অনলাইন ব্যবসা কি? কিভাবে শুরু করব, লাভজনক অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া

Online Business: বর্তমানে সারাবিশ্বে প্রযুক্তির উন্নয়ন হওয়ার সাথে সাথে ইন্টারনেট জগৎটাও পৌঁছে গেছে অনেক শীর্ষে। কেনাকাটা, বিভিন্ন সেবা থেকে শুরু করে অনলাইনে ব্যবসা (Online Business) করা যাচ্ছে বিভিন্ন সেক্টরে। বর্তমানে অনলাইনে ব্যবসা (Online Business) করে অনেকেই স্বাবলম্বী হচ্ছেন খুব অল্প সময়েই। আবার অনেকেই অনলাইন ব্যবসা থেকে ছিটকে পড়ে যাচ্ছেন।

আজকের এই টিউটোরিয়ালে আমি আলোচনা করব কিভাবে অনলাইনে ব্যবসা (Online Business) করা যায় এবং বেশ কিছু জনপ্রিয় ও লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে। যে ব্যবসা গুলি খুবই সহজ এবং ঘরে বসে পরিচালনা করা সম্ভব।

আলোচনার শুরুতেই জেনে নিতে হবে অনলাইন ব্যবসা আসলে কি? এটা কিভাবে পরিচালনা করতে হয়? অনলাইন ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন? কেমন পুজিঁর প্রয়োজন? কেন মানুষ অনলাইন ব্যবসার দিকে ঝুকছে? এর সবকিছুই থাকছে এই টিউটোরিয়ালে।

অনলাইন ব্যবসা কি? কীভাবে শুরু করব। সহজ অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া।
অনলাইন ব্যবসা কি? কীভাবে শুরু করব। সহজ অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া।

অনলাইন ব্যবসা কি? What is Online Business?

অনলাইন ব্যবসা হল যে সকল ব্যবসা ঘরে বসে ভার্চুয়াল ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেগুলো হচ্ছে অনলাইন ব্যবসা। অর্থাৎ যে সকল ব্যবসা একটি কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট কানেকশনের মাধ্যমে কাস্টমারদের সাথে যোগাযোগ এবং সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব সেগুলি হচ্ছে অনলাইন ব্যবসা।

আমি আরো সহজ করে বলছি, মনে করুন আপনার একটি ওয়েবসাইট রয়েছে সেখানে আপনি গ্যাস সিলিন্ডার রেখে কাস্টমারদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব করেছেন। এবং কোন কাস্টমার আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনাকে গ্যাস সিলিন্ডারের অর্ডার করলে আপনি সেই সিলিন্ডারটি তার বাসায় পৌঁছে দেবেন। এই প্রক্রিয়ায় যে ব্যবসা পরিচালনা হয় সেটি হচ্ছে অনলাইন ব্যবসা

Read More-

আরো একটি উদাহরণ হল: মনে করুন আপনার একটি ওয়েবসাইট রয়েছে সেখানে কিছু নতুন ফিচার যুক্ত করা প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে আপনি অনলাইনের মাধ্যমে অন্য যে কোন কোম্পানির কাউকে হায়ার করলেন আপনার ওয়েবসাইটে ফিচার যুক্ত করার জন্য। আপনি যে কোম্পানিকে আপনার ওয়েবসাইটটি কাজ করার জন্য দিয়েছেন তাদের যে ব্যবসাটি রয়েছে সেটা হচ্ছে অনলাইন ব্যবসা।অনলানে ব্যবসা কিভাবে শুরু করা যায়

অনলাইন এবং অফলাইন ব্যবসার পার্থক্য/Online vs Ofline Bisiness:

অনলাইন এবং অফলাইন ব্যবসার মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। আপনি যদি অনলাইনে ব্যবসা (Online Business) পরিচালনা করতে চান না সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে এ বিষয়গুলো ভালো ভাবে জানতে হবে। অনলাইন এবং অফলাইন ব্যবসার মূল পার্থক্য গুলো নিম্নে আলোচনা করছিঃ

মূল পার্থক্য (Main Deferent )

অনলাইন ব্যবসা হল, যে সকল ব্যবসা শুধুমাত্র ঘরে বসে কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট এর মাধ্যমে পরিচালনা করা সম্ভব সেগুলো।

পক্ষান্তরেঃ কোন নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট ব্যবসা করাই হলো অফলাইন ব্যবসা।

Read More: অনলাইনে আয়ের সবচেয়ে সহজ উপায়।

লোকেশন (Location)

অনলাইন ব্যবসা আপনি বিশ্বের যেকোন জায়গা থেকে ঘরে বসে পরিচালনা করতে পারবেন তার জন্য আপনার নির্দিষ্ট কোন জায়গা অথবা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন নেই। অনলাইন ব্যবসা পরিচালনা করতে শুধুমাত্র আপনার একটি কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ অথবা ভালো মানের একটি স্মার্টফোন ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে যে কোন জায়গা থেকেই পরিচালনা করতে পারবেন।

পক্ষান্তরে যদি অফলাইন ব্যবসা করেন সেক্ষেত্রে আপনার অবশ্যই একটি প্রতিষ্ঠান তথা অফিস প্রয়োজন হবে। তার সাথে প্রয়োজন হবে এসেট্স এবং অন্যান্য যাবতীয় সামগ্রী। এমনকি একটি স্টোর এর ও প্রয়োজন হতে পারে।

আরো পড়ুন:

বিনিয়োগ (Investment)

অনলাইন ব্যবসাতে বিনিয়োগের দিকে হিসাব করলে বেশকিছু ব্যবসা রয়েছে যেখানে স্বল্প পুঁজি এমনকি পুঁজি ছাড়াও ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। তবে হ্যাঁ ম্যাক্সিমাম বিজনেস গুলোতে অল্প পুজিতে শুরু করা সম্ভব। সুতরাং সহজে বোঝা যাচ্ছে অনলাইন ব্যবসা গুলোতে স্বল্প পুঁজিতে এবং অল্প সময় ব্যয় করে ঘরে বসে বিভিন্ন ধরনের ছাড়াই শুরু করা সম্ভব। এমনকি কম বিনিয়োগে বেশি মুনাফা করার একটি বিজনেস হল অনলাইন ব্যবসা।

পক্ষান্তরে: অফ লাইন/ লোকাল ব্যবসা গুলোতে প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজন হয় পাশাপাশি ফার্নিচার, ডেকোরেশন, লাইটিং ইত্যাদি বিষয়েও একটি বড় ধরনের খরচের ব্যাপার রয়েছে। এদিকে বিবেচনা করলে অফলাইন অর্থাৎ লোকাল ব্যবসা গুলো বেশি পুঁজি খাটিয়ে বেশি শ্রম দিয়ে যে লাভবান হওয়া সম্ভব, তারচেয়ে অনেক অংশে কম খরচ করে অনলাইন ব্যবসা গুলোতে অধিক মুনাফা অর্জন করার সুযোগ রয়েছে।

শপ (Store):

অনলাইন ব্যবসা শুরু করার জন্য কোন রকম শোরুম বা দোকানের প্রয়োজন হয় না। নিজের যেকোনো একটি জায়গা থেকেই ব্যবসা শুরু করা সম্ভব হয়। যেহেতু অনলাইন ব্যবসা গুলোতে দোকান বা শোরুম এর প্রয়োজন হয় না সেহেতু খুব সহজেই এ ব্যবসাটি শুরু করা যায়। একটি শোরুম বা দোকানের জন্য যে ধরনের পুঁজি প্রয়োজন ছিল সেগুলো অনলাইন ব্যবসার অন্যান্য কাজে খরচ করা যেতে পারে।

পক্ষান্তরে: একটি লোকাল ব্যবসা শুরু করতে হলে অবশ্যই একটি শোরুম এর প্রয়োজন হবে। এবং সেখানে একটি বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। তাই অফলাইন বাল্যকাল ব্যবসার চেয়ে অনলাইন ব্যবসাটা শুরু করা খুবই সহজ। এবং এতে অধিক মুনাফা অর্জন করার সুযোগ রয়েছে।

সময় (time table):

সময়ের কথা হিসাব করলে অনলাইন ব্যবসা গুলোতে নির্ধারিত কোন সময়ে কাজ করতে হয় না। অর্থাৎ আপনার ব্যবসাটি অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন কাস্টমারের কাছে পৌঁছাবে এবং বিভিন্ন কাস্টমার আপনার ওয়েবসাইট বা বিজনেসকে দেখতে পারবে এবং সেখানে তারা অর্ডার করবে, পরবর্তীতে আপনি যেকোনো সময় এসে অর্ডারটি কে একসেপ্ট করে ডেলিভারির ব্যবস্থা অথবা সার্ভিস প্রোভাইড করবেন এবং বিনিময়ে কাস্টমারের অ্যাকাউন্ট থেকে আপনার একাউন্টে অটোমেটিক টাকা চলে আসবে।

কিন্তু হ্যাঁ মাঝে মাঝে বিভিন্ন কাস্টমার বিজনেস প্রোভাইডারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবে সে সমস্ত কাস্টমারের সাথে অবশ্যই যোগাযোগ রাখতে হবে।

পক্ষান্তরে: লোকাল ব্যবসা করতে গেলে যতক্ষণ কাস্টমার আপনার সামনে থাকবে বা কাস্টমারের সেবা প্রদান করবেন ততক্ষণ সে কাস্টমারকে সময় দিতে হবে। অনলাইন ব্যবসাতে একই সাথে কয়েকজন কাস্টমারের সাথে যোগাযোগ মেনটেন করা সম্ভব হয় কিন্তু অফলাইন তথা লোকাল ব্যবসা গুলোতে যখন একটি কাস্টমারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করবেন তখন অন্যান্য কাস্টমার আপনার জন্য অপেক্ষা করবে।

এই দিক দিয়ে বিবেচনা করলে, অফলাইন ব্যবসা গুলোর চেয়ে অনলাইন ব্যবসা গুলো অনেকাংশে সহজ।

সরঞ্জামাদি (Accessories)

সরঞ্জামাদি কি লাগবে, এ ব্যাপারে বলতে গেলে অনলাইন ব্যবসা গুলোতে সরঞ্জাম বলতে তেমন কিছু লাগেনা শুধু মাত্রঃ একটি কম্পিউটার, ভালো মানের ইন্টারনেট কানেকশন, একটি ওয়েবসাইট, এবং আনুষাঙ্গিক কিছু জিনিসপত্র। মোটামুটি এইসব জিনিসগুলো আপনার প্রস্তুত থাকলে আপনি অনলাইন ব্যবসা শুরু করে দিতে পারেন।

টার্গেটেড কাষ্টমার (Tergeted Customer):

কাস্টমারের কথা বিবেচনা করলে অনলাইন ব্যবসা গুলোর কাস্টমার world-wide তথা সারা বিশ্ব থাকবে, অথবা বিশ্বের যেকোনো একটি অংশকে টার্গেট করে আপনি ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। মজার বিষয় হলো অনলাইন ব্যবসা গুলোতে আপনি যেই লোকেশন টা কে টার্গেট করে বিজনেস করবেন আপনাকে সেই লোকেশনে উপস্থিত থাকতে হবে না।

আপনি বিভিন্ন ভার্চুয়াল যোগাযোগের মাধ্যমে কাস্টমারদের সাথে যোগাযোগ  রক্ষা করতে পারবেন।

পক্ষান্তরে:  অপ্রচলিত ব্যবসাগুলো করতে গেলে, আপনি যেই এরিয়াকে টার্গেট করে ব্যবসা পরিচালনা করবেন আপনাকে সেই এরিয়াতে অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রয়োজনে আপনার অফিসে কাস্টমার বা অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে বিভিন্ন মিটিং এ উপস্থিত থাকতে হবে।

কাস্টমারের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে, অন্যথায় আপনি একটি প্রচলিত ব্যবসা কোন ভাবেই পরিচালনা করতে পারবেন না। এটা সহজ ভাবে বোঝা যাচ্ছে যে অনলাইন ব্যবসা গুলো বিশ্বের যে কোন জায়গাকে টার্গেট করে যে কোন জায়গা থেকেই করা সম্ভব।

তাই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনলাইন ব্যবসা গুলোকে তাদের প্রধান ইনকামের উৎস করে নিচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন/ প্রচার প্রচারণাঃ (Advertisement)

বিজ্ঞাপন অথবা প্রচার-প্রচারণা করার জন্য অনলাইন ব্যবসা গুলোর নরমালি ভার্চুয়াল বিজ্ঞাপন হয়ে থাকে। আর অনলাইন ব্যবসা গুলোর বিজ্ঞাপন প্রচার করা খুবই সহজ। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া, বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ব্যানার বিজ্ঞাপন, ভিডিও বা অডিও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সারা বিশ্বের যে কোন এরিয়াতে খুব সহজেই প্রচার করা যায়।

অনলাইন ব্যবসা গুলোর ভার্চুয়াল বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য খরচ তুলনামূলক কম। তাই অল্প খরচে বেশি সংখ্যক কাস্টমারের কাছে আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপনটি পৌঁছানো সম্ভব হয়।

পক্ষান্তরে: লোকাল, প্রচলিত ব্যবসার বিজ্ঞাপন করতে গেলে বিভিন্ন টিভি মিডিয়া, প্রেস মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে গেলে অনেক ব্যয়বহুল হয়। তুলনামূলকভাবে অল্পসংখ্যক কাস্টমারের কাছে এই বিজ্ঞাপনটির পৌঁছে। কেননা এক্ষেত্রে টার্গেট করে কোনো কাস্টমারের কাছে বিজ্ঞাপন পৌঁছানো সম্ভব হয় না।

মার্কেটিং (Marketing)

অনলাইন বিজনেস এর মার্কেটিং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media), ছাড়াও বিভিন্ন ভাবে ফ্রি এবং টাকা খরচ করে মার্কেটিং করা সম্ভব হয়। অনলাইন ব্যবসা গুলোর মার্কেটিং করার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হল:  সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, ইমেইল মার্কেটিং, সিপিএ মার্কেটিং, লিড জেনারেশন, গুগল এডওয়ার্ড, ভিডিও মার্কেটিং ইত্যাদি।

পক্ষান্তরে, প্রচলিত ব্যবসা তথা লোকাল ব্যবসাগুলো মার্কেটিং করতে গেলে দক্ষ জনবল দিয়ে বিভিন্ন সেক্টরে এরিয়াতে মার্কেটিং করতে হয়। লোকাল ব্যবসার মার্কেটিং এর জন্য লোক রেখে মার্কেটিং করতে গেলে প্রচুর টাকা খরচ করতে হয়। অনলাইন ব্যবসা গুলোতে এর ম্যাক্সিমাম গুলিতে বা অল্প টাকা খরচ করেই করা সম্ভব।

কেন অনলাইন ব্যবসা করবেন

উপরে যে সকল বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে এ বিষয়গুলো পড়ার পর অবশ্যই আপনার এই বিষয়টি ক্লিয়ার হয়ে গিয়েছে যে আপনি কেন অনলাইন ব্যবসা করবেন

তারপরও আমি সহজভাবে বলে দিচ্ছি অনলাইন ব্যবসা লোকাল বা প্রচলিত ব্যবসার চেয়ে বিজ্ঞাপন, মার্কেটিং, বিনিয়োগ, , লোকেশন , সময় ইত্যাদি প্রত্যেকটি বিষয়ে একত্রে বিবেচনা করলে অনলাইন ব্যবসা প্রচলিত ব্যবসার চেয়ে অনেক সহজ। অল্প সময়ে অল্প পুঁজিতে অধিক মুনাফা অর্জন করা সম্ভব হয় অনলাইন ব্যবসা গুলো থেকে।

যেহেতু প্রচলিত ব্যবসার চেয়ে অনলাইন ব্যবসা থেকে অধিক মুনাফা অর্জন করা যায় তাই আপনি অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে পারেন। তবে হ্যাঁ অনলাইন ব্যবসা করার জন্য আপনাকে অবশ্যই কিছু নিয়মকানুন আইডিয়া নিয়ে তারপরে ব্যবসায় নামতে হবে। আমি এই আর্টিকেলের নিচে দিয়ে দিয়েছি অনলাইন ব্যবসার বেশ কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য। এবং লাভজনক অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া

অনলাইন ব্যবসা শুরু করার জন্য কি কি প্রয়োজন

অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে হলে বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে তারপর অনলাইন ব্যবসায় নামতে হবে অন্যথায় আপনি মাঝপথে গিয়ে থেমে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া: (Online Business Idea)

অনলাইন ব্যবসা করতে হলে প্রথমেই যে বিষয়টি আপনার মাথায় রাখতে হবে তা হচ্ছে ভালো একটি ব্যবসার আইডিয়া। আপনি যদি শুরুতে ভালো একটি আইডিয়া না নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তাহলে সে ব্যবসা থেকে বেশি মুনাফা অর্জন করা সম্ভব হবে না। তাই অনলাইন ব্যবসা শুরু করার পূর্বে আপনাকে মুনাফা বিনিয়োগ লোকেশন বিজনেস প্লান সম্পন্ন ঠিকঠাক করে তারপর ব্যবসায় নামতে হবে।

অনলাইন ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স (Trade Licence for Online Business)

অনলাইন ব্যবসার লাইসেন্স অথবা ট্রেড লাইসেন্স এর কথা বলতে গেলে বর্তমানে ই-কমার্স ব্যবসা করতে গেলে সরকারি বা স্থানীয় সরকার অফিস থেকে একটি ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে। আমাদের দেশের জন্য কতটা ধরাবাধা নিয়ম কানুন এখনো করেনি।

তাই অনেকেই কোন ধরনের ট্রেড লাইসেন্স বা অনলাইন ব্যবসার লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।

অনলাইন ব্যবসার প্রকারভেদ (Kinds of Online Business)

অনলাইনে ব্যবসা (Online Business) এর কয়েকটি ধরন রয়েছে নিম্নে তাহা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তারমধ্যে অনলাইন ব্যবসা দুই রকম হয়ে থাকে, ক) সার্ভিস প্রদান অথবা সার্ভিস বিক্রয় এবং অন্যটি খ) পণ্য বিক্রয়

এ দুটি বিষয় সম্পর্কে নিম্নে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

সার্ভিস প্রদান/বিক্রয় (Service Sales)

অনলাইন ব্যবসার মধ্যে জনপ্রিয় যে ব্যবসা গুলো হচ্ছে সেগুলো হলো সার্ভিস প্রদান অথবা সার্ভিস বিক্রয়।

অনলাইন ব্যবসায়ী সার্ভিস এর ব্যবসা গুলোর মধ্যে সার্ভিসগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ১। ডিজিটাল সার্ভিস, ২। সরাসরি সার্ভিস।

ডিজিটাল সার্ভিস: (Digital Service)

যারা অনলাইনে ব্যবসা (Online Business) করে থাকেন তাদের প্রথম পছন্দ হয়ে থাকে ডিজিটাল সার্ভিস গুলোর দিকে। কেননা ডিজিটাল সার্ভিসগুলো প্রদান করতে খুবই সহজ এবং এতে হাতে-কলমে ঘরে বসে কাজ করা সম্ভব হয় ম্যাক্সিমাম গুলোতে। অনলাইনে ব্যবসা (Online Business) ডিজিটাল সার্ভিস গুলোর মধ্যে অন্যতম যে সার্ভিস গুলো হল:

ওয়েব ডিজাইন: (Web Design)

ডিজিটাল সার্ভিস গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ওয়েব ডিজাইন। যে কেউ চাইলেই এই সেকশনে একটি টিম তৈরি করে একটি অফিস করে সেখানে কিছু ডিজাইনার নিয়ে একটি এজেন্সি করে তুলতে পারেন। এবং বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস থেকে অর্ডার নিয়ে সেই এজেন্সি সদস্যগণ মিলে কাজ করে দিয়ে সহজেই আপনার ব্যবসা থেকে প্রচার ও প্রসার করতে পারেন।

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট: (web development)

ডিজিটাল সার্ভিস গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট। বর্তমান বিশ্বে অসংখ্য ওয়েবসাইট রয়েছে যেগুলোর প্রত্যেকটি ওয়েবসাইট ডেভেলপ করতে হয়। অথবা কোন ওয়েবসাইটের ভিতরগত কোন সমস্যা হলে সেগুলো তারা বাহিরে লোক দিয়ে কাজ করেনি এ সমাধান করে।

আপনি যদি একটি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি তৈরি করতে পারেন তাহলে অনেকে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস থেকে প্রচুর কাজ সংগ্রহ করে আপনাদের মাধ্যমে করে দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করতে পারেন।

গ্রাফিক্স ডিজাইন: (Graphic Design)

গ্রাফিক্স ডিজাইন একটি সৃজনশীল পেশা। যদি আপনার ভিতরে ক্রিয়েটিভিটি তথা সৃজনশীলতা থাকে তাহলে খুব সহজেই একটি ছোট্ট টিম নিয়ে গ্রাফিক ডিজাইনে এজেন্সি করে অনলাইন ব্যবসা করতে পারেন।

বর্তমানে গ্রাফিক্স ডিজাইন এর চাহিদা অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে। তাই আমি অনায়াসে বলতে পারি যদি কেউ গ্রাফিক ডিজাইন সম্পর্কে একটি তৈরি করে এবং বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস গুলোতে কাজ করে খুব দ্রুত এবং ভালো পজিশনে বুঝতে পারবে খুব সহজেই।

লগো ডিজাইন: (Logo Design)

লোগো ডিজাইন হলো গ্রাফিক ডিজাইন এর একটি অংশ। লোগো ডিজাইনে এজেন্সিগুলোকে ছোট ছোট লোগো ডিজাইন করে বড় বড় কোম্পানি থেকে ভালো পরিমাণে আয় করা সম্ভব। যেহেতু এটি গ্রাফিক্সের একটি অংশ তাই এতে প্রচুর সৃজনশীলতার প্রয়োজন রয়েছে।

একজন সৃজনশীল ব্যক্তি ছাড়া গ্রাফিক লাইফে খুব ভালো উন্নতি করতে পারে না। তাই আপনি লোগো ডিজাইনে তৈরি করার শুরুতেই আপনাকে ভাবতে হবে আপনি এ বিষয়ে কতটুকু বুঝেন বা জানেন।

ডোমেইন ব্যবসা: (Domain Business)

প্রতিনিয়ত নানান ধরনের ওয়েবসাইট নির্মাণ হচ্ছে। একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে একটি ডোমেইন বাধ্যতামূলক। তাই যারা ওয়েবসাইট তৈরি করছে তারা অবশ্যই একটি ওয়েবসাইটের জন্য একটি ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করে থাকে। কেউবা করে বড় কোন কোম্পানি থেকে আবার কেউ লোকাল ছোট ছোট কম্পানী থেকে।

আপনি চাইলে ডোমেইন এর যেকোনো একটি প্রোভাইডার থেকে ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন এর ব্যবসা শুরু করতে পারেন এতে প্রতিদিন বিক্রি হলে আপনার 2 থেকে 3 ডলার পরিমাণে লাভ থাকবে।

ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন এর রিসেলার ব্যবসা করতে গেলে শুধুমাত্র আপনাকে মার্কেটিং করতে হবে আর একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখানে প্রসেসিং গুলো রেডি রাখতে হবে।

হোস্টিং ব্যবসা: (Web Hosting Business)

হোস্টিং ব্যবসা ডোমেইন ব্যবসার মতই। আপনি একেবারে যেকোনো একটি কোম্পানি থেকে অনেক বেশি নিয়ে একটি হোস্টিং প্যাকেজ কিনবেন। এবং সেটিকে কয়েকভাগে ভাগ করে রিসেলার হিসাবে বিক্রি করবেন।

হোস্টিং এর ব্যবসায়ীরাই অর্ধেক লাভ হয়ে থাকে। অর্থাৎ আপনি যদি 20000 টাকা ইনভেস্ট করেন তাহলে 40 হাজার বা 50 হাজার টাকা ইনকাম করা সম্ভব।

ফটো ও ভিডিও এডিটিং: (Photo and Video Editing)

বর্তমানে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস গুলোতে ফটো অথবা ভিডিও এডিটিং এর প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। আপনি যদি ফটো এডিটিং এর একটি এজেন্সি স্টুডিও নির্মাণ করে সেখানে কিছু লোক রেখে কাজ করতে পারেন, তাহলে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস গুলো আপনাকে কাজ দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

শুধুমাত্র অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে কে ট্রাস্ট অর্জন করে আপনাকে কাজ আদায় করে নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন স্ক্রিপ্ট, বিজ্ঞাপন তৈরি: (Advertisement, Sript Making)

বর্তমানে যেহেতু অনলাইন ব্যবসা দিন দিন বেড়েই চলেছে তাই অনলাইন বিজ্ঞাপন স্ক্রিপ্ট এবং এনিমেশন তৈরি এর কাজ গুলোর  রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। যে কোন কোম্পানির অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা গুলোর বিজ্ঞাপনের জন্য বিভিন্ন এজেন্সির করে তাদের বিজ্ঞাপন তৈরী করে নিয়ে থাকে।

কেউ যদি ইচ্ছা করে যে, একটি বিজ্ঞাপন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে। তাহলে সে খুব সহজেই একটি টিম নিয়ে একটি বিজ্ঞাপন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে।

বিজ্ঞাপন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের জন্য কিছু মার্কেটের হায়ার করে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসগুলোর থেকে অর্ডার নিয়ে সে কাজগুলো খুব সহজেই ঘরে বসে করতে পারে অনলাইনের মাধ্যমে।

আমরা এতক্ষণ জানলাম অনলাইন ব্যবসাতে ডিজিটাল প্রোডাক্ট/সার্ভিস এর ব্যাপারে।

ফিজিক্যাল সার্ভিস (Phisical Service)

এখন আলোচনা করছি অনলাইন ব্যবসার মধ্যে ফিজিক্যাল সার্ভিস গুলো কি কি বা কিভাবে কাজ করে।

ফিজিক্যাল সার্ভিস হল আপনার অনলাইনে ব্যবসার (Online Business) প্রচার-প্রচারণা সবকিছু অনলাইনে হবে। কিন্তু আপনার সার্ভিসটি ফিজিক্যালি দিতে হবে। অর্থাৎ অনলাইনে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অথবা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আপনাকে কাজের অর্ডার দিবে আপনাকে সেই কাজের স্থানে গিয়ে, অথবা লোক পাঠিয়ে সার্ভিসিং করে দিতে হবে।

অনলাইন ব্যবসার মধ্যে ফিজিক্যাল সার্ভিস এর অন্যতম হলো-

অনলাইন কার সার্ভিস (Online Car service)

অনলাইন এ কার সার্ভিস, অর্থাৎ আপনি যে এরিয়াতে সার্ভিস দিচ্ছে এরিয়াতে কারো গাড়ি নষ্ট, পাঞ্ছার, বা সমস্য হলে, গাড়ির মালিক আপনাকে সার্ভিসের জন্য ডাকবে। লোকেশন অনুযায়ী আপনার সার্ভিসের লোক পাঠিয়ে সার্ভিসিং করে দিতে হবে। এ ধরনের সার্ভিসকে ফিজিক্যাল সার্ভিস বলা হয়।

অনলাইল লন্ড্রি (Online Landry)

অনলাইন লন্ড্রী এটি একটি জনপ্রিয় ব্যবসা। অর্থাৎ আপনার লোকাল এরিয়াতে যেসকল লোকেরা আপনাকে লন্ড্রি করার জন্য অর্ডার করবে আপনি আপনার সার্ভিসের মাধ্যমে বাসায় বাসায় গিয়ে তাদের লন্ড্রি সার্ভিস দিতে হবে।

এতে করে এককালীন অথবা সাপ্তাহিক বা মাসিক হারে আপনি কাষ্টমারদের চার্জ করতে পারবেন।

অনলাইন রেস্টুরেন্ট (Online resturant)

অনলাইনে রেস্টুরেন্ট এর ব্যবসা কেউ খুব ভালো একটি ব্যবসা। অর্থাৎ বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট হতে লোকাল এরিয়াতে এবং ডেলিভারি সার্ভিস দিয়ে ব্যবসা করাকেই অনলাইন রেস্টুরেন্ট ব্যবসা বলা হয়। অর্থাৎ রেস্টুরেন্টের একটি ওয়েবসাইট থাকবে এবং লোকজন সেখানে অর্ডার করলে তার বাসায় হোম ডেলিভারি দিতে হবে।

প্রোডাক্ট ক্রয় বিক্রয়- Product Buy sell

অনলাইনে ব্যবসা (Online Business) করার জন্য আরও একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে অনলাইনে প্রোডাক্ট বা পণ্য বিক্রয় করে ব্যবসা করা। অনলাইনে যারা ব্যবসা করছেন তারা যে সমস্ত প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করে থাকেন তারা দুই ধরনের হয়ে থাকে একটি হচ্ছে ডিজিটাল প্রোডাক্ট আরেকটি হচ্ছে ফিজিক্যাল প্রডাক্ট।

ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট (Phisical Product)

অনলাইনে প্রোডাক্ট বিক্রি করার জন্য ফিজিক্যাল করে যে সমস্ত প্রোডাক্ট রয়েছে সেগুলি হল যে প্রোডাক্টগুলো হাতে ধরা যায় বা সরাসরি ব্যবহার করা যায় সেটি হচ্ছে ফিজিক্যাল বা ডাইরেক্ট প্রোডাক্ট।

যেমন, রান্না ঘরের যাবতীয় আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, ফার্নিচার, ড্রেস, মোবাইল, কম্পিউটার, ইত্যাদি।

ডিজিটাল প্রোডাক্ট (Digital Product)

পক্ষান্তরে অনলাইন ব্যবসার ডিজিটাল প্রোডাক্ট গুলো হল যে সমস্ত প্রোডাক্ট হাতে ধরা ছোঁয়া যায় না কিন্তু সে প্রোডাক্ট গুলো ভার্চুয়াল ভাবে ব্যবহার করা হয়। অনলাইনে ব্যবসার মধ্যে ডিজিটাল প্রোডাক্ট নিয়ে ব্যবসা করলে এটি খুবই লাভজনক ব্যবসা।

ডিজিটাল প্রোডাক্ট নিয়ে অনলাইন ব্যবসা করলে সুবিধা হল এটি সরাসরি ডেলিভারি দিতে হয় না, অনলাইনের মাধ্যমে ডেলিভারি দেওয়া যায়, এই পণ্যগুলোর ইমেইল অথবা ওয়েবসাইট ডাউনলোড এর মাধ্যমে ডেলিভারি দেওয়া হয়।

অনলাইনে ব্যবসার জন্য জনপ্রিয় ডিজিটাল প্রোডাক্ট, ডোমেইন, হোস্টিং, সফটওয়্যার, মিডিয়া প্লেয়ার, ভার্চুয়াল কার্ড, ভার্চুয়াল একাউন্ট, ওয়েবসাইট প্লাগইন, ওয়েবসাইট টেমপ্লেট, থিম, ইত্যাদি।

অনলাইনে নিজস্ব ব্যবসার আইডিয়া

এছাড়াও আপনি চাইলে অনলাইনে যে কোন একটি বিষয় বা পণ্য নিয়ে আপনি নিজে নিজেই ব্যবসা শুরু করতে পারেন। অনলাইনে ব্যবসা  (Online Business) করার জন্য কিছু ভার্চুয়াল এবং ডাইরেক্ট পণ্য নিয়ে আলোচনা করলাম।

ব্লগিং- (Blogging)

অনলাইনে নিজস্ব ব্যবসা করার জন্য সবচেয়ে ভালো এবং পপুলার প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে ব্লগিং করা। যে কোন ব্যক্তির চাইলেই কিছু প্রাথমিক ধারনা নিয়ে একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে সেখানে ব্লগিং শুরু করতে পারেন এবং ঘরে বসেই আয় করতে পারেন। ব্লগিং এর মাধ্যমে যে সমস্ত পন্থায় আয় করা যায়- গুগল এডসেন্স, এফিলিয়েট মার্কেটিং, ব্যানার বিজ্ঞাপন বিক্রয়, ইত্যাদি।

ব্লগিং করে আয় করতে চাইলে আপনারা দেখতে পারেন: বাংলা ভাষায় পূর্ণাঙ্গ ব্লগিং টিউটোরিয়াল

ইউটিউব (Youtube)

জনপ্রিয় অনলাইন ব্যবসা গুলোর মধ্যে আরও একটি ব্যবসা হলো ইউটিউব। বর্তমানে আমাদের ইন্ডিয়া এবং বাংলাদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে ইয়ং জেনারেশন ইউটিউব থেকে ঘরে বসে আয় করছে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগ ছেলেমেয়েই ইউটিউব থেকে প্রোডাক্ট রিভিউ গুগল এডসেন্স এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে করে আসছেন।

ইউটিউব থেকে আয় করা ছাড়াও আরও বেশ কিছু মাধ্যম রয়েছে আপনারা চাইলে আমাদের এই আর্টিকেলটি দেখতে পারেন: ইউটিউব থেকে আয় করার এ টু জেড গাইড

গুগল এডসেন্স (Google Adsense)

গুগল এডসেন্স হতে পারে অনলাইন ব্যবসার আরো একটি অন্যতম মাধ্যম। আপনার যদি গুগল এডসেন্স নিয়ে অনলাইনে বিজনেস করতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই একটি ভালো মানের ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে গুগলের নীতিমালা মেনে।

গুগল এডসেন্স সম্পর্কে আমাদের এই ওয়েবসাইটে রয়েছে এডসেন্স থেকে আয় করার পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন

এফিলিয়েট ব্যবসা (Affiliate Business)

এফিলিয়েট মার্কেটিং:  অনলাইনে ব্যবসার (Online Business) আরও একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হলো এফিলিয়েট মার্কেটিং। এফিলিয়েট মার্কেটিং করে ঘরে বসেই অনলাইনে  ব্যবসা হতে পারে আপনার ক্যারিয়ার। এফিলিয়েট মার্কের্টি করে অনলানে ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রয়োজন ধর্য্য। এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে আরোও পড়ুন- এফিলিয়েট মার্কেটিং করে অনলাইনে আয়ের বাংলা টিউটরিয়াল। 

নিজের অনলাইন শপিং ওয়েবসাইট (e-commerce business )

অনলাইন ব্যবসা করার জন্য নিজের একটি অনলাইন শপিং ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। নিজে অনলাইন শপিং ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখানে নিজস্ব প্রোডাক্ট অথবা অন্যান্য কোম্পানির এফিলিয়েট প্রোডাক্ট বিক্রি করে সেখান থেকে প্রতিনিয়ত আয় করতে পারবেন। এর জন্য আপনি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া এবং এসইও এর মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটে প্রচুর পরিমাণে ভিজিটর আনতে পারবেন এবং তাদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।

ফেইসবুক মার্কেটিং (Facebook Marketing)

ফেসবুক মার্কেটিং হতে পারে আপনার অনলাইন ব্যবসার একটি অন্যতম মাধ্যম। আপনি চাইলে ফেসবুক মার্কেটিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ট্রাফিক পাঠানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন কোম্পানির প্রোডাক্ট সেল করার জন্য নির্দিষ্ট টার্গেটেড কাস্টমারদের কি করতে পারবেন।

এছাড়াও আপনি চাইলে ফেসবুকে আপনার নিজস্ব প্রোডাক্ট নিজস্ব কাস্টমার তৈরি করে তাদের কাছে বিক্রি করতে পারবেন।

বর্তমানে এ ব্যবসাটি খুবই সময়োপযোগী এবং চলমান প্রক্রিয়া। হাজার হাজার লোক এরপর ফেসবুক মার্কেটিং এর মাধ্যমে তাদের ব্যবসা কে প্রচার এবং প্রসার করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন খুব অল্প সময়েই।

Read More- ফেইসবুক থেকে কীভাবে টাকা আয় করা যায়।

প্রোডাক্ট প্রোমোট (Product Promotion)

আপনার যদি খুব সহজে বা অল্প সময়ে অনলাইন বিজনেস শুরু করতে চান তাহলে প্রডাক্ট প্রমোশন হতে পারে আপনার অনলাইন ব্যবসার একটি প্রধান উৎস। বিভিন্ন কোম্পানির প্রোডাক্ট করে আপনি তাদের প্রোডাক্ট এর জন্য কাস্টমার তৈরি করে দিতে পারেন। সেজন্য আপনি একজন এফিলিয়েট অর হিসেবে কমিশন নিতে পারেন অথবা ডাইরেক্ট পণ্য বিক্রয় করতে পারবেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং (Digital Marketing)

 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (Social Media Marketing)
এন্ড্রয়েড এপস তৈরি (Android Apps Making)

সর্বোপরি আমাদের পরামর্শঃ

আপনি যদি অনলাইনে বিজনেস করতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই যে ব্যবসায়িক পরিচালনা করবেন তার সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা নিয়ে তারপর শুরু করবেন। মনে রাখবেন আপনি যে ব্যবসায়ী করবেন না কেন সে ব্যবসা সম্পর্কে আপনার অবশ্যই সম্পূর্ণ ধারণা থাকতে হবে।

ব্যবসা কখনো অন্যের উপর নির্ভর করে করা যাবে না। আপনি যদি বিভিন্ন লোক নিয়ে অনলাইন ব্যবসা পরিচালনা করতে যান তাহলে অন্তত লোক গুলো পরিচালনা করার জন্য আপনাকে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আপনার যদি ব্যবসা সম্পর্কে ধারনা না থাকে যত ভাল লোক আপনি হায়ার করুন না কেন আপনি ব্যবসাতে সফল হতে পারবেন না।

বন্ধুরা আমাদের এই আর্টিকেলটি যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। আমাদের লেখা সম্পর্কে আপনার যদি কোন অভিযোগ অথবা পরামর্শ থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাবেন।

আরও পড়ুন

Leave a Comment