ইন্টারনেটে যে কোন ওয়েবসাইট রাখার জন্য যে স্পেসটি প্রয়োজন সেটাই হল ওয়েব হোস্টিং। যারা ডিজিটাল মার্কেটার এবং অনলাইনে কাজ করে থাকেন তাদের অবশ্যই ওয়েব হোস্টিং এর প্রয়োজন হয়। ওয়েব হোস্টিং কিনতে হলে যে বিষয়গুলো অবশ্যই মনে রাখতে হবে তা আলোচনা করছি। তো চলুন ওয়েব হোস্টিং সম্পর্কে জেনে নেইঃ

ওয়েব হোস্টিং কি? (What is webhosting?)

দেশের যারা ব্লগার রয়েছেন তারা বেশিরভাগ লোকই ডোমেইন সম্পর্কে খুবই ভালভাবে জানেন। যারা ব্লগারে ব্লগিং করে থাকেন তাদের হোস্টিং এর প্রয়োজন হয় না। এর মানে এই না যে ব্লগারের হোস্টিং নেই। ব্লগার হলো গুগলের একটি প্রডাক্ট গুগোল সেখানে ফ্রি হোস্টিং দিয়ে থাকে। তাই আপনাদের হোস্টিং এর কোন ঝামেলা নেই। তবে হ্যাঁ আপনি self-hosted কোন ওয়েব সাইট তৈরি করতে গেলে বা আপনার মনের মত কোন ওয়েবসাইট বানাতে গেলে অবশ্যই আপনাকে হোস্টিং কিনতে হবে।
মোটকথা হোস্টিং হলো যেখানে আপনার ওয়েবসাইট টা কে রাখবেন। আপনার মোবাইলে যেমন গান ছবি ভিডিও এগুলো রাখতে হলে স্পেস প্রয়োজন হয় ঠিক তেমনি অনলাইনে আপনার ওয়েবসাইটটিকে রাখতে ও একটি স্পেস এর প্রয়োজন হয় সেই স্পেসটাই হল ওয়েব হোস্টিং। এই ওয়েব হোস্টিং এর মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরি রয়েছে।

চলুন জেনে নিই ওয়েব হোস্টিং এর ক্যাটাগরি গুলো কি কি। এবং আমরা আরও জানব একটি হোস্টিং প্যাকেজ কিনতে হলে আমাদের কি কি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়……!  মনে করুন, আপনার একটি দোকান রয়েছে। সেখানে অনেক মালামাল রয়েছে। এবং দোকানের একটি ঠিকানাও রয়েছে। মালামালগুলো আপনার মন মত সাজিয়ে রেখেছেন আপনার দোকানটি আছে বিধায়।

ঠিক সেরকম আপনার একটি ওয়েব সাইট রয়েছে, আপনার ওয়েব সাইট যে জায়গায় বা যে সার্ভারের আপনি রেখেছেন সেটা হল ওয়েব হোস্টিং। আপনার ওয়েব সাইট এর ভিডিও, ছবি এবং ইনফর্মেশন হল ওয়েব কনটেন্ট। আর আপনার ওয়েবসাইটের ঠিকানা টি হল ডোমেইন। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

আপনি যখন হোস্টিং কিনতে যাবেন তখন আপনাকে কিছু কিছু বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে কেননা বিভিন্ন হোস্টিং কোম্পানি বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ সুবিধা দিয়ে থাকে। সেগুলো থেকে আপনাকে বেছে নিতে হবে যে আপনার কি ধরনের প্যাকেজগুলো প্রয়োজন বা কি ধরনের অপশন গুলো আপনার প্রয়োজন রয়েছে। কেননা আপনি যদি ওয়েব হোস্টিং সম্পর্কে কিছুই না জানেন তবে আপনি ওয়েব হোস্টিং কিনলে না জানার কারণে হয়তো বা কোন দিকে কমতি রয়ে যাবে।

চলুন জেনে নেই

হোস্টিং কত প্রকার কি কি?

আমরা সাধারণভাবে বিভিন্ন কোম্পানির ওয়েব হোস্টিং দেখে বুঝতে পারি হোস্টিং এর অনেকগুলো প্রকার রয়েছে যেমনঃ Shared Hosting, Dedicated Hosting, Vertual Private Server ইত্যাদি। তো চলুন জেনে নেই এই ধরনের ওয়েব হোস্টিং কোনটিতে কি ধরনের ফিচারস রয়েছে এবং কি ধরনের কাজ করা সম্ভব। বা আপনি যে হোস্টিং কিনতে যাচ্ছেন আপনি কি ধরনের সার্ভার নিবেন এগুলো পড়লে আশা করি ক্লিয়ার হয়ে যাবে।

শেয়ারড হোস্টিং (Shared Hosting)

বর্তমানে ইউজারদের কাছে শেয়ার্ড হোস্টিং হল একটি জনপ্রিয় হোস্টিং প্যাকেজ। আমরা যারা সাধারণত হোস্টিং ব্যবহার করি এবং ওয়েব ডেভলপিং এর কাজ করছি বা ব্লগিং করছি আমার জানামতে, তাদের বেশিরভাগই শেয়ার্ড হোস্টিং ব্যবহার করে।

এখন কথা হল শেয়ার হোস্টিং কি কিভাবে কাজ করে? শেয়ার হোস্টিং হলো এমন একটি হোস্টিং সার্ভার যেখানে একটি সার্ভারে অনেকগুলো ক্লায়েন্ট থাকে। যেহেতু একটা সার্ভার এর আন্ডারে অনেকগুলো ক্লায়েন্ট থাকে সেহেতু আপনার খরচটা স্বাভাবিকভাবেই কম হবে। আপনি যখন আপনার ওয়েবসাইটের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বা পরিপূর্ণ ওয়েব সার্ভার নিতে যাবেন তখন আপনার খরচ অনেক বেশি হয়ে যাবে।

যদি সিকিউরিটির দিকে বিবেচনা করেন তাহলে এইটার সিকিউরিটি একটু কম থাকে কেননা বুঝতে পারছেন একই সার্ভারে বিভিন্ন ধরনের লাইন থাকে। আর এই ধরনের শেয়ার্ড হোস্টিং সার্ভারের মাধ্যমে আপনি ডাটাবেজ, ইমেইল, ব্র্যান্ড উইথ, এসব সবকিছু লিমিটেড পাবেন।

যদি ভাল মানের শেয়ার্ড হোস্টিং নিতে চান তাহলে সেই ক্ষেত্রে আপনি যে ফিচারস গুলো পাবেন সে ফিচারগুলো স্বাভাবিকভাবে এ রকম থাকে যেমনঃ

  • ১০০% আপটাইম
  • আনলিমিটেড ডিস্ক স্পেস
  • আনলিমিটেড ব্যান্ডওয়াইডথ
  • আনলিমিটেড ইমেইল একাউন্ট
  • আনলিমিটেড এডন ডোমেইন
  • আনলিমিটেড সাব ডোমেইন
  • আনলিমিটেড ডেটাবেস
  • আনলিমিটেড এফটিপি একাউন্ট
  • ফ্রি এস এস এল
  • ডেইলি বা উইকলে ব্যাকআপ
  • ফ্রি cPanel

এ ধরনের একটি ওয়েব হোস্টিং এর জন্য আপনি যে যে সুবিধাগুলো পাবেন তা হলঃ

আপনি খুব ভালো পরিমাণে কনটেন্ট দিতে পারবেন। তবে যদি অনেক বেশি ভিজিটর সাইটে আসে যদিও আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ কিন্তু আপনার তখন সাইটটা স্লো হয়ে যাবে। আনলিমিটেড ডিস্ক স্পেস যদিও দিয়েছে সে ক্ষেত্রে আপনি তিন থেকে চার লক্ষ ফাইল আপলোড করতে পারবেন তারপর নতুন কোন নিয়ম এবং কন্ডিশনার আওতায় পড়ে যাবেন। বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার ইন্সটল দিতে গেলে অনেক ধরাবাধা নিয়ম থাকে। এছাড়াও আরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

শেয়ার্ড হোস্টিং এর ক্ষেত্রে আপনার ডোমেইনের জন্য কোন ডেডিকেটেড আইপি পাবেন না। এই ধরনের শেয়ার্ড হোস্টিং ব্যবহার করলে যখনই আপনার ভিজিটরের পরিমাণ বেড়ে যাবে তখন হোস্টিং প্রোভাইডাররা বিভিন্ন ধরনের টালবাহানা শুরু করে থাকে। যদি ভালো কোন কোম্পানি হয় তাহলে আপনাকে তারা ভালো হোস্টিং নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেবে।

যখন একই সময়ে অনেক বেশি পরিমানে ভিজিটর এর হিট পড়বে তখন আপনার সাইটটি স্লো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই শেয়ার্ড হোস্টিং এর চেয়ে ডেডিকেটেড হোস্টিং টা অনেক ফাস্ট এবং ভাল কিন্তু এর খরচ টাও অনেক বেশি। আসুন জেনে নেই ডেডিকেটেড হোস্টিং সম্পর্কে।

ডেডিকেটেড হোস্টিং (Dedicated Hosting)

আমি আগেই বলেছি আপনি যদি ডেডিকেটেড হোস্টিং দেন সেক্ষেত্রে আপনার খরচের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে। সেক্ষেত্রে আপনি আপনার ডোমেইনের জন্য একটি আইপি অ্যাড্রেস পাবেন। যেটা শুধু আপনারই। আপনার ওয়েবসাইটের জন্যে যদি অনেক বেশি নিরাপত্তার প্রয়োজন হয় এবং অনেক ভিজিটর থাকে সেই ক্ষেত্রে আপনি ডেডিকেটেড সার্ভার নিয়ে আপনার সাইটকে হোস্ট করতে পারেন। আপনার ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভর করে আপনার সার্ভার নিতে হবে। ডেডিকেটেড হোস্টিং সাধারনত দুই ধরনের হয়ে থাকে।

একটা হল ম্যানেজড: হোস্টিং প্রোভাইডাররাই সব করে দেবে যেমন নিরাপত্তা, সার্ভার সেটাপ, নেটওয়ার্ক কনফিগার, কোন সফটওয়ার ইনস্টল দেয়া ইত্যাদি এজন্য তাদেরকে নির্দিষ্ট পরিমান টাকা দিতে হবে।

এবং অন্যটি হলো আনমেনেজড: আপনি যদি Server administrator হন অর্থ্যাৎ আপনি যদি নিজেই আপনার এই ওয়েব সার্ভারের সকল কাজ করে নিতে পারেন তাহলে এটা হবে Unmanaged Hosting. এতে আপনার অনেক অর্থ সেভ হবে। সার্ভার ম্যানেজ করা শেখা যায়। এ বিষয়ে ইউটিউবে অনেক ভিডিও টিউটোরিয়াল হয়েছে আপনি ইচ্ছা করলে দেখে নিতে পারেন।

একটা ডেডিকেটেড হোস্টিং এর যে যে ফিচারস গুলো থাকেঃ

  • Intel Xeon Quad Core 2.5GHz (8 threads) : ৮ কোরের প্রসেসর ২.৫ গিগাহার্জ ক্লক রেট।
  • 500 Mbps Uplink : ৫০০ মেগাবিট ডেটা সেকেন্ডে ট্রান্সফার করতে পারবে।
  • 8 GB Ram : RAM ৮ জিবি
  • 1,000 GB RAID-1 Drives : ১০০০ জিবি হার্ডডিস্ক RAID 1 প্রটেকশন
  • 20 TB Bandwidth : ২০ টেরাবাইট অর্থ্যাৎ ২০,০০০ জিবি মাসিক ব্যান্ডওয়াইডথ (বা এই পরিমান ডেটা ট্রান্সফার করতে পারবেন)
  • 4 Dedicated IPs : ৪ টা ডেডিকেটেড আইপি
  • WHM, cPanel ফ্রি পাবেন,
  • আনলিমিটেড ডেটাবেস তৈরী করতে পারবেন
  • এবং আরো অনেক সুবিধা পাবেন।

এই ধরনের একটি হোস্টিং এর জন্য আপনাকে প্রতি মাসে গুনতে হবে 100 ডলার থেকে শুরু করে প্রায় 500 ডলার পর্যন্ত।

ভিপিএস বা VPS (Vertual Private Server)

শেয়ারড আর ডেডিকেটেড হোস্টিং এর মাঝামাঝি হল ভিপিএস হোস্টিং। ডেডিকেটেড সার্ভারে সব হার্ডওয়্যার রিসোর্স একা আপনাকে দিয়ে দিবে এবং আপনার সাইট একটি সার্ভারে থাকবে। আর শেয়ারড হোস্টিং এ আপনার সাইটের সাথে থাকবে আরো হাজারটা সাইট। বিস্তারিত উপরেই আছে। ভিপিএস হোস্টিং এ সাধারনত একটা ডেডিকেটেড সার্ভার কয়েকজনকে ভাগ করে দেয়। যেমন ১৬ জিবি র‍্যামের একটা সার্ভার আপনাকে দিল ৪ জিবি এবং বাকিগুলি আরো ৩ জনকে দিল এভাবে সব রিসোর্স ভাগ/সীমাবদ্ধ করে দেয়। ডেডিকেটেড সার্ভারের মতই মোটামুটি নিজের মত যেকোন সফটওয়্যার ইনস্টল দেয়া যায়। সাধারনত তখন এরুপ হোস্টিং প্যাকেজ নিবেন যখন একটা ডেডিকেটেড সার্ভারের সব রিসোর্স আপনার লাগবেনা, তাহলে কাজও হল কিছু অর্থ সেভ হল।

হোস্টিং কেনার সময় যেসকল বিষয় গুল অবশ্যই জানা উচিৎঃ

তাহলে নিচে থেকে দেখেনিন একটা ওয়েব হোস্টিং কেনার সময় কোন কোন বিষয় গুল লক্ষ রেখে একটা সঠিক হোস্টিং সার্ভার থেকে আপনার সাইট এর জন্য হোস্টিং কিনবেন । নিচে স্টেপ বাই স্টেপ আলোচনা করা হল –

আপনার বাজেট কতটুকু?

ওপরের বিষয়গুলো পরে অবশ্যই এতক্ষণে বুঝতে পেরেছেন শেয়ার্ড হোস্টিং, ভিপিএস হোস্টিং এবং ডেডিকেটেড হোস্টিং সম্পর্কে। এখন আপনি মনস্থ করলেন আপনি একটি হোস্টিং কিনবেন এখন প্রথমেই দেখতে হবে আপনি কত টাকা একটি হোস্টিং এর পেছনে খরচ করতে রাজি আছেন। স্বভাবতই আপনি যে পরিমাণে টাকা খরচ করবেন সেই মূল্য পরিমাণে আপনি সুবিধা পেয়ে থাকবেন। সহজ ভাবে বুঝা যায় যে একটি ডেডিকেটেড সার্ভার এর মূল্য যদি প্রতি মাসে 100 থেকে 500 ডলার এর মত খরচ হয়, তাহলে আপনি প্রতি মাসে 2 ডলার খরচ করে কি পরিমাণ এর সুবিধা পেতে পারেন। যাই হোক তারপর ও হোস্টিং কেনার সময় যে বিষয়গুলো আপনাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে তা নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করছি।

ডিস্ক স্পেস (Disk space)ঃ

হোস্টিং স্পেস এর কথা খেয়াল করলে আপনাকে প্রথমেই যে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে সেটা হল আপনি কি পরিমাণে ডাটা আপনার হোস্টিং সার্ভারে রাখবেন। বর্তমান মার্কেটপ্লেসে 500mb থেকে শুরু করে 1gb, 2gb, 5gb, 10gb, 20gb এমন কি আনলিমিটেড ডিস্ক স্পেস শেয়ার্ড হোস্টিং পাওয়া যায়। আপনার কতটুকু হোস্টিং লাগবে সেটা আপনি বিবেচনা করে নেবেন। এখন আপনার ওয়েব সাইটে যদি আপনি ডাউনলোড এবল ফাইল রাখেন যেমন গান ভিডিও অডিও অনেক বেশি ইমেজ তাহলে সেক্ষেত্রে আপনার ওয়েব স্পেস টা একটু বেশি লাগবে। আর যদি আপনার ওয়েব সাইটে শুধুমাত্র কনটেন্ট থাকে এবং ছোট ছোট এম এস থাকে তাহলে সে ক্ষেত্রে আপনি অল্প ওয়েব স্পেস দিয়ে আপনার ওয়েবসাইট টা কে দাঁড় করাতে পারবেন। আপনার ওয়েবসাইটটি যদি নতুন হয়ে থাকে এবং আপনার 1 জিবি হোস্টিং হলেই হয়ে যায় সেক্ষেত্রে আপনি যদি 20 জিবি ওয়েব হোস্টিং নেন তাহলে আপনার বাকি অনুস জিবি ওয়েব হোস্টিং খালি পড়ে রইবে। সেক্ষেত্রে আপনি আরো কম হোস্টিং স্পেস নিতে পারেন। তবে ওয়েব হোস্টিং এর চেয়ে ব্র্যান্ড উইথ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যান্ডউইথ-(Brandwidth)

ব্র্যান্ড উইথ হলো আপনার ওয়েবসাইটে যত ভিজিটর আসবে এবং তারা যত পরিমাণে পেজ ভিউ করবে ভিডিও ছবি এবং ইমেজ দেখবে প্রত্যেক পেজের জন্য আপনার ব্র্যান্ড উইথ প্রয়োজন। আপনার ওয়েবসাইটে যদি অনেক বেশি পরিমানে ভিজিটর থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে আপনার প্রেরিত অবশ্যই বেশি লাগবে। আপনার যদি 20 জিবি ব্যান্ডউইথ থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে সাধারণত 25 থেকে 30 হাজার ট্রাফিক প্রতিমাসে ম্যানেজ করতে পারবেন। আর যদি আপনার ওয়েবসাইটে 70-80 হাজার বা এর চেয়েও অধিক ভিজিটর থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে বিবেচনা করে হোস্টিং কিনতে হবে।

আপটাইম/SLA গ্যারান্টি- (Server Uptime)

আপনার ওয়েব হোস্টিং কেনার পূর্বে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে আপনি যে প্রোভাইডারের কাছ থেকে ওয়েব হোস্টিং নিচ্ছেন তাদের হোস্টিং টা কতটা আপটাইম। আপনি কম দামে একটি ওয়েব হোস্টিং দিলেন কিন্তু আপনার ওয়েবসাইট বেশিরভাগ সময় ডাউন টাইম থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে আপনি যেরকম রেঙ্ক হারাবেন তেমনি আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর কমে যাবে। এমনকি সার্চ ইঞ্জিন ও আপনার ব্যাংকে পিছনে ফেলে দেবে। তাই অবশ্যই হোস্টিং কেনার পূর্বে আপনাকে বিবেচনা করতে হবে আপনার হোস্টিং সার্ভিস সার্ভারটি কতটা আপটাইম এবং কতটা ফাস্ট গতিতে চলছে।

মানিব্যাক গ্যারান্টি- (Money Back Gueranty)

যদি আপনি টেস্ট মূলক একটি ওয়েব হোস্টিং কিনে থাকেন তাহলে সেক্ষেত্রে অবশ্যই দেখে নিবেন মানিব্যাক গ্যারান্টি রয়েছে কিনা। কেননা আপনি ওয়েব হোস্টিং কিনে নিলেন কিন্তু একমাস চালানোর পর দেখলেন যে এই ওয়েব হোস্টিং দিয়ে আপনার ওয়েবসাইটকে রান করা সম্ভব হচ্ছে না তাহলে সেক্ষেত্রে আপনার ওয়েব হোস্টিং টা বাদ দিতে হবে। যদি মানিব্যাক গ্যারান্টি না থাকে তাহলে আপনি যে টাকা দিয়ে ওয়েব হোস্টিং তা নিয়েছেন সেটা সম্পূর্ণ বৃথা যাবে। সুতরাং এ বিষয়টি একটু দেখে নেবেন।

কন্ট্রোল প্যানেল-(C Panel)

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি সেটা হলো আপনি যে হোস্টিং নিচ্ছেন তার জন্য তারা আপনাকে সি প্যানেল বা কন্ট্রোল প্যানেল দিবে কিনা। কেননা কন্ট্রোল প্যানেলের মাধ্যমে আপনাকে আপনার হোস্টিং টি ম্যানেজ করতে হবে এবং হোস্টিং এর যাবতীয় কাজ করতে হবে। আপনার যদি সিপ্যানেল না থাকে তাহলে আপনি 70 শতাংশ কাজ করতে পারবেন না। এই ক্ষেত্রে আপনি হোস্টিং নেওয়ার সময় আপনার সিপ্যানেল কথাটি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

হোস্টিং ফিচার-( Hosting Features)

হোস্টিং ফিচারস টা দেখে নাও আপনার জন্য একান্ত কর্তব্য এবং দায়িত্ব। কারণ আপনি একটি ওয়েব সাইট দাঁড় করানোর জন্য যে হোস্টিং টি কিনেছেন আপনি যে সমস্ত বিষয় বা ফিচারগুলো চেয়েছেন সে ফিচারস গুলো আপনার হোস্টিং সার্ভার রয়েছে কিনা। আপনার প্রয়োজনীয় ফিচার যদি আপনার হোস্টিং সার্ভারের না থাকে তাহলে আপনার এই হোস্টিং এর কোন মূল্য নেই।

হোস্টিং ফিচারস এর মধ্যে যে বিষয়গুলো দেখা জরুরী তা হলঃ

  • আপনি কতটুকু ওয়েব হোস্টিং পাচ্ছেনৎ
  • কতটুকু ব্যান্ডউইথ আপনাকে দেওয়া হচ্ছে
  • কি পরিমাণে ট্রাফিক মান্থলি ম্যানেজ করতে পারবেন
  • আপনি আপনার বিজনেস ই-মেইল ইউজ করতে পারবেন কি না
  • ইমেইল ফরওয়ার্ডিং ব্যবস্থা রয়েছে কিনা
  • আপনার সিপ্যানেলে কয়টি ডোমেইন অ্যাড করতে পারবেন
  • কতগুলি সাব ডোমেইন অ্যাড করতে পারবেন
  • ডোমেইন পার্কিং ব্যবস্থা রয়েছে কিনা
  • ডোমেইন ফরওয়ার্ডিং অপশন রয়েছে কিনা
  • কি পরিমাণে ব্যাকআপ আপনি রাখতে পারছেন
  • কতগুলো ডাটাবেজ তৈরি করতে পারবেন

সীমাবদ্ধতা জেনে নেওয়া-

আপনি হোস্টিং নেওয়ার পূর্বে অবশ্যই জেনে নেবেন আপনার হোস্টিং এর সীমাবদ্ধতা আপনি কতটুকু স্পেস ব্যবহার করতে পারবেন, কতটুকু ব্যান্ডউইথ ইউজ করতে পারবেন কি পরিমাণে ট্রাফিক ম্যানেজ করতে পারবেন এবং তাদের সম্পূর্ণটা এবং কন্ডিশন আপনি ভালভাবে পড়ে বুঝে শুনে তারপর ও পোস্টিং নিবেন।

সাপোর্ট- (Support)

আপনি যে প্রভাইডারের কাছ থেকে ওয়েব হোস্টিং নিচ্ছেন আপনি অবশ্যই দেখে নিবেন তারা কিভাবে সাপোর্ট করছে। আপনি একটি প্রোভাইডার এর কাছ থেকে ওয়েব হোস্টিং নিলেন আপনি একটি প্রবলেমে পড়েছেন আপনার সিপ্যানেল বা আপনার ওয়েব হোস্টিং নিয়ে কিন্তু আপনি সাপোর্টের জন্য বারবার তাদেরকে নক করেও কোনো সমাধান পাচ্ছেন না তাহলে সেক্ষেত্রে আপনি অবশ্যই ক্ষতির সম্মুখিন হবেন। তাই অবশ্যই আপনাকে দেখে নিতে হবে যে প্রোভাইডারের কাছ থেকে আপনি ওয়েব হোস্টিং নিচ্ছেন তারা কিভাবে সাপোর্ট দিচ্ছে আর তাদের সাপোর্ট এর স্তর কি। এক্ষেত্রে আপনি সে প্রোভাইডারের ফিডব্যাক দেখে নিতে পারেন। অন্যান্য কাস্টমাররা তাদের সম্পর্কে কি বলছে।

সার্ভার স্পিড (Server Speed)

ওয়েব হোস্টিং কেনার পূর্বে আপনাকে অবশ্যই নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে যে আপনি যে ছাড় পার্টির নিচ্ছেন সেটা কতটুকু স্পিড রয়েছে। এবং তাদের লোড টাইম কেমন কতটুকু সময় লাগে একটি পেজ লোড হতে। আপনি যদি এমন হোস্টিং হোস্টিং তাতে অনেক পরিমাণে লোড রয়েছে তাহলে অবশ্যই আপনার ওয়েব সাইট লোড হতে সময় বেশি লাগবে। বর্তমানে ওয়েব সাইট লোড স্পিড বেশি থাকাটা একটি রেংকিং ফ্যাক্টর। যখনই আপনার সাইট লোড হবে তখন আপনি অনেক ভিজিটর হারাবেন। তাই আপনি হোস্টিং কেনার পুর্বে আপনার লোডিং এর কথাটি মাথায় রাখতে হবে।

অন্যান্য সীমাবদ্ধতা

আপনি একটি ই-কমার্স বা সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইট বানাবেন সে ক্ষেত্রে আপনি না জেনেই হোস্টিং কিনেছেন তাদের হোস্টিং সার্ভারে সোশাল মিডিয়া ওয়েবসাইট, ভিডিও চ্যাটিং ওয়েব সাইট বা ডেটিং সাইট বানানোর অনুমোদন নেই। বা এই ধরনের সাইট বানালে তারা বিভিন্ন টালবাহানা করে। কেননা এ ধরনের ওয়েব সাইটের লোড বা ব্র্যান্ড উইথ অনেক বেশি পরিমাণে খরচ হয়। এক্ষেত্রে ওয়েব হোস্টিং কেনার পূর্বে আপনাকে অবশ্যই জেনে রাখা উচিত বা জানতে হবে যে তারা এই ধরনের ফিচারস গুলো আপনাকে দেবে কিনা। না জেনে এরকম একটি ওয়েবসাইট বানাবেন কিন্তু আপনার ওয়েবসাইটটির লোড হচ্ছে না বা ভিজিটররা ঠিকমতো আপনাদের সাইটে করতে পারছে না তাহলে আপনি না জানার কারণে আপনার কোম্পানির একটা ক্ষতি করলেন।

ব্যবহারকারীদের মন্তব্য

সর্বোপরি যে বিষয়টি আলোচনা করব সেটি হলো আপনি যে প্রোভাইডারের কাছ থেকে ওয়েব হোস্টিং নিচ্ছেন তাদের ফিডব্যাক কেমন। তাদের হোস্টিং যে সমস্ত ইউজাররা ব্যবহার করছে তারা কি ধরনের ফিডব্যাক দিচ্ছে এবং তাদের মতামত কি। আপনি ইউজারদের ফিডব্যাক বা মতামত দেখে অনেক কিছুই বিবেচনা করতে পারবেন।

আশা করি এই পোস্টটি পড়ে ওয়েব হোস্টিং সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা পেয়েছেন। এই পোস্ট টি পড়ে যদি আপনারা উপকৃত হন তাহলে আমি সার্থক। যদি এ বিষয়ে আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই নিচে কমেন্ট বক্সে গিয়ে কমেন্ট করবেন। আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করব আপনার সহযোগিতা করার এবং আপনার অজানা বিষয়গুলো উপস্থাপন করার জন্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here