কোড পুরণ করে নেক্স অপশনে ক্লিক করতে হবে।

স্টেপ- ৬ : 

সর্বশেষ ধাপে আপনাকে পেমেন্ট নেওয়ার জন্য ব্যাংক একাউন্ট যুক্ত করে দিতে হবে। এখন আপনার পার্সোনাল একাউন্ট/বিজনেস একাউন্ট সেটি সিলেক্ট করে নিজের কারেন্সি নির্বাচন করুন।

তাপরে ব্যাংকের নাম, শাখার নাম, একাউন্ট হোল্ডার নেম, একাউন্ট নম্বর দিয়ে I agree to the অপশনে টিক চিহ্ন দিয়ে সাবমিট অপশনে ক্লি করে দিন।

উক্ত কাজ গুলো সঠিক ভাবে করার পরে আপনাকে একটি Congratulation মেসেজ দেওয়া হবে। মানে আপনি সফল ভাবে পেওনিয়ার এ একাউন্ট তৈরি করেছেন।

তারপরে কয়েক দিন পরে পেওনিয়ার থেকে আপনার একাউন্ট রিভিউ করে, এপ্রুভাল মেইল পাঠাবে। তারপরে থেকে আপনি পেওনিয়ার একাউন্ট ব্যবহার করে টাকা লেনদেন করতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃ

শেষ কথাঃ

তো বন্ধুরা এই পোস্টে আপনি শিখতে পারলেন পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম। আপনি যদি পার্সোনাল বা বিজনেস পেওনিয়ার খোলতে চান? তাহলে উক্ত স্টেপ গুলো অনুসরণ করে অল্প সময়ের মধ্যে একাউন্ট ক্রিয়েট করে নিতে পারবনে।

আমাদের লেখা আপনার কাছে কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম, আর্টিকেলটি আপনার বন্ধদের কাছে একটি শেয়ার করে দিবেন। আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

আরও পড়ুন

Leave a Comment

Share via
Copy link
Powered by Social Snap