ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন হতে কত দিন লাগে

জাতীয় পরিচয় পত্র ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন হতে কতদিন লাগে : জাতীয় পরিচয় পত্র আইডি কার্ড ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করা খুব সহজ কাজ আবার অনেকের কাছে অনেক কঠিন কাজ।

জাতীয় পরিচয় পত্র ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন কোথায় হয়। ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন কিভাবে করতে হয়।

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন হতে কত দিন লাগে
ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন হতে কত দিন লাগে

এছাড়া ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কতদিন লাগে ? এ বিষয়গুলো নিয়ে লোকেরা অনলাইনে খোঁজার চেষ্টা করে।

তাই আজ আমাদের এই আর্টিকেলে আপনাকে মূল টপিক হিসেবে, ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন হতে কতদিন লাগে। সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করব।

কারণ যারা সঠিকভাবে কাগজপত্র দিয়ে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের আবেদন করেন। তাদের আবেদন খুব সহজে অনুমোদন পাওয়া যায়্

এছাড়া যারা সঠিক পরামর্শ না নিয়ে অল্প কিছু কাগজপত্র দিয়ে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের আবেদন করেন। তাদের আবেদন অনুমোদন পেতে অনেক সময় লেগে যায়।

এছাড়া বিভিন্ন ধরনের কাগজপত্র চাওয়া হয়। যার ফলে বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করতে কতদিন সময় লাগে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে, আমাদের আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন কিভাবে হয় ?

জাতীয় পরিচয় পত্র ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন হয়। আবেদনের সাথে দাখিলকৃত কাগজপত্র ওপর নির্ভর করে।

জাতীয় পরিচয় পত্র ভোটার আইডি কার্ডে অনেকের অনেক ধরনের ভুল রয়েছে।

মনে করুন আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র ভোটার আইডি কার্ডের নাম ভুল রয়েছে যেমন- আব্দুল রহিম এর আবুল রহিম জায়গায় হয়েছে।

এখন এটিকে সঠিক করতে হলে অবশ্যই সংশোধনের আবেদন করতে হবে। আর আবেদনের সাথে উপযুক্ত কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

আপনাদের কাগজপত্র দিয়ে প্রমাণ করতে হবে আপনার নাম আবুল রহিম না বরং আব্দুল রহিম।

এখন আপনি চিন্তা করে দেখেন কি কি কাগজে আপনার নাম সংশোধন করে লেখা রয়েছে। সে সকল কাগজপত্র আবেদনের সাথে সাবমিট করতে হবে।

আপনার চাহিদার নাম বা তথ্যের সর্বাপেক্ষা যত বেশি কাগজ জমা দিতে পারবেন। তত দ্রুত আপনার ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের আবেদন অনুমোদন হবে।

অল্প কাগজপত্র দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের আবেদন করলে সে আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি হয় না।

কিন্তু আমাদের মধ্যে এমন অনেক লোক আছে। যারা জাতীয় পরিচয় পত্র ভোটার আইডি কার্ডের ভুল সংশোধনের জন্য শুধু নতুন জন্ম নিবন্ধন সনদ জমা দিয়ে থাকে।

যার ফলে দ্রুত তাদের জাতীয় পরিচয় পত্র ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন হয়ে ওঠেনা। হতে পারে সে ব্যক্তি বিবাহিত, সন্তান রয়েছে, শিক্ষা বোর্ডের সার্টিফিকেট নেই কিন্তু স্কুল পরিত্যাগের ছাড়পত্র রয়েছে।

এ সকল ব্যক্তিরা যদি তাদের জন্ম নিবন্ধন এর সাথে স্ত্রীর জাতীয় পরিচয় পত্র কার্ডের কপি, সন্তানের জন্ম নিবন্ধন সনদ, স্কুল সার্টিফিকেটের কপি।

এছাড়া প্রয়োজনীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রত্যয়ন পত্র আবেদন এর সাথে সাবমিট করেন।

তাহলে কাগজগুলো উল্লেখিত সঠিক নাম তার ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের জন্য বিশেষভাবে ভূমিকা রাখবে।

এক্ষেত্রে বলা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্র ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন আবেদন এর সাথে দাখিল করা কাগজ পত্রের উপর ভিত্তি করে।

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন কোথায় হয় ?

জাতীয় পরিচয় পত্র ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের আবেদন করলে প্রথমত আবেদন হেড অফিসে চলে যায়। সেই হেড অফিস থাকে আবেদনগুলোর জটিলতার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে রাখা হয়।

যেমন-

  • “ক” ক্যাটাগরি
  • “খ” ক্যাটাগরি
  • “গ” ক্যাটাগরি
  • “ঘ” ক্যাটাগরি

অনেক লোক ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের আবেদন করার পরে অফিসে খোঁজ নিতে গেলে অফিস থেকে বলে দেয়। আপনার আবেদন বিভাগীয় পর্যায়ে রয়েছে।

আমাদের এখানে নেই প্রয়োজনে আপনি সেখানে যোগাযোগ করতে পারেন। অফিস থেকে কেন বলে এই ধরনের কথা কারণ আপনার আবেদনটির যে ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সেটি বিভাগীয় পর্যায়ে থেকে সংশোধন হবে উপজেলা পর্যায়ে করা হবে না।

“ক” ক্যাটাগরি আবেদন-

জাতীয় পরিচয় পত্র ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের আবেদন করার পরে যদি দেখা যায় ভুলগুলো ছোটখাটো ভুল বা সাধারণ ভুল।

তবে সে গুলো উপজেলা পর্যায়ে প্রেরণ করা হয় মানে “ক” ক্যাটাগরিতে পালন করা হয়। “ক” ক্যাটাগরি এর আবেদন সংশ্লিষ্ট উপজেলা পর্যায় থেকে সংশোধন হয়।

“খ” ক্যাটাগরি আবেদন-

আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুলগুলো যদি একটু জটিল প্রকৃতির হয় তাহলে সেগুলো জেলা পর্যায়ে প্রেরণ করা হয়ে থাকে এবং আবেদনগুলো “খ” ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হয়।

“খ” ক্যাটাগরির আবেদন সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন অফিসার এর আন্ডারে থাকে এবং সেখান থেকেই সংশোধনঃ হয়ে থাকে।

“গ” ক্যাটাগরি আবেদন-

জাতীয় পরিচয়পত্র ভোটার আইডি কার্ডের জটিল এবং বড় ধরনের কোন ভুল হলে সেগুলো “গ” ক্যাটাগরিতে প্রেরণ করা হয়।  “গ” ক্যাটাগরি এর আবেদন সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় থেকে এবং সেখান থেকে সংশোধিত বা বাতিল হয়ে থাকে।

“ঘ” ক্যাটাগরি আবেদন-

জাতীয় পরিচয় পত্র ভোটার আইডি কার্ডের জটিল থেকে জটিলতর ভুল হলে সেগুলো “ঘ” ক্যাটাগরিতে প্রেরণ করে।

“ঘ” ক্যাটাগরি এর আবেদন হেড অফিসের আন্ডারে থাকে এবং সেখান থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কত দিন লাগে ?

জাতীয় পরিচয় পত্র ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কতদিন লাগে এটি সঠিকভাবে কেউ বলতে পারবেনা।

কারণ এটি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ব্যস্ততা এবং কী পরিমান আবেদন জমা পড়ে তার ওপর নির্ভর করে।

কিন্তু উপজেলায় এবং জেলা পর্যায়ের সকল আবেদন আসে সেগুলো খুব দ্রুত নিষ্পত্তি হয়ে যায়।

আর বিভাগীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট জেলা এবং উপজেলা সমূহের সকল জটিল জটিল আবেদন জমা হয়। সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয় না একটু বেশি সময় প্রয়োজন হয়।

এছাড়া আবেদনগুলো সিদ্ধান্ত সঠিক তদন্ত না করে, নেওয়া হয় না। আবেদনের সাথে জমা দেওয়া কাগজপত্র এবং সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

অনলাইনের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করতে কতদিন লাগে সেই চিন্তা করে সময় নষ্ট করা ঠিক হবে না।

আপনার যদি জাতীয় পরিচয় পত্র আইডি কার্ডে কোন ভুল থেকে থাকে তাহলে তা সংশোধনের জন্য আবেদন করে, বসে থাকতে হবে। তাহলে কখনো না কখনো ভুলগুলো সংশোধন হয় ঠিক চলে আসবে।

জাতীয় পরিচয় পত্র আইডি কার্ড সংশোধন করতে কতদিন লাগে সে চিন্তা করে আমরা কিছু করতে পারবো না।

কারণ অফিসার কর্মব্যস্ততা নিয়ে নিজের গতিতে চলতে থাকে জাতীয় পরিচয় পত্র ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন কোথায় হয়।

কিভাবে হয়, কতদিন সময় লাগে আশা করি আপনারা এই আর্টিকেলের বিস্তারিত জানতে পারছেন। তারপরও যদি আপনার কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

শেষ কথাঃ

তো বন্ধুরা আমাদের আজকের আর্টিকেলটি ছিল ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন হতে কতদিন লাগে। আমরা আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন। কোন ক্যাটাগরিতে আবেদন করলে কি হয়। এবং সংশোধন হতে কতদিন সময় লাগে সে বিষয়ে আপনারা অবগত হয়েছেন।

তো আমাদের আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ার পর আপনার কাছে কেমন লাগলো, অবশ্যই কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

আর এটি আপনার বন্ধুদের জানাতে একে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করবেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment