বর্তমান যুগে ইউটিউব থেকে ইনকাম করা খুবই সহজ একটি মাধ্যম। আপনি কি একজন ছাত্র? নাকি চাকরিজীবী, যাই হোক না কেন, আপনি চাইলে আপনার পড়ালেখার পাশাপাশি অথবা চাকরির পাশাপাশি কিছু সময় ব্যয় করে ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে পারেন। বর্তমানে ইন্টারনেটের যুগে ইউটিউব সম্পর্কে কারো অজানা নয়। অনেক অল্পবয়স্ক যুবক/যুবতীরা ইউটিউব থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করছে। আপনি যদি ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে চান এবং নতুন হন তাহলে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে ইউটিউব কি। আপনি কি মনে মনে ভাবছেন যে আপনিও ইউটিউব থেকে ইনকাম করবেন তাহলে এই লেখা টি আজকে আপনার জন্যই।

আসুন জেনে নেই আসলে আমরা ইউটিউব থেকে কিভাবে ইনকাম করবো বা ইউটিউব কি?

ইউটিউব কি?

ইউটিউব হচ্ছে ইন্টারনেট জগতের একটি ভিডিও প্ল্যাটফর্ম। এটি সর্ববৃহৎ কোম্পানি গুগল এর প্রোডাক্ট। এবং এটাকে আমরা ভিডিও শেয়ারিং নেটওয়ার্ক বলে থাকি। এখানে রয়েছে বিভিন্ন ক্যাটাগরির মিলিয়নস অফ ভিডিও।

দেখুনঃ বাংলায় পূর্ণাঙ্গ ব্লগিং টিউটরিয়াল

মনে করুন আপনার স্কুলে বা আপনার অফিসে আজকে একটি ফাংশন রয়েছে। এবং আপনাকে এই ফাংশনে এমন একটি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেটি সম্পর্কে আপনি অজ্ঞাত। আপনার বিষয়টি নিয়ে আপনি ইউটিউবে সার্চ করতে পারেন তাহলে হিউজ পরিমান রিচার্জ আপনার সামনে চলে আসবে। তখন সেখান থেকে আপনার কাঙ্খিত বিষয়গুলো আপনি মুহূর্তে শিখে নিতে পারবেন। ইউটিউব হলো বর্তমান যুগে একজন শিক্ষকের মত। আপনি যাই শিখতে চান না কেন আপনি শুধু ইউটিউবে সার্চ করবেন দেখবেন আপনার কাঙ্খিত বিষয়টি সুন্দর ভাবে দেয়া আছে।

কথা হচ্ছে আমি ইউটিউব থেকে ইনকাম করবো আমাকে কি কি করতে হবে বা আমার কি কি জিনিস লাগবে। ঠিকই বলেছেন আপনি যদি ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে চান তাহলে অবশ্যই  কিছু উপকরণের প্রয়োজন হয়ে থাকবে। চলুন দেখে নেয়া যাক ইউটিউব থেকে আয় করতে হলে আপনার কি কি জিনিস লাগবে।

ইউটিউবিং এর উপকরণ।

  • আপনি যদি চান আপনি ইউটিউব থেকে অর্থ উপার্জন করবেন তাহলে প্রাথমিক অবস্থায় আপনার যে সমস্ত জিনিস গুলো লাগবে তা হলঃ
  • একটি ক্যামেরা অথবা ভালো ক্যামেরা সম্বলিত মোবাইল ফোন যা দিয়ে আপনি ভিডিও ক্লিপস ধারণ করতে পারবেন
  • একটি কম্পিউটার, ভালো মোবাইল থাকলে প্রাথমিক অবস্থায় কম্পিউটার না হলেও চলবে।
  • ভালো মানের একটি ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার: হতে পারে ক্যামটাসিয়া, এডোবি প্রিমিয়ার প্রো অথবা আপনার পছন্দ মত যে কোন একটি সফটওয়্যার।
  • এবং একটি ইউটিউব একাউন্ট

এখন মনে করুন আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস বা উপকরণ গুলো রয়েছে এখন আপনি কিভাবে একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলবেন।

কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল খুলবো?

খুবই সহজ প্রথমত আপনাকে একটি জিমেইল একাউন্ট লাগবে। অতঃপর ইউটিউব এ আপনার জিমেইল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করবেন, অতঃপর ইউটিউব এর থেকে “Create a chennel” ক্লিক করে একটা চ্যানেল তৈরি করে নিতে পারেন। কিভাবে একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করবেন সে ব্যাপারে আমাদের এই ভিডিও টিউটোরিয়ালটি দেখতে পারেন।

ভিডিও টিউটোরিয়াল: কিভাবে একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করবেন

কি কাজ করতে হবে?

আপনার ইউটিউব চ্যানেল খোলা হয়ে গেছে এখন আপনাকে কি কাজ করতে হবে? ঠিকই বলেছেন আপনাকে অবশ্যই কাজ করতে হবে কেননা কাজ না করলে আপনাকে কেউ টাকা দিবে না।

  • আপনাকে ভালো মানের ভিডিও তৈরি করতে হবে
  • ভিডিওগুলো ইউটিউব এ আপলোড করতে হবে
  • ভিডিওর ভিউ বাড়াতে হবে
  • সাবস্ক্রাইবার বাড়াতে হবে

কি বিষয়ে ভিডিও তৈরি করবেন?

কিভাবে আপনি ইউটিউবের জন্য ভিডিও তৈরি করতে পারেন এর জন্য নিচে কয়েকটি নমুনা দেওয়া হলোঃ

  • আপনি আপনার মোবাইল ফোন থেকে বিভিন্ন ফানি ভিডিও ক্যাপচার করতে পারেন
  • বন্ধু-বান্ধব মিলে ফানি ভিডিও তৈরি করতে পারেন।
  • আপনি কোন বিষয়ে ভালো পারদর্শী এ সেই বিষয়ে ভিডিও করতে পারেন।
  • মনে করুন আপনি একজন ভালো শিক্ষক তাহলে আপনার ক্লাস গুলো ভিডিও রেকর্ড করে ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন।
  • আপনি একজন ভালো এডিটর বা আর্টিকেল রাইটার আপনার রাইটিং টেকনিকগুলো রেকর্ডিং করে ভিডিও আপলোড করতে পারেন।
  • আপনি ভাল একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার আপনার ডিজাইন গুলো কিভাবে করেন সেগুলো রেকর্ড করে একটি চ্যানেলে আপলোড করতে পারেন।
  • আপনি কোন জিনিস ভালো বানাতে পারেন সে বিষয়গুলো আপনার রেকর্ডিং করে ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন।
  • আপনি ভাল রান্না জানেন, সেগুলো রেকর্ডিং করে ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন।
  • আপনি হাতের কাজ খুব ভালো পারেন তাহলে সেই বিষয়গুলি আপনি রেকর্ডিং করে ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন।
  • আপনার হাতের লেখা খুব সুন্দর, আপনার হাতের লেখার টেকনিক গুলো ভিডিও আকারে আপলোড করতে পারেন।
  • আপনি যদি ভালো ছবি আঁকতে পারেন তাহলে আপনার ছবি আকার ধরন গুলো বা টেকনিকগুলো ভিডিও আকারে আপলোড করতে পারেন।

মোটকথা আপনি যে বিষয়ে ভালো পারদর্শী সে বিষয়গুলো বা টেকনিকগুলো ভিডিও আকারে আপনি ইউটিউবে আপলোড করলে যে সমস্ত ব্যক্তি বর্গের এই ক্যাটাগরির বিষয়গুলো প্রয়োজন তারা ইউটিউবে সার্চ করে আপনার ভিডিও গুলো দেখবে এবং শিখবে।

এখন আসি আসল কথায়, ইউটিউব থেকে কিভাবে ইনকাম করবো।

ইউটিউব থেকে আয় এর প্রধান উৎসগুলো হলোঃ

দেখুনঃ 2019 সালে অনলাইনে আয়ের সেরা মাধ্যমগুলো

আপনার যদি একটি ভালো মানের ইউটিউব চ্যানেল থাকে বা হিউজ পরিমাণে ভিউ হয় তাহলে আপনি বিভিন্ন টেকনিক অবলম্বন করে ইউটিউব থেকে যথেষ্ট পরিমাণে টাকা আয় করতে পারবেন। আমি নিচে সেরকম কিছু টেকনিক আলোচনা করছি।

গুগল এডসেন্স মনিটাইজেশন

যারা বর্তমানে ইউটিউবিং করছেন বা এর সাথে জড়িত আছেন তাদের প্রাথমিক চয়েজ হচ্ছে গুগল এডসেন্স মনিটাইজেশন। গুগল এডসেন্স হলো গুগলের একটি পার্টনার। যখন আপনার একটি চ্যানেল থাকবে আপনি যখন গুগল এডসেন্স এর জন্য মনিটাইজেশন করবেন। তখন এডসেন্স অটোমেটিক ভাবে আপনার জেনেলে বা ভিডিওর উপরে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করবে। এবং যখন সেই বিজ্ঞাপন গুলো দেখবে এবং ক্লিক করবে সেখান থেকে আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। বর্তমানে ইউটিউব এর সেরা পছন্দ হচ্ছে গুগল এডসেন্স মনিটাইজেশন এবং এটি থেকে বেশিরভাগ ইউটিউবার উপার্জন করে থাকেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

ইউটিউব ব্যবহার করে বর্তমানে অনেকেই এফিলিয়েট মার্কেটিং করছেন। আপনি চাইলে আপনার চ্যানেলে কোন পণ্যের রিভিউ করে সে পণ্যটি আপনি এফিলিয়েট লিংক এর মাধ্যমে বিক্রয় করতে পারেন এবং সেখান থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

স্পন্সর ভিডিও/ বিজ্ঞাপন

আপনার যখন কোন পপুলার ইউটিউব চ্যানেল থাকবে তখন বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন প্রোডাক্ট এর স্পন্সর হিসেবে আপনি কাজ করতে পারেন। মনে করুন আপনার একটি ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে, এবং কোন কোম্পানি এসে আপনাকে বললো ভাই আপনার চ্যানেলে আমার এই কোম্পানির প্রচার বা প্রসার করুন। তখন আপনার চ্যানেলের ভিডিওর মাধ্যমে সেই কোম্পানির প্রচার প্রসার করলে সে কোম্পানি হতে আপনাকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেওয়া হবে এটা হচ্ছে স্পন্সর হতে আয়।

পণ্যের রিভিউ

আপনার ভালো মানের একটি চ্যানেল থাকলে বিভিন্ন কোম্পানি এসে আপনাকে বলবে যে আপনার চ্যানেলে আমাদের এই পণ্যটি রিভিউ করে প্রচার করুন। তখন আপনি সে পণ্যটি সম্পর্কে রিভিউ ভিডিও তৈরি করে আপনার চ্যানেলে প্রকাশ করবেন তখন সে পণ্য রিভিউ-এর মাধ্যমে কোম্পানি থেকে আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমাণে অর্থ দেয়া হবে। বর্তমানে অনেক ইউটিউবাররা পণ্যের রিভিউ করে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করছেন।

দেখুন: ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অনলাইনে আয়ের সহজ উপায়

কিভাবে ইউটিউব থেকে আয় বৃদ্ধি করব?

আপনার ইউটিউব চ্যানেল থেকে ইনকাম বৃদ্ধি করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আপনার ইউটিউব এর ভিজিটর বাড়াতে হবে। আপনার চ্যানেলে যত বেশি পরিমাণে ভিজিটর থাকবে আপনার ইনকামের পরিমান ততই বাড়তে থাকবে। কেননা ভিজিটর যখন আপনার ভিডিও দেখবে তখনই বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করবে এবং আপনার ইনকাম হবে। ইউটিউব এ আয় ভিজিটর আয় বৃদ্ধি করার কিছু কৌশল আপনাদের সাথে আমি শেয়ার করছি।

ভিডিও আপলোড: আপনার ভিজিটর বা ইনকাম বৃদ্ধি করতে হলে আপনাকে নিয়মিত গুণগত মানসম্পন্ন ভিডিও আপলোড করতে হবে।

ট্যাগ এর ব্যবহার: আপনি যখন একটি ভিডিও আপলোড করবেন তখন সেই ভিডিও নিচে ভিডিও রিলেটেড বিভিন্ন ধরনের ট্যাগ ইউজ করবেন। যাতে করে একজন ভিজিটর সেই কিওয়ার্ডগুলো দিয়ে সার্চ করলে আপনার ভিডিওটি প্রথম দিকে আসে।

ভিডিও ডিস্ক্রিপশন: যখন আপনি ভিডিও আপলোড করবেন তখন অবশ্যই ভিডিও নিচে ডিসক্রিপশন অপশনে ভিডিও রিলেটেড সুন্দরভাবে ডিসক্রিপশন দিবেন। তাতে করে একজন ভিজিটর সহজে আপনার ভিডিও সম্পর্কে বুঝতে পারবে এবং তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।

শেয়ার: আপনার ভিজিটর বা ইনকাম বৃদ্ধি করার জন্য আপনি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনার ভিডিও গুলোর লিংক শেয়ার করতে পারেন, যেমন ফেসবুক, টুইটার, লিংক দিন, ব্লগার এ ধরনের যোগাযোগ মাধ্যমে।

লিংক শেয়ার: লিংক শেয়ার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আপনার যদি একটি ভালো মানের ভিডিও থাকে তাহলে আপনার সেই ভিডিও লিংকটি বিভিন্ন ওয়েবসাইট এ বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করবেন। তাহলে সেখান থেকে অনায়াসে প্রতিদিন বিভিন্নভাবে ভিজিটর আপনার চ্যানেলে প্রবেশ করবে এবং আপনার ভিডিওর ভিউ দিতে পারবে।

এসইও: আপনার চ্যানেল টি একটি সার্চ ইঞ্জিন এর কাছে জনপ্রিয় করার জন্য আপনাকে কিছু টেকনিক অবলম্বন করতে হবে। এই টেকনিক কে বলে  ”সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এস.ই.ও” করতে হবে।

সর্বোপরি:

সর্বোপরি একটাই কথা আপনি যদি ইউটিউব বা অনলাইনে ইনকাম করতে চান আয় করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে ধৈর্য নিয়ে কাজ করতে হবে এবং কিভাবে কাজ করবেন সেই বিষয়ে গুলো আমরা দেখিয়ে দেব। আপনি দেখলেন পড়লেন বুঝলাম কিন্তু ধৈর্য নিয়ে কাজ করলে না তাহলে ইউটিউবিং ভাবল কি আপনার জন্য নয়। কোনরকম প্রয়োজন হলে আপনি আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা নিচে কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করতে পারেন। আমরা আপনার প্রত্যেকটি কমেন্টের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here