আপনি কি একজন ছাত্র? এই পোষ্টটি তাহলে আপনার জন্যই। আপনি যদি আমাদেরকে ফলো করেন তাহলে আপনি পড়ালেখার পাশাপাশি অনলাইন হতে কিছু বাড়তি ইনকাম করতে পারেন। আসলে বর্তমানে অনলাইনে আয় এর জন্য বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে । সব গুলোর মধ্য থেকে আমি আজকে আপনাদেরকে দেখাব কিভাবে সবচেয়ে সহজে আপনি অনলাইন হতে ইনকাম করতে পারেন।

আমার আজকের এই পোস্টটি শুধুমাত্র ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য। আমি জানি এক ছাত্র ছাত্রী যখন স্কুল-কলেজ পাড়ি দিয়ে ইউনিভার্সিটি লেভেলে ভর্তি হয়। বেশিরভাগ মফস্বলের ছাত্র ছাত্রীদের যে অবস্থা না থাকে আমি সেই অবস্থান্তর মধ্যে ছিলাম। সে সময় থাকে না কোন আয় এর উপায় ফ্যামিলি থেকে টাকা নিতে গেলেও পড়তে হয় নানান লজ্জায় নিজেকে তখন অনেক ছোট মনে হয়। যে আমি একজন ইউনিভার্সিটির ছাত্র অথচ বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে পড়ালেখা করি। আমার আজকের এই টিউনটি শুধুমাত্র তাদের জন্য যারা ছাত্র ছাত্রী অবস্থায় পড়ালেখার পাশাপাশি অনলাইনে কাজ করে কিছু টাকা ইনকাম করতে পারেন।

অনেকে ভাবেন যে অনলাইনে কি ইনকাম করা যায়? যারা এখনো এই প্রশ্নের মধ্যে আছেন আমি তাদেরকে বলছি, আপনারা বর্তমান সময়ের সাথে মিলিয়ে চলতে পারেন নি। কেননা বর্তমান সময়ে যে বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে বিভিন্ন কাজ করে রোজগার করা যায় সেটা আর কারো অজানা নয়। যাইহোক কথা না বাড়িয়ে চলে যাচ্ছি আসল কথায়। আপনি যদি একজন ছাত্র বা একজন ব্যবসায়ী অথবা একজন চাকরিজীবী ও হন। আপনার পড়ালেখা ব্যবসা বা চাকরির পাশাপাশি কিছু সময় করে প্রতিদিন অনলাইন থেকে আয় করতে পারেন।

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগছে যে আপনি যে কথাগুলো বলছেন আপনি কত টাকা ইনকাম করেন । রাইট, আমি কত টাকা ইনকাম করি সেটা আমি এই পোষ্টের নিচে দিয়ে দেবো শুধু আপনাদের অনুপ্রেরণার জন্য।

যে পন্থা গুলো অবলম্বন করে আপনি খুব সহজেই এবং অল্প সময়ের মধ্যে অনলাইন হতে ইনকাম শুরু করতে পারবেন আমি শুধুমাত্র সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব। কেননা বর্তমানে অনলাইন থেকে আয় করার জন্য হিউজ পরিমান এ কাজ রয়েছে । যেহেতু সময় কম তাই যে কাজটি করলে খুবই সহজে টাকা ইনকাম করে যে আমি শুধুমাত্র সেই গুলো নিয়ে আলোচনা করব।

অনলাইনে আয়ের সবচেয়ে সহজ উপায়।

ছাত্র ছাত্রীদের জন্য অনলাইনে আয়ের এর সবচেয়ে সহজ উপায়

অনলাইন থেকে কিভাবে আয় করা যায় সে ব্যাপার গুলির মধ্যে যতগুলো বিষয়ে নিচে অ্যাড করেছি এই সবগুলো থেকে আপনি আয় করতে পারবেন। নিচের যে কয়টা অপশন আমি দিয়েছি সবগুলোতেই আমি চেষ্টা করেছি কিন্তু আমি প্রথম যে অপশনটা রয়েছে ব্লগিং বর্তমানে আমি একজন প্রফেশনাল ব্লগার হিসেবে নিয়োজিত আছি। কত টাকা ইনকাম করে আপনাদের কে কথা দিয়েছি আমি এই পোষ্টের নিচে দিয়ে দেব শুধুমাত্র অনুপ্রেরণার জন্য। তার আগে আমরা আলোচনা করে নিই কোনটি থেকে কিভাবে আমরা ইনকাম করতে পারব।

1. ব্লগিং

অনলাইনে আয় করার জন্য বর্তমানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা যত ধরনের কাজ আছে তার মধ্যে সবচেয়ে সহজ এবং ভালো পরিমাণে ইনকাম করার পদ্ধতি হচ্ছে ব্লগিং করে ইনকাম করা। ব্লগিং করে ইনকাম করার জন্য আপনাকে যা যা প্রয়োজন তা হচ্ছেঃ আপনার ব্যক্তিগত একটি ওয়েবসাইট, এবং টাকা ইনকাম করার জন্য এফিলিয়েট লিংক অথবা গুগল এডসেন্স। আপনি যদি ব্লগিং করে ইনকাম করতে চান তাহলে আপনি আমাদের এই লিংকটি দেখতে পারেন। আপনি ব্লগিং করে অনলাইন হতে কিভাবে আয় করবেন এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা রয়েছে। লিংকঃ বাংলায় পূর্ণাঙ্গ ব্লগিং টিউটরিয়াল [অনলাইনে আয়]

2. ইউটিউব

বর্তমানে বাংলাদেশে হতে অনেক ছেলেমেয়েরা ইউটিউব থেকে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করছে। এতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই যে আপনি যদি লেগে থাকে ইউটিউবিং করেন তাহলে আপনি ইউটিউব থেকে অবশ্যই সফল হতে পারবেন। অন্যান্য মার্কেটপ্লেস এর তুলনায় ইউটিউব থেকে ইনকাম করা খুবই সহজ তবে বর্তমানে ইউটিউব এর আপডেট আনার পর অ্যাডসেন্স মনিটাইজ পেতে বা গুগল এডসেন্স এর এড শো করতে আপনাকে অনেক সময় ব্যয় করতে হবে। কেননা ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে হলে এই গ্রুপের কিছু নীতিমালা আছে সেই নীতিমালা আপনাকে অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। আপনি যদি ব্লগিং করেন তাহলে সে ক্ষেত্রে আপনার কোনো ধরাবাধা নিয়ম থাকবে না আপনার ব্লগে যদি 5 থেকে 10 জন ভিজিটর থাকে তারপরও গুগল এডসেন্স এর এড আপনার ওয়েবসাইটে দেখাবে। কিন্তু ইউটিউব এর বেলায় আপনাকে অবশ্যই 1 হাজার সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে এবং 4 হাজার ঘন্টা ওয়াচ টাইম থাকতে হবে। ইউটিউব সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আমাদের ইউটিউব ক্লিক করে জেনে নিতে পারেন পূর্ণাঙ্গ ইউটিউব টিউটোরিয়াল

3. আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং

যারা অনলাইনে বিভিন্ন প্রয়োজনে বিভিন্ন সময় গুগলে সার্চ করে থাকেন কিভাবে অনলাইন হতে আয় করা যায় তারা অবশ্যই জানেন এফিলিয়েট মার্কেটিং একটি অনলাইন হতে আয় করার অন্যতম মাধ্যম। আপনি যদি এফিলিয়েট মার্কেটিং করে অনলাইন থেকে আয় করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই একটি ওয়েবসাইটের মালিক হতে হবে। এবং আপনার মালিকানাধীন সেই ওয়েবসাইটে আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং এর যেকোনো একটি পণ্য বা প্রোডাক্ট বিক্রি করতে হবে এবং বিক্রয় করার পর আপনাকে সেই আমাজন এফিলিয়েট কোম্পানি থেকে কিছু কমিশন দেয়া হবে। আপনি যদি আমার আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে কাজ করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনি আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং এর যে আমাদের লিংকটি রয়েছে সেখান থেকে কোন অঙ্গটি দেখে নিতে পারেন।

4. ই কমার্স

বর্তমানে ইন্টারনেট যুগে অনলাইন থেকে আয় করার একটি অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে এ কমার্স। ই-কমার্স বলতে আমরা স্বাভাবিক ভাবে বুঝিয়েছি অনলাইন থেকে কেনাকাটা করা। আপনি যদি অনলাইন থেকে কেনাকাটা করেন তখন অবশ্যই সেটি যে কোন একটি ওয়েবসাইট থেকে কিনতে হয় এবং সে ওয়েবসাইট অনার আপনাকে আপনার প্রোডাক্ট পৌঁছে দেয়। সেরকম ভাবে আপনি যদি একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট বা একটি ই-কমার্স ব্যবসার মালিক হতে চান। তাহলে অবশ্যই আপনার একটি ওয়েবসাইট থাকতে হবে এবং আপনি যে সমস্ত পণ্যগুলো বিক্রি করবেন সে সমস্ত পণ্য গুলো আপনাকে নিজ দায়িত্বে কাস্টমারের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। কাস্টমাররা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনাকে কোন প্রোডাক্ট অর্ডার করবে সে অনুযায়ী আপনাকে কাজ করতে হবে। এর জন্য আপনাকে কাস্টমার এর কাছ থেকে বিশ্বস্ততা অর্জন করতে হবে। ই-কমার্স ওয়েবসাইটের জন্য আপনি, ডিজিটাল প্রোডাক্ট ইউজ করতে পারেন। ই-কমার্স ওয়েবসাইট ব্যবসা সম্পর্কে জানতে আপনি আমাদের ই কমার্স এর লিংকটি ভিজিট করতে পারেন।

5. আপওয়ার্ক

এখন আসছে আপনি কাজ করবেন কিন্তু ইনভেস্ট করবেন না তাহলে আপনার জন্য মার্কেটপ্লেস। বর্তমান অনলাইনে প্রচুর পরিমাণে মার্কেটপ্লেস রয়েছে যেখানে আপনি কাজ করে আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারেন কিন্তু আমি সব গুলো নিয়ে আলোচনা করব না আমি জনপ্রিয় দুটি মার্কেটপ্লেস নিয়ে আলোচনা করব সেটি হচ্ছে আপওয়ার্ক এবং ফ্রিল্যান্সার। আপনি যদি আপওয়ার্কে কাজ করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে যেকোনো একটি বিষয় হতে হবে। যেমন আপনি যদি একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হন তাহলে আপনি গ্রাফিক্স এর কাজ করতে পারবেন। অনুরূপভাবে,

  • আর্টিকেল রাইটিং
  • ওয়েব ডিজাইন
  • ওয়েব ডেভেলপমেন্ট
  • অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ
  • ইমেইল মার্কেটিং
  • এস ই ও

এটাতে বিষয়ে কাজ করতে পারেন। এর জন্য আপনাকে অবশ্যই যে কোন একটি বিষয়ে অনেক পারদর্শী হতে হবে। বিভিন্ন দেশের লোকের সাথে কমিউনিকেশন এর জন্য যোগাযোগের জন্য ভাল ইংরেজি জানতে হবে।

6. ফ্রিল্যান্সার

অতঃপর আসছি ফ্রিল্যান্সার। ফ্রিল্যান্সার ইন্টারনেট ভিত্তিক একটি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান। এখানে বিভিন্ন লোক ফ্রিল্যান্সার হায়ার করে/ ভাড়া করে তাদের নিজের কাজ করিয়ে নেয়। ফ্রিল্যান্স আপওয়ার্ক এর মতই একটি আউটসোর্সিং মার্কেটপ্লেস।

আপনি অনলাইনে আয় বিস্তারিত জানতে চাইলে অথবা অনলাইনে আয় করতে চাইলে আমাদের এই ওয়েবসাইটের অনলাইনে আয় অপশনটিতে ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে পারেন।

আমি কত টাকা আয় করি?

ও প্রায় ভুলে গিয়েছিলাম আমি এই পোষ্টের শেষে দিয়ে দিতে চেয়েছিলাম আমার মান্থলি কত টাকা ইনকাম। হ্যাঁ আমি প্রায় 2014 সালের শেষ নাগাদ হতে অনলাইনে প্রবেশ করি। এবং বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে একাউন্ট করি বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কাজ করি। এবং বিভিন্ন এড নেটওয়ার্ক নিউ কাজ করেছি। বর্তমানে আমার ব্লগ/ ওয়েবসাইট রয়েছে আমি এখন আমার এই ওয়েবসাইটগুলো ব্যবহার করে গুগল এডসেন্স থেকে টাকা ইনকাম করি। বর্তমানে গুগল এডসেন্স থেকে আমার মাসিক ইনকাম বিডিটি 5 ডিজিট । সর্বোচ্য কত তা আর বল্লাম না। আপনি যখন আয় করবেন তখন হিসাবটা পেয়ে যাবেন।

প্রতিদিন কতটুকু সময় কাজ করতে হয়?

আপনি যদি অনলাইন থেকে ইনকাম করতে চান তাহলে যদি আপনি বলেন প্রতিদিন কতটুকু সময় দিতে হয় সেটা আপনার জন্য মাইনাস পয়েন্ট। কেননা আপনি কাজ করার প্রথমে আপনি সময় নিয়ে ভাবছেন। আমি প্রথম যখন অনলাইনে কাজ শুরু করি এবং ব্লগিং স্টার্ট করি তখন প্রথমত আমি প্রতিদিন 8 থেকে 10 ঘন্টা সময় দিতাম। তখন যে পরিমানে আয় হতো বর্তমানের সপ্তাহে 8 থেকে 10 ঘন্টা সময় দেই আমারা এর খাতাটা তার থেকে দ্বিগুন। এখন ভেবে দেখুন আপনার কতটুকু সময় লাগবে বা কতটুকু সময় নিয়ে আপনি কাজ করতে পারবেন।

বলতে গেলে এখানে ধরাবাঁধা কোনো সময় নেই যে আপনাকে এতটা সময় দিতেই হবে। আপনি যেরকম সময় দিবেন যে রকম স্টাডি করবেন যে রকম ঘাটাঘাটি করবেন সে অনুযায়ী আপনি ফলাফল পাবেন। আপনি কাজ করুন আমি আপনার সাথে আছি। প্রয়োজন হলে নিচের কমেন্ট বক্সএ কমেন্ট করতে পারেন।

অথবা আপনার কোন পরামর্শ বা সাহায্যের দরকার হলে আমাদের অবশ্যই কমেন্ট করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here