২০ টি অনলাইন পেশা। কিভাবে অনলাইনে নিজের ক্যারিয়ার গড়বেন।

অনলাইনে কিভাবে নিজের ক্যারিয়ার গড়বেন। কি শুনতে অবাক লাগছে তাই তো? কিন্তু এটাই সত্য বর্তমানে বিভিন্ন পেশার পাশাপাশি অনলাইনেও নিজের ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করে স্বাবলম্বী করতে পারেন আপনার বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ। অনলাইন পেশাগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ স্বাধীন পেশা। অনেকেই অনলাইনে বিভিন্ন নিজেকে নিয়োজিত করে তাদের ক্যারিয়ার গড়েছেন এবং অনলাইন এ আয় করছেন লক্ষ লক্ষ টাকা।

বর্তমানের চাকরির বাজার কতটা প্রতিযোগিতামূলক এটা কারো অজানা নয়। অনেকেই উচ্চশিক্ষা লাভ করে বিভিন্ন চাকরির পেছনে দৌড়াচ্ছেন। কিন্তু চাকরি নামের সোনার হরিণ টি ধরা দিচ্ছে না। এমতাবস্থায় আপনি যদি অনলাইনে বিভিন্ন কাজ করে আয় করতে পারেন তাহলে চাকরি নামের সোনার হরিণের পেছনে আর দৌড়াতে হবে না।

এখন কথা হলো আমি অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়তে চাই।  কিন্তু অনলাইন ক্যারিয়ার কি? কিভাবে অনলাইনে নিজের ক্যারিয়ার গড়বো?

কিভাবে অনলাইনে নিজের ক্যারিয়ার গড়বেন। অনলাইনে পেশা
কিভাবে অনলাইনে নিজের ক্যারিয়ার গড়বেন। অনলাইনে পেশা

হ্যাঁ বন্ধুরা আজকের এই টিউটোরিয়াল এ আমি এটাই আপনাদের সাথে শেয়ার করব কিভাবে অনলাইনে নিজের ক্যারিয়ার গড়া যায়। চলুন আরও ক্লিয়ার করে বলছি,

অনলাইনে ক্যারিয়ার কি

অনলাইন ক্যারিয়ার হল ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে বসে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস, অথবা নিজস্ব ব্যবসা দাঁড় করিয়ে ইন্টারনেট এর মাধ্যমে আয় করাই হল অনলাইন ব্যবসা অনলাইন ক্যারিয়ার। এখানে বেশ কিছু কাজ রয়েছে যেখানে কিছু কিছু ইনভেস্ট করে করতে হয় আবার অনেক কাজ রয়েছে যেখানে কোন ইনভেস্ট এর প্রয়োজন হয় না।

এবং এখানে অনেক কাজ রয়েছে যেগুলো করলে ক্লায়েন্টের কাছে জবাবদিহিতা করতে হয়। আবার অনেক কাজ রয়েছে আপনাকে কোনো জবাবদিহিতা ও করতে হবে না। যেহেতু এটি একটি মুক্ত পেশা তাই নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনেক ভেবেচিন্তে আপনাকে নির্বাচন করতে হবে।

এখানে আপনি যেকোন একটি বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন করে অনলাইনে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কাজ করে টাকা আয় করতে পারেন।

এছাড়াও আপনি চাইলে অনলাইনে নিজের একটি ই-কমার্স ব্যবসা দাঁড় করিয়ে নিতে পারেন।

কেন অনলাইনে নিজের ক্যারিয়ার গড়বেন

অনলাইনে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার প্রথম পছন্দ হচ্ছে এটি একটি মুক্ত পেশা। এখানে এমন কিছু পেশা রয়েছে যেগুলোতে একবার কাজ করলে সারাজীবন ইনকাম করা যায়। আবার চাইলে যে কেউ ঘরে বসেই বিভিন্ন কোম্পানি ক্লায়েন্টের কাজ করে দিতে পারে মুহূর্তেই। এর জন্য কোন অফিস বা এসেট এর প্রয়োজন হয় না। এখানে শুধুমাত্র একটি কম্পিউটার ইন্টারনেট কানেকশন দিয়ে সারা বিশ্বকে হাতের মুঠোয় রাখা যায়।

সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আপনি যখন অনলাইনে নিজের ক্যারিয়ার গড়বেন আপনার কাজগুলো আপনার পছন্দের যেকোনো সময় করতে পারবেন। যা সম্পূর্ণ আপনার উপর নির্ভর করবে।

ইন্টারনেট থেকে আয় করার সবচেয়ে বহুল পরিচিত এবং জনপ্রিয় পেশাগুলো নিয়েই আজকে আমার এই আলোচনাটি। তার আগে বলে নিচ্ছি অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ার সুবিধা এবং অসুবিধা কি।

অনলাইন ক্যারিয়ারের সুবিধা

অনলাইনে ব্যবসা অনলাইন ব্যবসা হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত করলে যে সকল সুবিধা পাবেন তা হলোঃ

  • ঘরে বসে কাজ করা যায়
  • এটি একটি মুক্ত পেশা তাই কাউকে জবাবদিহিতা করতে হয় না
  • নিজের পছন্দমতো সময়ে কাজ করা যায়
  • অপছন্দের কাজ গুলো এড করা যায়
  • আপনি যে সকল কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন শুধুমাত্র সে সকল কাজ করেই নিজের ক্যারিয়ার করতে পারেন
  • অফিস বা অফিস ম্যাটেরিয়াল এর প্রয়োজন হয় না
  • কোন রকম ইনভেস্ট করার প্রয়োজন নেই
  • এখান থেকে যত ইচ্ছা তত ইনকাম করা সম্ভব
  • এখানে নির্ধারিত কোন সেলারি থাকেনা তাই আপনি যত কাজ করবেন তত ইনকাম করতে পারবেন

অনলাইন ক্যারিয়ারের অসুবিধা

অনলাইনে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে যেমন কিছু সুবিধা পাবেন তার পাশাপাশি কিছু অসুবিধাও রয়েছে। এমন কিছু অসুবিধা হলোঃ

  • ঘরে বসে কাজ করতে গেলে নিজেকে বোরিং লাগতে পারে
  • যেহেতু আপনার ওপর কাজের কোনো চাপ নেই তাই কাজে অলসতা আসতে পারে
  • নিজেকে কোন দক্ষতা ছাড়া কোন ক্যারিয়ারে দাঁড় করাতে পারবেন না
  • সারাক্ষণ কম্পিউটারের মাধ্যমে কাজ করতে হয় এজন্য চোখের সমস্যা হতে পারে
  • সারাক্ষণ ঘরে এক জায়গায় বসে কাজ করতে করতে, কোমরে সমস্যা হতে পারে
  • সঠিক পেশা নির্বাচন না করতে পারলে লস হতে পারে
  • বিভিন্ন সময় বিভিন্ন টাইপের কাজ করতে হয় এর জন্য প্রচুর পরিমাণে পড়াশোনার প্রয়োজন হয়
  • কোন একটি নতুন কাজ আসলে সে কাজটি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা তৈরি করতে হয়
  • একই টাইপের কাজ বারবার রিপিট নাও হতে পারে

অনলাইন পেশাতে যেমন সুবিধা আছে পাশাপাশি অসুবিধাও আছে। আপনি চাইলেই অনলাইনের নিজের পেশাকে সহজেই অল্প সময়ে করতে পারবেন না। অনলাইনে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে হলে আপনাকে প্রচুর সময় গবেষণা করতে হবে।

অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ার জনপ্রিয় কিছু পেশা

বর্তমান সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে যুগোপযোগী বেশ কিছু জনপ্রিয় পেশা নিম্নে আলোচনা করা হল। আপনি চাইলে এখান থেকে যেকোন একটি পেশাকে গ্রহণ করে তার উপরে প্রচুর পরিমাণে গবেষণা/ রিসার্চ করে শুরু করে দিতে পারেন। কাজ শুরু করার পূর্বে অবশ্যই যে বিষয়ে কাজ করবেন সে বিষয়ে সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

ক্যারিয়ার হিসাবে ব্লগিং

বর্তমানে যতগুলো অনলাইন পেশা রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে সহজ এবং যুগোপযোগী পেশা হলো ব্লগিং। ব্লগিং করে অল্প সময়ে অধিক পরিমানে আয় করা সম্ভব। এবং এখানে আনলিমিটেড এর সুযোগ রয়েছে। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এখানে একবার কাজ করলে সারাজীবন আয় করা সম্ভব। চলুন জেনে নেই ব্লগিং করতে কি কি লাগবে বা কিভাবে করতে হয়।

আরও পড়তে পারেন:

কি কি লাগবে

আপনি যদি ব্লগিং করতে চান, যে বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনার সচ্ছ ধারণা থাকতে হবে তা হলোঃ

  • ব্লগিং এর জন্য বিষয়ে নির্বাচন
  • কিওয়ার্ড রিসার্চ
  • ডোমেইন এবং হোস্টিং
  • একটি ওয়েবসাইট ডিজাইন
  • আর্টিকেল রাইটিং
  • সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন

আরও পড়ুনঃ

  • ব্লগিং কি? কিভাবে শুরু করবেন?
  • ওয়েব সাইট কি? কিভাবে তৈরি করবেন?
  • ডোমেইন কি? কিভাবে কাজ করে? কোথায় পাবেন।
  • ওয়েব হোষ্টিং কি? কোথায় পাবেন।
  • কিভাবে আর্টিকেল লিখবেন- ফুল গাইড।
  • সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) কি?  কিভাবে করবেন। বিস্তারিত।

ব্লগিং-এ আয়ের মাধ্যম

আমরা এতক্ষন জানলাম ব্লগিং এর সুবিধা এবং অসুবিধা গুলি। এখন জানবো ব্লগিং করে কি কি পদ্ধতিতে আয় করব এই ব্যাপারটি-

গুগল এডসেন্সঃ ব্লগিং করে আয় করার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হল গুগল এডসেন্স। এটি গুগলের একটি প্ল্যাটফর্ম। এটি খুবই জনপ্রিয় এবং বিশ্বস্ত একটি এড নেটওয়ার্ক। বর্তমানে বিশ্বে কতগুলো এড নেটওয়ার্ক রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সবচেয়ে বেশি পেমেন্ট করে গুগল এডসেন্স। গুগল এডসেন্স এর সাথে কাজ করতে হলে বেশ কিছু নিয়ম-নীতি মেনে তারপর কাজ করতে হয়। এ ব্যাপারে বিস্তারিত আছে এখানে: গুগল এডসেন্স কি? সহজে গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভাল পাওয়ার উপায়।

ইফিলিয়েট মার্কেটিংঃ ব্লগিং করে অনলাইন থেকে ইনকাম করার জনপ্রিয় মাধ্যম গুলোর মধ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে এফিলিয়েট মার্কেটিং। আপনার যদি কোন পণ্য এবং সার্ভিস রিলেটেড কোন ওয়েবসাইট থাকে তাহলে সেখান থেকে পণ্য এবং সার্ভিস বিক্রয় করে এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসে প্রচুর টাকা আয় করতে পারবেন।

প্রোমোশনাল কন্টেন্টঃ আপনার ওয়েবসাইটে একটি প্রমোশনাল লিংক রাখতে পারেন যেখানে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের এডমিনরা এসে তাদের ওয়েবসাইটের গুণকীর্তন গিয়ে আপনার ওয়েবসাইটে আর্টিকেল লিখে যাবে। এর জন্য তারা আপনাকে পেমেন্ট করবে।

স্পন্সর প্রোমোশনঃ স্পনসর এর মাধ্যমে আয়। আপনার যদি একটি ওয়েবসাইট থাকে এবং বিভিন্ন সার্ভিস কোম্পানি সেখানে স্পনসর্শিপ তাদের সার্ভিস প্রচারণা চালায় তাহলে এর বিনিময়ে পেমেন্ট করে থাকে।

প্রোডাক্ট রিভিউঃ বিভিন্ন ওয়েবসাইটের রিভিউ করে কনটেন্ট দিয়ে সেখান থেকে আয়ের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। এটা হতে পারে বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন ওয়েবসাইটের সার্ভিস এবং প্রোডাক্ট এর রিভিউ।

Read More: ব্লগিং কি? কিভাবে শুরু করবেন? কত টাকা আয় করা যায়?

এফিলিয়েট মার্কেটার

এফিলিয়েট মার্কেটিং বর্তমানে জনপ্রিয় একটি পেশা। এই পেশাটি ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালনা করা যায়। অনলাইন প্রেসার দিক দিয়ে বিবেচনা করলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে একজন ফ্রিল্যান্সারের ডিমান্ড অনেক বেশি। তাই যদি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তাহলে আর দেরি না করে এখনই শুরু করে দিন।

আরও পড়ুনঃ এফিলিয়েট মার্কেটিং কি? কিভাবে শুরু করবেন এবং এর ভবিষ্যৎ কেমন?

গ্রাফিক্স ডিজাইনার

অনলাইন ক্যারিয়ারের ভিতরে আরও একটি জনপ্রিয় পেশা হলো গ্রাফিক ডিজাইনার। বর্তমান অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের মূল্য অনেক বেশি। একজন দক্ষ গ্রাফিক ডিজাইনার প্রতিমাসে 50 হাজার টাকা থেকে শুরু করে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করে থাকে।

তবে হ্যাঁ এর জন্য আপনাকে অবশ্যই ক্রিয়েটিভ মন মানসিকতা এবং সৃজনশীলতা থাকতে হবে। অন্যথায় গ্রাফিক ডিজাইনে বেশি ভালো করা সম্ভব নয়। আপনি যদি গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে আপনার ক্যারিয়ার গড়তে চান তাহলে বিভিন্ন টিউটোরিয়াল গুলো দেখে আজও গ্রাফিক ডিজাইন শেখা শুরু করে দিন।

আরও পড়ুনঃ গ্রাফিক্স ডিজাইন কি? ক্যারিয়ার হিসাবে গ্রাফিক ডিজাইন।

ওয়েব ডিজাইনার

অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য আরও একটি জনপ্রিয় ক্যাটাগরি হলো ওয়েব ডিজাইন। প্রতিনিয়ত সারাবিশ্বে লক্ষ লক্ষ ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে। এবং লক্ষ-লক্ষ ওয়েবসাইটকে বিভিন্ন ধরনের কাস্টমাইজ করছেন। একটি ওয়েবসাইট তৈরি ডিজাইন এবং কাস্টমাইজ করার জন্য একজন ওয়েব ডিজাইনার প্রয়োজন হয়। আর বর্তমান মার্কেটপ্লেসগুলোতে একজন ওয়েব ডিজাইনার এর মূল্য অনেক বেশি।

একজন দক্ষ গ্রাফিক ডিজাইনার প্রতিমাসে 50 হাজার টাকা থেকে শুরু করে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করতে পারে। ওয়েব ডিজাইন শিখতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই বেশ কিছু প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ জানতে হবে। যেমন, CSS, HTML, Java, ইত্যাদি।

ওয়েব ডেভেলপার

ওয়েব ডিজাইনার এর  পাশাপাশি ওয়েব ডেভলপারদের অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে অনেক মূল্য। যেকোনো একটি ওয়েবসাইটের কোন প্রবলেম সমস্যা দেখা দিলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে একজন ওয়েব ডেভেলপার কে হায়ার করে তাদের সমস্যাকে সমাধান করে নেয়।

একজন ওয়েব ডেভেলপার এর মূল কাজ হলো,  একটি ওয়েবসাইট কিভাবে পরিচালিত হবে সেগুলো নির্ধারণ করা। এবং কোন ওয়েবসাইটের কোনো সমস্যা দেখা দিলে সেগুলো কে সমাধান করা।

বর্তমান মার্কেটপ্লেসে একজন ওয়েব ডিজাইনার এর তুলনায় একজন ওয়েব ডেভেলপার এর চাহিদা অনেক বেশি। এবং একজন ওয়েব ডেভেলপার এর প্রতি ঘণ্টার মূল্য অন্যান্য মার্কেটপ্লেসের কাজ গুলোর চেয়ে অনেক বেশী হয়ে থাকে।

আপনি যদি ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে আপনার ক্যারিয়ার গড়তে চান তাহলে ওয়েব ডেভলপার সম্পর্কে যাবতীয় জ্ঞান আপনাকে অর্জন করতে হবে। এবং একজন ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে আপনাকে অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে পরিচিত করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কি? কিভাবে শিখবেন। কত টাকা আয় হয়

এসইও এক্সপার্ট

বর্তমানে অনলাইন পেশাগুলোর মধ্যে আরো একটি জনপ্রিয় পেশা হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO)। একজন এসইও এক্সপার্ট এর কাজ হল একটি ওয়েবসাইটকে যখন কোন কীওয়ার্ড লিখে সার্চ করা হবে যাতে সেই ওয়েবসাইট সার্চইঞ্জিনে খুঁজে পাওয়া যায় এই কাজগুলো করা। বর্তমানে অনলাইনে কুটিকুটি ওয়েবসাইট রয়েছে। এ জন্য এসইও এক্সপার্ট এর প্রয়োজন অনেক বেশী হয়ে থাকে।

একজন এসইও এক্সপার্ট ছাড়া একটি ওয়েবসাইট ঠিকভাবে সার্চ ইঞ্জিনের খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয় না। আপনি যদি একজন এসইও এক্সপার্ট হিসেবে নিজেকে গড়তে চান তাহলে এটি আপনি অনলাইন পেশা হিসেবে নিতে পারেন।

অনলাইন পেশা হিসেবে এসইও এর কাজ খুব মূল্যবান। বর্তমানে অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইট বা ইউটিউব খুজে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) শিখতে পারেন।

অনলাইন টিচিং

আপনি যদি কোন বিষয়ে দক্ষ হন তাহলে সেই বিষয়ের উপরে অনলাইন কোর্স করে বিভিন্ন ভাবে মার্কেটিং করে বিক্রয় করার মাধ্যমে অনলাইনে আপনার ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। বর্তমানে অনলাইন টিচিং করে অনেকেই খুব অল্প সময়ে তাদের ক্যারিয়ার দাঁড় করিয়েছেন।

অনলাইন ক্যারিয়ার বা অনলাইন পেশার মধ্যে এটি একটি জনপ্রিয় পেশা। কিন্তু আপনি যে বিষয়টি শিক্ষা দিতে চাচ্ছেন সে বিষয়ে আপনাকে অবশ্যই দক্ষ হতে হবে। অন্যথায় এই সেক্টরে টিকে থাকতে পারবেন না।

ভিডিও মার্কেটার

বর্তমান সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ভিডিও মার্কেটিং এর চাহিদা অনেক গুন বেড়ে গিয়েছে। বর্তমান প্রডাক্ট প্রমোশন থেকে শুরু করে প্রায় সকল ধরনের বিজ্ঞাপন ভিডিও ভার্শন হয়ে থাকে। আপনি যদি ভিডিও মার্কেটিং করে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান তাহলে এটি হতে পারে আপনার অন্যতম একটি অনলাইন পেশা।

বর্তমান অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে ভিডিও মার্কেটিং এর চাহিদা অনেক বেশি। কেননা বর্তমানে প্রায় 70 ভাগ মানুষ ভিডিও সার্চ করে থাকে।

ই-কমার্স বিজনেস

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বর্তমানে ই-কমার্স ব্যবসা গুলি খুব দ্রুত এগোচ্ছে। আপনি চাইলে ই-কমার্স ব্যবসা দাঁড় করিয়ে অনলাইনে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। বর্তমানে আমাদের বাংলাদেশ এবং ইন্ডিয়ার মতো দেশগুলোতে ই-কমার্স ব্যবসা অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

হাজার হাজার ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুলো প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রফিট করে আসছে।

ডিজিটাল মার্কেটার

অনলাইনে নিজের পেশা হিসেবে ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। বর্তমানে বিভিন্ন টেকনোলজির উন্নয়নে ডিজিটাল মার্কেটিং এর চাহিদা অনেক গুন বেড়ে গিয়েছে। অনলাইন সেক্টরে যে সমস্ত প্রোডাক্ট রয়েছে তাদের ম্যাক্সিমাম প্রোডাক্ট মার্কেটিং করা হয় ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে।

যেহেতু আপনার পেশাটাকে অনলাইন পেশা করতে চাচ্ছেন তাই ডিজিটাল মার্কেটিং হতে পারে আপনার অনলাইন ক্যারিয়ারের একটি অন্যতম মাধ্যম।

আরও পড়ুনঃ ডিজিটাল মার্কেটিং কি? কিভাবে শুরু করবেন।

ট্রান্সলেটর

বর্তমান বিশ্বে নানান ধরনের দেশে নানান রকমের ভাষায় মানুষ কথা বলে থাকে। বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রায় সময়ই একটি ভাষাকে অন্য একটি ভাষা তে রুপান্তর করতে হয়। একই ব্যক্তির বিভিন্ন রকমের ভাষা না পারার কারণে যখন একটি বাসা থেকে অন্য আরেকটি ভাষাতে কোনো তথ্য বা ডকুমেন্ট রূপান্তরিত করতে হয় সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় একজন ট্রান্সলেটর।

আপনি যদি একাধিক ভাষায় পারদর্শী হন তাহলে আপনি খুব সহজেই একটি ভাষা থেকে অন্য একটি ভাষা তে রুপান্তর করার কাজ করে অনলাইনে আপনার ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। বর্তমানে বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে একজন ট্রান্সলেটরের অনেক চাহিদা রয়েছে। এটি একটি ডিমান্ডেবল পেশা হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ার জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস

এতক্ষণ আমরা বিভিন্ন ধরনের অনলাইন পেশা হিসেবে জানলাম। অনলাইনে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার জন্য বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে। বর্তমানে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের মার্কেটপ্লেস রয়েছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত কিছু মার্কেটপ্লেস নিয়ে আলোচনা করছি।

আপওয়ার্ক wpwork.com

অনলাইন মার্কেটপ্লেস গুলোর মধ্যে প্রথমেই যে মার্কেটপ্লেসের নাম আসে সেটি হল upwork.com। এখানে প্রায়ই 37 টি ক্যাটাগরির কাজ রয়েছে। এখানে আর্টিকেল রাইটিং, গ্রাফিক ডিজাইন, টেকনিকাল রাইটিং, ট্রান্সলেট, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, ওয়েবসাইট ডিজাইন, ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট সহ নানান ধরনের কাজ রয়েছে।

আপনি চাইলে upwork.com একটি অ্যাকাউন্ট খুলে আপনি যে বিষয়ে পারদর্শী সে বিষয়ে একটি টেস্ট দিয়ে নিজেকে দক্ষতা প্রমাণ দিন। এবং অনলাইনে লক্ষ-লক্ষ কাছ থেকে আপনার কাজটি খুঁজে বের করুন এবং অনলাইন থেকে আয় করুন।

আরও পড়ুনঃ আপওয়ার্কে কীভাবে নিজের ক্যারিয়ার গড়বেন। 

 ফ্রিল্যান্সার freelancer.com

আরো একটি জনপ্রিয় অনলাইন মার্কেটপ্লেস ফ্রিল্যান্সার ডট কম। এখানে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ কাজের অফার এসে থাকে। এবং এখানে লক্ষাধিক ফ্রিল্যান্সার প্রতিনিয়ত ইনকাম করে আসছেন ঘরে বসে। ফ্রিল্যান্সার ডটকমে প্রায় শতাধিক ক্যাটাগরির কাজ রয়েছে। আপনি যে কাজে পারদর্শী/ দক্ষ সেই কাজটি করে এখান থেকে ঘরে বসেই অনলাইনে প্রচুর পরিমানে আয় করতে পারবেন।

মনে রাখবেন আপনার যদি কোন রকম দক্ষতা না থাকে তাহলে এই সমস্ত মার্কেটপ্লেসগুলোতে আপনার না যাওয়াই উচিত। কেননা আপনি যদি অনলাইনে কাজ নিতে যান বা কোন একটি কাজ পেয়ে গেলেন সে কাজটি ডেলিভারি দিতে পারলেন না তাতে আপনার লস হবে।

ফাইভার fiverr.com

Fiber.com একটি জনপ্রিয় অনলাইন মার্কেটপ্লেস। এখানে প্রতিদিন নতুন নতুন ফ্রিল্যান্সাররা একাউন্ট করছে এবং নতুন নতুন অনেক বায়ার কাজ সাবমিট করছেন। আপনি যে বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেছেন সেই বিষয় সম্পর্কে ফাইবারে একটি গিগ তৈরি করে ফেলুন।

এবং পরবর্তীতে কাজের জন্য অপেক্ষা করতে থাকুন।

আরও পড়ুনঃ ফাইভার থেকে কিভাবে আয় করবেন। এ টু জেড গাইড।

পিপল পার আওয়ার peopleperhour.com

গুরু- guru.com

সবশেষে আমাদের পরামর্শ

সবশেষে আমাদের পরামর্শ আপনি যদি অনলাইনে আদৌ আপনার ক্যারিয়ার গড়তে চান তাহলে ঠান্ডা মাথায় ভেবে চিন্তে যে কোন একটি বিষয়ে নির্বাচন করুন যে বিষয়ে আপনি দক্ষতা অর্জন করবেন। এবং সে বিষয়ে প্রতিনিয়ত প্রেক্টিস করে যান এবং নিজের দক্ষতা কে বাড়িয়ে নিন। পাশাপাশি অনলাইন থেকে কাজ খোঁজা শুরু করুন।

আপনি যদি আপনার পেশাকে লক্ষ্য হিসেবে নিয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি সফল হবেন, এতে কোন সন্দেহ নেই।

যদি আমাদের এই আর্টিকেলটি আপনার কাছে ভাল লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। এবং কোন পরামর্শ বা অভিযোগ থাকলে আমাদের কমেন্ট করুন।

আরও পড়ুন

Leave a Comment

Share via
Copy link
Powered by Social Snap