চুক্তিপত্র লেখার সময় স্ট্যাম্প এর ভ্যালু নিয়ে আর কোন সন্দেহ থাকবে না। অনেকেই বিধায় থাকেন কত টাকার স্ট্যাম্পে চুক্তি করতে হয়। এছাড়াও এই আর্টিকেলে দেয়া হয়েছে কিভাবে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র করতে হয়।
আসলে চুক্তিপত্র এবং চুক্তিপত্রের ধরন অনুযায়ী সিস্টেমপের ভ্যালু নির্ধারণ করা হয়। কিছু কিছু স্ট্যাম্প যেগুলো শুধুমাত্র গ্রাম্য সালে সেবা প্রমাণ রাখার জন্য করা হয় সেগুলো সাধারণত ১৫০ টাকার স্ট্যাম্প করলেই হয়ে যায়। কিন্তু এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য যে, ১৫০ টাকার স্ট্যাম্পে চুক্তি করলে পরবর্তীতে কোন ধরনের আইনি ব্যবস্থা অথবা লিগেল একশন নিতে গেলে কার্যকর হয় না।
তাই সবচেয়ে নিরাপদ হলো, ৩০০ টাকর স্ট্যাম্প এ চুক্তিপত্র লেখা। ৩০০ টাকার স্ট্যাম্প লেখার নিয়ম সহ নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পর এর ব্যপারে একটি পরিস্কার ধারনা দিয়েছি।
এখানে আরও কিছু বিষয় ক্লিয়ার করা দরকার: কত টাকার স্ট্যাম্পে চুক্তি করতে হয়

কত টাকার স্ট্যাম্পে চুক্তি করতে হয়
চুক্তিপত্র সাধারণত কত টাকার স্ট্যাম্পে চুক্তি করতে হয় এটা নির্ধারিত হয় আপনি কি চুক্তি দলিল করছেন বা সেই চুক্তির ভ্যালু কত। যদি ছোটখাটো কোন চুক্তি হয় যেমন ৫000-১০০০০ টাকা মূল্য মানের কোন চুক্তি, সে ক্ষেত্রে এটা পরবর্তীতে কোনরকম আইনের জটিলতা হয় না। তাই শুধুমাত্র প্রমাণ রাখার জন্য ১৫০ টাকার স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র করলেই প্রমাণ রয়ে যায়।
তবে কিছু ক্ষেত্রে যেখানে চুক্তির মূল্য অনেক বেশি থাকে, পরবর্তীতে আইনগত জটিলতা হতে পারে তাহলে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই ৩০০ টাকার মূল্য মানের নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র করতে হবে।
কেননা ৩০০ টাকা মূল্য মানের নন জুডিশিয়াল স্টাম্প এর নিচের ভ্যালু থাকলে সেটা আইনগত বা লিগ্যাল ডকুমেন্টস হিসেবে আদালতে গ্রহণযোগ্য হয় না। তাই আইন বা লিগ্যাল জটিলতা এড়াতে ৩০০ টাকা মূল্য মানের নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র করা উচিত।
কোন দলিলে কত টাকার স্ট্যাম্প ২০২৬ এ করবেন এটা আমি ইতোমধ্যেই বলেছি। এছাড়াও ক্ষেত্র বিশেষে প্রতিবছর জন্য নন জুডিশিয়াল স্টাম্পের ভ্যালু কম বেশি হতে পারে এটা আমি নিচে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ৩০০, ৫০০, ২০০০ কিংবা ৫০০০ বা তারও বেশি মূল্যমানের স্ট্যাম্প প্রয়োজন হতে পারে। একটি পরিষ্কার ধারণা পেতে অবশ্যই নিচের ধাপগুলো আপনাকে পড়তে হবে।
কোন চুক্তিপত্রে কত টাকার স্ট্যাম্প ব্যবহার করতে হয়
আপনি যদি কোন প্রয়োজনে চুক্তিপত্র করতে চান? সে ক্ষেত্রে সে চুক্তি অনুযায়ী জানতে হবে, কত টাকার স্ট্যাম্প ব্যবহার করা দরকার। কারণ আপনার ইচ্ছামত মূল্যের স্ট্যাম্প চুক্তিপত্রের ব্যবহার করলে, সেটি আইনগত কোন ভিত্তি থাকবে না। একটি চুক্তিপত্র দলিল সস্পাদন করার পূর্বে এই বিষয়গুলা অবশ্যই ঠিকঠাক মেনে করতে হবে। তাহলে সহজেই আইনি জটিলতা এড়াতে পারবেন।
তাই আপনাদের বিচার বিশ্লেষণ করে, নির্ধারণ করতে হবে, আপনার চুক্তিপত্রে কত টাকা মূল্য ব্যবহার করবেন।
আরও পড়ুন: জমি বন্ধকের অঙ্গিকার নামা (লেখার নমুনা)
তো চলুন আর সময় নষ্ট না করে জেনে নেয়া যাক। কোন চুক্তিপত্রে কত টাকার স্ট্যাম্প ব্যবহার করতে হবে।
সাধারণ চুক্তি ও হলফনামা
বায়নাপত্র (স্থাবর সম্পত্তি): সাধারণত ১,০০০ টাকার স্ট্যাম্প।
হলফনামা (Affidavit): ২০০ টাকার স্ট্যাম্প।
সাধারণ চুক্তিপত্র (Agreement): ৩০০ টাকার স্ট্যাম্প।
অঙ্গীকারনামা (Undertaking): ৩০০ টাকার স্ট্যাম্প।
বাসা বা দোকান ভাড়া চুক্তি
১ বছরের কম মেয়াদী: ৩০০ টাকার স্ট্যাম্প।১ থেকে ৫ বছর মেয়াদী: ভাড়ার পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত (সাধারণত মোট ভাড়ার নির্দিষ্ট শতাংশ, তবে ৩০০ টাকার নিচে নয়)।
৫ থেকে ১০ বছর মেয়াদী: ১,০০০ টাকার স্ট্যাম্প।
আমমোক্তারনামা (Power of Attorney)
সাধারণ আমমোক্তারনামা: ৫০০ টাকার স্ট্যাম্প।
বিশেষ আমমোক্তারনামা: ১০০ টাকার স্ট্যাম্প।
বিক্রয় ক্ষমতা প্রদান ব্যতীত অপ্রত্যাহারযোগ্য আমমোক্তারনামা: ৮০০ টাকার স্ট্যাম্প।
বিক্রয় ক্ষমতা প্রদানসহ অপ্রত্যাহারযোগ্য আমমোক্তারনামা: ২০০০ টাকার স্ট্যাম্প।
অংশীদারী কারবার (Partnership)
অংশীদারী চুক্তিপত্র: ২,০০০ টাকার স্ট্যাম্প।
অংশীদারী কারবার বিলুপ্তি: ২০০ টাকার স্ট্যাম্প।
অন্যান্য দলিল
পারিবারিক বন্টননামা: ৫০ টাকার স্ট্যাম্প।
তালাকনামা: ৫০০ টাকার স্ট্যাম্প।
নকল/সার্টিফাইড কপি: ৩০ টাকার স্ট্যাম্প।
এখানে জরুরী বিষয়ঃ জমির রেজিস্ট্রি বা উচ্চমূল্যমানের কোনো চুক্তিপত্রের ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প এর দামের সাথে স্থানীয় সরকারের খাজনা/কর এবং অন্যান্য ফি যুক্ত হতে পারে। বড় কোনো লেনদেনের চুক্তিপত্রের ক্ষেত্রে একজন উকিল বা রেজিস্ট্রি অফিসের অফিসারের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
স্ট্যাম্প এর নমুনা কপি:
অনেকেই পরিচিতের জন্য স্ট্যাম্প প্যাপার অনলাইনে খুজে থাকে তাদের জন্য আমি কিছু স্ট্যাম্পের নমুনা দিয়ে দিলাম।
৩০০ টাকার স্ট্যাম্প লেখার নিয়ম (50 টাকা/100টাকা/300টাকা)
প্রায় সকল চুক্তিপত্র একই ভাবে লেখা যায়। কিন্ত উচ্চ মূল্যমানের কোন দলিল করার সময় অবশ্যই কোন পেশাদার উকিল/ সাব রেজিস্টার বা জানাশোনা লোকের মাধ্যমে পরামর্শ করে একজন্য রেজিস্টার দলিল লেখকের মাধ্য করা উচিৎ। কেননা আইনি জটিলতা এড়াতে তারা চুক্তিপত্রে/ দলিলে কিছু পয়েন্ট উল্লেখ করেন যা পরবর্তীতে লিগ্যাল একশন নিতে গেলে কার্যকর হয়।
এ ব্যাপারে কোনভাবেই ছাড় দেয়া উচিৎ নয়।
সর্বপরি আমার পরামর্শঃ
আপনি যদি কোন প্রয়োজনে, জমি-জমা থেকে শুরু করে আরো অন্যান্য প্রয়োজনে চুক্তিপত্র করতে চান? সেক্ষেত্রে, কোন চুক্তিপত্রে কত টাকা স্ট্যাম্প ব্যবহার করতে হবে সেটি জানতে হবে। জানার সাথে সাথে কোন পেশাদারের সাথে পরামর্শ করার কোন বিকল্প নেই।
এক্ষেত্রে আপনি যদি মনগড়া ভাবে, নিজের ইচ্ছামত, চুক্তিপত্র সম্পন্ন করে ফেলেন। সে ক্ষেত্রে আপনারা ভবিষ্যতে কোন সমস্যার সম্মুখীন হলে, আইনগতভাবে পুরাপুরি সাপোর্ট নাও পেতে পারেন।
তাই চুক্তিপত্রে আবদ্ধ হওয়ার আগে, আপনার চুক্তির বিষয়টির অনুসারে, জেনে নিতে হবে, কত টাকা মূল্যের স্ট্যাম্প ব্যবহার করতে হবে। আর যখন সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী আপনি কোন চুক্তিপত্র সম্পন্ন করবেন।
তখন ভবিষ্যতে কোন সমস্যা দেখা দিলে, আপনারা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। এখন এই পোস্ট সম্পর্কে আপনাদের যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে, অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন ধন্যবাদ।

অসংখ্য ধন্যবাদ
আপনাকেও ধন্যবাদ মূল্যবান মতামত প্রকাশ করার জন্য।