৫২,০০,০০০.০০ টাকা- ওহ মাইগড…! কিভাবে সম্ভব?

শুধু মাত্র গুগল অ্যাডসেন্স থেকে প্রতি মাসে পিটি ক্যাশমোর অায় করেন ৪ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা। এই আয়টা আসে তার ব্লগ ম্যাশেবল থেকে। ম্যাশেবলের ব্যানার সেল, উইডগেট স্পেস সেল এবং এফিলিয়েট সেল সহ মোট আয় হয়তো এই অংকটার দিগুন কিংবা তারও বেশি। আমরা অাপাতত: অন্যান্য অায়ের দিকে যাবো না, কথা বলবো শুধু গুগল অ্যাডসেন্স থেকে যে আয় তা সর্ম্পকে।

পূর্ণাঙ্গ ব্লগিং টিউটরিয়াল এখানে

কে এই পিটি ক্যাশমো?

আসুন সংক্ষেপে তার কিছু ঘটনা জেনে নেই। ১১ বছর বয়সে অ্যাপেনডিসাইটিস এ আক্রান্ত হন পিটি। ১৩ বছর বয়সে অপারেশন করান। অপারেশন সাকসেস হলেও পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি তিনি, ফিরে পাননি আর স্বাভাবিক জীবন। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক পড়া-লেখা বন্ধ হয়ে যায় তার। সারাদিন ঘরে বসে কাটাতে হয় তাকে, একমাত্র সঙ্গী বাবার কিনে দেয়া কম্পিউটারটা।

নেট ব্রাউজ করতে করতে একদিন জানলেন আর্টিকেল লেখার কথা, ব্লগিং করার কথা, ব্লগিং করে ইনকামের কথা। শুরু করলেন রাত জাগা আর বিভিন্ন ব্লগ থেকে স্টাডি। সারারাত আর্টিকেল লেখার ওপর, ব্লগিং এর ওপর পড়াশুনা করে সকাল ৭টায় ঘুমোতে যেতেন, দুপুর একটায় ঘুম থেকে উঠতেন, আর পরদিন সকাল ৭টার আগ পর্যন্ত শুধু বিভিন্ন ব্লগে ঘুরোঘুরি করতেন। বিশ্বের প্রভাবশালী বিজনেস ম্যাগাজিন ইনকর্পোরেশনের এক সাক্ষাৎকারে পিটি জানান, সফল হওয়ার আগ পর্যন্ত আমি দৈনিক ১৮ ঘন্টা কাজ করেছি।

কয়েকদিনে কমপক্ষে ১ হাজার ব্লগের সাবস্ক্রাইবার হয়েছিলেন তিনি। এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল রাইটিং, ইফেকটিভ ব্লগিং, আর্টিকেল প্রমোটিং এবং সোশাল মিডিয়া মার্কেটিং এর দক্ষতা তিনি এ-সব ব্লগ থেকেই অর্জণ করেছিলেন।
যাইহোক, এভাবে মাসখানেক পড়া-শুনার পর একদিন বাবার কাছে ওয়েবসাইট করার জন্য ৫০ হাজার টাকা চাইলেন পিটি। বাবা বললেন, ওয়েব সাইট দিয়ে তুমি কি করবে? পিটি বাবাকে বোঝালেন। মা’ও বেশ সহযোগীতা করলেন, বললেন, দাও না, লেখালেখি করে কিছু হোক আর না হোক, ওর সময়টা তো অন্তত সুন্দরভাবে কাটবে। ছেলেটা আমার সারাদিন একা একা বাসায় বসে থাকে! বাবা রাজী হলেন, বাংলা টাকার হিসেবে প্রায় ৫০ হাজার টাকা দিলেন পিটিকে।

গুগল অ্যাডসেন্স থেকে পিটির ইনকামের গল্প

১ হাজার টাকা দিয়ে পিটি mashable.com নামের একটি ডোমেইন কিনলেন। ১২ হাজার টাকা দিয়ে একটি সাধারণ মানের হোস্টিং কিনলেন। আর বাকি টাকা দিয়ে এক বন্ধুর বন্ধুকে দিয়ে ওয়েবসাইটি ডিজাইন আর ডেভেলপ করালেন। ২০০৫ সালের জুলাই মাসে স্কটল্যান্ডের অ্যাবারডিন শহরের এক কোণা থেকে শুরু হল পিটি ক্যাশমোরের ছোট্ট একটি ব্লগ ম্যাশেবল।

আপনি কি ব্লগিং শুরু করতে চান? বিস্তারিত এখানে দেখুন।

প্রথম মাসে পিটি ডিজিটাল মিডিয়া টপিক নিয়ে প্রায় ২০টির মতো আর্টিকেল লিখে ফেললেন। গুগল অ্যাডসেন্সের জন্য আবেদন করে অনুমোদন পেয়ে গেলেন। পরবর্তী মাসে লিখলেন আরো ২৫টি। ২ মাসে ৪৫টি আর্টিকেল হয়ে গেল। কিন্তু সাইটে ভিজিটর তো নেই! আজ ৫ জন তো কাল ৬ জন, এ রকম করে চলছে। সুতরাং, চিন্তায় পড়লেন পিটি, সাইটে যদি ভিজিটর না আসে তাহলে আর্টিকেলগুলো পড়বে কে আর ইনকামই বা হবে কিভাবে! মহা চিন্তা!

এর মাঝে হাতে গোনা যে দুই/একজন ব্লগারের সাথে পরিচয় হলো, তাদের একজনের কাছ থেকে জানলেন, ভিজিটর পেতে হলে আর্টিকেলগুলোকে গুগল, বিং, ইয়ানডেক্স সহ বড় বড় সার্চ ইঞ্জিনগুলোতে র্যাংক পাওয়াতে হবে আর র‌্যাংক পাওয়াতে হলে প্রচুর এসইও করতে হবে। সুতরাং শুরু করলেন সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজশন বা এসইও’র কাজ, পরিশ্রম বাড়িয়ে দিলেন আরো কয়েকগুন, ঘুমের পরিমাণ আরো কমিয়ে দিলেন।
আর এ সমস্ত ত্যাগ-তিতিক্ষা তাকে যে সফলতা দিয়েছে তা কল্পণারও অতীত। জাস্ট ১৮ মাসের মাথায় ম্যাশাবলের মান্থলি ভিজিটর এসে দাঁড়ালো ১ মিলিয়নে। এরপর শুধু বাড়তেই থাকলো। বর্তমানে পিটি’র ম্যাশাবলের শুধু ইউনিক ভিজিটরই হচ্ছে ৪৫ মিলিয়ন বা ৪ কোটি ৫০ লক্ষ। পেজ র‌্যাংক- ১০ এর মধ্যে ৮, আর অ্যালেক্সা র‌্যাংক ৬৮৮। আর শুধু গুগল অ্যাডসেন্স থেকে ম্যাশাবলের মাসিক ইনকাম প্রায় ৬ লক্ষ ৫০ হাজার ডলার। বাংলা টাকায় ডলার প্রতি ৮০ টাকা ধরলে ৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। এর বাইরে অ্যাড স্পেস সেল, ব্যানার সেল কিংবা এফিলিয়েটের ইনকাম তো রয়েছেই। ওগুলোর ইনকাম হয়তো গুগল অ্যাডসেন্স ইনকামের চেয়েও বেশি। কারণ, এমন আরো অনেক সাইট রয়েছে যারা গুগলের অ্যাড ব্যবহার করে না অথচ ইনকাম করে ম্যাশাবলের চেয়েও বেশি কিংবা কিছুটা কম।
শুধু টাকাই নয়, ম্যাশেবল পিটিকে এনে দিয়েছে সন্মান, খ্যাতি, প্রভাব-প্রতিপত্তি এবং আরো অনেক কিছু। ২০০৯ সালে তিনি ইনকর্পোরেশনের “থার্টি আন্ডার থার্টি” অ্যাওয়ার্ড পান। একই বছরে পান ফোর্বস্ এর “টপ টুয়েন্টি ফাইভ ওয়েব সেলিব্রিটি” অ্যাওয়ার্ড, জিতে নেন দি হাফিংটন পোস্টের “টপ টেন গেম চেঞ্জার ২০০৯” পুরস্কারটিও।

পিটি সর্ম্পকে এবং তার ব্লগ ম্যাশাবল সম্পর্কে আরো জানতে উইকিপিডিয়া দেখুন।
ইনকর্পোরেশনে পিটি’র দেয়া সাক্ষাৎকার পড়ুন।

পরিশেষে

ঘরের কোনে বসে শুরু করা পিটি’র সেই ছোট্র ব্লগটি এখন একটা বিশাল প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। হাজার হাজার মাইল পথের সূচনা হয় ছোট্র একটি পদক্ষেপের মাধ্যমে। কে জানে হয়তো বহুদূরের সফলতার দরজাটি অপেক্ষা করছে আপনার একটা ছোট্র পদক্ষেপের। সুতরাং, শুরু করে দিন। যা কিছু একটা শুরু করুন। হতে পারে সেটা শুধু মাত্র আর্টিকেল রাইটিং, হতে পারে ব্লগিং, হতে পারে এফিলিয়েট মার্কেটিং, হতে পারে ইউটিউভ ভিডিও মনেটাইজিং।  এমনকি আপনার ভাললাগা একটা কিছু। বসে বসে টাইম পা করার সুযোগ নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here