ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কি? ওয়েব ডেভেলপার হওয়ার কমপ্লিট গাইডলাইন

প্রতিদিনের জীবনে প্রযুক্তি আমাদেরকে তার উপর নির্ভরশীল করে তুলেছে। যেকোনো অতি সাধারণ কোনো মোবাইল সফটওয়্যার থেকে বিশালাকার সব যন্ত্রপাতির আবিষ্কার- এমন সবকিছু দিয়ে প্রযুক্তি আমাদেরকে আচ্ছন্ন রেখেছে।

আমরা যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করি তারা নিশ্চয় ওয়েবসাইট সম্পর্কে জানি। মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে আমরা যেসব ওয়েবসাইট ব্রাউজ করি সবই তৈরি হয়েছে ওয়েব ডেভেলপারদের হাত দিয়ে। এই ওয়েব ডেভেলপাররাই নিত্য নতুন ওয়েব ডিজাইন ও ওয়েবসাইট তৈরী করে আমাদের জীবনে নতুন বৈচিত্র্য এনে দিয়েছে।

বর্তমানে ওয়েব ডিজাইনার ও ওয়েব ডেভেলপাররা প্রচুর পরিমানে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। তাই ওয়েব ডিজাইন, ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট এগুলো বিশ্বে একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছে।

এই ওয়েব ডেভেলপমেন্ট আসলে কী? একজন ওয়েব ডেভেলপার কী কাজ করে থাকে? ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর ভবিষ্যত কি? এসব কিছু নিয়েই আমাদের আজকের এই লেখা৷

যেকোনো সাধারন মানষের কাছেই ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর জগতটাকে অনেক কঠিন মনে হবে। ওয়েব ডেভেলপার পেশাটাকেও হয়তো অনেকের কাছে ঝুঁকিপূর্ন একটি নতুন পেশা মনে হবে।

তাই এই লেখাটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর মৌলিক বিষয়াদি গুলো নিয়ে জানব। তাছাড়া ওয়েব ডেভেলপার হওয়ার কমপ্লিট গাইডলাইন এই লেখাটির মাধ্যমে দেওয়ার চেষ্টা করব।

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কি? কিভাবে একজন সফল ওয়েব ডেভেলপার হবেন
ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কি? কিভাবে একজন সফল ওয়েব ডেভেলপার হবেন

আর দেরি কেন? চলুন শুরু করা যাক!

টপিক সূচি

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কি? what is web development

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কে জানার জন্য প্রথমে আমাদেরকে জানতে হবে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট জিনিষটা আসলে কি। সহজ ভাষায়, ইন্টারনেট অথবা ইন্ট্রানেট (প্রাইভেট নেটওয়ার্ক) এর জন্য যেসব ওয়েবসাইট, সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করা হয় এগুলো তৈরীর প্রক্রিয়াকে বলা হয় ওয়েব ডেভেলপমেন্ট।

অনেক সময় আমরা ওয়েব ডিজাইনিং কে ওয়েব ডেভেলপমেন্টের সাথে গুলিয়ে ফেলি। তবে এই দুইটি জিনিষের মধ্যে পরিষ্কার পার্থক্য রয়েছে৷ প্রোগ্রামিং এবং কোডিং এর মাধ্যমে ওয়েব ডেভেলপাররা প্রতিনিয়ত একটি ওয়েবসাইটকে চালু করে রাখে।

ওয়েব ডেভেলপারদের কাজের পরিধি ব্যাপক। যেকোনো সাধারণ মানের স্ট্যাটিক ওয়েব পেজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, ই-কমার্স, কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং আরও সকল নিত্য ব্যবহার্য জিনিস, যেগুলো আমরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যবহার করি, এগুলোর প্রায় সবকিছুই ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর মাধ্যমেই তৈরী হয়েছে৷

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট গাইডলাইন

ওয়েব ডেভেলপার হতে হলে আপনার সুনির্দিষ্ট একটি গাইডলাইনের প্রয়োজন হবে। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট গাইডলাইন পাওয়ার জন্য আপনাকে ইন্টারনেট ও বই পুস্তকের দিকে নজর রাখতে হবে।

একজন দক্ষ ওয়েব ডেভেলপার হতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে কয়েক ধরনের প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ জানতে হবে। আমাদের নিচের তালিকায় থাকা সবগুলো বা বেশিরভাগ প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ভালোভাবে জানতে পারলে আপনি বিশ্বের শ্রম বাজারে একজন অভিজ্ঞ ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন।

ওয়েব ডেভেলপমেন্টকে কত প্রকারে ভাগ করা যায়?

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর পরিধি ব্যাপক হওয়ায় এর কাজের মধ্যেও ভিন্নতা রয়েছে। কাজের ধরন অনুযায়ী ওয়েব ডেভেলপমেন্টকে মোটা দাগে তিনটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। এগুলো হলোঃ

  • ক্লায়েন্ট সাইড কোডিং (ফ্রন্ট এন্ড)
  • সার্ভার-সাইড কোডিং (ব্যাক এন্ড)
  • ডাটাবেজ প্রযুক্তি

এখন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর এই তিনটি ভাগ সম্পর্কে আমরা মোটামুটিভাবে কিছু ধারনা নেবো। চলুন জেনে নেয়া যাক।

ক্লায়েন্ট-সাইড

ক্লায়েন্ট সাইড স্ক্রিপ্টিং বলতে মূলত ওয়েবসাইটের ইউজারদের প্রান্তকেই নির্দেশ করে। একে অনেক সময় ফ্রন্ট এন্ড ডেভেলপমেন্টও বলা হয়ে থাকে। ক্লায়েন্ট সাইড বা ফ্রন্ট এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেসব বিষয়কে নির্দেশ করে যেগুলোতে আমরা ব্যবহারকারীরা সরাসরি সম্পৃক্ত।

এগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ ওয়েবসাইটের লে-আউট, ফন্টস, কালার, মেন্যু ও কন্ট্যাক্ট ফর্ম সমূহ ইত্যাদি। ওয়েবসাইটের ইউজার বা ব্যবহারকারীরা ওয়েবসাইটে যেসব জিনিষ দেখবে বা যেসব জিনিষ দেখতে পাবেনা সেটি মূলত এই ক্লায়েন্ট সাইড কোডের উপর নির্ভর করে।

সার্ভার সাইড

যেকোনো ওয়েবসাইটের ভেতরে বা  বিহাইন্ড দ্য সিনে যা চলে সেটিকে বলা হয় সার্ভার সাইড স্ক্রিপ্টিং। সার্ভার সাইড স্ক্রিপ্টিংকে অনেক সময় ব্যাক এন্ড ডেভেলপমেন্টও বলা হয়ে থাকে। এই ব্যাক এন্ড একটি ওয়েবসাইটের অপরিহার্য অংশ। কিন্ত ওয়েবসাইটের ইউজার বা ব্যবহারকারীরা এটি দেখতে পান না।

ওয়েবসাইটের ভেতরের ডেটা ও তথ্যসমূহ যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং গোছানো রাখে এবং ক্লায়েন্ট বা ইউজারদের সাইডে সবকিছু সাবলীলভাবে চালানো এর পূর্ন দায়িত্ব থাকে সার্ভার সাইডের উপর।

আমরা যখন ওয়েব ব্রাউজারে কোনো ফরমে তথ্য দেই, সেটি তৎক্ষনাৎ সার্ভার সাইডের প্রান্তে চলে যায়। সার্ভার সাইড সেটিকে যাচাই করে আবার ক্লায়েন্ট সাইডে পাঠিয়ে দেয়। মূলত এভাবেই একটি ওয়েবসাইট কাজ করে থাকে।

Read More:

ডাটাবেজ এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি

যেকোনো ওয়েবসাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে ডাটাবেজের গুরুত্ব অস্বীকার করা যাবেনা। একটি ওয়েবসাইটের ভাল-মন্দ অনেক সময় ডাটাবেজের উপরেও নির্ভর করে। ওয়েবসাইটের এই ডাটাবেজ গুলোতে একটি ওয়েবসাইট ঠিকমতো পরিচালনা করার জন্য যাবতীয় ফাইল সংরক্ষণ বা Save করা হয়ে থাকে। এই ডাটাবেজ মূলত কোনো একটি সার্ভারের সাথে যুক্ত থাকে। আমাদের বেশিরভাগ ওয়েবসাইটই রিলেশনাল ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে থাকে।

এই তিনটি ভাগের সমন্বয়ে একটি ওয়েবসাইট কাজ করে। এদের একটির কোনো ত্রুটির ফলে বিশাল ভোগান্তির সৃষ্টি হতে পারে।

ওয়েবসাইট মূলত কত ধরনের?

ওয়েবসাইটকে বিষয় ভিত্তিক দিক থেকে নানা উপায়েই ভাগ করা সম্ভব। কিন্তু ওয়েবসাইটের গঠন প্রকৃতির দিক থেকে হিসাব করলে ওয়েবসাইট মূলত ২ প্রকার। ওয়েব ডেভেলপারদের মূলত এই দুই ধরনের ওয়েবসাইট নিয়েই জানতে হয়। এগুলো হলো-

  • স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট
  • ডায়নামিক ওয়েবসাইট

স্ট্যাটিক ও ডায়নামিক ওয়েবসাইট আসলে কি এবং এদের মধ্যে পার্থক্য কতটুকু সেটি নিয়ে এখন আমরা সংক্ষেপে জানব।

স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট বলতে মূলত স্থির ওয়েবসাইট গুলোকেই বুঝায়। আমাদের যেসব ওয়েবসাইটের কোনো ওয়েব পেজের কোন কিছু সংযুক্ত, সম্পাদনা বা বাতিল করতে গেলে মূল কোডে যাওয়া ছাড়া পরিবর্তন করা সম্ভব হয়না, সেই ওয়েবসাইট গুলোকেই স্ট্যাটিক ওয়েব সাইট বলা হয়।

আপনাদের মনে হয়তো প্রশ্ন আসতে পারে যে মূল কোডে যাওয়া ছাড়া সহজেই পরিবর্তনশীল হবে এমন ওয়েবসাইট বানানো কি সম্ভব না? প্রশ্নটির উত্তর হচ্ছে, হ্যা! অবশ্যই এ ধরনের ওয়েবসাইট বানানো যাবে।

এ ধরনের পরিবর্তনশীল ওয়েবসাইট গুলোকেই মূলত ডায়নামিক ওয়েবসাইট বলে। যেসব ওয়েব পেইজর কোন কিছু সংযুক্ত, সম্পাদনা বা বাতিল করতে মূল কোডে যেতে হয়না, বরং সহজেই পরিবর্তন করা যায় সেই ওয়েবসাইট গুলো হলো ডায়নামিক ওয়েব সাইট। বিশ্বে বর্তমানে ডায়নামিক ওয়েবসাইটের জয়জয়কার।

উদাহরণ হিসেবে যেমন ফেসবুকের কথাই ধরুন। আমরা চাইলেই যেকোনো সময়ে ফেসবুকে লগইন করে আমাদের প্রোফাইল, যেকোন পোস্ট, কিংবা ফ্রেন্ডলিস্টে যে কাউকে যেকোন সময় এড এবং ডিলিট করতে পারছি। মূলত ফেসবুকের ওয়েব সাইটটি ডায়নামিক হওয়াতে এগুলো করা সম্ভব হচ্ছে।

ওয়েব ডেভেলপারদের এখন মূলত ডায়নামিক ওয়েবসাইট বানানোর কাজই করতে হয়। তবে আপনি আপাতত স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট তৈরী করতে শিখুন না! আস্তে আস্তে ডায়নামিক ওয়েবসাইট বানানো শিখে যাবেন।

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ক্যারিয়ার

এই লেখাটির পূর্বের অংশ পড়ে আপনি হয়তো জেনে গেছেন যে, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার অর্থ হলো প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ও ওয়েব ডিজাইন করা শেখা৷ ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার জন্য আপনাকে কিছু জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষা আয়ত্ব করতে হবে।

লেখাটির এই অংশে আমরা কিভাবে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখব এবং কি কি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ শিখব সেটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখতে কী কী লাগবে?

  • ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখতে হলে সবার আগে  আপনার একটি নিজস্ব কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ডিভাইস প্রয়োজন হবে। তাই শুরুতে এটি ক্রয়ের ব্যবস্থা করে নিন।
  • পরবর্তীতে, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার জন্য আপনার প্রচুর ধৈর্য্য শক্তি ও মনোযোগ প্রয়োজন হবে।
  • ওয়েব ডেভেলপমেন্ট সহ যেকোনো কাজ শেখার জন্য আপনার প্রচুর আগ্রহ থাকতে হবে। তাই ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার জন্য আগ্রহ বাড়াতে হবে।
  • ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর কাজ শুরু করার জন্য আপনার হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকতে হবে। কারণ ওয়েব ডেভেলপমেন্ট খুব সূক্ষ একটি বিষয়।
  • ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর আগে ওয়েব ডিজাইন সম্পর্কে হাল্কা ধারনা রাখতে হবে। তাই Adobe Photoshop সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা আগে থেকেই নিয়ে নিন।
  • ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার ক্ষেত্রে ইংরেজী খুব ভালোভাবে না জানলেও মোটামুটি ভাবে জানতেই হবে। তাই বেসিক ইংরেজি শিখে নিন।
  • ওয়েব ডেভেলপমেন্ট যেহেতু একটি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ, তাই এটিতে সৃজনশীল চিন্তাভাবনার প্রয়োজন হবে। আপনার ভাল সৃজনশীল চিন্তা শক্তি থাকলে কাজ করতে সহজ হবে।
  • ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর কাজ শেখার আগে আপনার ডেস্কটপ বা ল্যাপটপে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার ইন্সটল করা প্রয়োজন হবে। এগুলোর মধ্যে NotePad++ ও Adobe Dreamweaver অন্যতম। তাই এগুলো আগেই ইন্সটল করে নিন।

ব্যস, যন্ত্রপাতি সব তো প্রস্তুত। এবার শুরু করে দিন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার যুদ্ধ।

এইচটিএমএল (HTML)

এইচটিএমএল (HTML) এর পুরো নাম হচ্ছে Hyper Text Markup Language।  অর্থাৎ বুঝতেই পারছেন যে এইচটিএমএল হচ্ছে এক ধরনের মার্কআপ ল্যাংগুয়েজ। এইচটিএমএল দ্বারা মূলত একটি ওয়েবসাইটের আলাদা আলাদা অংশগুলোকে মার্ক করা হয়।

এইচটিএমএল দ্বারা যেসব কাজ করা হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ওয়েবসাইটের হেডার কোথায় হবে, ফুটার কোথায় হবে, সাইডবার কোথায় থাকবে ইত্যাদি। এসব কাজকর্মগুলোকে এইচটিএমএল দ্বারা নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ কোনো একটি ওয়েবসাইটের প্রত্যেকটি অংশ আলাদাভাবে ভাগ করা বা নির্ধারণ করার জন্য আপনাকে অবশ্যই যে ভাষাটি শিখতে হবে সেটি হচ্ছে- এইচটিএমএল (HTML)।

এক্সএমএল (XML)

XML এর পূর্ন রুপ হলো eXtensive Markup Language। XML অনেকটা এইচটিএমএল এর মতই আরো একটি মার্কআপ ল্যাংগুয়েজ। তবে এক্সএমএল এর কাজ একটু ভিন্ন। এইচটিএমএল এর সাথে এক্সএমএল এর কিছু মিলের জায়গা আছে। যেমনঃ এখানেও এলিমেন্ট আছে, এট্রিবিউট আছে।

এই এলিমেন্টস, এট্রিবিউটস সহ আরো কিছু উপাদান ব্যবহার করে একটা এক্সএমএল (XML) ডকুমেন্ট তৈরী করা হয়। তবে এইচটিএমএল যেমন এলিমেন্ট বা ট্যাগ নির্দিষ্ট করা থাকে, যেমন Body, H1, P ইত্যাদি। অপরদিকে এক্সএমএল (xml) এ ট্যাগ গুলো নির্দিষ্ট করা থাকেনা। নিজের ইচ্ছেমত এলিমেন্ট বা ট্যাগ বানানো যায়।

এইচটিএমএল (HTML) এর সাথে এক্সএমএল (XML)  এর বড় একটা পার্থক্য হচ্ছে এক্সএমএল মার্কয়াপ ল্যাংগুয়েজে এট্রিবিউট বা ট্যাগ দ্বারা এলিমেন্টের ভিতর কি ডেটা আছে সেটা বর্ননা করা যায়।  কিন্তু এইচটিএমএল (HTML) এর ক্ষেত্রে এমন কোনো সুবিধা নেই। তাই HTML এর পাশাপাশি আমাদেরকে XML ও শিখতে হবে।

সিএসএস (CSS)

সিএসএসকে অনেকে ওয়েবসাইট ডিজাইন করার টুলস বলে থাকেন। এইচটিএমএল (HTML) দ্বারা আপনি একটি ওয়েবসাইটের যে অংশগুলোকে মার্ক করে আলাদা আলাদা করে ভাগ করেছেন, সিএসএস (CSS) এর মাধ্যমে সেই অংশগুলোর সাথে সাথে পুরো ওয়েবসাইটকে ডিজাইন করতে হবে।

আপনার তৈরীকৃত ওয়েবসাইটের প্রত্যেকটি অংশের মাপ-জোখ নির্ধারন করা, প্রত্যেকটি অংশের রঙ ও ডিজাইন নির্ধারন করা, ওয়েবসাটের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি ছবির সাইজ নির্ধারন করা, ওয়েবসাইটের অভ্যন্তরীণ লেখাগুলোর ফন্ট সাইজ কত হবে বা কোন ফন্ট হবে ইত্যাদি সহ যাবতীয় ডিজাইনের কাজ সিএসএস (CSS) এর মাধ্যমে করা হয়। তাই এ সমস্ত কাজ করার জন্য আপনাকে অবশ্যই CSS ল্যাংগুয়েজটিও শিখতে হবে।

Responsive Design

Responsive Design আসলে আলাদা কোনো প্রোগ্রামিং ভাষা না। এটি সিএসএস (CSS) ল্যাংগুয়েজেরই একটি অংশ। কোনো একটি ওয়েবসাইটকে সকল ধরনের ডিভাইস, যেমনঃ ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট ও স্মার্টফোনের উপযোগী করে গড়ে তোলার কাজ হচ্ছে Responsive Design এর মূল উপযোগিতা।

আপনার তৈরী করা ওয়েবসাইটকে সকল ধরনের ছোট কিংবা বড় স্মার্টফোন ও কম্পিউটারে পরিষ্কারভাবে রান করানোর জন্য Responsive Design আপনাকে অবশ্যই শিখতে হবে।  তাছাড়া ওয়েবসাইটের লেখা গুলো ভালোভাবে সকল ধরনের ডিভাইসে উপস্থাপন করার জন্য Responsive Design এর কাজ জানতে হবে।

তাই ভাল ওয়েব ডেভেলপার হতে গেলে Responsive Design শেখা অনেক বেশি জরুরি। আপনি যদি সিএসএস (CSS)  সম্পর্কে অভিজ্ঞ হোন, তাহলে এ কাজটি সহজে শিখতে পারবেন।

Javascript & jQuery

Javascript & jQuery এর কাজ শেখ একজন ওয়েব ডেভেলপার এর ক্ষেত্রে  অনেক বেশি জরুরি। জাভা স্ক্রিপ্ট ও Jquery আসলে কি জিনিষ? সহজ ভাষায়, Javascript & jQuery দিয়ে একটি ওয়েবসাইটের ইনটর একটিভ করা হয়। এই ইনটর এক্টিভিটি আসলে কি? একটি উদাহরণ দিলেই ইনটর একটিভিটি নিয়ে আপনাদের ধারনা স্পষ্ট হয়ে যাবে।

ধরুন কেউ আপনার ফেসবুকের পোস্টে কোন লাইক বা কমেন্ট করল, ঠিক সেই সময়েই আপনার কাছে একটি রিয়েল টাইম নটিফিকেশন আসে। এই কাজকেই মূলত ইনটর একটিভিটি বলা হয়। এই ইনটর এক্টিভিটির কাজ করার জন্য আপনাকে অবশ্যই Javascript & jQuery নামক প্রোগ্রামিং ভাষাটি শিখতে হবে।

তাছাড়া আপনার তৈরী করা ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ধরনের নিত্য নতুন স্লাইড শো, ইমেইল এর জন্য ফরম, ইমেইল এর জন্য সাবস্ক্রিবশন ফরম ও লগইন এর জন্য আলাদা ফরম তৈরি এবং এই ফরমগুলোকে ফ্যাংশনাল করার জন্য Javascript & jQuery লাগবে। সুতরাং অন্যান্য প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ এর পাশাপাশি একজন অভিজ্ঞ ওয়েব ডেভেলপার হতে গেলে আপনাকে অবশ্যই Javascript & Jquery শিখতেই হবে।

Read More

Bootstrap

প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ হিসেবে Bootstrap এর নাম আমরা সবাই শুনেছি। Bootstrap  হচ্ছে মূলত অনেক জনিপ্রয় একটি ফন্ট ইন ফ্রেমওয়ার্ক (Font-in-Framework) । Bootstrap ব্যবহার করে কোনো  ওয়েবসাইটকে অনেক বেশি আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা যায়।

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর ক্ষেত্রে অধিকাংশ ক্লায়েন্টই তাদের ওয়েবসাইটের ডিজাইন করার জন্য Bootstrap ব্যবহার করার কথা জোর দিয়েই বলে দেন। এইচটিএমএল (HTML), সিএসএস (CSS),  Javascript & jQuery এগুলো সবার আগে শিখে ফেলতে হবে। এগুলো শেখার পর Bootstrap শেখাটা আপনার জন্য একদম সহজ হয়ে যাবে। অভিজ্ঞ ওয়েব ডেভেলপার হতে গেলে এইটুকু কস্ট তো করতেই হবে, তাইনা?

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর জন্য কোন ধরনের প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ শিখব?

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার ক্ষেত্রে প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ বাছাই করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। লেখাটির এই অংশে আমরা ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর জন্য কোন ধরনের প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ শিখতে হবে সেটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

পিএচপি (PHP)

ডায়নামিক ওয়েবসাইট চালনার ক্ষেত্রে HTML এর চেয়ে PHP শেখা অনেক বেশি দরকারী৷ আপনার তৈরীকৃত কোনো ওয়েবসাইটকে ডায়নামিক বা ফাংশনাল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আপনাকে অবশ্যই পিএইচপি (PHP) শিখতে হবে।

এই লেখাটির উপরের অংশটিতেই আমরা ডায়নামিক ওয়েবসাইট নিয়ে আলোচনা করেছি। ডায়নামিক ওয়েবসাইটের ডিমান্ড সব সময়ই স্ট্যাটিক ওয়েবসাইটের চাইতে অধিক। সাধারণত যে ওয়েবসাইট বেশি ডায়নামিক করা থাকে, সে ওয়েবসাইট বা থিমের চাহিদা অনেক বেশি হয়। তাই ডায়নামিক ওয়েবসাইট তৈরীর জন্য আপনাকে অবশ্যই  পিএইচপি (PHP) ল্যাংগুয়েজে জোর দিতে হবে।

 ওয়ার্ডপ্রেস (WordPress)

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর কাজ শিখতে চান অথচ ওয়ার্ডপ্রেসের নাম শুনেন নি, এমন ঘটনা হতেই পারেনা। ওয়ার্ডপ্রেসের নাম কে না জানে? ওয়ার্ডপ্রেস হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের সবচাইতে জনপ্রিয় CMS (Content Management) সফটওয়্যার। বর্তমানে বিশ্বের যত জনপ্রিয় ওয়েবসাইট রয়েছে, সেগুলোর প্রায় 70% ওয়েবসাইটই ওয়ার্ডপ্রেস এর মাধ্যমে তৈরী হয়েছে।

এ কারনে অন্যান্য প্রোগ্রামিং ভাষা জানার পাশাপাশি আপনি অবশ্যই ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিবেন। আমাদের এই লেখাটির আগের অংশে উল্লিখিত প্রোগ্রামিং ভাষার বিষয়গুলো শিখতে পারলে ওয়ার্ডপ্রেস শিখতে আপনার খুব বেশি সময় লাগবে না।

গিট (Git)

ওয়েবসাইট বা সফটওয়্যার এর ভার্সন আপডেটের জন্য গিট (Git) এর নাম সারাবিশ্বেই সুপরিচিত। Git হচ্ছে সফটওয়্যার ভার্সন কট্রোল এর একটি সিস্টেম। যেকোন ওয়েবসাইট বা সফটওয়্যার তৈরী করলেই সেটির কাজ শেষ হয়ে যায়না। এটিকে আরো অধিক জনপ্রিয় ও স্মুথ ভাবে চালু রাখার জন্য প্রতিনিয়ত একে আপডেট রাখতে হয়।

আপনার তৈরী করা ওয়েবসাইটের ভার্সনকে আপডেট রাখার জন্য আপনাকে অবশ্যই গিট (GIT)  শিখতে হবে। এমনকি আপনার তৈরিকৃত কোন ওয়েবসাইট বিক্রি করে দিলে ভবিষ্যতে ক্লায়েন্টদেরকে আপনি গিট এর মাধ্যমে সেই ওয়েবসাইটের নিয়মিত আপডেট দিতে পারবেন।

আপনি যত ভালভাবেই ওয়েবসাইট তৈরী করেন না কেন, আপডেট ছাড়া কোন সফটওয়্যার বা ওয়েবসাইটের উপর মানুষ আস্থা রাখতে পারেনা।  কাজেই একটু এডভান্স লেভেলের ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কাজ করার জন্য এবং ওয়েবসাইট সবসময় আপডেট রাখার জন্য আপনাকে অবশ্যই গিট (Git) শিখে নিতে হবে।

UI অথবা UX

আমরা অনেকেই হয়তো UI বা UX এর নাম শুনেছি৷ এই UI বা UX আসলে কি ধরনের জিনিষ। মূলত কোনো একটি ওয়েবসাইটের সম্পূর্ন ডিজাইন করাই হচ্ছে UI এর কাজ। আপনি যদি একজন ভালো মানের ওয়েব ডিজাইনার হতে চান, তাহলে আপনাকে অবশ্যই UI জানতে হবে।

এই UI সম্পর্কে ভালো ধারণা না  থাকলে আপনি কখনোই নিজে নিজে ওয়েবসাইটের বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন তৈরি করে নিজের সৃজনশীলতা দেখাতে পারবেন না। যদি আপনি একজন ফুল স্ট্যাক ওয়েব ডেভেলপার হতে চান, তাহলে আপনার অবশ্যই UI সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা থাকা প্রয়োজন।

 এসইও (SEO)

আপনার মনে হয়তো প্রশ্ন আসতে পারে যে একজন ওয়েব ডেভেলপারকে কেন SEO শিখতে হবে? তবে একজন ওয়েব ডেভেলপারকে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা SEO এর এ্যাডভান্স বিষয় জানার প্রয়োজন না হলেও বেসিক বিষয়ে ধারনা রাখতেই হবে। কারণ ওয়েবসাইট তৈরী করার সময় বিভিন্ন ধরনের ট্যাগ বা এলিমেন্টস গুলোকে যেগুলোর সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের উপযোগী করে তৈরি করতে হয়।

কোনো ওয়েবসাইট তৈরী করার সময়ে বিশেষ করে ওয়েবসাইটের কোথায় Heading 1 , Heading 2, Heading 3 ট্যাগ থাকবে এবং কোন কোন HTML অংশে সঠিক স্কীমা ব্যবহার করতে হবে, সেটি জানা না থাকলে ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজ হবে না।

আর ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজ করা না গেলে দেই ওয়েবসাইট তৈরি করে আপনার ক্লায়েন্টও কোনোভাবেই লাভবান হতে পারবেনা। তাই সার্চ ইঞ্জিন ওপ্টিমাইজেশন (SEO) শেখার দিকেও একজন ওয়েব ডেভেলপারকে নজর দিতে হবে৷

ফটোশপ (Photoshop)

এসইও শেখার পাশাপাশি একজন ভালোমানের ওয়েব ডিজাইনার বা ওয়েব ডেভেলপার হওয়ার জন্য ফটোশপ জানাটা অনেক বেশি জরুরি। ওয়েব ডেভেলপারদের কে অনেক সময় ওয়েবসাইট ডিজাইন করার জন্য মাঝে মধ্যে ওয়েবসাইটের লোগো ডিজাইন করারও প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে ফটোশপ এর বেসিক জানা না থাকলে আপনি লোগো ডিজাইন করতে পারবেন না।

ফলে আপনি কোনো অভিজ্ঞ ওয়েব ডেভেলপার হতে পারবেন না। তাছাড়া আমাদের ক্লায়েন্টরা সাধারনত প্রথমে ফটোশপে তাদের ওয়েবসাইটের ডিজাইন করে। এরপর সাইট তৈরীর জন্য একজন ওয়েব ডেভেলপারের কাছে নিয়ে আসে। এ ক্ষেত্রে ফটোশপের এই ছবি থেকে ওয়েবসাইটের এলিমেন্ট আলাদা করার জন্য অবশ্যই ফটোশপ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা প্রয়োজন হবে।

কিভাবে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখব

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার ক্ষেত্রে কি কি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ শিখবেন তার একটি স্পষ্ট ধারনা ইতোমধ্যেই হয়তো আপনারা পেয়ে গেছেন।  এই লেখাটির পরের অংশগুলোতে এখন কিভাবে এবং কোথায় ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখবেন সে বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

আপনাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো অনলাইনের মাধ্যমে সহজে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার উপায় খুঁজে থাকেন। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে, অতি সহজে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার কোন জাদু মন্ত্র বা কোর্স নেই। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার মানে হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ শেখা। আর আপনি অবশ্যই জেনে থাকবেন যে, প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ শেখার কোনো জাদুমন্ত্র বা শর্টকাট এখনো আবিষ্কার হয়নি। তবে আপনি ধৈর্য ধারণ করে নিচের উপায়গুলো অনুসরণ করলে অল্প দিনে কোনো জাদুমন্ত্র ছাড়াই একজন ভাল মানের ওয়েব ডেভেলপার হতে পারবেন।

প্রথম ধাপ- ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার জন্য আপনার যে যে দক্ষতার প্রয়োজন তা বাছাই করে নিন

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর কাজ মূলত একটি সৃজনশীল পেশা। এটি একটি দক্ষতা ভিত্তিক পেশা।  ফলে কোনও প্রযুক্তি নির্দিষ্ট ব্যাচেলর ডিগ্রি বা এমনকি কোনও ডিগ্রি না থাকলেও আপনি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর কাজ করতে পারবেন। আপনার যদি দক্ষতা থাকে তবে কাজ করার জন্য কোনো ডিগ্রীর প্রয়োজন নেই।

তাই ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার পথে প্রথম ধাপটি হচ্ছে এই  কাজ করার জন্য কি কি দক্ষতা প্রয়োজন সেটির একটি তালিকা তৈরী করে ফেলা।

প্র‍য়োজনীয় দক্ষতার তালিকা করার আগে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে আপনি কোন ধরনের ওয়েব ডেভেলপার হতে চান। ইতোমধ্যেই আমরা জেনে গেছি যে দুই ধরনের ওয়েব ডেভেলপার রয়েছে। যথা- ফ্রন্ট-এন্ড ডেভলপমেন্ট এবং ব্যাক-এন্ড ডেভলপমেন্ট ।

এখন ফ্রন্ট এন্ড ওয়েব ডেভলপার হওয়ার ক্ষেত্রে যেসব ল্যাংগুয়েজে দক্ষতা প্রয়োজন হবে সেগুলো হলো

  • HTML
  • CSS
  • JavaScript

এখন ব্যাক-এন্ড ডেভেলপার হওয়ার ক্ষেত্রে আবার ভিন্ন রকমের কিছু প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ এর দক্ষতা প্রয়োজন হবে। ব্যাক এন্ড ওয়েব-ডেভেলপমেন্ট এর ক্ষেত্রে দক্ষতা সমুহ হলো-

  • HTML
  • CSS
  • JavaScript / NodeJS
  • PHP / Laravel

এজ দক্ষতাগুলি ফ্রন্ট-এন্ড বা ব্যাক-এন্ড ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শুরু করার প্রয়োজনীয়। তবে আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, দক্ষতা গুলো শেখার ক্ষেত্রে আপনার ব্যক্তিগত পদ্ধতি এবং ওয়েব ডেভেলপার হওয়াদ অনুপ্রেরণা আপনার দক্ষতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। অন্য যেকোনও ক্যারিয়ারের মতো, সফল ওয়েব ডেভেলপার হতে গেলে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ  গ্রহণ করার ক্ষেত্রে উদ্যোগ নিতে হবে। প্রতিনিয়ত শিখতে হবে। তবে এটি সত্য যে নিজের কাজটি উপভোগ করা সবচেয়ে বেশি জরুরি।

Read More:

দ্বিতীয় ধাপ: ওয়েব ডেভলপমেন্ট শেখা শুরু করুন এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করুন

আপনি কেন ওয়েব ডেভলপমেন্ট এর দক্ষতা অর্জন করবেন, কি কি দক্ষতা অর্জন করবেন এবং কীভাবে ওয়েব ডেভেলপার হতে হবে সে সম্পর্কে আপনি পরিষ্কার ধারনা হয়তো ইতোমধ্যে পেয়ে গেছেন। এবার তালিকায় থাকা সেই দক্ষতাগুলি শেখা শুরু করার সময় এসেছে।

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার জন্য তাহলে কি এখন ৪ বছরের অনার্স কোর্সে ভর্তি হতে হবে? উত্তরটি হচ্ছে, না! আপনি ইচ্ছা করলে কোনো কোর্সে ভর্তি হয়ে ক্লাসরুমের সেটিংয়ে বসে  এইচটিএমএল, সিএসএস এবং জাভাস্ক্রিপ্টের মতো দক্ষতাগুলো অর্জন করতে পারবেন। আবার আপনি নিজের বাড়ীতে থেকে অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে নিজের গতিতে এগুলি শিখতে পারবেন। আবার  পরিপূর্ন গাইড এর জন্য বিভিন্ন ট্রেনিং এ অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

তৃতীয় ধাপ- এইচটিএমএল, সিএসএস এবং জাভাস্ক্রিপ্ট দিয়ে প্রোগ্রামিং শেখা শুরু করুন

প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ শেখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ল্যাংগুয়েজ থাকায় অনেকেই শুরুতে বুঝে উঠতে পারেন না যে কি ধরনের ভাষা শেখা দরকার।

আপনি ব্যাক এন্ড ডেভেলপার বা ফ্রন্ট এন্ড ডেভেলপার যে ধরনেরই ডেভেলপার হোন না কেন, আপনাকে কিছু প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ অবশ্যই শিখতে হবে। এগুলার মধ্যে  এইচটিএমএল, সিএসএস, জাভা স্ক্রিপ্ট অন্যতম। আবার এই ভাষা গুলো অন্যান্য প্রোগ্রামিং ভাষার বেসিক ভাষা। তাই প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ শেখার শুরুতে এই ভাষাগুলো শিখে নিন।

চতুর্থ ধাপ- ফিডব্যাক এবং পরামর্শের জন্য একটি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কমিউনিটি খুঁজে যোগদান করুন

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট যেহেতু একটি সৃজনশীল কাজ তাই নিজে কাজ শেখার পাশাপাশি সারাবিশ্বের অন্যান্য প্রোগ্রামারদেরও কাজ দেখা উচিত। টিউটোরিয়াল এবং অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে দক্ষতা ও কাজ শেখার পাশাপাশি আপনাকে GitHub এবং Stack Overflow এর মতো অনলাইন কোডিং রিলেটেড কমিউনিটি গুলোতে অংশ নিতে হবে।

Github হচ্ছে এমন একটি অনলাইন কোডিং কমিউনিটি। এটি এমন একটি ফোরাম যেখানে ওয়েব ডেভেলপার রা তাদের নিজেদের কাজ করা প্রকল্প গুলোকে পোস্ট করতে পারেন। পাশাপাশি এই কোডিং কমিউনিটিতে আপনি অন্যান্য ওয়েব ডেভেলপার দের সাথে কোড ভাগাভাগি করে নিতে পারবেন। তাদের সবার কাজের বিষয়ে পিয়ার-টু-পিয়ার মন্তব্য পেতে পারেন।

Stack Overflow এমন আরেকটি কোডিং-সম্পর্কিত কমিউনিটি। এই কমিউনিটিতে ডেভেলপাররা মূলত একটি প্রশ্ন-উত্তর বিন্যাসের মাধ্যমে ইন্টারেকশন করে থাকে। ওয়েব ডেভেলপারদের জন্য এই দুটি প্ল্যাটফর্মেই আপনি কী শিখেছেন তা শেয়ার করার চেষ্টা করা এবং বাস্তব-জগতের অভিজ্ঞতা এবং ফিডব্যাক অর্জন করার জন্য আদর্শ জায়গা।

পঞ্চম ধাপ- দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিনামূল্যের কন্টেন্টগুলো নিয়ে অনুশীলন করুন

সব শেষ ধাপে আপনি ওয়েব ডেভেলপার দের জন্য তৈরী করা হাজার হাজার বিনামূল্যের কন্টেন্ট গুলোর সাথে নিজেকে পরিচিত করতে থাকুন। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার সময় নয় এই কাজটি আপনার কাজকে সর্বাধিক মানসম্পন্ন করে তুলবে ।

আপনার আশেপাশে থাকা Text Editor, Web Browser গুলোর বিভিন্ন extension অথবা কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম গুলোর মাধ্যমে আপনি সহজেই এই কাজটি চালিয়ে যেতে পারবেন। আপনি হয়তো দেখে অবাক হবেন যে আপনি বিনামূল্যে কত ধরনের কন্টেন্ট ইন্টারনেট জুড়ে পেয়ে যাচ্ছেন।

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ফ্রি কোর্স

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার আগে প্রয়োজনীয় সবকিছু তো ইতোমধ্যে জেনেই গেছেন। অনলাইনে এসব টিউটোরিয়ালের মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আপনাকে টাকা খরচ করতে হবে। তবে অনলাইনের মাধ্যমে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার ক্ষেত্রে

Codeacademy এবং w3schools এর  মতো কিছু ওয়েবসাউটের মাধ্যমে বিনামূল্যেও এইচটিএমএল, সিএসএস এবং জাভাস্ক্রিপ্ট টিউটোরিয়াল গুলো শেখা যায়।

ইন্টারনেটে কন্টেন্ট খোঁজার ক্ষেত্রে আপনাদের জন্য সবচেয়ে বড় পরামর্শ হচ্ছে, সার্চ করতে শিখুন। আপনি ইন্টারনেটে যেকোন তথ্য যত দক্ষতার সাথে, যত দ্রুত খুঁজে বের করতে পারবেন, আপনার শেখার সুযোগটাও তত বিস্তৃত হবে। বিনামূল্যে কোনো কিছু শেখার জন্য ইন্টারনেটের বিকল্প নেই!

সার্চ করা শিখলে সহজেই আপনি যা শিখতে চান বা জানতে চান ইন্টারনেটে সার্চ করলে হাজার হাজার রিসোর্স পেয়ে যাবেন। সুতরাং, যারা ওয়েব ডেভেলপার হতে চান বা ওয়েব ডেভেলপিং শুরু করতে চান তাদের এ সম্পর্কিত সকল পড়াশোনার জন্য ইন্টারনেটে রিসোর্স খুঁজে পাবেন।

তাছাড়া আপনারা যারা যারা অনলাইনে এইচটিএমএল, সিএসএস এবং PHP শেখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এর সাথে যাদের ক্ষেত্রে ওয়েব প্রোগ্রামিং শেখার খুব আগ্রহ আছে, বা ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখা শুরু করতে চাইছেন তাঁরা সংগ্রহে রাখতে পারেন নিচের ওয়েবসাইটগুলোকে লক্ষ্য রাখতে পারেন।

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর ভবিষ্যত

ইন্টারনেট এর জগতের শুরু বা শেষ বলতে আসলে কিছু নেই। ওয়েবসাইটও এমন একটি জায়গা যার শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। সুতরাং ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট এর কাজের ক্ষেত্রেও তাই সম্ভাবনাও অনেক বেশি!

সারাবিশ্বেই বর্তমানে বিভিন্ন জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস গড়ে উঠেছে। এগুলোর মধ্যে আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সার, ফাইভার ইত্যাদি অন্যতম। জনপ্রিয় অনলাইন মার্কেটপ্লেস ওডেস্কে প্রায় সবসময়ই ওয়েব ডেভেলপমেন্ট নিয়ে হাজার হাজার ধরনের  কাজ থাকে।

ফ্রিল্যান্সারে রয়েছে ২০  হাজারেরও বেশি ওপেন জব। এদের প্রজেক্টে ঘন্টা প্রতি গড় রেট ২৫ ডলার থেকে শুরু করে ১৫০ ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে। উত্তরোত্তর এই রেট শুধু বাড়ছেই। কাজের প্রবৃদ্ধি দেখলেই বুঝা যায় কাজের চাহিদা কত বেশি বাড়ছে। আশা করি বুঝতেই পারছেন, ক্যারিয়ারের ভবিষ্যত কেমন হতে পারে!

শেষ কথা

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ডিমান্ডিং পেশাগুলোর মধ্যে একটি৷ এই লেখাটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে থাকলে আপনি ইতোমধ্যেই ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর সব কিছুই হয়তো জেনে গেছেন।

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক আরো কোনো প্রশ্ন থাকলে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানিয়ে দিন। আর লেখাটি ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই সোসাল মিডিয়াতে শেয়ার করবেন।

আরও পড়ুন

Leave a Comment

Share via
Copy link
Powered by Social Snap