বর্তমানে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে থাকা অনেক বাংলাদেশী এবং ইন্ডিয়ানরা ব্লগিং করে প্রতিমাসে ঘরে বসে আয় করছে লক্ষ লক্ষ টাকা। চাইলে আপনিও ঘরে বসে আয় করতে পারেন আপনার চাকরি এবং ব্যবসার পাশাপাশি অবসর সময়ে কাজ করে, অর্থাৎ পার্ট টাইম জব হিসেবে বেছে নিতে পারেন ব্লগিংকে। কেননা বর্তমানে ব্লগিং পেশাটি একটি যুগোপযোগী পেশা হিসেবে দাঁড়িয়েছে, এবং অনেকেই এই পেশাকে ফুলটাইম পেশা হিসেবে নিয়েছে।

তো চলুন দেখে নেই যদি পার টাইম পেশা হিসেবে নিতে চান তাহলে আপনাকে কি কি কাজ করতে হবে বা কি কি কাজ জানতে হবে।

আপনি যদি পার্টটাইম পেশা হিসেবে ব্লগিংকে বেছে নিতে চান তাহলে প্রথমেই যে বিষয়গুলো আপনাকে জানতে হবে সেগুলি হলো।

blogging part time job, পার্টটািইম অনলাইন জব।
পার্টটািইম অনলাইন জব।

ব্লগিং পেশা কি?

আপনি যদি ব্লগিং পেশায় প্রবেশ করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই প্রথমে জেনে নিতে হবে ব্লগিং আসলে কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে।

আমি সংক্ষেপে বলে দিচ্ছি, ব্লগিং হলো অনলাইন আর্নিং করার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম, অর্থাৎ যেখানে আপনার একটি ওয়েবসাইট থাকবে, সেখানে আপনি নিত্য নতুন আইডিয়া, অনলাইন ক্লাস, টিপস-এন্ড-ট্রিকস, নলেজ, ইনফর্মেশন, একাডেমিক তথ্য, অথবা টিচিং, এছাড়াও অসংখ্য ক্যাটাগরি রয়েছে যেগুলোর যে কোন একটি বিষয়ে অথবা একাধিক বিষয় নিয়ে আপনি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন এবং সে ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রয়, বিজ্ঞাপন, স্পন্সর, পেইড মেম্বারশিপ, কোর্স বিক্রয় আপনি বিভিন্ন মাধ্যমে সেখান থেকে ইনকাম করতে পারবেন মূলত এর সবকিছু মিলেই হচ্ছে ব্লগিং।

আরোও পড়ুনঃ বাংলায় পূর্ণাঙ্গ ব্লগিং গাইড।

এটি কিভাবে কাজ করে?

এটি একটি ইম্পর্ট্যান্ট প্রশ্ন, এটি কিভাবে কাজ করে? প্রথমে আপনাকে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে এবং সেখানে আপনি যে বিষয় নিয়ে কাজ করবেন সে বিষয়গুলো নিখুতভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে উপস্থাপন করতে হবে। অতঃপর আপনাকে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া এবং অন্যান্য প্লাটফর্মে মার্কেটিং করতে হবে আপনার ওয়েবসাইট টাকে পরিচিতি করার জন্য। যখন আপনার ওয়েবসাইটটি ভালো একটি ইনফরমেটিভ অথবা ভালো সার্ভিস এর একটি সাইট হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে, তখন বিভিন্ন জায়গা থেকে আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর অথবা কাস্টমার আসবে আপনার পণ্য অথবা আপনার সার্ভিসটি ক্রয় করার জন্য। অথবা আপনার সাইটের ইনফরমেশন গুলো ভালোভাবে জানার জন্য। তখন আপনার সেই ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন অথবা পণ্য বিক্রয় করে আয় করতে পারেন।

আমি আরো সহজ করে দিচ্ছি, মনে করুন আপনার একটি ওয়েবসাইট রয়েছে এবং সেখানে আপনি “একাদশ শ্রেণীর ভর্তি বিষয়ে” সকল তথ্য তুলে ধরেছেন, যে সকল শিক্ষার্থী অথবা শিক্ষার্থীর অভিভাবক একাদশ শ্রেণীর ভর্তি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানতে চাচ্ছে তাহলে সে সমস্ত লোকজন অবশ্যই অনলাইনে সার্চ করে আপনার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করবে তথ্য জানার জন্য। আপনি সে সকল তথ্যের মাঝখানে বেশ কিছু স্পেস নিয়ে কিছু বিজ্ঞাপন দিয়ে দিবেন, যখন ভিজিটর বা ইউজার সেই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করবে তখন আপনার ইনকাম হতে থাকবে।

আরোও পড়ুনঃ 2020 সালে অনলাইনে আয়ের সহজ মাধ্যম।

কি কি কাজ জানতে হয়?

এখন কথা হল আপনি যদি অনলাইনে আয় করতে চান বা ব্লগিং কে পার্টটাইম পেশা হিসেবে নিতে চান তাহলে আপনাকে কি ধরনের বা কি কি কাজ জানতে হবে।

  • প্রথমে আপনাকে ওয়েবসাইট সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে, 
  • ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরি করতে হয় সেটা জানতে হবে
  • ডোমেইন এবং হোস্টিং সম্পর্কে জানতে হবে
  • সিএমএস অর্থাৎ কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সম্পর্কে জানতে হবে
  • গুগল এডসেন্স সম্পর্কে জানতে হবে
  • স্পন্সর কি কিভাবে কাজ করে এর সম্পর্কে জানতে হবে
  • বিজ্ঞাপন কোথায় পাবেন, কিভাবে প্লেসমেন্ট করবেন, এবং কিভাবে টাকা পাবেন এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে
  • ই-কমার্স সম্পর্কে জানতে হবে
  • অনলাইন প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানতে হবে
  • আর যদি এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চান তাহলে এফিলিয়েট সম্পর্কে বিশদ ধারণা থাকতে হব

আরোও পড়ুনঃ ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য অনলাইনে আয়ের জনপ্রিয় মাধ্যমগুলি।

কাজ কোথায় থেকে শেখা যায়?

আমি কাজ শিখতে চাই এগুলো কাজ কোথায় থেকে শিখব? আপনার প্রশ্ন যদি এরকম হয় তাহলে তার উত্তর হচ্ছে, আপনি কি টাকা খরচ করে শিখবেন নাকি ফ্রিতে শিখবেন দুটি অপশনে আপনার জন্য রয়েছে।

যদি ফ্রিতে শিখতে চানঃ

যদি ফ্রিতে ব্লগিং শিখতে চান তাহলে এই অংশটুকু দেখে নিন। বর্তমানে অনলাইনে বিভিন্ন রিসোর্স রয়েছে সেগুলো পড়ে আপনি শিখতে পারেন। আমাদের ওয়েবসাইটে সম্পর্কে অনেক তথ্য রয়েছে আপনি এখান থেকে দেখে নিতে পারেন। এছাড়াও ইউটিউবে এ সম্পর্কে প্রচুর ভিডিও রয়েছে আপনি সেগুলো দেখে শিখতে পারেন।

যদি টাকা খরচ করে শিখতে চানঃ

যদি টাকা খরচ করে ব্লগিং শিখতে চান তাহলে এই অংশটুকু আপনার জন্য। বর্তমানে অনলাইনে বিভিন্ন ব্লগিং রিলেটেড কোর্স রয়েছে যেগুলো আপনি ক্রয় করে ঘরে বসে শিখে নিতে পারেন। এর জন্য আপনাকে গুনতে হবে প্রতি ভিডিও কোর্সের জন্য 5000 থেকে শুরু করে 50000 টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও আপনার আশেপাশে বিভিন্ন ছোট বড় ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে আপনি চাইলে সেখানে গিয়েও তাদের করছে যোগ দিয়ে ব্লগিং শিখে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার খরচ হতে পারে 5000 টাকা থেকে শুরু করে 60000 টাকা পর্যন্ত।

নোটঃ আপনি যদি পেইড কোর্স অথবা কোন ট্রেনিং সেন্টার থেকে ব্লগিং শিখেন তাহলে সে ক্ষেত্রে তারা শুধুমাত্র আপনাকে বেসিক অংশটুকু শিখিয়ে দিবে। অর্থাৎ ব্লগিং এ যে সকল কাজ গুলো করতে হয় তার 30% শিখতে পারবেন এবং পরবর্তীতে আপনাকে বিভিন্ন রিসোর্স অথবা ভিডিও দেখে অথবা ইউটিউব দেখে, বা পরিচিত কারো কাছ থেকে বাকি অংশগুলো শিখে নিতে হবে তা না হলে আপনি পরিপূর্ণভাবে ব্লগিং করতে পারবেন না।

কি পরিমানে সময় দিতে হয়?

আপনার যদি একটি ওয়েবসাইটকে সুন্দরভাবে তৈরি করে নিতে পারেন এবং সেটাকে ভালোভাবে মার্কেটিং করে ভালো পর্যায়ে নিতে পারেন তারপর প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘন্টা সময় দিলে একটি ওয়েবসাইটের জন্য যথেষ্ট।

তারপরও এখানে একটি কথা থেকে যায়, আপনি যে ক্যাটাগরির ওয়েবসাইট তৈরি করবেন তার চাহিদার উপর নির্ভর করবে আপনার সময়।

কি পরিমানে আয় হয়?

আয়তন নির্ভর করবে আপনার ওয়েবসাইটের কনটেন্ট এবং ক্যাটাগরি এর উপর নির্ভর করে। আপনি যদি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করেন সেক্ষেত্রে আপনার আপনার পণ্যের চাহিদা এবং বিক্রয়ের উপর ডিপেন্ড করবে আপনার আয়। এবং যদি আপনি বিজ্ঞাপন ব্যবহার করেন সে ক্ষেত্রে রয়েছে অনেক পার্থক্য আপনার ব্লগের ক্যাটাগরি এবং বিভিন্ন লোকেশনে উপর ও নির্ভর করে।

আমি একটি আনুমানিক ধারণা দিয়ে দিচ্ছি, আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটে গুগল এডসেন্স এর বিজ্ঞাপন ব্যবহার করেন তাহলে, যদি আপনার ওয়েবসাইটে প্রতিদিন 1000 ভিজিটর আসে তাহলে আপনার আয় হবে লোকেশন এবং ক্যাটাগরির উপর নির্ভর করে নিচের মতঃ

আরোও পড়ুরঃ আয় করুন গুগল এডসেন্স থেকে পূর্ণাঙ্গ গাইড।

প্রতি 1000 পেজ ভিউ এ আনুমানিক আয়ের নমুনাঃ

লোকেশন ক্যাটাগরি CTR / ক্লিক = আয় আনুমানিক আয়
Usa, canada, austolia etc Digital Pruduct, Education, online business etc CTR 3% = 30 click CPC $0.65 X 30 = $ 19.50
Soudi arab, malaysia, singapur, Midle Est etc Digital Pruduct, Education, online business etc CTR 3% = 30 click CPC $0.22 X 30 = $ 6.60
Bd, india, pakistan ctc. Digital Pruduct, Education, online business etc CTR 3% = 30 click CPC $0.02 X 30 = $ 0.60

এগুলি সম্পূর্ণ আনুমানিক একটি হিসাব। তবে আপনার ভিজিটর এর লোকেশন ভেদে আপনার আয় কম বেশি হবে। উপরের টেবিলটার চেয়ে আপনার বাস্তব আয় সামান্য কম-বেশি হতে পারে।

কি কি মাধ্যমে আয় করা যায়?

আপনার যদি একটি ওয়েবসাইট বা একটি ব্লগ থাকে আপনি বিভিন্ন ভাবে অনলাইন থেকে আয় করতে পারবেন তার মধ্যে জনপ্রিয় কিছু মাধ্যম হচ্ছে,

টাকা কিভাবে হাতে পাব?

আপনি যদি ব্লগিং করে অনলাইন থেকে পার্টটাইম আয় করতে চান এবং আয় করেছেন তাহলে আপনি কিভাবে টাকা হাতে পাবেন তাইতো?

ভয়ের কোন কারণ নেই এখন থেকে যতগুলো অপশন উপরে আমি দিয়েছি প্রত্যেকে পেমেন্ট করে এবং আপনি যদি গুগল অ্যাডসেন্স ব্যবহার করেন তাহলে আপনার জন্য সবচেয়ে ভাল পদ্ধতি হচ্ছে ব্যাংক একাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করে নেওয়া।

এবং যদি ই-কমার্স ওয়েবসাইট বানিয়ে আপনি ব্যবসা করেন তাহলে সেক্ষেত্রে আপনি আপনার পছন্দমত যেকোন পেমেন্ট মেথড আপনি পেমেন্ট নিতে পারেন যেমন, পেপাল, মাস্টার কার্ড, ব্যাংক ট্রান্সফার আপনার ইচ্ছামত যে কোন প্ল্যাটফর্ম।

বন্ধুরা যদি লেখাটি ভালো লাগে অবশ্যই শেয়ার করবেন।



ব্যাক্তিগত রেফারেল লিংকঃ

রিপ্লাই করুন

আপনার মতামত দিন
এখানে আপনার নাম লিখুন