জমি বন্ধক নামা লেখার নিয়ম বা জমির স্ট্যাম্প লেখার নিয়ম, ফর্মেট সহ এই সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান।
মানুষ দেখা যায় একটি জমি বন্ধক / এগ্রিমেন্ট বা মেয়াদী রাখার জন্য কিভাবে চুক্তি করবে এটাও জানে না। আমাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে জমি বন্ধক রাখতে হয় আবার অনেকেই বন্ধক নিয়ে থাকেন। এখানে একটি বিষয় খুবই সেন্সেটিভ আর সেটা হলো এখানে টাকা পয়সার একটি লেনদেনের ব্যপার রয়েছ। তাই এই লেনদেনকে সুরক্ষিত রাখতে একটি চুক্তিপত্র লিখে নেয়া উচিৎ।
আজ এখানে আমি কিভাবে একটি জমি বন্ধকের চুক্তিপত্র / এগ্রিমেন্ট বা মেয়াদী নেয়ার জন্য চুক্তিপত্র লিখতে হয় সেটা ক্লিয়ার করবো। এবং একটি স্বচ্ছ ফর্মেট দিয়ে দিলাম। আপনারা এটা ডাউলোড করে সেটা এডিট করে প্রিন্ট করে নিতে পারবেন। অথবা লিখেও নিতে পারবেন। জমির স্ট্যাম্প লেখার নিয়ম নিচে পাবেন।
জমি বন্ধক নামা লেখার নিয়ম ও ফর্মেট pdf / doc ফাইল
জমি বন্ধক চুক্তিপত্রের ফর্মেট ওয়ার্ড ফাইল
জমি বন্ধক চুক্তিপত্রের ফর্মেট পিডিএফ ফাইল
উপরের লিংক থেকে জমি বন্ধক নামা লেখার নিয়ম সহ ফর্মেট পাবেন।
এখানে আরও কিছু বিষয় ক্লিয়ার করতে হবে।

কেন চুক্তি পত্র লিখতে হয়? (জমির স্ট্যাম্প লেখার নিয়ম)
যেহেতু এখানে টাকা পয়সার লেনদেন করতে হয় তাই সেই টাকা পরবর্তীতে যাতে কোন রকম হেসেল বা ঝামেলা ছাড়াই ফেরত পাওয়া যায় তাই এই চুক্তি পত্র করতে হয়। এখানে দুইটি স্বাক্ষী থাকে ও নন জুডিশিয়াল ট্যাম্ট পেপারে লিখা থাকে। সময় মতো মেয়াদোর্ত্তীনের সময় টাকা পরিশোধ না করলে এই চুক্তি পত্রের প্রেক্ষিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে সহযেই পাওনা টাকা ফিরে পেতে পারে।
বর্তমানে যে কোন লেন-দেন এর জন্য লিগেল ডকুমেন্ট রাখা প্রয়োজন এতে দাতা ও গ্রহীতা উভয়েই নিশ্চিৎ থাকতে পারে।
কিভাবে বা কারা এটা লিখতে পারবে?
জমি বন্ধক মেয়াদী বা এগ্রিমেন্ট এর চুক্তিপত্র যেহেতু কোনরকম এফিডেফিট বা রেজিস্ট্রি করতে হয় না তাই এটা যে কেউ লিখতে পারে। এমনকি এটা কম্পিউটারে লিখে নন জুডিশিয়াল 300 টাকার স্ট্যাম্পের উপর প্রিন্ট করে কাজ চালানো যায়। তবে এখানে দুজন সাক্ষী দাতা এবং গ্রহীতার স্পষ্ট সাক্ষর থাকতে হবে।
এটি একটি আইনি প্রক্রিয়া বা লিগাল ডকুমেন্ট কেননা পরবর্তী কোন সময় যদি এই লেনদেনের ব্যাপারটি অসচ্ছ বা কোনরকম চালাকির প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে চায়। সেক্ষেত্রে এই ডকুমেন্ট দিয়ে যে কোন আইন অনেক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
কত টাকার স্ট্যাম্ট পেপারে এটা লিখতে হয়?
বর্তমানে বাংলাদেশের লিগেল আইন অনুযায়ী যে কোন চুক্তিপত্র বা দলিল কমপক্ষে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে লিখতে হয়। এর নিচে কোন স্ট্যাম্পে লিখলে সেটা গ্রাম্য ভাবে গ্রহণযোগ্যতা পেলেও আইনের ক্ষেত্রে গিয়ে সেটা গ্রহণযোগ্যতা হয় না।
তাই অবশ্যই যুক্তিপত্র লেখার ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লেখার চেষ্টা করবেন।
কত টাকার চুক্তি কত টাকার স্ট্যম্পে লিখতে হয় এখানে দেখুন
এই চুক্তি পত্র পরবর্তীতে কি কি কাজে লাগে?
এই চুক্তিপত্র বিপরীতে অনেক সময় বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে ঋণ গ্রহণ করা যায়। অনেক ব্যাংক ঋণদান প্রক্রিয়াতে এই চুক্তিপত্রটি গ্রহণ করে থাকে। এছাড়াও সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি সেটি হল যদি চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণের পর দাতা বা গ্রহীতা কোনরকম অস্বীকৃতি জানায় সে ক্ষেত্রে এই যুক্তিপত্রের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
চুক্তিপত্র না লিখলে কি কি সমস্যা হতে পারে।
একটি চুক্তিপত্র না থাকলে পরবর্তীতে যদি দাতা বা গ্রহীতা অস্বচ্ছ লোক হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে কোনরকম ঝামেলা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
যুক্তিকালীন সময় কোন কাজে টাকার প্রয়োজন হলে এই চুক্তিপত্রের বিপরীতে বিভিন্ন এনজিও বা ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধা নেয়া যায়।
লিখিত চুক্তি বদলের মাধ্যমে লেনদেনটা স্বচ্ছ থাকে। কোন রকমের হয়রানির শিকার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
তাই প্রত্যেকের উচিত জমি বন্ধক এগ্রিমেন্ট বা মেয়াদী দেয়া-নেয়ার সময় একটি চুক্তিপত্র করে রাখা।
কিভাবে একটি চুক্তি পত্র লিখতে হয়? Format সহ
এ বিষয়ে আমাদের আর্টিকেলে বিস্তারিত ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব। নিচের আলোচনাতে আমরা জমি বন্ধক রাখার নমুনা হিসেবে একটি ফরমেট প্রস্তুত করেছি।
যে জমির বন্ধক নমুনা ফলো করে, আপনারা খুব সহজেই অঙ্গীকার নামা লিখে ফেলতে পারবেন।
আর জমির বন্ধক অঙ্গীকারনামা লেখার জন্য অবশ্যই একটি স্ট্যাম্প / দলিল প্রয়োজন হবে। আপনারা চাইলে ১৫০ টাকার স্ট্যাম্পে বা ৩০০ (রিকমান্ডেড) টাকার স্ট্যাম্পে জমি বন্ধকের অঙ্গীকারনামা লিখতে পারেন।
তো চলুন আর সময় নষ্ট না করে জেনে নেই। জমি বন্ধক রাখার অঙ্গীকারনামা কিভাবে লিখতে হয়।
“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম”
জমি বন্ধকের অঙ্গীকার নামা
ব্যক্তির নামঃ (যে জমির মালিক তার নাম লিখবেন), পিতার নামঃ (জমির মালিকের পিতার নাম লিখবেন), মাতার নামঃ (এখানে জমি মালিকের মাতার নাম লিখবেন), ধর্মঃ ইসলাম, জাতীয়তাঃ বাংলাদেশী, পেশাঃ কৃষি।
প্রথম পক্ষ জমির মালিক – বন্ধন দাতা।
ব্যক্তির নামঃ (যে জমি বন্ধক নিবে তার নাম লিখবেন), পিতার নামঃ (জমির বন্ধক নিবে তার পিতার নাম লিখবেন), মাতার নামঃ (এখানে বন্ধক নিবে তার মাতার নাম লিখবেন), ধর্মঃ ইসলাম, জাতীয়তাঃ বাংলাদেশী, পেশাঃ কৃষি।
দ্বিতীয় পক্ষ জমির – বন্ধন দাতা।
পাতা- ২
এরকম ভাবে জমি বন্ধকের অঙ্গিকার নাম আর লেখার সময়, প্রথমে প্রথম পক্ষ জমির মালিক এবং দ্বিতীয় পক্ষ জমির বন্ধক দাতার নাম ঠিকানা উল্লেখ করবেন।
তারপর বিস্তারিত লেখা শুরু করবেন। যেমন-
পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার নামে শুরু করিয়া, অত্র জমি বন্ধক অঙ্গীকারনামা আইননুগ বয়ান শুরু করিতেছি। যেহেতু প্রথম পক্ষ নিম্নে তফসিলে বর্ণিত সম্পত্তির মালিক সূত্রে প্রাপ্ত হইয়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখল করিয়ে আসিতেছেন।
প্রথম পক্ষের নগদ টাকার বিশেষ দরকার হইলে, দ্বিতীয় পক্ষকে নিম্নে তফসিলে বর্ণিত ৫ নং দাগে ২০ শতাংশ জমি বন্ধক দেওয়ার প্রস্তাব করিলে, আপনি দ্বিতীয় পক্ষ এই প্রস্তাব গ্রহণ করিয়া নিম্নে, ২০ শতাংশ জমি বন্ধক নিতে সম্মতি হইয়াছেন। যেহেতু প্রথম পক্ষ এবং দ্বিতীয় পক্ষ কয় শর্ত সাপেক্ষে অত্র জমি বন্ধক নামা চুক্তিপত্রে আবদ্ধ হইলাম।
জমি বন্ধকের নাম আমার শর্ত সমূহ
০১. প্রথম পক্ষ, জমি বন্ধক দাতা, দ্বিতীয় পক্ষ, জমি বন্ধক গ্রহীতার নিকট হতে, নিম্নের তফসিলে বর্ণিত ফসলি খালি জমি বন্ধক রাখিয়া এককালীন নগদ ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ ) টাকা সাক্ষীগণের মোকাবেলায় বুঝিয়া নিয়েছেন।
০২. অত্র অঙ্গীকার জমি খানা ফসলে জমি, দ্বিতীয় পক্ষ নিজেই ফসলাদি রোপন করিয়া তাহা ভোগ করিবেন। তিনি চাইলে অন্য কারো সহযোগিতার মাধ্যমে লাগাইয়া ভোগ করিতে পারিবেন।
০৩. যতদিন না পর্যন্ত প্রথম পক্ষ, দ্বিতীয় পক্ষকে টাকা ফেরত না দিতে পারবে। ততদিন পর্যন্ত দ্বিতীয় পক্ষ বৈদখল করে আসবে। এতে করে প্রথম পক্ষ কোন ওজর আপত্তি করিতে পারিবেন না।
০৪. প্রথম পক্ষ যখন জমি বন্ধক বাবদ ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ ) টাকা দ্বিতীয় পক্ষের নিকট ফেরত দেবে। তখন দ্বিতীয় পক্ষ বন্ধুকে জমির দখল প্রথম পক্ষের নিকট ফেরত দিতে বাধ্য থাকিবেন।
০৫. প্রথম পক্ষ জমির বন্ধক থাকাকালীন কোন, কারো কাছে বন্ধুকে জমি হস্তান্তর করিতে পারিবেন না। যদি হস্তান্তর করে দ্বিতীয় পক্ষ তাহলে আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে পারিবে।
০৬. জমি দাতা যদি চুক্তি চলাকালীন সময়ে মৃত্যুবরণ করে, আবার বন্ধকী জমির গ্রহীতা মৃত্যুবরণ করলে তাহাদের বৈধ হওয়ার উক্ত বন্ধকী টাকা গ্রহণ এবং ফেরত দিতে বাধ্য থাকিবেন।
এতদার্থে স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে, সুস্থ মস্তিষ্কে, বিনা প্ররোচনায়, অত্র ফসলি জমির বন্ধক নামা দলিল পাঠ করিয়া উপস্থিত সাক্ষী গনের মোকাবেলায় নিজ নাম স্বাক্ষর করিলাম।
পাতা- ৩
বন্ধকী অঙ্গিকার নামা দলিলের তফসিল পরিচয়
জেলাঃ (এখানে জেলার নাম লিখবেন) উপজেলাঃ (এখানেও উপজেলার নাম লিখবেন), এখানে জমির দাগ দম লিখবেনঃ (যেমন- ৫ নং)
জমির দাগ নং জমির পরিমাণ
০১। ০৫ নং।
০২। ৩৫ শতাংশ।স্বাক্ষীগণের নাম ও স্বাক্ষর
০১। প্রথম স্বাক্ষী।
০২। দ্বিতীয় স্বাক্ষী।
জমি বন্ধকী দাতা’র স্বাক্ষর
জমি বন্ধক গ্রহীতা’র স্বাক্ষর
শেষ কথাঃ
তো আপনারা যারা টাকার প্রয়োজনে জমি বন্ধক দিতে চান? তারা উপরে উল্লেখিত জমি বন্ধক এর অঙ্গীকারনামা অনুসরণ করে, খুব সহজেই ১৫০ টাকা বা ৩০০ টাকা স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র সম্পন্ন করতে পারবেন। তবে আমার পরামর্শ থাকবে অবশ্যই ৩০০ টাকার স্ট্যম্প পেপারে করবেন। তাহলে সহজেই আইনি জটিলতা এড়াতে পারবেন।
এই অঙ্গীকারনামা আমার লেখার পাশাপাশি আরো অন্যান্য দলের লেখার নিয়ম জানতে, আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করুন ধন্যবাদ।
